বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১


আবছা কাচ
জীবনের  ওই পার্শ্বে  আজ ও রয়েছে 
ঝুলানো  কিছু লাউর  খোল 
স্বপ্ন  গুলো  শুকনো  ডগা , এখনো 
এলোমেলো  ভাবে  ছড়িয়ে 
আছে  টালির  ছাতে  কে  যেন  হাঁক 
দিয়ে  যায়  আকাশে  মেঘের  চঞ্চলতা 
বেড়েছে  হয়  ত  কিছু  স্বপ্ন 
মরে নি এখনো, উঠোনে
খুবই  যত্নে  ছড়ানো  শুকনো 
মহুয়ার  ফুল , বুড়ো  বেগুন ,কচি  আমের 
মিহি  টুকরো ,মেথির  শাক, সাবুর  পাপড় 
এই  উষ্ণ  স্বপ্ন  বাঁচিয়ে  রাখে 
ক  এক  দিনের  ক্ষুধা , ছাই  দিয়ে 
ঘসে  চলেছে  জীবন অবিরাম ,
ভালবাসার  কাচ, দেহের তৃপ্তি
কিছু ক্ষণের আলো, নিভাতে হয় না
নিজে নিজেই নিভে যায়,
থেমে রয় কঙ্কাল ময়ী রাত্রি,
সকালের কালো আকাশ, দিয়ে গেছে
সাওনের চিঠি, কাকে দিয়ে যে
পড়াই, বাঁশবনে নতুন চারা উঁকি
দিয়ে চলেছে,হয়  ত এই বারে ফুটবে
অনেক ব্যাঙের ছাতু , বন কচু
উঠবে চিরুতা পাতার বাহার,
সুদুর কোন হাটে বাজে  মাদল !
কারা কি সুরে গাইছে গান, মন বুঝতে
পারিনি আজ ও সেই ভাষা, চিনতে পারি নি
মুখোশ কি চেহারা,ওরা বলে যায়
অনেক কিছু, মন শুনে সব কিছু
আবার ফিরে আসে এই জঙ্গলে আনমনা
খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে সাত সকালে
জীবনের হারানো খোল, জাদুর বাঁসি
বেঁচে  থাকার মর্ম কি অর্থ
বিহান সাঁঝের অন্তর
হাড় মাংসের মূল্য, জানি না কখন
আবার  হাটে যাওয়া হবে ,
কিনতে ইচ্ছে করে  কিছু দামী স্বপ্ন
লজ্জা, জীবনের বাকি দিন
কাছে তো আজ কিছুই নেই, থাক গে
ভেবে কি বা হবে, বাজুক মাদল
নাচুক তারা বিজয়ী যারা ---
-- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১১

অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য

উপাসনার বিস্তৃতি, আবিস্কৃত 
করে গেছে অন্তর জগতের সৌন্দর্য্য 
নামহীন সজল অনুভূতি,
সমাধিস্থ পাথর গুলো কালান্তরে 
হয় উঠেছে নাকি পাষাণী রত্ন,
জীবন ছিল এত দিন অবাঞ্ছিত বন্ধ্যা 
ভূমি, লুপ্তপ্রায় অধ্যায় -
তোমার প্রেমের বিজ্ঞান হয় ত
করে গেছে আবেগের উত্খনন, 
দিব্য ক্ষীন আলোর মাঝে বারংবার 
দেখি রহস্যের আলেয়া,
এটাই বোধ হয় পাক খোলার প্রারব্দ্ধ 
পুনর্জন্ম কিংবা জীবনের উত্পত্তি,
নিসর্গের পুনরাবলোকন,
জাগ্রত হয় উঠেছে সহসা অশ্মীভূত 
স্বপ্ন, সমুদ্র সৈকত, পুষ্প, মেঘের দল,
প্রাচীর জ্যোতির্ময় আকাশ 
ছিল না আগে এত সুন্দর, কিংবা 
হৃদয়ের নদী ছিল শুকানো 
তলানি, বহু কোণে ছেঁড়া, ফাটা, চিড় -
ধরা মৃত জলাভূমি, মরা -
নিশি গন্ধার চারা হটাত দেখি 
উঁকি দিয়ে চলেছে, ছুঁতে চায় জোছনা !
শিরায় শিরায় গন্ধের গ্রন্থী 
করে ছটপট, ফুটতে চায় আবেগের কুড়ি 
অধরের অগ্রভাগে কে যেন 
সাজিয়ে গেছে রঙ্গীন নিঃশ্বাস,
বুকের নিম্ন ভাগে রেখে গেছে রাত্রি 
যেন সিক্ত গোলাপের অনুভূতি,
জড়িয়ে রয়েছে সব সময় এক অপরিচিত 
পর গন্ধিয় পরিবেশ, দেহ ও প্রাণে 
খেলা করে প্রেমের শিহরণ, 
-- শান্তনু সান্যাল 
 

