মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১২


আলোর নির্ঝরিণী

মনের তুলিকা শুকাই  নি কোন দিন,
ভিজিয়ে  গেছে মধু ঋতু বহু বার,
নদীর সেই  বাঁকে  ছিল 
ঘূর্ণি স্রোত, তবুও 
চেয়েছে 
দেখতে জীবন, গহন তরঙ্গিত উপত্যকা !
অনেক কিছু পাওয়ার আশায় 
অনেক সময় যা থাকে 
সেও যায় সহজে 
হারায়ে, 
তার  প্রেমের সার্থকতা ছিল বলেই, মনের 
উপবনে ফুটে রয় বিরল, দুর্লভ,
 কুসুমের  বীথিকা, মুচকি 
হাসির সুরভি, প্লাবিত 
করে  অন্তরতম 
অনন্ত বোধ,
তুলে বুকে টেনে রাখে আহত আবেগ, পাওয়া 
না পাওয়ার আকলন ছিল নিরর্থক,
পলাতক স্বপ্ন খুঁজে অভয় 
আঁখির পান্থশালা,
দিগন্ত রেখায় 
মেঘেরা, 
এঁকে গেছে রঙ্গীন আল্পনা, সূর্যের প্রাঙ্গণে খেলে 
এখন শিশু অগ্নিশিখা, অঞ্জলি দিয়ে 
চলেছে নিসর্গ, অদৃশ্য দেবতার 
পদতলে,তার পরশে ছিল 
অভিমন্ত্রিত দিব্য 
বশীকরণ  !
তাই 
দেহ ও প্রাণে অকস্মাত জাগিয়ে গেছে আত্ম মন্থন,
এখন জীবন ঝরে যেতে চায় শিউলির 
 মত নিরব পৃথিবীর বুকে, নিয়ে 
মনের শিশির বিন্দুর আর্দ্রতা,
গন্ধ গুলো যাক ছড়িয়ে 
বৃহৎ ভাবে  বায়ু -
মণ্ডলে, 
রচুক মেরুপ্রভা প্রণয়ের শাশ্বত, চিরন্তন 
আলোর নির্ঝরিণী - - - 

- - - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১২


জীবন খেলা 

অনেক স্বপ্নের প্রতিফলন থাকে লুকিয়ে 
গভীর, অন্ধকারের বুকে, সঠিক 
সময়ে ফুটে জীবনের বৃন্তে,
অপ্রত্যাশিত শতদলের 
কুঁড়ি, যুগ ভুলে 
যায় তার 
অশ্রু জল, পাষাণের কৌটোতে  সেই বেদনা 
কালান্তরে হয় উঠে কেলাস নীলা,
যারা সরিয়ে দিয়ে ছিল এক 
দিন উঠন্ত হাতের অর্ঘ্য 
সেই হাতের ছায়া 
চায় জীবনের 
মরুভূমি,
সে খুলি নি দ্বার, সন্ধ্যা আরতির বেলা 
গড়িয়ে গেল, তার  কম্পিত
 হাতের প্রদীপ গেছে 
ফসকে পড়ে
 দেউলের সোপানে, যখন বাড়ন্ত হাতে 
সে দেখল মৃত্যুর দিনাঙ্ক, বন্ধ 
গৃহে আরশির সম্মুখে সে 
করেছে আত্মস্বীকৃতি,
ভুলের 
স্বীকারোক্তি, একান্তে কেঁদেছে প্রাণ খুলে,
নিরবতায় ছিল সান্ত্বনা, প্রতি 
কড়া নাড়ার শব্দে শিহরে 
উঠেছে হৃদয়, ভয় 
আতঙ্কে ঘুম 
যেন 
গেছে পাড়ি দিতে সাত সাগর পারে, 
দাঁড়িয়ে তখন আত্মা অশোক 
সম্রাট, প্রণত গ্রীবা, 
ঝুলন্ত  স্কন্ধ  !
একাকী 
অস্ত্র বিহীন শুন্যে চোখে খুঁজছে মৃত আহত 
আপন জন, চার দিকে অতৃপ্ত দুঃখী 
ছায়া, চাপা কান্না, গোঙানি, 
এখানে ধর্ম পরিবর্তন 
অর্থহীন, বৃথা 
 শুধুই 
পলায়নের ছাড়া কিছুই নয়, রাত্রি শেষে 
পুজারী খুলে দিয়েছে সমস্ত জ্ঞাত 
অজ্ঞাত প্রবেশ কপাট, 
নামিয়ে ছদ্ম 
আবরণ,
অর্ধ উলঙ্গ দেহে মাখতে চায় সে এখন 
চিতা ভস্ম, চায় মুক্তি স্নান, ডুব
দিতে গিয়ে দেখে, নদীর 
জলধার গেছে সরে 
দূরাঞ্চলে, 
যেখানে পরিত্যক্ত  নিয়তি করে বসবাস,
জীবন অপরিভাষিত এখানে, বর্ণ 
রং, রূপ, গন্ধ বিহীন , শুধুই 
গাহে  অহর্নিশ প্রণয়ের 
গান, দুঃখ বেদনার 
মাঝেও তারা 
চায় না 
পরিত্রাণ, শুধুই করে যায় যুদ্ধ অগোচর !  
এই জীবন সংগ্রামে, প্রচলিত 
দর্শন কেবল ভূমিকা 
হীন পাত্র, নিয়ে 
হাতে অদৃশ্য 
যবনিকা, 
চেয়ে রয় আকাশপানে, কিন্তু জীবনের খেলা 
অগ্রসর সকালের অভিমুখ ---

- - শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১২


সরাসরিভাবে মনের কথা - - 

সহসা যখন জীবন হয় উঠে বেখাপ্পা, নিরস 
ভুলে যেতে চায় মন নিয়তির অসম 
বন্টন, তখন আঁখি কোণে উঁকি 
দিয়ে যায়  চঞ্চল চমক,
পলকের ছায়া ঘিরে 
নেমে আসে 
রাত্রি, 
অরণ্য পথে ধীরে ধীরে বন্য কুসুমের 
বাড়াবাড়ি, আঁধারে যেন 
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগরিত,
এই জাগরণের 
ঘোরে 
জীবন এখন কৃষ্ণ মৃগ, মৃত্যুঞ্জয়, দৌড়িয়ে 
ডিঙিয়ে চলেছে নিরন্তর 
অনিশ্চয়তার  পথে,
সুদুর শুন্যে 
ঝুলছে 
প্রদীপ্ত বৃত্ত, পরিধির গায়ে আগুনের লহর,
এই জ্বলিত বলয়ের পারে যে গেছে 
সে না কি পরিপূর্ণ অমরত্বের 
অধিকারী, জন্ম মরণের 
মায়াজাল হতে সে 
মুক্ত জীব,
মনের দুনিয়া ওই পেঁচানো লিপি পড়তে চায় 
না, যা কিছু চোখের আগে সাকার 
সেটাই খাঁটি সেটাই আসল, 
তার আড়ালে, মোহের 
কুয়াশা ছাড়া 
কিছুই নাই, 
এক শ্বাসরোধিত গুহা হতে অন্য গুপ্ত পথের 
আঁধারে পাড়ি দেওয়া, প্রশ্ন চিন্হের 
ভিড়ে, বাস্তবিক অর্থের সন্ধান 
সহজ ছিল না, অথচ তার 
অনুপম, নিশ্ছল 
হাসির মাঝে 
ছিল 
সমস্ত অন্তরিক্ষ, শশী সূর্য্য, পুচ্ছল তারক কি 
ধুমকেতু, জ্যোতিপুঞ্জের জগত, যখন 
তার বিশুদ্ধ প্রেমের জোছনা 
ঝরেছে, উন্মুক্ত হৃদয়ে 
আমি করে গেছি 
 উপাসনা,
সেই 
পবিত্র ক্ষণে পাষাণী জীবন হয়েছে শাপমুক্ত ! 

