সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২


প্রসারিত কম্পিত হাত 

তার দাবি, নিজের জায়গায়, বোধ হয় ঠিকই ছিল, 
আমার অঙ্গীকারে, আবেশের উদাসীনতা 
কিংবা ভীরু প্রেমের উপাদান ছিল 
কিছু অধিক, তাই সে খেলেছে 
প্রবঞ্চনার খেলা, কিন্তু 
কোথায় যেন 
তার ওই 
সীমা রেখা পার করাটা ছিল বিপজ্জনক, ইচ্ছে করে 
করুণানিধনের পথে যেন হেঁটে যাওয়া, রক্তের 
স্বাদ কালান্তরে তাকে বানিয়ে  ফেলেছে
হাঙ্গর, দিবা নিশির সন্ধান কিংবা 
মৃগতৃষ্ণা, অতিরিক্ত পাবার 
সাধ, মনের প্রান্তর করে 
গেছে নির্জন মরু 
প্রান্তর !
সুতরাং দেহ ও মনের সমাস বিগ্রহ ঘটেছে বহু বার, 
তার স্বপ্নের উপগ্রহে আমার দখল ছিল শুন্য, 
বুকে জড়িয়ে থাকার সত্তেও, সে ছিল 
মাত্র পরিকীয় ভালবাসা, কিন্তু 
পাগল পিপাসার অন্তে দেখি 
সে বসে রয়েছে একাকী 
রক্ত ক্ষরিত মন ও 
প্রাণ নিয়ে, 
নিবিড় নিশীথে, দুই কম্পিত হাত বাড়িয়ে চায় 
বিঘটিত ভালবাসা - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
paintings by Victor Bauer




দেশান্তর 

এত সহজ ছিল না জীবনের দেশান্তর, *গুরমেটি ও 
*মারা নদীর কুমির ছিল তাদের নিজের 
অদৃশ্য গহ্বরে, সহ পান্থের ছিল হয় 
ত নিজের পূর্বিতা, তাই ঝাঁপ 
দেবার আগেই ছাড়িয়ে 
নিল নিজের কোমল
হাত খানি, ভুল 
বলে এখানে 
কিছুই 
নাই, ভালবাসার ব্যথা নয় শেষ গন্তব্য, অনেক 
আপন গড়া থাকে কাল্পনিক কিংবা 
বাস্তবিক চতুঃসীমা, গণ্ডির
বাইরে পা দেওয়া খুবই 
মুশকিল, তাই ত 
নিয়তির 
হাতে 
সঁপে ভবিষ্যতের পরিণতি, একাকী পাড়ি দেওয়া,
তাদের প্রেমে ছিল কত যে সান্দ্রতা, প্রায়ঃ
মন ভাবে নিয়ে আহত দেহ, ক্লান্ত, 
বাবলা গাছের নীচে, কেউ 
কারোর জন্যে অপেক্ষা 
করে না, যারা ছিল 
একদিন প্রাণের 
বন্ধু, তারাই 
গোধুলির 
ধুলায় গেছে হারিয়ে সাঁঝ পেরিয়ে নতুন সূর্যের 
দেশে, হয় ত এখন তৃণ ভূমিতে মেঘ 
ঝরেছে নিয়ে সহস্ত্র আশার কণ,
রামধনুর রঙ্গে গেছে মিলে 
স্মৃতির তামাটে সবুজ 
ছোয়া রং, ঠিক 
পূজার থাল 
যেন 
বলে ফুল রাখার আগে যদি লেবু দিয়ে ঘসে নিতে, 
হয় ত জীবনের ধুসর প্রান্তে কিছু ক্ষণ 
বিস্মৃত গন্ধ রয়ে যেত পলকা 
ভাবে জড়িয়ে, কিছু চমক 
যদি ফিরে আসে, কিছু 
ভাবনার অর্ঘ্য যায় 
ছড়িয়ে অদৃশ্য 
প্রণয়ের 
পদতলে, অনেক সময় মন অনেক কিছু বলেও,
নিজেই শুনে, চোখের কোণের সেই 
ঝিকিমিকি জল তরঙ্গ, সে  
লুকিয়ে রাখতে চায় 
বুকের রহস্যময় 
সিন্দুকে - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
( *গুরমেটি ও মারা আফ্রিকার নদীর নাম, গ্নু, জেব্রা দের 
দেশান্তরের সময় রাস্তায় পড়ে )
migration- JASON MORGAN 