যদি ভালোবাসো


আজ রাতে অহং শল্ক গেছে বদলিয়ে

দেহের ডুব সাঁতার কাটায় লেগেছে
ইন্দ্রধনুর রং, থামো ত দেখি
কিছু ক্ষণ কেটে আসি বিষ দন্ত
লুপ্ত প্রাণঘাতী নখের ধার,
দেখে আসি শেষে আতঙ্কের মুখ
এই রাতে মন চাহে
হতে স্বয়ং সিদ্ধ পূর্ণ পুরুষ,
এই মুহুর্তে নামিয়ে এলাম ঈর্ষা, ঘৃণার
মলিন বস্ত্রখানি, কিছু ক্ষণ দিও
বন্ধু, হৃদয়ের দূষণের মুক্তি
এখনো আছে বাকি,এই মধু লগনে
চন্দনের পরশ হয় ত যাবে
ছুঁয়ে, তোমার পবিত্র নিঃশ্বাসে জেগে
আছে নাকি দেবদূতের বাণী,
কাঞ্চন দেহে লিপ্ত রয়েছে
বহু স্বপ্নের কিশলয়, কিছু সময় দিও
হে প্রিয় বন্ধু, দেহ চায় পরিত্রান, 
প্রায়শ্চিত, মনুষ্যতার অগ্নিস্নান,
পবিত্রতার পরীক্ষা,ব্যক্তিত্বের বিশালতা,
ওই দর্পণের দাবি মিটিয়ে
আসি আগে, অন্ততঃ হয় উঠি মানুষ
এই লঘু রাত্রি এখনো অশেষ
অপেক্ষা কর কিছু পল অতিরিক্ত



অভিন্ন মিত্র, যদি ভালোবাসো,
-- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

আরোহী মন

 
নিরব রাতের নিস্তব্ধ পথে 
শুন্য ভেঙে ভাসে করুণার সুর 
মর্ম কন্ঠে কে গাহে মধ্য নিশীথে 
কম্পিত নিঃশ্বাসে জীবনের গান,
ঘুমন্ত চোখে দেখি রহস্যের সেই 
পথিক ধরতে চায় জোনাকির 
আলো,উড়ে চলেছে স্বপ্নিল উদ্ভাসন,
আকাশ হইতে ঝরে বিন্দু বিন্দু 
প্রদীপ্ত প্রণয়ের শিশিরের কণা,
অবাক পৃথিবী চেয়ে রয়েছে 
সুরুভি ও জোছনার মিলন মেলা,
রজতনিভ আঁধারে নয়নের তীরে 
স্বপ্নের মাঝি বেঁধে গেছে ময়ুর পঙ্খী
নৌকো,আবেগের লহর শয়নের 
পথে সাজিয়ে চলেছে সিক্ত নিশিগন্ধা,
মাতিয়ে গেছে কে যেন হৃদয়ের 
উপত্যকা মহুয়ার মাদক গন্ধে,
নেমে আসছে তারকের শোভাযাত্রা 
অন্তরিক্ষের নীলাভ শুন্যে 
লিখে চলেছে মন অমূল্য কবিতা,
বাঁসুরির সেই বেদনে জেগে আছে 
বেঁচে থাকার অদম্য অভিলাষা,
তোমার ও আমার অটুট ভালবাসা,
এই মধুর স্বপ্নে জীবন যায় হারিয়ে 
বারে বারে,চেয়ে থাকে শেষ প্রহরে মন  চাঁদের ডুবে যাওয়া, বিহান শেষে 
নিঃশব্দ লয়ে ঝিলের উপরে জাদুর 
কুয়াশা ছড়িয়ে দিয়ে গেছে 
বিলুপ্তির অজানা সীমান্তে,কমল
পাপড়ি খুলে চলেছে অন্তর্মন 
সূর্যের কচি আলোয় করুণ সুর 
হয় উঠেছে পরশ পাথর, অগ্রগামী 
অশ্বারোহী আরোহণের পথে অগ্রসর -
- - - শান্তনু সান্যাল     
 

