রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

কোথায় যেন আমিও রয়েছি

অভিশপ্ত পাষাণে লাগি নি আজ ও 
চরণ ধুলি,অহিল্যা হয় উঠি নি 
ক্ষয় গ্রস্ত জীবনের বহু অঞ্চল,
ওরা ছিল হয় তো অন্য গ্রহের 
মানুষ,হা করে  সমানে দেখে রয় 
ছেঁড়া আঁচলে দুগ্ধ গ্রন্থী,
কাঁচের সন্দুকে  স্বপ্ন গুলো 
উলঙ্গ সুয়ে রয়েছে রসে ডূবে 
খোলা গায়ে পরিত্যক্ত  শিশু 
বিস্ময়ে  চেয়ে থাকে  গোল সকাল 
স্থির  দাড়িয়ে  চিন্তামগ্ন, চকের 
ষাঁড়, চিবিয়ে চিবিয়ে ভেবে চলেছে 
রাত্রি র ষড়যন্ত্র,গুঁতোর ভয়ে পাস 
কেটে হাঁটছে সাঁঝ, বড়ই ভদ্র লোক 
উর্দিওয়ালা  নেকড়ে বাঘ  মধ্য রাতে 
গন্ধ শুঁকে বেড়ায়,স্টেশনে,পার্কে 
কি  ভাবে  চুষবে  কঙ্কালের  লেপ্টানো 
ক  এক  বিন্দু  রক্ত,মাংস,মজ্জার 
রেষা , বিভত্স  স্বপ্নের  মাঝে 
কিছু  ঘুমিয়ে মন হয় উঠে 
ঘোলাটে  সূর্যের  মরা  রশ্মি ,উড়ান 
সেতুয়ে  আবার  বেগবান  জীবনের 
রেখাচিত্র   দৌড়িয়ে  চলেছে  অনন্ত 
পথে, ফুটপাথের  নেড়ি কুকুরগুলো 
এখনো গুটিয়ে ঘুমোতে  চায়, এক  চোখ 
খুলে, নোংরা  থলির বাহিরে  উঁকি 
দিয়ে  চলেছে পুই  ডগার কচি পল্লব 
বৃদ্ধ  ভাবনা লুঙ্গি উঠিয়ে খুবই 
কষ্টে উঠতে  চায়  তেতলায়,সিঁড়ির 
ঠিক  নীচে জীবন রয়েছে আজ ও 
ময়লা,দুর্গন্ধে ভরা,বিশ্রী,ফেলানো
তোষক,বালিশ,মাদুরতেলেপোকা 
কোথায় যেন আমিও রয়েছি 
হয় ত এখানেই আসে পাসে, যান উঠে 
যান ডিঙিয়ে যে ভাবে পারেন -
-- শান্তনু সান্যাল  

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১১

ফড়িং দল

নির্জলা
নদীর বুকে লিখেছিলে কাহিনী 
ফাগুনের তপ্ত দুপুরে,সে কি আছে 
আজ ও সেখানে, শ্রাবনের ধারায় শুনি 
তার ভেসে যাওয়ার সুপ্ত বেদনা ,
বর্ষণের বিভিশিখায়ে কেঁপে উঠে 
দুই কুলের মাটি,পাথর,জীবনের কিছু 
পরিত্যক্ত নৌকা,ঘাটের সিঁড়ি 
সারঙ্গের ডাকে আর হৃদয় কি সজল 
হয় উঠে সাঁঝ নামার আগে, জানি না 
সে কি এখনো চেয়ে থাকে ধ্রুব তারা  
টেনে যায় আকাশী ধুসর আঁচল
দীর্ঘ নিঃশ্বাসে,দেউল চুড়ার সোনালী 
আভা আস্তে আস্তে ধুমিলের পথে 
হয় ত নিভে চলেছে সূর্যের আলো সুদূর 
পাহাড়ের আদিম গুম্ফায়ে 
রাত্রি বিকরাল রূপে কিছু ক্ষনেই চেঁপে 
ধরবে গ্রীবা হইতে কটিবন্ধ 
ওই কাহিনীর পাত্রগুলো একে একে 
হাঁটবে, লাফাবে,ছিন্ন ভিন্ন করে যাবে 
মনের উর্বর ভূমি,অনাবৃষ্টির রূপে,ফড়িং 
দল হয় ত উড়ে যাবে শেষে 
ভোর কোনদিনই চিনতে পারবে না 
কঙ্কালনি সেই ভালবাসা !
-- শান্তনু সান্যাল