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১১


শাশ্বত সত্য 

আকুলতার সঙ্গে জীবনে জড়িয়ে যাওয়ার, তার -
পটুতা কিংবা মিথ্যে সহানুভূতি, যাই হোক,
এই ভাবে মন নিয়ে খেলার শিল্প কোন 
নতুন নয়, তাই আমি ও খুলে 
দিলাম নোঙ্গর, জানা 
সত্তেও যে ঈশান 
কোণে অশনি
সঙ্কেত !
যখন উঠলো ঝড় সে সমাহিত বক্ষঃস্থলে, ডুবে 
গেছে সমস্ত তথাকথিত সভ্যতার ভণ্ড
জলবেষ্টিত ভুখণ্ড !এখন নিমগ্ন 
জীবনের খরাঞ্চল, ভেসে 
চলেছে ভেলা দিশাহীন 
তরঙ্গে, পুরাদস্তুর 
তার আনন্দ 
স্রোত !
সুদুর কোন শশাঙ্ক কালীন মন্দিরে এখন শঙ্খ
ধ্বনি, শুধায় দিব্য প্রভাতের আগমনী,
তার ময়ুরপঙ্খী আঁচলের ভাঁজে 
ছিটিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে, 
কিছু রহস্যময়ী 
রাতের গল্প, 
প্রেম কি 
রিরংসা, বিশ্লেষণ অতীতের বুকে ! এখানে 
নারী পুরুষ ছাড়া পৃথিবী যেন 
অস্তিত্বহীন, ক্রমাগত
সৃষ্টি, সৃজনের 
ক্রমিক 
বিকাশ, শাশ্বত জীবনের যাত্রা অনুক্রমিক পথে !

-- শান্তনু সান্যাল
arch painting by Julie Hill




মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১


আবার ভিজে আসি 
দেখেছি তাকে সঘন বর্ষার রাতে, খুলে 
বসে আছে একাকী মনের বাতায়ন,
হাত বাড়িয়ে ধরতে চায় সে 
তরল, চঞ্চল নীর, নিলীন 
মনে নিমগ্ন ডুবে আছে 
যেন প্রাণ ও 
শরীর !
তার প্রশ্নের  জল তরঙ্গে ভাসে জীবনের 
অস্পৃষ্ট ছায়াময় প্রদেশ, " যদি 
তুমি বৃষ্টি হতে নিশীথ 
রাতে, আমি 
সুরভিত 
সাধ 
মেখে গায়ে ভিজতাম তোমার সাথে "
আমি নির্বাক,নিষ্পলক 
চাহনি নিয়ে তখন 
সম্মোহিত কি 
মন্ত্রমুগ্ধ,
তার 
 দিকে চেয়ে আছি, ঢেউ খেলানো কেশে 
জমে চলেছে ছোট ছোট জল 
কণিকা , আমার উত্তরে 
সে শুধুই হেসে যায়, 
তার আধ ভিজা 
মুখের 
মায়া যেন ঝিলের গায়ে জোনাকিদের 
আলোক বিম্ব ! তার এই শৈশবের 
পুনরাবর্তন ভালো লাগে, 
শুধাই " রাত 
হয়েছে,
ওই ভাবে ভিজলে যে শরীর খারাপ হবে,"
অনিচ্ছায় সে অলিন্দের দরজা দিয়ে 
এখন আয়নার সামনে, চুল 
মুছতে মুছতে বলে - 
জানো, এই 
সজল 
রাতে ঘুম যেন কোন ভিন দেশী, অচেনা 
আজ না ঘুমোলেই হয়, ঘুমিয়ে 
পড়লেই তো সব কিছু 
কাল্পনিক, স্বপ্নের 
আবরণে
 ঢাকা, 
সেই রোজের এক পথ হইতে প্রবেশ আর 
রাত ফুরালেই অন্য পথ থেকে 
হাঁপিয়ে সকালের হাত 
ধরা, এটাই কি 
জীবন !
চল বর্ষায় ভিজে আসি, উন্মুক্ত ভাবে ঠিক 
রজনীগন্ধার বৃন্তের মতন, লুকিয়ে 
প্রণয়ের সিক্ত সুরভি রাশি 
রাশি, চল না আবার 
সেই আর্দ্র, মধুর 
 জোছনায় 
ঘুরে আসি, আবার পরিপূর্ণ ভিজে আসি .
--- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by - Moonlight and Rain by Terry Wylde

সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১১

মেরুপ্রভার আড়ালে


বুনো তুলসীর ছোঁয়া বাতাসে, মেরুপ্রভার
আড়ালে সাঁঝ, সাজে তখন নিজের মনে,
হৃদয়ের দ্বারে তার কম্পিত হাতের
স্পর্শ, জাগিয়ে রাখে আবেগের
মোমবাতি, নিভানো
আসক্তি জ্বলে
উঠে ক্রমশঃ,
হঠাৎ -
ছুঁতে চায় মন তার বাহ্যান্তর জগত ! সেই
লাজুক সঙ্কোচনে, স্বপ্ন গুলো দিয়ে যায়
 বেহায়া উঁকি, প্রণত দুই মৃগনয়নে
ঝরে চলেছে, বিন্দু বিন্দু যুথি
গন্ধ, অন্তরীক্ষে যেন এক
বিরাট অলংকৃত পাত্র
হতে উপচে পড়ছে
রঙ্গীন ফেনপুঞ্জ,
সেই ছায়া
পথের
আলোকে দেখি তোমার মৃন্ময় রূপ ক্রমে
ক্রমে হয় উঠছে সজীব, চৈতন্যময় !
বাড়িয়ে চলেছে বাহুডোর,
নতজানু আমার
অস্তিত্ব তখন
যাচক,
যেন রিক্ত সুধা পাত্র নিয়ে দাড়িয়ে আছে
অকূল, অনিঃশেষ, যুগযুগান্তর
ধরে, চেয়ে আছে একদৃষ্ট
তোমার অপরূপ রূপ !
ওই অবিকল
সমর্পণের
আশায়
জীবন যেন নব অভ্যুথানের পথে প্রতীক্ষারত,

--- শান্তনু সান্যাল




শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১


হারানো ভাব প্রবণতা 

অভ্যন্তরীণ আলোর জগত সে দেখতে চাই নি,
মনের সেই গভীরতার মূল্য ছিল শুধুই 
মাটি তার নজরে, অন্তঃস্থ প্রণয়ের 
স্রোত ভাঙার পূর্বেই তার 
দেহের অগ্নিস্নান হয় 
ত করে বিস্ময়,
কিন্তু ছিল 
সত্য !
নীতি দুর্নীতির সমাজ নির্মিত সীমানা ডিঙিয়ে,
সে এক মুক্ত বিপ্লবীর অবিকল অনুকৃতি, 
তার অট্টহাসে ছিল নাম মাত্র গ্লানি,
মৌন বিজয়ীর ভঙ্গি কিংবা 
বিসর্জনের পূর্বে নিজেকে 
দর্পণে দেখা, বলা 
মুশকিল, বাধা 
দিতে পারি 
নি,
তার উচ্চ অভিলাষের সম্মুখে আমি ছিলাম 
যেন বামন অবতার, সে উড়ে গেল 
একদিন সিন্ধু পার, যখন ফিরে 
এসেছে মৌসুম গেছে সমগ্র 
বদলিয়ে, বসন্ত হবে 
কি হেমন্ত 
সঠিক 
মনে নাই, ঠিক হরতকি বাগান মোড়ে দেখি 
সে দাঁড়ানো, চিনতে কিছু ক্ষণ দেরী 
হলো, কঙ্কালের গায়ে যেন স্বপ্ন 
ঝুলে রয়েছে মাকড়সার 
জালে, নিরব চেয়ে 
রয়েছি আমি, 
স্মৃতির
দেয়াল হইতে ফ্রেস্কো খসে চলেছে একে একে ---
ক্ষয়্করণের পূর্বাভাস, ঝঞ্ঝার কড়া
নাড়ার শব্দ, তার ডুবন্ত নিস্তেজ 
চোখে আমি খুঁজতে চায়নি 
প্রথম প্রণয়ের গন্ধ,
তখন আমার 
এড়ানো 
মেজাজ, ভুলতে চাই যত সব কাঁচা ভালবাসা !
এখন আমি মণিরত্ন পরীক্ষক, আর 
জেনেশুনে বিষ গিলতে চাই না,
শুধুই ধারণ করি নিজের 
স্বার্থের জন্য, অঙ্গুরীর 
রূপে, মনের
জ্যোতিষ 
এখন পূর্ণ বৃতিমূলক, ভাবপ্রবণতা গেছে হারিয়ে,
বহু কাল আগে - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by -- Rainy_Day_Kolkata_2-Ranit_Dutta