বাংলা আধুনিক কাব্য গুচ্ছ / BENGALI MODERN POETRY - শান্তনু সান্যাল / SHANTANU SANYAL © It's subject to copyright.
বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
মুক্তির ছন্দ - -
এগিয়ে, আহুতির জ্বলন্ত বেশে,
যদি কোন দিন পারো,
ভস্মিভূত দেহে, এস
লুটানো করিদন্তীয়
আঁচলের
সেই
রক্তিম পাড়ে, হৃদয়ের মরুভূমিতে আজ
ও খেলে, রিক্ত কুম্ভের তৃষা, সনির্বন্ধ,
বিক্ষিপ্ত বন্য পুষ্পের রন্ধ্রের সেই
অপরিভাষিত সুরভি, ভাসে
অবিরাম, অনন্ত, জীবন
সাগরে, দ্রৌপদির
এলোকেশে
লুকানো
সূর্য্য
চন্দ্রের সেই মায়াবী পৃথিবী, সৃষ্টি কমল
নিয়ে হাতে, যদি পারো স্বংসিদ্ধার
রূপে, হে প্রেয়সী এস, আমার
উধ্বস্ত জীবনে, ভুমিকম্পিত
সুরে বাজিও রুদ্র বীণার
সুর, ত্রিলোক নয়নে
যেন উঠে মুক্তির
ছন্দ, সুপ্ত
বসুধার
বৃক্ষে
জাগে প্রলয়ের গান, সান্ধ্য প্রদীপের সহস্ত্র
শিখায় জাগৃত কর শাপমুক্তির অখণ্ডিত
রশ্মিধারা,চির পৌরুষের আহ্বান,
মহা তিমিরের পূর্ণ সমাপন,
ভগ্ন, কালজয়ী দেউলের
পরিপূর্ণ পুনরুত্থান !
- - শান্তনু সান্যাল
বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
জোনাকিরা কী গান জানে - -
নতুন কিছু গান লিখে রেখো বলে গেছে
যেতে যেতে শ্বেতপর্ণী মেঘের পসরা,
দামাল স্বপ্নের ভর দুপুরে পাড়া
বেড়ানো ভালো লাগে
অনেক সময়ে
পেঁচানো
সহজ কথা, ডাক দিয়ে যায় কে যেন ছাদের
সীমানায়, ছেঁড়া ঘুঁড়ি পেঁচিয়ে রয়েছে
পায়রার পায়ে, সরিয়ে দিতে
চায় মন আকাশের
গায়ে মেঘের
আনাগোনা,
ঠাকুরের
ওই
ছোট্ট কাঁসার থালে নকুলদানায় ফু দিতে ইচ্ছে
করে ! দুপুরের এই ছটপটানি, দেয়ালের
গায়ে চল গিয়ে লিখি আবোল
তাবোল কাহিনী, কুমুদিনী
কি বিন্দুর ছেলে
আস্তে করে
খুলে
দরজা, চল দৌড়িয়ে যাই নদীর পারে পাখিরা
ও কি দুপুরে ঘুমোয়, দেখেছি ঘুঘুর হাঁপানি
শালিকের হা করে চাওয়া, কোকিলর
ডাকে অলস প্রহরের বিরক্তি,
কড়ি দিয়ে খেলি মনের
দেয়া নেয়া ছক
কেটে রয়
তোমার
চোখের দুষ্টু চাহনি, তোমার জীতে যাওয়া
নিয়ে আসে সাঁঝের মুখে কিছু ভেজা
হাসি, ওই ধুলার হাওয়ায় উড়ে
যায় ক্লান্ত জীবনের ঝরা
পাতা, ছিঁটে ফোটা
বর্ষায় মন ধেয়ে
যায় কুড়োতে,
আম্রকুঞ্জে,
পুরাতন কাঁচা গল্প ! ভেজা দেহে উঠোনে
দাড়ায়ে ছুঁতে চায় মন আদরের
বকুনি, ভালবাসার বৃষ্টি
দরজার আড়ালে
কাপড় বদলিয়ে
মন হয় উঠে
কিশোর,
সজল
রাতের অন্ধকারে, ঝড় যায় থেমে জোনাকিরা
কী গান গায়, খুব জানতে ইচ্ছে করে
এক দিন আবার তাদের সঙ্গে
করব সেধে আলাপ
লিখতে হবে
যে কিছু
নতুন গান, জীবনের অভিজ্ঞান !
