শনিবার, ১১ জুন, ২০১১


অস্থির কোমল ভাবনা 


পরিত্যাগ করা কি এতই সরল 
শব্দ বিহীন জীবনের বহু মধুর 
অংশ, মনের মিহি তন্তুর মাঝে 
রয়েছে জড়িয়ে জল বিন্দুর রূপে, 
বৃষ্টি ছিল কি অগ্নি বন্যা বলা -
সহজ নয়, কিন্তু গেছে ভিজিয়ে 
অভ্যন্তরীণ মনের সুকনো ভূমি, 
কি যেন আছে এখনো তার দুই 
নয়নের কুলে, ডুবতে চাহে -
সাঁঝের কাজল,ভাসতে চায় 
চাঁদের প্রতিবিম্ব, ঝরতে আকুল 
অগণিত আকাশ কুসুমের দীপ্তি,

বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১১

আরশির প্রশ্ন

আরশির যক্ষ প্রশ্ন সহজ
ছিল না, এড়িয়ে গেছে মন
একান্তে বসে খুঁজেছি তার
গভীরতার অর্থ, দেখেছি
দেহের আবরণ বিহীন ছায়া
সে কোনো রূপে স্বীকার করতে
চায় নি জীবনের সত্যতা
যদি ও আজন্ম ছিল হিংস
পরজীবি, বন্য প্রাণীর প্রতিকৃতি
সেই প্রভুসত্তা করেছে
রাজত্ব বাড়িয়েছে অনল তৃষা 
বিষ বৃক্ষের নিচে ছড়িয়ে
গেছে মায়ার মৃগ জল
চোখের জলের মূল্য ছিল মাটি
চেয়ে দেখি নি করুন মুখ
ফিরিয়ে দিয়েছি মেঘের প্রীতি
ভোরের আবছা আলোর মাধুর্য্য
সাঁঝের ক্লান্ত মুখে গেছে
হারিয়ে, নিবিড় আঁধারে নিজস্ব
পদ ধ্বনির আতঙ্ক
হাসির জ্যোত্স্না বিলীনতার পায়ে
গেছে গড়িয়ে জলের সম তুল্য
সকল অহংকার
রাত্রি করে অরণ্য রোদন একাকী
মধ্য নিশীথে শুনি কাচ
ভাঙনের ঝন ঝন শব্দ  
স্বপ্ন গুলো মাঝি, বেয়ে চলেছে
কুসুমের খেয়া,দেখেও করে
অদেখার ভান, হাত বাড়িয়ে ডাকি
মাঝ দরিয়ায় একাকী, তারা ভাব শুন্য
মৌন ভাষায় কি যেন বলে যায়
চিতকার ক্রমশঃনিমজ্জিত
জানি না কোন কুলে সূর্য্য উঠেছে
কি না, সজল গহ্বরে ডুবে যায় আস্তে
আস্তে মায়াবিনী পৃথিবী ---
-- শান্তনু সান্যাল



মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১১

শুন্যের রঙ্গমঞ্চ

জেদী মনের প্রবল ইচ্ছা
ছুঁতে চায়  বিধ্বংসী অগ্নি প্রবাহ
ভাসতে চাহে স্বর্ণ নিষ্কাসনের পথ
হইতে অনন্ত প্রেমের ক্ষিতিজ,
অপর পার্শ্বের সেই অজানা জগত
নশ্বরতার বাহিরের পরিভাষা
গড়তে চায় হৃদয়, দাহিত দেহে
না কি ঝরে অসীম শীতল
অদৃশ্য নয়নের নীর,সেই অশ্রু
জলের লবনতায় জীবনের সত্যতা
না কি প্রতিবিম্বিত, ডানাবিহীন
অলৌকিক প্রণয়ের পাখি উড়ে
যেতে চায় আকাশপথে অবিরাম,
উল্কার সেতু, নীহারিকার সমুদ্র পারে,
যাযাবর মনের সংবেদনা  ঠাঁই
পায় না কোথাও কোনো রূপে,
খুঁজে চলেছে নিরন্তর এক অভিনব
সংসৃতি, নবীন মেঘের দেশ
অদ্বিতীয়, উড়ন্ত  প্রেমের পৃথিবী,
ভালবাসার বৃষ্টি যেখানে ঝরে
একটানা, বাদ পড়ে না মরুভূমি ও
উর্বর ভূভাগ, সেই কল্প লোকে
না কি ছদ্ম ছায়া অস্তিব হীন,
মুখোশের অর্থ ওখানে কেও জানে না,
শুন্যের সেই রঙ্গমঞ্চে শুধুই
বাস্তবিক জীবনের খেলা খেলে যায়
প্রেমের পাত্র, উল্লসিত ভাবে !
-- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ৫ জুন, ২০১১


