সোমবার, ১ মে, ২০২৩

শব্দহীনতা - -

বিহান ও সাঁঝের মাঝে বহে গেছে এক
জীবন ধারা, এখন শব্দহীনতার
সাথে কথা বলে অন্ধকার,
প্রস্রব মর্মঘাতে
রেখে
চলেছে রাত্রি আলতো হাতের সজল
তুলো, মৌন উড়াল সেতুর
নিচে, শীত কাতর
স্বপ্নগুলি
খুঁজে অজ্ঞাত বুকের পান্থশালা, এক
জামিনদার কি সকালের
প্রতিনিধি চায়
কিছু
মূল্যবান বিনিময়, বন্ধকের সামগ্রী !
দিগন্তের অদৃশ্য আলোর জন্যে
জীবন করে যেতে চায়
ফাঁকা কাগজে
কম্পিত
হাতের এলোমেলো স্বাক্ষর, দেহের
মৃত্যুর পরে প্রাণের পলায়ন,
যতই জড়িয়ে যেতে
চায় হৃদয়
তার
প্রণয়ের পুষ্পাঙ্কিত শাল, ততই সরে
যায় সুদূরে পলাতক অনুরাগী
কুটুম্বিতা, জামিন
দিতে কেউ
দেখি
আর এগিয়ে আসে না, জীবন শুধুই
এক মূল্যহীন ছায়া হারিয়ে
যায় শুন্যের গভীরে,
* *
- শান্তনু সান্যাল




রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩

শ্রাবণের শেষ বৃষ্টি - -

অনেক সময়ে দেহের খাঁচা হটাৎ যেন মনে
 হয় এক ফাঁপা প্রাসাদ, নিঃশ্বাসের
 ঝাড়বাতি নিভু নিভু, আর
 স্মৃতিরা করে যায়
 অট্টহাস, ওই
 বিবর্ণ
 দেয়ালের গায়ে সারা রাত জীবন করে যায়
 ছায়া নৃত্য, তবুও জানি না কেন, হৃদয়ে
 জেগে রয় সকালের কচি আলো,
 কিংবা তোমার নিঃশর্ত
 ভালোবাসা, অথবা
 বেঁচে থাকার
 স্পৃহা।
আসলে, অভিলাষের ফর্দ খুবই দীর্ঘ ! তাই -
আঙ্গুল ধরতে গিয়ে দেখি কনুই যেন
প্রলুব্ধ করে যায় সাঙ্ঘাতিক
ভাবে, আর দেহ তখন
সদ্য  বিস্ফোরিত
আগ্নেয়গিরি,
ধরে
রাখতে চায় বুকের মাঝে শ্রাবণের শেষ বৃষ্টি।

* *
- শান্তনু সান্যাল  


   

  

বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৩

চির জ্যোতির্ময় !

শীতকালের শেষে যখন মহুয়ার গাছে
ফুলের শঙ্কু ধরে, পাতা ঝরার
মৌসুমে অরণ্য নদী গুটিয়ে
বহে যায় সুদুর অঞ্চলে,
ওই মন্থর ধারায়
জীবন খুঁজে,
তার বুকে লুকানো ভালবাসার গুপ্ত -
জলধারা, কখনো শিলা খণ্ডের
নিচে, কখনো ভূগর্ভস্থ
স্রোতের রূপে
ভেসে ওঠে
সিক্ত ভাবনার অর্ঘ্য তার ভাসা ভাসা
চোখের তীরে, কোন পাষাণযুগীন
মন্দিরের ভগ্নাবশেষ তার
প্রণয়ের টেকসইতা,
উৎসন্ন হওয়ার
পরেও যেন
খুলে হাসে জোছনাভরা রাতে, আজও
তার হৃদয়ে ভেসে ওঠে এক অমূল্য
উদ্ভাসন, বাস্তব প্রেম তখন
সুবর্ণ উপলব্ধি, চির
জ্যোতির্ময় !

* *
- শান্তনু সান্যাল



 

শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৩

বিযুক্ত সাথীর বুকে - -

সে সহযাত্রী ছিল ঠিকই, কিন্তু কোথায় - -
 
যেন তার অনুরাগে নিশ্চই ছিল
ঘাটতি, আলো – ছায়ার
ওই খেলায়, কখনো
সে ছিল অন্তিম
কুঠরিতে
হাত বাড়িয়ে আকাঙ্ক্ষিত, আবার অনেক
সময়ে আমি ছিলাম একাকী দাঁড়ানো,
শীতের মধ্য রাতে, জন শূন্য
স্টেশন চত্বরে, বিনিদ্র
চোখে চেয়ে
আছি সুদুর সুড়ঙ্গ পথে, যেখানে গেছে যেন
হারিয়ে, শেষ প্রহরের কাচিক স্বপ্নের
দেশ, বিরোধিতা কি অবহেলা
অথবা অনুক্ত ভালবাসা,
সব কিছুই ছিল
তার মধ্যে,
বিশ্বাসঘাতকতা একটুও ছিল না ওই বিযুক্ত
সাথীর বুকে - -
* *
- শান্তনু সান্যাল


বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩

পড়ন্ত বেলার নরম রোদ্দুর - -

তুমি আজও শীতকালীন, পড়ন্ত বেলার
নরম রোদ্দুর, লুকিয়ে গায়ে মেখে
রাখতে চায় এ জীবন, তাই
কখনো সখনো দেখি
স্মৃতির অলিন্দে,
সন্ধ্যার
পরেও কী

যেন চিক চিক করে, পড়ে -
রয় আপন মনে অনেক ক্ষণ, তুমি
আজও যেন শিউলির চাপা
জাফরান গন্ধ, পাতা
ঝরার মৌসুমেও
জড়িয়ে
থাকো সারাটা শরীরে, কোনো মসৃণ
কাশ্মীরি শালের রূপে ! যাকে
বলে বহির্গামী শীতের
গোলাপী আভাস,
আশ্চর্য্য
বৈকি ! বারংবার মধুমাস এলো গেলো,
নিসর্গের নিয়ম চিরস্থায়ী, নিজের
জায়গায় সময়ের হাতে সঠিক
বাঁধা, তবুও তুমি দেখি
একটুও বদলাও
নি, বুকের
মাঝে, যথারীতি আগের যেমন ছিলে -
রোদ ছায়ার মিলন বিন্দু তে, হাসি
কান্নার মাঝে এক তির্যক
রেখার সমরুপে
উপস্থিত !
অদৃশ্য থেকেও, তুমি করে যাও অদ্ভুত
অধিকরণ - -

* *
- শান্তনু সান্যাল
  

মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩

এ কেমন অগভীর ঘুম - -

এ কেমন অগভীর ঘুম, হেঁটে চলেছে -

জীবন যেন আকাশগঙ্গার 
উপরে, অবিরাম 
ভেসে, না 
দেহের 
চিন্তা, না প্রাণের অনুরক্তি, কার মোহে 
 উন্মাদ অনুধাবন, এ কেমন 
নিশীথ ডাক, নিঃশব্দ 
কিন্তু করে যায় 
ঝঙ্কৃত 
অন্তরতম, এ কিসের মায়াবী ছায়া -
বশীভূত করে যেতে চায় 
রাগ অনুরাগ, হাসি 
কান্না, নিমজ্জন 
কখনো 
শুন্যে ভাসা, এ কেমন প্রেমের আগুন 
অদৃশ্য দহনে পুড়িয়ে যায় 
সব কিছু অস্তিত্ব 
উঠে চলেছে 
ধুম্র পথে,
এ কোন মহাকায় মাকড়সার জাল, -
স্বপ্নগুলো ঝুলে রয় শিশির 
কণার রূপে, মিথ্যে 
ও সত্যের 
ভিড়ে 
হৃদয় খুঁজে কার অসীম ভালবাসা, এ 
কেমন অগম পিপাসা, দাঁড়িয়ে 
গভীর সরসীর তীরে 
চেয়ে রয় অতৃপ্ত 
চোখে ঢেউর 
ভেঙ্গে 
যাওয়া, এ কেমন আত্ম পরিক্রমা, চার  
দিকে যখন দাবানল, খুঁজে 
হৃদয় কস্তুরী গন্ধের 
চক্রনাভি - - 
* * 
- শান্তনু সান্যাল 




রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩

আলো ছায়ার খেলা - -

আলো ছায়ার খেলা চলে সারা রাত,
অন্ধকার সহসা তখন জীবন্ত,
দীর্ঘ নিঃশ্বাসের সঙ্গে
ধরে রাখতে
চায়
জোছনার চঞ্চলতা, যখন নিশীথে -
ঘনিয়ে ওঠে অরণ্যের হিংস
বৃত্তি, তখন নিশি পুষ্পের
গন্ধ যায় ছড়িয়ে
চার দিকে,
সেই
আবেশিত মুহুর্তে, সব তথাকথিত  
স্থিতিমাপ যায় বদলিয়ে, না
তখন তুমি তোমার
মাঝে, আমি ও
তখন
খসিয়ে চলেছি গায়ে জড়ানো মিথ্যে
উজ্জ্বল আঁশের আবরণ, না
তুমি পার করেছ কোনো
সীমান্ত রেখা, না
আমি ও গেছি
ডিঙিয়ে
কোনো নৈসর্গিক রচনা, কোনো - -
কিছুই ছিল না কাল্পনিক !
ওই হাড় মাংসের
খাঁচায় কিছু
ক্ষণের
উচ্ছ্বাস, নিঃশ্বাসে অকৃত্রিম গন্ধের
আভাস, কিছু মুহুর্তের ওই
খুশির মধ্যে ছিল দীর্ঘ
অভিলাষের
তৃপ্তি !
* *
- শান্তনু সান্যাল