--- শান্তনু সান্যাল
মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
শুকনো পাতার বুকে - -
তারপরে, অবাঞ্ছিত দেহের খেলা থাকে,
উড়ন্ত পাতার বুকে ছিল, সূক্ষ্ম কবিতা,
দিনের শেষে, কে কার কথা মনে রাখে,
নির্বাক ক্ষণে, উন্মুক্ত চোখের শব্দকোষ,
মুখচাপা বুকের শব্দ কাকে যেন ডাকে,
দেহের উলকিরা ছিল কাঁচা রঙে আঁকা,
মনের ভিতরে প্রেমের ঘা লুকিয়ে থাকে,
চেনা বন্ধুর হাতে ছিল পাথরের টুকরো,
আমি চিরদিন ভালোবেসে ছিলাম যাকে,
* *
- - শান্তনু সান্যাল
বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২
অন্তহীন শাস্তি - -
অন্তহীন শাস্তি নিয়ে বুকে বাঁচার নাম
হলো জীবন, অসংখ্য বার বিতরিত
হওয়ার পরে, আমার ভাগে শূন্য
থাকাই স্বাভাবিক, নিজেকে
উজাড় করে অন্যকে
ভালোবাসাটাই
হলো আসল
জীবন,
অদৃশ্য সম্মোহে মৃত্যুবিহীন পুনরায় জন্ম গ্রহণ, অন্তহীন শাস্তি নিয়ে বুকে বাঁচার
নাম হলো জীবন । মায়াময় এই
কারাবাসের আছে নিজের
বিরল মুগ্ধতা, উন্মুক্ত
দ্বারের উস্কানি
অর্থহীন,
দেহ
নিষ্প্রাণ পড়ে থাকে মেঝে, মন তখন অভিলাষী পাখি, কিন্তু পালক
বিহীন, অট্টহাসির মাঝে
পিঞ্জর করে নগর
কীর্তন, অন্তহীন
শাস্তি নিয়ে
বুকে
বাঁচার নাম হলো জীবন ।
* *
- - শান্তনু সান্যাল
রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২
যখন সারা শহর মূর্ছনায় - -
জানি না কারা এরা, নাগা সাধু কী
সরকারের মরচে পড়া চাটুকার,
উলঙ্গ ভাষায়
যেখানে ওখানে
দিচ্ছে ষাঁড়
হুঙ্কার,
কোন জুতোর কারখানায় এরা
চাকরী করে, যে মানুষের
চামড়ায় জুতো বানায়,
কে আছে এদের
সম্রাজ্ঞী, এ
কেমন
অহংকার, কোন মহিষাসুরের
রাজত্বে লোক বাস করছে,
এ কেমন রক্ত পিপাসু
চিৎকার, এরা কারা
মোমবাতি হাতে
নিযে শান্তির
মুখোশ
পরে
করছে নিরীহ মানুষের সংহার,
এরা কারা জোকারের দল
সেজে গরিবের পেটে
মারছে লাথি, আর
সাজাচ্ছে নিজের
অট্টালিকায়
টাকার
পাহাড়, মূর্ছনায় যখন সারা
শহর, তখন অর্থহীন
শব্দের হাহাকার ।
- - শান্তনু সান্যাল
সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১
সব কিছু হারায় না - -
গেছে অন্ধকারের মাঝে,
সহজ নয় অকারণে
সঙ্গে বহু দূর
হেঁটে যাওয়া,
ওই সাপ
সিঁড়ির
খেলা,
ধেয়ে যায় দুরন্ত বেগে, কখন যে
হাতের বন্ধ ভাঙলো টেরই
পাই নি,যখন কুয়াশার
মেঘ সরল, নিজেকে
কুড়িয়ে পেয়েছি
বিধ্বস্ত
সংসারের মাঝে,পড়ন্ত বেলার
ছায়া ছিল, হারিয়ে গেছে
অন্ধকারের মাঝে।
নিশি ডাক
হয়ে
ঘুরে বেড়ায় জীবনের যাযাবর
স্বপ্নগুলো, বুকের মাঝে বহে
যায় অদৃশ্য মরু নদী,
সব কিছু শুকিয়ে
যাওয়ার
পরেও
আশ্চর্য, তোমার চোখে খুঁজে
পাই আমি নতুন ধানের
গন্ধ,পলকের শীষে
কিছু শিশির
বিন্দু,
অন্তিম প্রহরে তাই তুমি লুকিয়ে
থাকো হিমনদের জলধারের
মাঝে, পড়ন্ত বেলার ছায়া
ছিল হারিয়ে গেছে
অন্ধকারের
মাঝে ।
- - শান্তনু সান্যাল
বুধবার, ৫ মে, ২০২১
পৈচাশিক পুরোধা - -
বর্বর দেবীর জন্য নিরীহ মানুষের
অবিরত খুনের
মেলা, এরা
কোন
দেশের অধিবাসী নিজের সত্তার জন্যে
নিজের লোকের করে
যায় হত্যা,
ধিক্কার
করি
এমন রক্ত পিপাসু সমাজ যে
গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে
গরিব মানুষের সঙ্গে
করে প্রতিহিংসা,
দুঃখিত যে
আমার
পূর্ব
পুরুষরা প্রাণ হারিয়ে ছিল এক দিন এই
বঙ্গ ভূমির জন্য, মনে রেখো
আসন্ন প্রজন্ম
কোনো
দিনই
করবে না তোমায় ক্ষমা, ওই
গঙ্গার ধারে এক দিন
তুমি পুড়বে পরিচয়
হীন, ইতিহাসে
তুমি হবে
ঘৃণিত
এক
পৈচাশিক পুরোধা - -
* *
- - শান্তনু সান্যাল




.jpg)

