Wednesday, 2 May 2018

পরবর্তী স্টপ - -

সবাই একই পথের যাত্রী, কে কখন কোথায়
যে হারাবে কুয়াশার দেশে, বলা কঠিন,
অনেক কিছুর আশায় অনেক
কিছুই যায় হারায়ে, তবুও
অভিলাষের তালিকা
অন্তহীন, যদি
কোনো
এক দিন  বিস্মৃত মরুদ্যানের তীরে দেখা হয়
হটাৎ, তাহলে বলবো তোমায় মরীচিকার
নীরব কাহিনী, অনেক কিছুই জীবনে
রয়ে যায় অনুচ্চারিত, বুকের
গভীরে চিরস্থায়ী বিলীন,
কিন্তু থামে না ঋতু
চক্র, থামে না
কেউ
কারোর জন্য, আকাশের গায়ে যথারীতি - -
ভরে ওঠে চন্দ্র তারার সম্মেলন, আর
পৃথিবীর বুকে জেগে থাকে চাপা
সুপ্ত দহন, আর মানুষের
চিরকালীন, ঘাত -
প্রতিঘাতের
মাঝে
জীবন খুঁজে বেড়ায় উজানের পথ, শূন্য
দিগন্তে ভেসে ওঠে ডুবন্ত চাঁদের
কিছু ভাঙা ভাঙা প্রতিফলন,
চেয়ে রয় অরণ্য কুসুম
আকাশের পানে,
অন্তর্তমের
কাহিনী
নিজের ছাড়া কেউ কি জানে ? আবার
সেই পরিচিত পুনরাবৃত্তি - - সরু -
পথ, সুড়ঙ্গ, সিঁড়ির ধাপ,
মেট্রো ট্রেন, জন -
অরণ্যের
মাঝে
নিজের সন্ধান। তুমি কিংবা আমি বলে
কিছুই নেই সবাই সহযাত্রী, কত
দূরের সঙ্গী, এটাই বোঝা
মুশকিল - -

* *
- শান্তনু সান্যাল



 

Friday, 20 April 2018

যখন নিঝুম এই সৃষ্টি - -

সুদূর অরণ্যে পল্লববিহীন মহুয়া বনে
যখন জেগে ওঠে হটাৎ দাবানল,
তখন সুপ্ত স্বপ্নগুলো বুকের
মাঝে জাগায়  মধ্য -
রাতের জ্বলন্ত
অভিলাষ।
এই স্বপ্নগুলো নিয়েই জীবন আজ ও
কালের মাঝে বাঁচিয়ে রাখে সব
কিছু, আকাশ তখন খুবই
কাছের মানুষ, যেন
দুটি হাত বাড়িয়ে
বুকের মাঝে
টেনে
রাখতে চায় পৃথিবীর জ্বালা যন্ত্রনা, রাত
ধীরে ধীরে হয় ওঠে অন্ধ প্রলেপ,
ঢেকে দিতে চায় সমস্ত দুঃখ -
বেদনা নিবিড় আঁধারের
আড়ালে। পৃথিবী,
যথারীতি
অনন্তকালের সমর্পিতা, শেষ প্রহরের
আগে জোছনার স্রোতে ভাসিয়ে
দিতে চায় দেহ ও প্রাণের
তরণী।

* *
- শান্তনু সান্যাল 

Monday, 9 April 2018

স্মৃতির সৈকতে - -

 খুঁজে পাওয়া মুশকিল সময়ের সাথে
যারা হারিয়ে গেছে কোনো এক
কাল বৈশাখীর রাতে, জানি
তুমি আজও খুঁজে বেড়াও
মুছে যাওয়া পদচিহ্ন,
যদিও তোমার
রিক্ত অঞ্চল,
বলে -
যায় কাহিনীটা ভিন্ন। আমার নোনা
জলের জলাভূমির তীরে আজও
ফুটে অজস্র ফুল, স্বপ্নগুলো
চিরন্তন জেগে থাকে,
আর চোখের
মেঘভরা
দুই কূল।রাত্রি শেষে যখন সারা শহর
ঘুমন্ত ঢেউর সাথে ভেসে যায় সুদূর
অজানা, আনন্দ লোকে, আমি
খুঁজি স্মৃতির কিছু ভাঙা
ঝিনুক গভীর
অন্তরে,
সবাই বেঁচে আছে যার যেমন আপন
সুখে।

* *
- শান্তনু সান্যাল




  


