মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১২


উদীয়মান জল বিন্দু - - 
ধীর দহনে জ্বলেছে বৈরাগী মন সারা রাত, 
জোছনার রুপক দিয়ে সরে গেছে 
ক্রমশঃ আঁধার, ওই আদিম 
গুহার মুখে জীবন ছিল 
দাঁড়ানো অনেক 
ক্ষণ একা,
সে যখন আসলো কাছে, তখন নেত্রপল্লবে 
ঢাকা রইলো স্বপ্নীল আকাশ, বৃষ্টি 
পুনরায় ঘনীভূত, হয় ত 
ছুঁয়েছে আবেগী মেঘ 
নিদ্রিত শৈল
শিখর, 
উপত্যকার বুকে ছড়িয়ে রইলো ঘন কুয়াশা, 
চাঁদ উঠেছিল কিংবা তার রূপের ছিল 
প্রতিফলন, অধর তীরে সে রেখে 
গেছে কিছু উষ্ণ আর্দ্রতার 
আভাস, বক্ষ স্থলে 
উদীয়মান
সজল 
কিছু প্রণয় বিন্দু, কিছু কম্পিত অনুভূতি - - -
- শান্তনু সান্যাল  
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
drops 1

সোমবার, ১১ জুন, ২০১২


নিয়তির বিবেচনা 
জবাবদিহির মঞ্চে তারা ছিল মুখোমুখি; প্রশ্নের 
তালিকা অন্তহীন, সেই শুন্য ধরাতলে 
আনত মাথার মাঝে আপন পর 
সবাই ছিল শামিল, মৌন 
দেবতার পদ তলের 
অর্ঘ্য, তখন 
অর্থহীন, 
নিয়তির দাঁড়িপাল্লার মাঝখানে ঝুলে রয়েছে 
তখন জীবন, ওই সারির মাঝে লুকানো 
মুখের রং ফেকাসে, আন্তঙ্কিত, 
সেই চেহারাটা একদিন 
উত্কট হাসির 
সঙ্গে 
লুন্ঠন করে গেছে নিরীহ মানুষের দেহ, মন যা 
ইচ্ছা তা, ওই বীরব্রতী অশ্বরোহী এক 
দিন উধ্বস্ত করে ছিল দীনহীন 
প্রজার বসতি সেই আজ 
দুই হাত বাড়িয়ে 
অনুকম্পার 
প্রার্থী, 
সে আজ নিরুপায়; মৃত্যুর প্রান্তে খুবই একাকী - - 
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
eclipse - painting by Marina Petro 

রবিবার, ১০ জুন, ২০১২

পুনরায় জীবিত

কাল রাতের শেষ প্রহরে; চাঁদ ঢলার ঠিক আগে,
অর্ধ ঘুমন্ত চোখে ; সে করে গেছে আবিষ্কৃত 
নতুন মনোভাবে, জীবনের সমস্ত 
উপেক্ষিত অফলা ভূমির 
জিজ্ঞাসা, বুকের 
তৃষ্ণার্ত
অঞ্চলে পুঁতে গেছে সে জীবন্ত চারা, নামবিহীন 
কিন্তু গন্ধময় অনুভূতির আরোহী লতা,
আবেগের ধরাতলে রেখে গেছে 
নিঃশব্দ পায়ে কিছু অদ্ভুত 
সজল আলোকিত 
বিন্দু !
আত্ম বিভোর রূপে ধরে রাখতে চেয়েছে হৃদির 
মাঝে আমার ব্যথিত ভাবনার পথিক,
আশ্চর্য্য ভাবে সে হয় উঠেছে 
নীলকন্ঠি ভালবাসা,
মৌন করেছে
গরল পান, 
অভিশপ্ত পাষণ বিগত রাতে পেয়েছে শাপ মুক্তি !
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




art  - by B.F. Postel

শনিবার, ৯ জুন, ২০১২


সে যখন তাজমহল 
মায়াবী স্বপ্ন বা কল্প লোকের কাহিনী সেটা নয়, 
জীবন্ত রাতে সে হয়ে উঠেছিল চন্দ্রপ্রভায় 
সিক্ত তাজমহল, নির্বাক আবেগে  
চেয়ে রইলাম আমি, অদ্ভুত 
সম্মোহনের জাফরি
ছড়িয়ে আছে 
যেন 
তার সম্পূর্ণ দেহে, মরিচিকার জলস্রোতে সে 
ভাসিয়ে নিতে চায় সমস্ত ওজস্বিতা,
পৌরুষ গ্রন্থী ধীরে ধীরে খুলে 
চলেছে তখন গোপন 
ঘনীভূত 
কস্তুরী গন্ধ, সে ক্রমশঃ রাত্রি শেষে, বহিয়ে 
নিয়ে গেছে অনেক দুরে, কোন এক 
নির্জন দ্বীপে, উন্মুক্ত আকাশ,
আবরণ বিহীন বসুধা,
জোছনার অবিরল 
ধারা ভিজিয়ে 
গেছে 
অন্তর্মন হতে যাবতীয় গন্ধ কোষের জগতে !
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