 



শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১১


অস্তাচলের সাথী 
যারা ছিল খবরের শিরনাম এক দিন

কালান্তরে গেছে হারিয়ে অমুদ্রিত প্রান্ত 
দেশে, এখানে সূর্যোদয়ের জন্য প্রীতি 
শুভেচ্ছা,অর্ঘ্য,পুষ্পমালা,যারা গেছে 
ডুবে পশ্চিমের সাগরে, দেখো যদি 
খুঁজে পাও অতীতের ছেঁড়া পৃষ্ঠে, 
পৃথিবীর পাক খোলা অবিচলিত এক 
ব্যাপক মৌন প্রক্রিয়া, কত জন যে 
পার হলো ভবসাগর সে এক ভিন্ন কথা !
বলে ছিল সে এক দিন আসবে নিয়ে 
কিছু ভোরের স্বপ্ন,বেঁচে থাকার মূল্য 
কই,বসে আছি অনন্ত পথ চেয়ে,দেহে 
নিয়ে ঝরানো ঘা, হৃদয়ের ছিন্ন তন্তু 
কিছু বিধ্বস্ত স্মৃতির আবছা আলো,ওই 
পথে নাকি রাত্রির আভাস হয় না, 
চাঁদ উঠুক বা না উঠুক,সর্বদা উদ্ভাবন 
সেই প্রদেশ,হয় ত মায়াবিনী রাতে 
অবিকল বন্ধু পায়ে না খুঁজে নিজের 
ঠিকানা,কেমন করে মনে রাখবে বিগত 
পথের অন্ধ গলি, নোংরা গন্ধ, উদাস - 
চেহারা, শ্লেষ্মা ভরা বুকের ভালবাসা !
--- শান্তনু সান্যাল 


বুধবার, ২২ জুন, ২০১১


মুক্তির পথে 
ফিরিয়ে দিয়েছ কি জন্ম ঋণ,আছো দেখি 
পিঠাধিশ,চোখের নিচে জ্বলন্ত কামনা 
জ্বলে, লোলুপ ভাবনার তিলাঞ্জলি কবে 
দিলে,ওই চোরা গলি তে দেখিছি যেতে 
বহুবার, দৈর্ঘ্য শ্বেত দাড়ি মাখা মুখ সবাই 
চিনে, ওই মুখে কোন মৃত দর্শনের 
পাঠ কোরো অখন্ডিত ভাবে, কেও ত 
সেই ভাষা আর বুঝে না, যাও যত পারো
বিষ ঢেলে, সাপুড়ে হলেই যে বিষমুক্ত 
এমন কোনো  মূলতত্ব নাই, ছোবলের
আশঙ্কায় ঘুম আসে কি, কিংবা অনিন্দ্রায় 
খুঁজ বেড়াও চির যৌবনের মন্ত্র খানি, 
 বিড় বিড় করে সকাল সাঁঝে পড়ে চলেছ 
কোন পবিত্র অভিলেখ, দেখতে চাও 
দিব্য আলোর ঝরনা,মনের কলুষিত গুহায় !
পাসের ঘরে অন্ধকার অশেষ, কোরো 
যত পারো আলোয় একাকার নিজের ঘর, 
টেনে যাও অদৃশ্য ঘৃণার রেখা অস্তিত্বের 
বৃতাকারে, হয় ত অবিলম্বে পৌঁছে যাবে ওই 
স্বর্গ কি ফিরদৌসের সোপানের কাছে, 
ওই অমরত্ব প্রাপ্তির জন্য ভালই বেছে নিয়েছ 
ছদ্ম আবরণ,উলঙ্গতা,নিষ্ঠুরতা,অভিনয় 
তবুও কি বাঁচাতে পারবে গ্রীবার ফাঁস 
যখন ফেলবে নিয়তি,মৃত্যুর দড়ি আকাশ হতে, 
বুকে জড়িয়ে রেখো যেন সেই মৃত অভিলেখ !
শিশুদের করুণ দৃষ্টি, চোখের বাষ্পিত 
অশ্রু বিন্দু,নারীর চিত্কার, বিধর্মীয় ঘৃণার 
অনুভূতি,পোড়ানো ঘরের ছাত, ঘর্ষণের 
অভিশাপ,বিষের কৌটো নিয়ে যেও নিজের 
সঙ্গে অন্তরিক্ষের পথে, মুক্তির জন্য 
হয় ত কাজে লাগবে - - - - - 
-- শান্তনু সান্যাল  