Thursday, 8 March 2018

ডুবন্ত শহরের যাত্রী - -

নিবিড় অন্ধকারে, যখন থামলো বুড়ো
অশ্বত্থ গাছের কলরব, তখন
দেখি জীবন থেকে যেন
ছায়ার মাপ কিছু
বেশিই দীর্ঘ।
হাত
বাড়িয়ে কে যেন বলে আমি ডুবতে চাই -
না, আমি বাঁচতে চাই কিন্তু তার
মৌন চিৎকার, যথারীতি
হারিয়ে যায় ওই
সরু গলির
মোড়ে।
তাদের মান - অভিমানের ছকের খেলায়
আমি রইলাম নিরুদ্দেশ মার্জিনে,
তারা সবাই এখন ভাঙছে
গড়ছে নিজের মত
সমাজের ওই
জর্জর
কাঠামো, আমি আজও কিন্তু খুঁজে পাই -
নি, এক রাতের ঠিকানা, অবশ্যই
খসা দেয়ালের গায়ে কে যেন
লিখে গেছে আমাদের
টার্গেট দিল্লী - -
কিসের
জন্য
জানি না, হয়'ত তাদের আছে ছানিবিহীন
চক্ষু, আমি সুদূরে ঝাপসা আলোর -
পথ ছাড়া কিছুই খুঁজে পাই
নি।আস্তে আস্তে দেখি
সারা শহর
নিঃশব্দ
ভাবে ডুবে চলেছে মায়াবী রাতের অন্তহীন
অন্ধকারে - -

* *
- শান্তনু সান্যাল  

Saturday, 13 January 2018

শূন্যতার মাঝে কলরব - -

অন্ধকারের অপর পারে এখনো রয়েছে
কিছু অর্ধ - জ্বলন্ত অনুভূতি, হাড় -
মাংসের সাথে সব কিছু কী
শেষ হয়। তোমার ওই
পরিপূর্ণ পাওয়ার
অভিলাষ,
আর
আমার সম্পূর্ণ না দেওয়ার ব্যর্থতা, যেন
কুন্ঠিত করে যায় এই সংক্ষিপ্ত জীবন,
তবুও জানি না কেন, জীবন
দিতে চায় অনেক কিছু,
কিন্তু তোমার ওই
হৃদয়ের উষ্ণ -
ভূমি,
সহজে ধরে রাখতে পারবে কী, আমার - -
চোখের অন্তহীন প্রবাহের বৃষ্টি।বলা
মুশকিল, অনেক পথের কাহিনী,
চিরকাল থাকে, যথারীতি -
মৃগতৃষ্ণার দ্বন্দ্বে হারানো
জল বিন্দুর পৃথিবী !
শূন্যতার মাঝে
কলরব !

* *
- শান্তনু সান্যাল 





Thursday, 5 October 2017

অফুরন্ত সুরভি - -

হটাৎ সব কিছু যেন গতিহীন, মৌন,
বুড়ো শিবের অশ্বত্থ গাছ, রাত্রি
ক্রমশঃ হয় উঠছে বাজ -
পাখির ডিগবাজি।
জনশূন্য ঘাটে
নৌকোর
একান্তবাস, শিউলির গন্ধে নিশীথ -
খুঁজে পুরাতন নিঃশ্বাস।অফুরন্ত
জোয়ার ভাটার খেলা যেন
চলছে পৃথিবীর আগ্নেয়
বুকে, তুমি আর
আমি এই
সন্ধিক্ষণে শুধুই এক জ্বলন্ত কর্পূরের -
আভাস।চাঁদ ডুববে যথারীতি
গহন দিগন্তে, ফুল ঝরবে
মাটির টানে, জন্ম -
মৃত্যুর শৃঙ্খলে
প্রণয়গন্ধ
যেন একগুঁয়ে, দেহ হতে প্রাণে বহে - -
যায় উন্মুক্ত ভাবে। 
* *
- শান্তনু সান্যাল

Sunday, 3 September 2017

মাটির নিয়তি - -

তোমরাই গড়ো আবার তোমরাই
ফেলে আসো নদীর গাদ ভরা
তীরে, বুঝি না এ কেমন
বিনিময়ের খেলা,
তবুও ছুটে
আসি
বারেবারে ওই শিউলির গন্ধে ভরা
পথে, তোমাদের হাতেই করি
ষোল শৃঙ্গার, হয়ে ওঠি
রণ - বীরাঙ্গনা আর
করি রিপু দলের
সংহার, জানি
খুবই
কঠিন, হাড় মাংসের ওই অসুরের
দমন, যেন সহস্ত্র বীজের চার
দিকে অঙ্কুরণ, তোমরা
শুধুই করেছো
পুতুল
খেলা তাই আমি যথারীতি রয়ে - -
গেছি শুধুই  মাটির প্রতিমা,
আর খেলা শেষে, গেছি
ভেসে নদীর মলিন
স্রোতে, চির
উপেক্ষিত
অবলার রূপে, তোমরা জন্ম দিলে - -
অবশ্যই, কিন্তু প্রাণের প্রতিষ্ঠা
রইলো যথারীতি ভেজাল,
দূষিত,তাই আমার
নিয়তি শুধুই
মৃন্ময়ী,
অন্তহীন নীরবতার প্রতীক, শুধুই এক
মৌন প্রতিমা - -

* *
- শান্তনু সান্যাল