সীমাবদ্ধ 
বহু অপূর্ণ আশা প্রত্যাশা জীবনে 
সতত ধেয়ে যায় মায়ার পিছনে 
ভোরের কচি স্বপ্ন ছিল অর্থবিহীন 
বুড়ো খেজুর বৃক্ষ যেন ছায়া ফল হীন,
শ্বাস প্রশ্বাস ও অনেক সময়ে ছিল 
দুভর, অনাগ্রহী সন্ধি দেয় নি অনুমতি, 
ভরতে চেয়ে ছিল মন জ্বলন্ত রেখাচিত্র 
শুন্যের গায়ে আঁকতে ইচ্ছুক
হৃদয়ের তুলিকা অপক্ক বয়সে গেছে 
শুকিয়ে,পড়ে রইলো ক এক খুচরো 
পয়সা, অজ্ঞাত চিত্রকরের সেই 
রহস্যময় খড়ি দিয়ে আঁকা মুখাকৃতির 
পার্শ্বে, হেঁটে গেছে যুগ পুরুষ বহুবার -
ওই গর্তভরা ফুটপাথের বুক মাড়িয়ে !
সেই অন্ধগলির মুহানায় ছিলুম
গা ঢেকে, দেখেছি নিলামের রাত্রি, 
কোলাহলের মাঝে সেই নিঃশব্দ কান্না, 
দুর্বল মাটির হাতের মিনতি ক্রমশঃ 
প্রতিমা গেছে পূর্ণ গ্রাসের মুখে, ঘাটের 
গায়ে ভেসে এসেছিল কিছু নকল অলংকার 
শরৎ সকালে খুঁজে পাই নি তোমার 
হদিস, ফিরে এসেছি ভেজা গন্ধ নিয়ে,
সেই ভাঙা আর্তনাদে জীবনের শিহরণ 
আজ ও হামাগুড়ি দিয়ে চলে,
অবশ্যই বক্ষ স্থলের প্রস্থ ভাগে কিছু 
লোম উঠেছে বহু দিন আগে, কিন্তু কি 
পৌরুষের সীমাবদ্ধতা এখানেই যায় থেমে,
--- শান্তনু সান্যাল 

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

তীরের পাথর

ওই তীরের পাষাণে কিছু ক্ষণ থামতেই
পারতে শালীনতার বশিভুতে,
তরঙ্গের ভাঙনে, জীবনের প্রতীকচিহ্ন
এখনো আছে বাকি এই মুহূর্তে 
সূর্য গেছে সাগর পার ভিন্ন দেশে,
সাঁঝের অস্পষ্ট আলোয় নিঃশ্বাস
বলে যায় অনুক্ত মনের বহু অনুভূতি 
অকথিত মনোভাব, কেমন করে বোঝাই
হৃদয়ের অথৈ গভীরতার ব্যথা,
কম্পিত অধর, নিঃশব্দ যেন ঝরে যায়
শুকনো পল্লব, যদিও বাতাস বিহীন সন্ধ্যা
কোমল শাখা হতে ঝরে কি শিশির বিন্দু
চোখের পাতায় কিসের যেন আদ্রতা,  
শঙ্খবেলায় কি ঝরে আকাশের অশ্রু কণা
এই সাগরের নীলিমায় যায় মন হারিয়ে,
মনে বৃহৎ তৃষা, সামনেই সিন্ধু কিন্তু এক
ফোটার জন্য ব্যাকুল হয় বিস্তৃত মরুস্থল,
আকাশের দিকে চেয়ে কি বা আর
হবে, যখন মেঘ গেছে পথ হারায়ে, উড়ে যায়
ধু ধু শুধুই বালুর তুফান -
- শান্তনু সান্যাল

