বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১১

দুরন্ত ধারা

শাপিত গন্ধর্ব  ছিল হৃদয় আমার
গেয়ে যায় সেই অপূর্ণ জীবনের গান,
রুদ্র বীণার তারে খেলে, জল বিন্দু
বৃষ্টির স্বরলিপি, মানে না অভিধান !
বাঁধতে পারি নি, তার দুরুন্ত হাসি
গেছে বিঁধে প্রতি ক্ষণে, দেহ ও প্রাণ,
ক্ষুদ্রনদীর জলস্ফীতি,আবেগের স্রোত
অফুরন্ত অনন্ত  পথে, কেবল বহমান,
খুলে দিও পালের আকাশ, মাঝি মন
জীবনের লহর সহসা,আজ বেগবান,
কি যে মায়া, তার দুই সজল নয়নে
জানি না ভালই লাগে ভাঙন, ভাসান !
উদ্বিগ্ন নৌকা, নোঙর ছুঁতে চায় না
খেলে যায় তরঙ্গে, দূরে দিবা অবসান,
-- শান্তনু সান্যাল



বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১১


অসময়ের মধুমাস 
উঠিয়ে গেছে কে যেন, বিস্ফারিত রাতের আকাশ,
কুটোর শিখা নিভু নিভু,জীবন শুধুই দীর্ঘ্য নিঃশ্বাস !
ডুবন্ত তারকের পথে, আছে এখনো আবছা নীলাভ 
সিক্ত প্রতিধ্বনির আবেগে, ঘুমন্ত সর্ব হাস পরিহাস,
আদ্র বুকের বেষ্টনী, ঝরেছে অঝর বৃষ্টি সারা রাত -
ভরে গেছে কে যেন রিক্ত হৃদয়, হটাত, অনায়াস ?
ক্লান্ত দেহে র পরিমণ্ডলে কে লিখে গেছে, অভিলেখ -
জেগে উঠেছে অজস্র কাচের স্বপ্ন,জীবনের আসপাস !
গভীর স্পন্দনে,বহে যায় অগণিত প্রণয়ের কণিকা
ফিরে ফিরে আসে, যেতে যেতে অসময়ের মধুমাস,
-- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১১


অন্তরঙ্গ ভুবন  
ওই শুন্য বলয়ে কিছুই ছিল না
তুমি যে বললে স্বপ্ন জেগে উঠে,
সারি সারি শতদল না কি ফুটে 
সেখানে ঝরে সুধাময় জোছনা !
ঝিলের বুকে লিখে যায় সমীরণ 
দিব্য প্রেমের কবিতা,প্রবুদ্ধ হয় 
যায় জীবনের তমস ঘন রাত্রি !
অবসাদ নিয়ে মনে ফিরে এলাম 
দেখি নি, কোনো অলৌকিক ছবি, 
চতুর্দিকে শুধুই আচ্ছন্ন নিরবতা,
আহত মনে ফিরে আসার পথে -
খুঁজেছি শিশুর মুখের হাসি,ধানের
ক্ষেতে কৃষাণীর সৌম্য চেহারা,
ডিঙ্গার গায়ে লহরের প্রতিবিম্ব -
উড়ন্ত গাঙ চিলের আবর্তনে পূর্ণ 
আকাশের গুটিয়ে যাওয়া, নদীর 
তরঙ্গায়িত বুকে তোমার প্রণয়ের 
পালতোলা নৌকা, মাঝি বিহীন 
বহে চলেছে উজানের পথে, বিস্মিত 
নয়নে চেয়ে রই ক্লান্ত সাঁঝের নিস্তেজ 
ভালবাসা, ক্রমশঃ সূর্য্য যেন হয় 
উঠে পঞ্চ ধাতুর কলসি, ডুব দিয়ে 
ভরে আনি জীবনের অজ্ঞাতপূর্ব জল 
রাশি,কিছু ক্ষণ আগেই মায়াবী রাত 
পা ফেলেছে ঘাটের সোপানে, আমি -
ও ফিরে চলেছি অন্তরঙ্গ ভুবনে !
--- শান্তনু সান্যাল  
 

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১১


কাচা মাটির গন্ধ 
অপূরিত স্বপ্ন আমার অভিশাপিত ছিল না
ভেজা মাটির খেলা খেলেছি আমি, তাই 
ত কাদায় মাখা এই মুখ চিনতে পারো নি,
পুঁতে গেছি প্রণয়ের চারা, অঝর শ্রাবণে,
কচি ধানের গন্ধে ভাসে তোমার প্রেম কি 
অনুরাগের পরাগ কণিকা, ধরতে চায় 
মন উড়ন্ত ভালবাসা, জীবনের ত্রাসদী 
গেছে ঢেকে, সুস্থ হয় উঠেছে হয় ত -
 মাটির লেপে, ছুঁতে চেয়ে ছিলাম নদীর 
মধ্যস্থ ধারা, ঘুর্ণাবর্তের নৌকা ডুবে নি 
উড়ে গেছে ইশান কোণের আসন্ন ঝঞ্ঝা!
সিক্ত অনুরণন ভরে গেছে জীবনের -
শুন্যতা, সূর্যের রথ থেমে ছিল কিছু 
ক্ষণ অস্তাচলের পথে,সাঁঝের আকাশে 
ছিল অনেক অনাবিষ্কৃত রং, মনের -
তুলিকা ডুবতে চায় শুধুই ভালবাসার 
রঙ্গে,নিশি পুষ্পের আলোড়ন ভরে যায় 
হৃদয়ে অসমাপ্ত কবিতার মর্ম,ছুঁয়ে চলেছে 
জীবন, দেহের স্নিগ্ধ, কাচা  মাটির গন্ধ !
-- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১১