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১২


পলাতক ছায়া 

আধো রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, দেখি নিরাকার, 
অনিরুদ্ধ, আমার ছায়া দাঁড়িয়ে আছে দরজায়,
জোছনার আলোয় স্পষ্ট দেখতে পাই তার 
বাস্তব অস্তিত্ব, বিচ্ছিন্ন, অতৃপ্ত, মায়ার 
শিকলে জড়িত, হাত বাড়িয়ে 
আকাশ পানে চাইছে 
মুক্তির উপায়,
চার দিকে 
হাহাকার, আকুল আকাঙ্ক্ষার গোঙানি, আমি -
থামাতে চাই তার আর্তনাদ, কিন্তু শব্দ 
যেন বুকে আটকিয়ে চলেছে, ক্রমে 
সে সরে দূর বহু দূর হয়ে 
যেতে চায়, কিংবা 
না চেনার 
ভান 
সাজিয়েছে, দেখি সে  প্রায়ঃ উড়ন্ত অবস্থায় এখন, 
ভেসে চলেছে জানি না, কোন দিগন্ত ছুঁতে,
কিসের সন্ধানে হয় উঠলো যে 
উতলা, উদাস চোখে চেয়ে 
আছি তার এই ভাবে 
জীবনের বিরক্তি,
প্রত্যাখ্যান,
ফিরিয়ে আনতে চায় মন, তার অকালীন বৈরাগ্য,
কিংবা অসাধারণ কিছু পাবার লালসা থেকে,
জানতে চায় রহস্য, কারণ, পরিস্থিতি,
বাঁচাতে চাই নিজেকে নিজের 
হাতে, আত্মহননের পথ 
থেকে বিমুখ হতে, 
স্বপ্নের সীমা 
নির্ধারিত করতে, জীবন ইচ্ছুক পুনরায় পুনরায় -
তাকে ফিরিয়ে আনতে, অবোধ শিশু তুল্য 
ওই বায়না, মিথ্যে ভরসা দিয়ে 
আবার জড়িয়ে রাখতে,
ছায়াবিহীন আমি 
শুন্য ছাড়া যে 
কিছুই নয়,
তাই 
উপত্যকার সীমানায় দাঁড়িয়ে ডাক দিয়ে চলেছি 
যদি সে ফিরে আসে, পলাতক কিশোরের 
মত, কচি দাড়ি গোঁফ গজিয়ে মুখে, 
দুঃস্বপ্ন ভাঙার পরে, যেন এক 
দগ্ধ সাঁঝে সে হাজির হাতে
নিয়ে মেঘের গুঁড়া,
আরণ্যক হতে 
গৃহ প্রবেশ !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
horse rider - Paintings by Leonid Afremov 






বন্য ভালবাসা 

আমার পথ কোনো দিনই ছিল না সোজা, আঁকাবাঁকা 
রাস্তায় হাঁটার মোহিনীমায়া ঘিরে রইলো সারাটা 
জীবন, শৈশবের ওই উপজাতি বন্ধুদের সঙ্গে 
প্রচণ্ড রোদে পাহাড়ের গায়ে অনর্থক 
ঘোরা, ঝরনার জল, জংলি ফল 
খাওয়া, তাই আজ ভাবি 
সেই অরণ্যের সুখ 
যদি আবার 
ফিরে 
আসে, খালি পায়ে দৌড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করে সেই 
নিখোঁজ আদিবাসী গ্রামে, গরমের ছুটিতে 
অনেক রাত অব্দি নদী পাহাড়, লুক -
ছুপ, নানান নামের খেলার ফাঁকে 
কচি প্রেমের আকর্ষণ, 
অজ্ঞাত দুর্বলতার
উদয়, লেবু 
ফুলের 
গন্ধের মাঝে জড়িয়ে ধরে নিষ্পাপ আদর করা, 
স্বাভাবিক ভাবে শুধু কাছে যাওয়া, ওই 
খেলার সঙ্গে স্বপ্নীল মাটি শরীরে 
জড়ানো, ঘুমের জগতে সে 
তখন গঙ্গা ফড়িং 
আমি ধরতে 
চাই তার 
পারদর্শী রঙ্গীন ডানা, সে উড়ে চলেছে নদীর উপর 
হতে পাহাড়ের শিখর প্রদেশে, হয় তো 
পাহাড়ের ওই পারের মাদলের 
সুরে, উন্মুক্ত রূপে সে চায় 
মিলে যেতে, বাহিরের 
দুনিয়া সে দেখতে 
চায় না, তাই 
অবাক 
ভাবে চেয়ে রয় আমার সভ্য ভালবাসা, তার ওই 
শ্যামলা মুখে স্পষ্ট অবিশ্বাসের তড়িত
খেলে নিমেষে, খেলার ভাঙ্গনে সে 
আস্তে ফিসফিসিয়ে জানিয়ে 
দিয়ে যায়, তার প্রেম 
যাযাবর নয়,
বন্য হতে 
পারে,

