মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৬

চির দগ্ধতা - -

শেষ প্রহরে যখন গেছে ঝরে সমস্ত
নিশিপুষ্প, তখনও তুমি ছিলে
আবদ্ধ সাংঘাতিকভাবে,
আমার বুকের ওই
পল্লব - বিহীন
পিঞ্জরে !
গভীর রাতের উষ্ণ নিঃশ্বাসে তুমি
যেন মায়াভরা চন্দন বনের
সমীরণ, আহত জীবনে
ঢেলে চলেছ অদৃশ্য
কোনো জাদুর
বশীকরণ !
সুদুর বাঁশের বনে যখন দাবাগ্নির
উত্সন্নতা, তখন তুমি সহসা
প্রাক বর্ষার ধারা, ভিজিয়ে
যেতে চাও আমার
বুকের চির -
দগ্ধতা !

* *
- শান্তনু সান্যাল




রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৬

জাফরানী মুগ্ধতা - -

এটা নয় শেষ প্রান্ত, মরিচারঙ্গী দিগন্তে
এখনো আছে কিছু আলোর ছিঁটে,
সূর্যের ছিল যথারীতি যেন
তাড়াহুড়ো, তাই কিছু
আলোর পরিধান
ফেলে গেছে
সে আকাশের গায়ে। অভিলাষী মন - -
চায় তোমার অপ্রত্যাশিত ছোঁয়া,
এখনো বসন্তের নেশা কাটি
নি অরণ্যে, এখনো
গা ঢাকা দিয়ে
ওই জংলি
নালাটি বহে যায় আপন মনে, মহুয়ার 
বনে, এখনো ভেসে রয় তোমার
চোখের ওই মহাসাগরীয়
রহস্যভরা নীল -
গুঞ্জন, এখনো
পল্লব -
বিহীন বনে যেন লেগে আছে কুমকুম -
রঙ্গী আবেগ।

* *
- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০১৬

খোলা আকাশের নিচে - -

তার চোখের গভীরে যেন আছে এক
অন্ত:শীল জলধার, তাই জীবনের
মরুপথে বহে যায় অদৃশ্য
এক জলভরা সমীরণ,
আর ক্লান্ত দেহে
সে করে
যায় প্রাণের নব সঞ্চার। তার প্রেমের
বৃত্তে লুকিয়ে রয় ক্রুসবিদ্ধ যিশুর
নীরব করুণা, অদৃশ্য ভাবে
সে বাড়িয়ে দিতে চায়
ত্রাণের দুটি হাত,
যেখানে
এসে সমস্ত স্রোত মিলে মিশে হয়ে ওঠে
বিস্তীর্ণ মানবিকতার প্রবাহিনী,
ওই পারদর্শী সলিলে সারা
জগৎ তখন ভেসে
ওঠে ঝলমল !
মানুষ
তখন শুধুই হাড় - মাংসের এক মানুষ
সংজ্ঞাবিহীন সে তখন এক নিরীহ
শিশু, খোলা আকশের নিচে
উলঙ্গ দেহে, দৌড়িয়ে
যেতে চায় সুদুর
মেঘ ভরা
দিগন্তে,
সম্ভবত, সে খুঁজতে চায় ভালবাসার - -
দীর্ঘস্থায়ী কোনো রঙ্গধনু !

* *
- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নিজস্ব সম্পদ - -

আমি এখনো অপরাজিত, যদিও
পড়ে আছি বিধ্বস্ত রূপে
ভাঙা বাঁধের তীরে,
সময়ের হিংস্র
স্রোত কবে
গেছে ভাসিয়ে সমস্ত স্বপ্নের ভূমি,
সঠিক তা মনে নেই, তবুও
খোলা আকাশের নিচে
পুনরায় গড়তে
চাই এক
চিলতে প্রেমের পৃথিবী, যেখানে
জীবন, উন্মুক্ত ধারায় বহে
যায় অভিজ্ঞান - পত্র
বিহীন, যেখানে
তুমি আর
আমি অভিন্ন নিঃশ্বাসে যুক্ত এক
সাধারণ প্রাণী, যাদের বুক
এখনো বিশুদ্ধ, মোহর
বা স্ট্যাম্প বিহীন,
অবিরল লয়ে
তারা গেয়ে
যায় মানবিকতার গান, অবশ্যই
চারদিকে আজ, মানুষ নেই
আর মানুষের জন্য
সংবেদনশীল,
তবুও আমি
স্বপ্ন দেখে যাই, সেটাই আমার এক
মাত্র নিজস্ব সম্পদ যাকে কেউ,
কোনো ভাবেই কেড়ে
নিতে পারে না।
* *
- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নিঃশব্দ উচ্ছ্বাস - -