 
 
 

সোমবার, ২০ জুন, ২০১১

আগুনের অনুভূতি

সাঁঝের নিরবতা, সাগর সৈকতে করে 
ইঙ্গিত, কোথাও যেন থেমে আছে 
দক্ষিণা সমিরণের বিষন্নতা, আকস্মিক 
ভাবে শান্ত ভাবনার তরঙ্গ উঠে 
চলেছে আনতে ঝঞ্ঝাবাতের কালরাত্রি  
এই বন্য, অবাধ, উন্মত্ত লগনে    
হয় ত  নিহত হবে হৃদয়ের কচি স্বপ্ন 
সমারোহের পরম ক্ষণে ফিরে ও 
দেখি নি সে, যদিও প্রেম আহুতির পথে 
হৃদয় ফেলানো ছিল স্বরলিপির দেহে 
আঙুল স্পর্শে তবু ও গান হলো না জীবন
সে সরিয়ে গেছে, আহত সংবেদনা
অমনোযোগে ,ঝুলন্ত বাতিদানের ভাঙা আলো 
ঝরেছে চারদিগে নির্বিচার ভাবে 
দেখেও দেখি নি ওই চোখের নীল জোছনা 
বাড়িয়েছে বহির্ভূত জীবনের আঁধার 
সজল বারিদ উড়ে গেছে বেহিসাব
বিলম্বিত রাতে, তাপ দগ্ধ মনের মরুভূমি 
প্ত্রতিক্ষারত, ঝরি নি কৃপণ আকাশ 
বিন্দু বিন্দু, তিলে তিলে, জ্বলেছে জীবনের 
বিস্তৃত ভূ ভাগ,দাবানলীয় প্রতিশোধে !
অন্তরিক্ষের কুয়াশায়, অবলেহিত মৃতিকার 
পাত্র রইলো পুষ্প বিহীন, পুরাকালীন 
কোন সমাধিস্থ, আকাঙ্ক্ষিত জীবাশ্ম রূপে 
ভুলে ও সে দেখি নি নিভে যাওয়া দীপ
নিঃশ্বাস থেমে ছিল কিন্তু তার হাসির জন্য 
সেই পরকীয় মুগ্ধতা জানিয়ে গেছে 
জীবনের অর্থ,অশ্রু ঝরি নি তবু সে মুহুর্তে 
প্রথম প্রণয়ের পরিনিতি বুঝিয়ে গেছে 
পুরুষ হবার মহত্ব, দিয়ে গেছে অগ্নি স্পর্শ.
--- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১১

আঁধার নামার আগে

অবহেলিত, অগ্রাহ্য, ফেলানো
পচা কিছু শ্রদ্ধা সুমন ভেসে যায়
নদীর তীরে -
প্রাচীন মন্দির ঘাটের সোপান
ছুঁয়ে যায় নিয়তির পরিণাম
আজ যে আছে নয়নের মণি
কাল হয় ত যাবে হারিয়ে
পরিচয় হীন এই ত নিসর্গের
নিয়ম বড়ই জটিল
ব্যতিক্রমের ওপারে ভালোবেসো
না আমায়, বন্ধু কিছু জায়গা
রেখো ছিন্ন স্বপ্নের লাগি
ওই কিছু দুরে, মৃতদেহ ভেসে যায়
তীরের শ্বান বৃন্দ
লোভাতুর চোখে চেয়ে রয়েছে
গলিত হাড় মাংস, মৃত শরীর কি
জানে কারা ভাসিয়ে গেল
কাঞ্চন পৃথিবী, পঞ্চ তত্বের মায়া
সে বন্দ চোখে দেখে হয় ত বিশ্বের
মহা দর্শন, আকাশে ঘুরে
অবিরাম ঘুর্ণনে গাঙ্গ চীল, শকুনি
মৃত্যু কে ফাঁকি দেওয়া এতই
কি সহজ, দেউলের সান্ধ্য পূজা
উতুঙ্গে, শঙ্খ ধ্বনি, বৃন্দ গান
মিশে চলেছে একাকার
পাসের সেতু পার করে গেছে
এই মাত্র তিব্রগামী রেল
নৌকা গুলো ফেলে চলেছে নোঙর
পুরোহিতের পূজা হয় ত শেষ
আঁধার ঝাপ দিয়ে চলেছে
নদীর বুকে, রাত্রি নামবে কিছুই ক্ষণে !
-- শান্তনু সান্যাল