রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১

কোনো এক দিন

কিছুই না বলে, অনেক কিছু কহে যায়
তার নির্বিকার নিরবতা, মুক
সন্ধান যেন খর ফলক !
রক্ত বিহীন কেটে
যায় অন্তর
পটল,
সে এক হিমায়িত ধরাতল বুকের মাঝে
লুকিয়ে রাখে উষ্ণ জলধারা, ঢেকে
যায় তটভূমি কুয়াশার চাদরে,
জীবনের সেই প্রবঞ্চিত
ভোরে খুঁজে মন
ভালবাসার
মাস্তুল,
তার এমন ভাবে ঠাউর করে চাওয়া
থামিয়ে রাখে কিছু ক্ষণ উঠন্ত
স্বপ্নে ভিজা নারঙ্গ সূর্য্য,
শঙ্খচিলের নেড়া
গাছের শীর্ষে,
ডানা
গুটানো  ঘুম, যায় ভেঙে, এখন জীবন
চায় সব কিছু ফিরে পাওয়া, কিছু
দেহের গহ্বর জেগে উঠেছে
নিয়ে টাটকা গন্ধ,
পুনঃ ধরতে
চায়
জীবন, মধু ছন্দে ভরা  বাতাস, জাল
বুনে চলেছে অন্তর্মনের শিল্পী,
দুঃস্বপ্নের পাতা খুলতে
চায় না হৃদয়,
মথের শেষ
ছটফটানি চেয়ে আছে জানালার শার্সি,
ঝুলে রয়েছে কৃষ্ণ চূড়ার বৃন্ত
আসল কি নকল বলা
মুশকিল, বিম্বে
কি সব
কিছু
সন্ধান করা যায়, অবসরে ভাবব একদিন.

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
 PAINTING BY - autumn - JIM OBERST 

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১


স্থির চাহনি 

মৌন চোখের ভাষা ! অভিপ্রায় বুঝতে যেন 
জীবন যায় ফুরায়ে, তার মনের জল 
দর্পণে খুঁজে পাই নি টলটলে প্রতি -
বিম্ব, যখন চেয়েছি চিনতে 
নিজের পরিচয়, ফিরে 
এসেছি অনমনস্ক 
উদাসীন, 
তার এই দ্বিধান্বিত ভালবাসা, যেন ঝরিয়ে 
যায় তুষার পাতে, সমস্ত নিশি পুষ্প,
স্বপ্ন গুলো শেষ রাতে গুটিয়ে 
ঘুমিয়ে পড়ে নিজের 
দুনিয়ায়, আমি 
ধরে রাখতে 
চাই কিছু সুরুভীর বাউণ্ডুলে কণা, আবেগের 
আকাশে এখন ভেসে চলেছে অতি -
সুক্ষ্ম  আবেশের অদৃশ্য জীব,
মনের অণুবীক্ষণযন্ত্র
কিছু আনমনা !
চেয়ে ও 
চায় না দেখতে, এগিয়ে চলেছে ঘনিভুতের 
পথে জীবনের ওজস্বিতা, তবু ও 
আমি চেয়ে রই তার নিরব 
চোখের মায়া, স্তরপূর্ণ 
রুহিতন, লুপ্ত 
ভালবাসা,
তার চোখের নির্গত আলো, করে যায় প্রতি 
মূহূর্তে সংবেশিত, দেহ ও প্রাণের
মুক্তি সম্ভব নয় তথাপি 
পঞ্চ তত্বের পিঞ্জর 
উন্মুক্ত রয় 
অহর্নিশ.

- - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
 painting by -   Ben Tour 

শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১১

মৃত্যুকূপের উপরে

সেই অন্ধকার গর্তে উঠানো বহু হাত
আশঁসা নিয়ে চেয়ে থাকে ঘূর্ণন -
ময় আকাশগঙ্গার জগত,
এই মৃত্যুর কূপে
জীবন
খেলে বেঁচে থাকার খেলা, সামান্য -
কিছু পয়সা, আগামী দিনের
ভালবাসা, এক মুঠো
রোদ কিনে রাখে,
মনের প্রিয়
আঁধার,
গ্রামের মেলা হতে শহরের প্রদর্শনী,
অজয় নদী হতে বুড়ি গঙ্গা,
তিমির খুঁজে বেড়ায়
আলোর কিছু
কণা,
সেই গর্তের শিশুদের  হাত চায় সূর্যের
নরম কিরণ, তারা কিশোর হতে
চায়, মনের কিশলয় ঝরিয়ে
উঠে আসতে চায় কূপের
বাইরের জগতে,
ছড়াতে -
চায় চার দিকে গুল্ম লতার  রূপে, কিছু
কুড়ি শুকিয়ে বুড়িয়ে চলেছে,
কিন্তু স্বপ্ন ! বয়েসের বাধা
মানে না, মানবেও
কেন, জীবন
কি শুধুই
শ্রেণীবদ্ধ, না, অন্ধকারের দাবি আলো,
এই বেঁচে থাকার উপায়, মৌত কা
কুয়া কে ও বাদ দিয়ে উঠে
আসে উদ্ভাসিত জীবনে,
ধরে রাখতে চায়
যতটুকু আলো
নিয়তির
আঁচলে রয়েছে ছড়ানো, বুকে টেনে রাখে
আঁধার সমস্ত উঠানো কচি হাত,

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
hope - John A. Roof

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১


উদ্ভাসিত পথের  যাত্রী 

বহিঃস্থ পরিবর্তন ছিল সহজ, প্রথম 
বর্ষায় ভিজিয়ে গেছে সম 
বিষম ধরাতল, কিন্তু
অন্তঃস্থ ভূমির  
দহন 
চিরস্থায়ী, তার সুধাময় নিগূঢ় 
ভাষায় নিহিত সম্মোহন,
ভুলিয়ে নিয়ে গেছে 
বারংবার দেহ 
ও প্রাণ, 
জানা সত্তেও যে সে এক মায়ামৃগ 
আখেটক হৃদয় ধেয়ে যায় 
দিবা নিশি, সেই প্রচ্ছায়া 
জগতে প্রস্থানের 
পথে নেই,
শুধুই চারদিকে অতৃপ্ত অভীপ্সার 
চিত্কার, অরণ্য রোদন, 
শ্বাসরোধিত স্বপ্নের
মহা ভাঙন,
এখানেই 
আত্ম পরিচয়, নিজে কে ফিরে পাওয়া !
জীবনের এই সীমান্তে দীর্ঘ 
নিদ্রার জাগরণ, 
আরশির
জবাবদিহি, প্রায়াশ্চিতের আগুনে
 নিজের বিম্বের স্বাহা, নব 
উত্থানে প্রারব্ধ 
মহাপরিবর্তনের সূত্রপাত, 
মনুশ্যতার  ক্রমিক 
বিকাশের 
পুনরাবৃতি, জীবনের হারানো মর্মের 
প্রাপ্তি, ক্রান্তিকারী চরিত্রের 
পুনর্গঠন, অগ্নিপথের 
যাত্রীদলে যোগ 
দেওয়া, 
জন্ম মৃত্যুর শৃঙ্খলা ক্রমশঃ ভেঙে 
যাওয়া, উদ্ভাসিত পথে 
মহাপ্রস্থান, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১


আকাশের পথিক 

বৃষ্টি ছায়ার পথে হয় ত ছিল নিয়তির 
শহর, হাওয়ায় শুনেছে বর্ষার 
খবর, ভিজার সাধ নিয়ে 
বসে রয়েছে জীবন 
ভর, সে যেন 
খারিজ 
রেল পথ, চেয়ে থাকে কচুরিপানার 
ভাসন্ত জগত, ফিঙের শুন্যে 
ঢেউ খেলা, কলমির 
বাতাসের সঙ্গে 
গুজব, 
সেই বন তুলসীর ঝোপে, খুঁজে মন 
লেবুফুলের গন্ধে লুক্কায়িত 
পথ, বুকের উপরে 
হেঁটে যায় শিশু 
সম দুই 
জড়িত হাত, সুদূরে বর্ষা এখন থেমেছে 
মনে হয়, দিনান্তে যেন স্যাঁতসেঁতে
ভাব, ফোনের তার একাকী !
উড়ে গেছে চড়ুই র 
ঝাঁক, সাঁঝের 
গগনে 
ভেসে চলেছে দিশাহারা রঙ্গীন ঘুড়ি -
ক্রমশঃ স্মৃতির আঁধারে 
হারিয়ে চলেছে 
নিরীহ 
ভালবাসা, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১১