রবিবার, ১২ জুন, ২০১১

অঙ্গীকারের রাত্রি


অঙ্গীকারের অনুষ্ঠান 
না উত্স না সমাপ্তি 
গোপন এক স্রোত প্রবাহিত 
অন্তর্মনের গভীরতায় 
অযৌগ গণনা বলে যায় 
আমি আছি ত চলে
গ্রহের আবর্তগতি,তর্ক
বিতর্কের বাহিরে নিঃশ্বাসের
দড়ি ধরে রাখে ভালবাসা,
জীবনের সৌন্দর্য্য এই শ্বাসের 
বাঁধনে রয়েছে জড়ানো, 
হৃদয়ের স্পন্দন টেনে রাখে 
পুস্প বৃন্ত,উপত্যকা,সমুদ্র 
মরু,নির্ঝর,চন্দ্র,সূর্য্য,তারক 
আকাশ গঙ্গা,আমি আছি ত 
রয়েছে দেবতা,স্বর্গের কল্পনা !    
চোখের আদ্রতা বোঝার বিবেক 
বলে আমি এখনো বেঁচে আছি,
তোমার স্নিগ্ধ আঁখির মাঝে 
আমার প্রতিবিম্ব জানায় 
পৃথিবীর আয়ু যায় নি ফুরায়ে,
 অজানা ভাবে যেন শিশুর 
 কন্টক ছুঁয়ে যাওয়া 
অনেক সময় হৃদয় চায় 
শিশু সম অনুভূতি ,
 মৌন ক্রন্দন করে মন 
আমার প্রেমের পরিভাষা সুদুর 
প্রসারী, সীমা গড়তে জানে না,
ক্ষয় ক্ষতির কোনো ভয় নেই 
কপাট বিহীন হৃদয়ের বাসা 
চিরস্থায়ী উন্মুক্ত খুলে থাকে দিবা 
নিশি,সবাই অঙ্গীভূত 
সকলই সমাবিষ্ট,
সপথ গ্রহণের রাত্রি ভেদাবেদ
 মানে না,একমাত্র শর্ত যে 
কি তোমার চোখ ভিজতে চায়
দেখে অন্যের ব্যথা 
কি তুমি অগ্নি পথে হাঁটতে পারবে
ভালবাসার জন্য অবিরাম 
কি তুমি বইতে পারো এই জীবন ক্রুস 
নিজস্ব কাঁধে অনন্যের জন্য -
বাঁচতে চাও অনন্ত জীবন,
 -- শান্তনু সান্যাল

অপ্রত্যাশিত আর্বিভাব 
 
কিরীট শীর্ষের সেই বিন্দু ছুঁয়ে  
নেমে আসে ছেঁড়া সকাল 
সেই আবছা আলোর মাচানে 
খেলে বহিষ্কৃত দেবতার শিশু  
অস্পষ্ট সিড়ির তমসায় শৈশব খুঁজে 
প্রদীপ্ত জীবনের দ্বার 
অলিখিত প্রান্ত, দক্ষিন মুখী জানালা 
বৃষ্টি ছায়ার বাতিল বন্ধ্যা 
ভূভাগ ক্রমশঃ মরুভূমির পথে,
সামন্য পড়ন্ত বেলার সূর্যের তাপ গায়ে 
ঢেকে জীবন কাটিয়ে গেল 
বনসাইর অশ্বত্থ গাছ, অপ্রত্যাশিত 
ভাবে তোমার অলিন্দে আসা 
ভরে যায় অন্ধ কূপে জোছনার ক এক 
কণা, জলীয় মাকড়সা ফিরে 
পায় হারানো আবর্তন গতি, এই সহসা 
প্রকাশিত হওয়া ছিটিয়ে যায় 
শান্তি জলের ক এক ফোঁটা,এখানেই কি 
স্ফটিক রচনার প্রক্রিয়া, মন  খুঁজে 
ভালবাসার হ্রদ, দেখতে চায় 
জীবনের পরিচ্ছিন্ন ছায়া,ভুলতে চাহে 
হৃদয় নিয়তির পরিহাস, তোমার 
অলৌকিক প্রণয়ের আর্বিভাব 
নিঃশব্দ জাগিয়ে রাখে সারা রাত মনের 
অর্ধ সুপ্ত সংবেদনা, আঁখির কোণে
সজল সকাল উঁকি দিয়ে যায় মাঝে মাঝে.
-- শান্তনু সান্যাল  





কল্প নদীর তীরে

অট্টহাস সহসা ভাঙলো
নিরবতার বুকে
হাত মিলানোর অর্থ
ছিল না মনের মিলন বন্ধু
আবেগের সৃজন অনন্ত অনাদি
বড়ই মুশকিল নিশ্চিত পথে
পাড়ি দেওয়া, পাথর প্রতিমা ও
শুন্যের মাঝে অন্তর কিছুই ত
ছিল না, পৌঁছতে সারা
জীবন গেল বৃথা,
ওই সুদূরে সূর্যের যাত্রা যাই নি
থেমে, সেই মিলন বিন্দুই
আবার ভেসে উঠেছে
সকালের রঙ্গীন আকাশ, পাখির
কলরব, তোমার ভালবাসা
অতৃপ্ত হৃদয়, অধিকাধিক পাওয়ার
মরিচিকা, অনেক কিছু
এই সরল রেখায় পেঁচ দিয়ে
তমস ঘন রাত্রি করে গেছে শুধুই
দিগ্ভ্রমিত, কিংবা কোন
অরণ্য লতা জড়িয়ে পায়ে
আটকিয়ে রেখেছে অগ্রগামী
মনের সিক্ত ভাবনা,
এই অদৃশ্য প্রাচীর যদি ভাঙতে
পারো তুমি, প্রতিশ্রুতি
রইলো পূর্ণ সমর্পণের,অনন্ত প্রেমের
স্বীকৃতি, জন্ম জন্মান্তরের
সন্ধি, মৃত্যুর বাহিরে
পথ চেয়ে থাকা যুগ যুগান্তর ধরে,
সেই কল্প নদীর ঘাটে, ঝুলন্ত
বটবৃক্ষের শিকড়ের
নীচে, থেমে রবে হৃদয়ের নৌকা,
তোমার অপেক্ষায় বন্ধু !
-- শান্তনু সান্যাল