এখানে প্রতিধ্বনিরা করে আত্মঘাত,
এখানেই জীবনের প্রতিফলন 
যায় হারিয়ে, সে যেন
এক অবুঝ দ্বীপ
ভেসে যায়
কোন উজানমুখী স্রোতে, আর মৌন
ভাষায় করে যেন  চাপা অট্টহাস।
সন্ধ্যা যখন নেমে আসে
অরণ্য পথ হতে
বুকের অন্ধ -
গহ্বরে,
সম্ভবতঃ, অনিচ্ছায় আমি ফিরে যাই
তোমার হৃদয়ের খুব কাছে।
ওই বুড়ো অশ্বত্থ গাছের 
মাথায় ভরে ওঠে
ক্রমে - ক্রমে
আকাশব্যাপী কলরব, আর তুমি হয়ে
ওঠো নির্বিকার ঘাটে বাঁধানো
নৌকো, আর আমি খুঁজি
নিজের অস্তিত্ব,
তোমার
দেহের অভ্যন্তরীণ কোষ কেন্দ্রকে কিছু
অশোষিত জলের রূপে, যেন আমি
চাই বাঁচতে তোমার নিঃশব্দ
উচ্ছ্বাসে - -

* *








শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৬

অন্তর্লিখন - -

এক অনি:শেষ তিয়াসা নিয়ে বুকে -
যখন ভেঙ্গে যায় মধ্যরাতের
গভীর ঘুম ! তখন আমি
খোলা জানালার
পারে খুঁজি
টুকরো টুকরো ভেসে যাওয়া উল্কার
আলো। রাত হটাৎ মনে হয়
খুবই অসহায় খুঁড়িয়ে
খুঁড়িয়ে হাঁটছে,
আর সুদুর
দিগন্ত রেখায় কে যেন দাঁড়িয়ে আছে
ঝাপসা আলোয়, এক মহাকায়
আকৃতি ! কৌতুহল কী
আত্মঘাতী প্রবৃত্তি,
বোঝা খুবই
মুশকিল,
তবুও জীবন ছুঁতে চায় সেই ক্ষিতিজ
পারের ফেকাশে প্রতিভাস ! আর
এই ভাবে আমি বহু রাতের
অন্ধকারে লিখে যাই
অসমাপ্ত
অন্তর্লিখন, রাখতে চাই আলোর বর্ণ -
মালা চির জীবন্ত !

-  শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৬

মরিচা - মুক্ত - -

এখনো ফুরায় নি পৃথিবীর আবর্তগতি,
এখনো তুমি বেঁধে রাখতে চাও
বাউণ্ডুলে মরশুম নিজের
উচ্ছ্বাসের সমীকরণে,
যদিও জীবনের
আরশি
কিছু মলিনতার পথে চলেছে এগিয়ে - -
ভাবনারা কিন্তু এখনো মরিচা -
মুক্ত, চাঁদের আলোয় হয়ে
ওঠে জীবন্ত, সব কিছু
হয় তো ফুরায়
সময়ের
সাথে, আবার ওই ফুরান বিন্দু হতে - -
নতুন যাত্রার সূচনা হয় বৈকি,
সাগরমুখী নদীর ওই ঊষর
বাঁকের ভূমি, যদিও
আজ ঝোপ
জঙ্গলে ভরা, তবুও সে দেখে যায় মহা
শ্রাবণের স্বপ্ন, মিলে যেতে চায়
ওই বিচ্ছিন্ন নদীর সাথে
ঠিক আগের মত
একাকার,
সাগরকুলে যাওয়ার অভিলাষ কী যায়
সহজে, এখানেই কচি আলোর কড়া
নাড়ার শব্দ, আর একরাশ
ফুলের গন্ধ ভরে যায়
বুকের শূন্যতা।

* *

- শান্তনু সান্যাল