Sunday, 13 March 2011

বেঁচে থাকার অধিকার
কোন অদৃশ্য মন্থনে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যখন হলো
জাগৃত, ধুম্রময় আকাশ, পৃথিবী, মহাসাগর জুড়ে
বিনাশের মুহানায়,অগ্নি ও জলের সমমিশ্রনে জাগলো
ভুমিকম্পিত সৃষ্টি, ওই মহাজলপ্লাবনের পথে আমি
দেখেছি তোমায়, দুই হাত উঠিয়ে শুন্যের মুখে
দাম্ভিক মুদ্রা গেছে ভেঙে, ভুলে গেছ তুমি
ঘৃনা, লজ্জা, মান অভিমান, অসহায়, মলিন, দীনহীন 
নতজানু মাথায় দাড়িয়ে আছো সেই ধ্বংস স্তুপে
সূর্য্য চন্দ্র তখন অস্তিত্বহীন নভের সংসৃতি আঁধারময়
ত্রাহি ত্রাহির মাঝে কীরিট গেছে গড়িয়ে সমুদ্র তলে
জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায়ে তুমি আছো সবাইর পিছনে
নির্বস্ত্র দেহে ছিল না কথাও রাজসী গন্ধ
সেই পেশী, মজ্জা, মাংস, শুক্রভূমি গেছে ঝুলে
 বক্ষ স্থলের বিশালতা, পুরুষালি অহংকার আজ দেখি
গলিত কুষ্ঠের গীঠ গুলো গেছে খুলে একের পরে এক
খসে পড়েছে সমস্ত বাসনা, কামনা, ছলনা, দানবতা
আমি মন্ত্রমুগ্ধ ভাবে দেখে থাকি তোমার এই নিরস্ত্র রূপ
ত্রিশার্থ অধরে চেয়ে আছো খুলে দুই হাত জড়িয়ে কিন্তু
হাত বাড়াতেই শুকিয়ে যায় সেই ক্ষীণ জল ধারা, মৃত্যুর
এই ভাবে তোমার এগিয়ে যাওয়া, বেশি ক্ষণ দেখতে পারি নি
পাষাণী বুকে আমার ও আছে এক গোপন স্রোত, সেই
নৈসর্গিক ঝরনা চক্ষুর কোণে যাই নি আজ ও শুকিয়ে
দুই ক্ষত বিক্ষত স্তনের মধ্যে বহে যায় ভালবাসা -
এই ঝঞ্ঝার বিভীষিকা, জল স্থল একাকার, তুমুল চিত্কারে
অন্তর্মনের গভীরতা আছে এখনো বেঁচে, এই অনুভিতির সম্মোহনে
যে তুমি ও বাঁচতে চাও ঠিক আমার মতন, প্রতিশোধের আগুন
যায় নিমিষে নিভে, তোমার বেঁচে থাকার অধিকার
আমি চেয়ে ও কেড়ে নিতে চাই না.
--- শান্তনু সান্যাল