     

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১১


প্রলম্বিত অপেক্ষা


অদ্ভুত মনোভাবের শব্দকোষ
অনেক বেলায় করে যায় বিস্মিত
বাক্য হীন,ঠোঁট, নেত্র, যেন
মরুভূমির নিস্তব্ধতা
ময়ুর পালকে মোড়া সাঁঝে
গোলাপী মেঘের সিঁড়ি ভেঙে
তোমার নেমে আসা,
ওই এক ফালি চাঁদের পাসাপাসি
বহে যায় সুরুভিত আবেগের
বাতাস মন্থর বেগে,
মন যেন হেঁটে যায় মহাসাগরীয়
উচ্চ তরঙ্গে, সজল অনুভূতি
এমন মুহুর্তে মন যায় হারিয়ে
ভাবনার ধবল রেখাঙ্কিত আকাশে,
উড়ে চলেছে যুগল রাজ হংস
অনন্ত আত্মার দেশে,
এই ঝাঁকালো সন্ধ্যায় বসে আছে মন
অসমাপ্ত অপেক্ষায়,
নিষ্পলক নেত্রে চেয়ে থাকি রাতের
ঘনিয়ে আসার সে  নিরব দৃশ্য,
কে যেন পার্শ্বে নিঃশব্দ পায়ে দাড়ায়ে
রেখে গেছে নেত্র পল্লবে
কম্পিত আঙ্গুলের সেই ভীরু স্পর্শ !
নিশিগন্ধা ব্যাকুল ভাবে চেয়ে
থাকে মায়াবিনী রাতের
বন্য ক্রীড়া, নেমে চলেছে নিশাচর
বিলুপ্ত জল কুম্ভের সন্ধানে,
ওই ঝিলের গায়ে নাকি আজ রাতে
প্রণয়ের শেষ খেলা.
- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ১ জুন, ২০১১


জোছনার গায়ে  


অনুকম্পাবিহীন জগতে বহুবার
ধর্ম যোদ্ধারাই  লুন্ঠন করে গেছে  মনের 
মন্দির, দিয়ে গেছে ঘাত প্রতিঘাত 
নির্দোষের মাথায় দোষারোপ  
তালিময় বস্ত্র বন্ধু নয় কোনো জন্ম দাগ,
 প্রায়ই বসে থাকে আহত ভাবনা 
আদালতের ওই ভাঙা সিঁড়ির উপরে, 
প্রমানের কাগজ নিয়ে হাতে 
মৌসুম ফিরে চায় না সিক্ত চোখের স্বপ্ন,
 উচ্ছ আসীন সেই অভিশংসক
অনেক সময় অবিরল দিয়েছে মুক্তির 
বক্তৃতা, শুনিয়েছে ক্রান্তির কবিতা 
আঁধারে সে আবার দেখি বিক্রয়ের পথে,
দাড়িয়ে আছে অন্ধ গলির সীমান্তে 
 সেই পন্যবিনিময়ের আদিম ভুবনে !
তথাকথিত ত্রাণকর্তা সেই রাতে 
দিল মশাল আমার প্রতিবেশীর হাতে,
বারংবার শিকারে অগ্রসর সেই 
মুখোশ ধেয়েছে পঙ্গু তৃণ ভোজির পিছনে,
জঙ্গলের এই আইন মোছা যায় নি 
কোনদিন, ঘা  দিয়ে মলমের মাখামাখি,
সুযোগের শোধে সেই আঁখি দিয়েছে
বিশ্বাসঘাতকতা বহুবার বন্ধু,
তাপ্পি খুলে যাওয়ার ভয়ে ভীরু মন নিজেই 
উলঙ্গ হয়েছে  অনেক সময়, 
জীবনের বাস্তবিকতা বড়ই কঠিন,দুরূহ 
তবুও কালরাত্রি বলে স্বপ্ন মরে না কোনদিন ,
সেই অলৌকিক বিহানের সন্ধানে 
মন চায় ঘুমোতে কিছু ক্ষণ জোছনার গায়ে,
-- শান্তনু সান্যাল