tajmahal by artist Colin Campbell Cooper.jpg

শুক্রবার, ৮ জুন, ২০১২


স্মৃতির সৈকতে 
দিগন্ত পারে  ভেঙ্গেছে ; প্রাক মৌসুমী মেঘের দল, 
মাঝে মাঝে তাই ভিজে আসে; ভাবনার 
তপ্ত সমীরণ, সে পাঠিয়েছিল 
স্বপ্নের হাতে সুরভিত 
চিঠি; সিক্ত গন্ধ 
কেবল 
রইলো বুকের ভিতরে, মুছে গেছে জীবন্ত শব্দের 
চিত্রাঙ্কন বর্ষার সাথে, ভেসে যায় সুদূরে 
বহিত্র অজানা, হঠাৎ দেখি ওই 
মধ্য সাগরে সে উধাও 
নিমেষে,
উর্মিমালার প্রবাহে হয় ত ফিরে আসবে কিছু 
মিঠা অনুভূতি, সেই আশায় বোধ হয় 
ভেসে রয়  সৈকতে, কিছু উধ্বস্ত 
জলজ বনস্পতি - - 
- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
rain clouds 

অল্পকালীন বর্ষণ 
আঁধার  আলোর দ্বন্দ্বের মাঝে উলঙ্গ অস্তিত্ব;
খুবই নিরীহ,নিরূপায় দাঁড়িয়ে ছিল 
আয়নার  সম্মুখীন, উপভুক্ত 
দেহের আত্মা তখন 
নির্বাপিত পূর্ণ 
বিলীন,
খণ্ডিত কায়া খুঁজে চলেছে নিজস্ব মাংসপেশী, 
অস্থি পাঁজর, রক্ত কণিকা, প্রাণবায়ু ;
অপরপক্ষে দেখি সে হয় উঠেছে 
পরিপূর্ণ দহন, ঝলসিয়ে 
দিতে  চায় 
বাদবাকি পুরুষালি দর্প, ছদ্মবেশী অহংকার,
পরাভব কি জয়ের চাপা হাসি স্পষ্ট 
রূপে তখন ভেসে উঠতে চায়,
তার রহস্যময়ী মুখপানে, 
যেন এক পশলা 
বৃষ্টির দিকে
আঙ্গুল দেখিয়ে নালিশ করে তপ্ত তৃষিত মরু -
ভূমি, শুধুই ধরাতল ছুঁয়ে যেন মেঘের 
উড়ে যাওয়া, বালুময় পাহাড়ের 
গর্ভে স্বপ্নের বীজাণু যেন 
অর্ধমৃত; বাড়িয়ে
দুই হাত 
বলে - আরও চাই সঘন একটানা বর্ষণ - - - 
- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
paintings by kirstie cohen

বৃহস্পতিবার, ৭ জুন, ২০১২

Paintings by Christian Jequel




ওই জীবন পারাবার তীরে - - 
সাগরের আহ্বান নিরন্তর মন্থন করে যায় অন্তর্মন,
বিস্তীর্ণ আকাশ চেয়ে রয় নির্বাক নিজস্ব
সংকুচিত রূপ, জীবনের খেয়া 
চিরকাল অস্থির, বেয়ে 
যেতে চায় রঙ্গীন 
দিগন্তে,
পারি নি ধরে রাখতে উড়ন্ত কুটুম্বিতা, সময়চক্রে 
ছিটকিয়ে গেছে একের পরে এক সমস্ত 
ভালবাসার বিন্দু, ওই বহুরঙ্গী
প্রজাপতির প্রতিফলনের 
আয়ু ছিল খুবই 
অল্প, 
আঙ্গুল ডগায় রইলো কিছু শল্কের ছোঁয়া, রং মুছে 
গেছে অনেক আগে, আরশি ভুলে গেছে 
আমার পরিচয় কিংবা নিজেই 
চিনতে পারিনি নিজেকে,
আজন্ম যেন এক 
অপরিচিতি, 
- শান্তনু সান্যাল