শুভ রাত্রি

অপ্রতিম সান্ধ্য গগনে সে
ভেসে উঠে নীলাভ
বেগুনি রঙ্গে,
স্বপ্নের
নিরুপম বিরল তারক -
লিখে যায় মিলন
বিরহের
গান,
ফুটে উঠে রজনীগন্ধা,
তার অনুরোধে
ঝরিয়ে রয়
মৌ গন্ধ,
সারা রাত চেয়ে থাকে
গগনের উন্মুক্ত
বিস্তীর্ণ বক্ষ
এক দৃষ্ট,
রাত্রি শেষে ঝরে শিশির
কণা, বিন্দু বিন্দু
ভরে যায়
জীবনের
রিক্ত ভাবনার ধরাতল.
-- শান্তনু সান্যাল


নিশীথ রাতের রহস্য

আজ কবিতা নয়, যদি বলি কাহিনী শুনবে কি,
এই কাহিনীর কোনো শীর্ষক নাই, নামহীন !
শুধুই অনুভব করতে হবে, মনের ভিতরে, সে
এখন পাশ ফিরে চেয়ে রয়েছে আমার দিকে,
তার নিঃশ্বাসের ওঠা নামার মাঝে থেমে আছে
জীবনের কিছু অতীতের ছেঁড়া, নোংরা পৃষ্ট,
বুকে আলতো ভাবে হাত রেখে সে শুনতে চায়
সব কিছু, ভূমিকা না বেঁধে সরাসরি আমি
খোলা জানালার বাইরে এক নজর দেখে বলি -
 সে দিন ও ছিল এমনি এক জবজবে রাত,
বাইরে তখন সঘন মেঘের বর্ষণ,আকাশ যেন
ভেঙে পড়তে চায়, শ্রাবণ কি ভাদ্র মনে নাই,
দেখি সন্নিধির সান্দ্রতা ঘনিয়ে চলেছে ক্রমশঃ,সে
এখন প্রায় বিজড়িত, কিছু ক্ষণের নিরবতা,
"তারপর -- বল না, কি হলো ঘুমিয়ে না কি "
হটাত মধ্য রাতে,ওই ১২ টা বা  দেড় টা হবে -
সঠিক মনে নাই,দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ, ঠক
ঠক -- সে এখন আলিঙ্গনবদ্ধ,তারপরে, কিছু
মুহূর্তের বিরতি, আমি জানতে চাইলাম কে
আছে বাইরে,নিশীথ রাতে এই ভাবে কি দরজা
খোলা উচিত, "কি উত্তর পেলে " সেটা খুব
একটা মনে নাই,কিন্তু --"কিন্তু আবার কি হলো,
দরজা খুলে ছিলে," সে এখন বাহুপাশ খুলে
দিয়েছে,মুক্ত হরিণী খুঁজে চলেছে কস্তুরীর গন্ধ,
আলো জ্বালিয়ে জানতে চায় কাহিনীর
উপসংহার, আমি যখন সৃজনের শিল্পী, রহস্য
তো আমার হাতে, শবাধার ঢেকে দিয়েছি,
বাইরে সে দিনের মতন বৃষ্টি এখন থেমে রয়েছে,
ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে, আবার, তারপর
কি ঘটল,কে ছিল,কি হলো নানান প্রশ্নের মাঝে
দিনের আলো ছড়িয়ে গেছে চার দিকে, তার
কৌতুহলের মাত্রা কমী নি কোনো ভাবে,
আমি ও চাই যে রহস্যময়ী রাতের কাহিনী
যেন এই ভাবে টেনে আনুক তাকে নিকটতম !

-- শান্তনু সান্যাল