-- শান্তনু সান্যাল 
PAINTING BY - SHIRLEY SHELTON 



শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১২


জোছনার উপরে হেঁটে যাওয়া -- দিগন্তে 

সরিয়ে যাও বাতায়নের ঝুলন্ত পর্দা, খুলে দাও সমস্ত জানালা, 
ঝরে আসুক উদ্দাম জোছনার ঘোর, মহুয়া ফুলের 
গন্ধে আরণ্যক দেহ, বিদীর্ণ হতে চায় মধু -
কোষ, কৃষ্ণসারের মোহাবিষ্ট ডাকে 
সম্পূর্ণ বনস্থলী উপদ্রুত, চাঁদের 
কাঁচা বয়সের বহির্গামী 
আলোর উত্পাত,
অলিন্দের 
চৌহদ্দি 
ও নিশীথ রাত, তোমার খোলা চুলে দাঁড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধ ভাবে,
বসন্তের আকাশ তাকানো, মোহিনীময় অদৃশ্য জালের 
বিস্তার, আদিমকালীন আবরণবিহীন যুগে ফিরে 
যাওয়া, শিমুল তুলোর মত, কস্তুরীর উড়ে 
উড়ে দেহের, গুপ্ত রন্ধ্রে অনুপ্রবেশ, 
আবেগময় সরোবরে ছপাকের 
শব্দ, শব্দভেদী বাণের
ছুটে আসা, মধুর 
কি মর্মস্পর্শী 
নিমজ্জন,
আস্তে আস্তে চাঁদের বিলীনতা, কম্পিত পৃথিবীর ক্ষনিক 
স্থিরতা, ফাটলের মাঝে পরিজামিরা রঙ্গী জলের 
উল্লম্ফন, অধর হতে অধরের সরে যাওয়া,
শেষ প্রহরে শিশির বিন্দুর টিপ টিপ 
করে যুগ্ম পল্লবের গায়ে ঝরা !
ক্লান্ত বৃন্তের গর্ভে বন্য 
কুসুমের কুঁড়ি 
ছটপট
করে, চেয়ে আছে প্রথম কচি সূর্যের কিরণের উষ্মা - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting - Moonlight Forest by Lorraine Mae



পুনর্মিলনের পরিকল্পনা 

মায়ার পিঞ্জর উন্মুক্ত অহর্নিশ, সেই প্রাণ পাখি 
অদৃশ্য জড়িয়ে রয় শুধুই তাদের লাগি,
উড়তে চায় না খোলা আকাশের 
শুন্যে, অনিবারিত অভিলাষ 
নিয়ে বাঁচতে চায় জীবন 
অনন্তকাল কারাবাসী,
ডানা বিহীন সুখে 
লুকানো সব 
কান্না 
হাসি, জানি এই পথে কেবল চিতাভস্মের ছাড়া 
কিছুই নাই, তবু হৃদয় চায় থাকতে কিছু 
ক্ষণ তার অনেক কাছাকাছি, প্রেমের 
এই উপগ্রহে ত্যাগের যজ্ঞ জ্বলে 
দিবা নিশি, এখানে হৃদির 
বিনিময়, পরজন্মের 
প্রতিশ্রুতি, জানা 
সত্তেও যে 
বিলীনতার পরে পুনর্মিলনের শুন্য সম্ভাবনা !

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১২


প্রস্তর শিল্পী 

প্রেম এখানে প্রস্তর খণ্ড, ছেনি হাতুড়ির মাঝে পরিত্যক্ত 
অপূর্ণ ভাষ্কর্য, রাতের পরিপক্বতার সঙ্গে, ছড়ানো 
অশমিত অভিলাষা, প্রবল আগ্রহে টেনে রাখে 
শিল্পীর মধ্যদেশ, স্বেদগন্ধিত জলোচ্ছ্বাস,
চুষে নিতে চায় সমস্ত পরিশ্রান্তি, শর্ত 
সামান্য, কি অসাধারণ খুবই 
জটিল প্রশ্ন, তার গভীর 
গহ্বরের মুখে যেন 
লেগে আছে 
রক্তিম 
কণিকা কিংবা উড়ন্ত পরাগের পুনরূত্পাদী চূর্ণ, 
সৃষ্টির কোষ অণু কোষে, ধীরভাবে এখন 
স্বপ্নের মকরন্দ, অর্ধ প্লাবিত মনের 
মালঞ্চ, জীবনের এই সন্ধিক্ষণে 
নিশি পুষ্পের আলোড়ন, 
নিষ্ঠিবনে দুষ্প্রায় 
আস্বাদন !
দ্বৈত 
শরীর মায়াবী আঁধারে, অভিন্ন রূপে, পরস্পর যেন 
মিলে মিশে, বহ্নিশিখার তরঙ্গে আকাশমুখী,
চাঁদ ওঠার আগেই জোছনার আভাস,
আশ্চর্য্যর কিছু নাই, শিল্পীর প্রেম 
গড়ে চলেছে নিশুতি রাতে,
পরিপূর্ণ প্রেয়সীর রূপ, 
তার পরিপুষ্ট 
বাহুর 
পেশী, এখন  ছেনি, হাতুড়ি বিহীন, শুধুই লৌহ অধরে 
ভরে চলেছে প্রাণবায়ু, পাষাণ অস্বাভাবিক রূপে 
শেষ প্রহরে অভিসারিকা, জড়িয়ে থাকতে 
চায়, যুগে যুগে, বুকের পাঁজর ধরে 
ঝুলন্ত যেন শুন্যের নিহারিকা, 
জীবন থামিয়ে রাখতে 
চায় অতিবাহন 
চঞ্চল মুহূর্ত  
গুলো 
অন্তহীন, চিরন্তন - - - 

- - শান্তনু সান্যাল
PAINTING FROM AJANTA CAVES  INDIA