ভাবিকথন 
দাবি ত কিছুই ছিল না তবে কেন এই 
তুমুল কোলাহল, জানতে চেয়েছি শুধুই 
জীবনের মূল্য, সত্যের অর্থোদ্ধার,যারা 
পরে আছে জয়্মুকুট,সিংহাসনে আসীন
মুখমণ্ডলে দীপ্তিময় আভা, নত জানু -
আছে কেন নিয়তির চরণে, নিরুপায় !
সত্য, প্রকাশ ও অমরত্ব প্রাপ্তির পথে -
আঁধার যদি নেমে আসে, আশ্চর্য্যর কি
বুঝে উঠি না,ওই বিজয় পতাকায় যদি 
রুধিরে লিখে থাকো জয়লাভ গাথা,
ইতিহাসে হয় ত মহান,গর্বিত যোদ্ধার
ভূমিকায় তুমি শ্রেষ্ঠ, কিন্তু নিজের 
নীতিবোধে ক্রমশঃ সশস্ত্র পরাজিত,এক 
অসহায় প্রাণী মাত্র, দুর্বল, জীর্ণ শীর্ণ 
মানুষের দেহের সেই ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন
নামিয়ে আনবে তোমায় মৃত্য লোকে 
স্বর্গের সাম্রাজ্য চায় গণনা, হিসেব, সৎ
কুরু বংশীয় মহাসভায় হয় ত তুমি 
ঋণমুক্ত, মৃত্যুর প্রাঙ্গনে কিন্তু আসক্ত !
সোপানের সহস্ত্র হাত এবং তোমার এক 
মাত্র গ্রীবা, এখানেই পরাক্রমের অন্ত,
ময়ুর সিংহাসন উড়ে যাবে সে দিন শুন্যে !
--- শান্তনু সান্যাল 
 

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১


বসে আছি একাকী 

সেই অনন্তকালের যুদ্ধ নিয়ে উদ্বর্তন
প্রাণ ভরে ভালবাসতে গিয়ে দেখি -
সীসেরাঙা আকাশে কোথাও এক খণ্ড
বর্ষামুখর মেঘের হদিস নাই, অগ্রবর্তী
পদক্ষেপে গেছি মাড়িয়ে সমস্ত বিষন্নতা,
পাথর ভাঙনের শব্দ, ইঁট, সিমেন্টের
গন্ধে, ভুলে গেছি শ্রাবণের আদ্র,মিষ্টি
অনুভূতি,এখানেই ছিল হয় ত ছড়ানো
শৈশবের গল্প, কাহিনী, অনাম পুষ্পের
মাদকতা, ওই চার রাস্তার মোড়ে কে
যেন, চেয়ে থাকে উদাসীন মুখে আমায়,
খুঁজে বেড়াই চোরা গলি, মুখোমুখির -
আতঙ্কে রাত, বৈধব্য সাজ নিয়ে বসে রয়
পার্কের নিরালায়, একাকী কথা বলে -
নিজের সঙ্গে, গোনা কএক গাছের ছায়া,
খেলে অদৃশ্য শিশুর দল, সিঁড়ির উপরে পা
পিছলিয়ে পড়ে বারে বারে, সেই উঠে -
যাওয়ার সংকল্প ঘুমোতে দেয় না কোনো
ভাবে, খুঁজি অনবরত তোমার প্রেম, চাঁদ
উন্মুক্ত হাসি ভরা বিহান গাছের ফাঁকে !
এই বৃহৎ যামিনী চেয়ে ও দৃঢ়মুষ্টির স্বপ্ন 
 ভাঙতে পারে না, ভিড়ের মাঝে অবিরাম
আমি খুঁজে চলি তোমার হারানো ভালবাসা,

-- শান্তনু সান্যাল 



সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১১


গুপ্ত স্রোত

জানি ভালই ভাবে, আমার সীমা -
গণ্ডির প্রজ্বলক পাথর অচেনা নয়,
খালি পায়ে হেঁটেছি বহু বার, ওই
ছাই ভরা অরণ্যে যদি খুঁজো কোন
দিন এখনো আছে জ্বলন্ত পদ চিহ্ন,
হয় ত তুমি বুঝতে পারো নি কিংবা
বোঝার চেষ্টা কর নি, তাই চেয়ে -
আছো অমন অপলক এক দৃষ্ট চোখে,
বোধ হয় তোমার অথাহ প্রেম -
শুধুই কল্পনার তরঙ্গে ভেসে উঠতে
চায়, খেলে যাও তুমি লহরে সেই
শৈশবের খেলা,আপন মনে ভিজে -
উঠ,কভু ফেলে যাও জল স্বপ্নের দেহে,
এক মুঠো জোছনার বিনিময়ে আমি
দিতে চেয়েছি তোমায় সারাটা জীবন,
কিন্তু কোথায় যেন কার্পণ্য বাধা -
দিতে চায়, চোখের পাতায় ঢেকে
রাখো তুমি রজতনিভ গুপ্ত ভালবাসা !

-- শান্তনু সান্যাল