মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩

পূর্ব পরিকল্পিত কিংবা - -

অভিলাষের সিদ্ধি ছিল, হয়'ত প্রচ্ছন্ন 
রূপে বুকের গভীরে, অথবা 
সব কিছুই ছিল পূর্ব 
পরিকল্পিত 
চক্রান্ত !
বলা মুশকিল এই মুহূর্তে, এখন - - - 
স্পন্দনের ঢেউ ফেরার 
পথে, নিঃশ্বাসের 
সমীকরণ 
শুন্য মুখী, বহে গেছে বহু দূর সজল 
সমীরণ, প্রবল বর্ষা সুনিশ্চিত, 
অশনি উৎসের সন্ধান 
পাওয়া এই লহমায় 
বড়ই কঠিন,
আবছা 
দিগন্ত, পৃথিবী ও আকাশের পার্থক্য 
অর্থহীন, অপ্রত্যাশিত সব 
কিছু যেন একাকার,
যা ঘটার ছিল 
সে গেছে 
ঘটে, অনাহূত প্লাবনে ভেঙ্গে গেছে 
জীবনের তটভূমি, এখন 
চার দিকে শুধুই 
ক্লেদিত 
অনুভূতি, ঝুলন্ত বট বৃক্ষের শিকড়ে 
জোনাকির ঝাঁক আর 
গভীরে নিহিত 
প্রণয়ের 
উপত্যকার অন্তহীন জলরাশি - - - 
* * 
- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
artist Julie Gilbert Pollard 





রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩

অপহন্তা রাত্রি

অতিবেগুনী কিরণে দেখেছি অপরূপ মায়াবী রাত,
নীরন্ধ অন্ধকারে, চোখের বন্য হরিতাভ 
আলোর তরঙ্গে, জীবন মরণের খেলা, 
কৃষ্ণ পক্ষের সেই যামিনীর গায়ে 
তাজা মাংসের গন্ধ, গরম 
রক্তের সান্দ্রতা, গহন 
আর্তনাদ, দীর্ঘ 
গোঙানির 
পরে হয় ত ক্রমশঃ মৃত্যুমুখী কিংবা বুনোকুকুরের  
ভক্ষণ ! নিজের চোখে আবছা মৃত্যু দেখা,
হয় ত এই বীভৎস, ঘৃণিত রাতে, 
কোনো অবিকশিত ভ্রুণের 
শ্বাদন্ত হতে ফসকে পড়া,
তৃণাবৃত জীবনের 
উৎপত্তি !
সংবেশিত হরিণের পাল আঁধারে পথ খুঁজে পায় না,
আখেটক দল নিরব ধাপে তাদের হদিস জানে, 
ভয়াতুর জীব এখন দিক ভ্রমিত, বিহ্বল
হৃদয়ের অন্তিম নিঃশ্বাস, কিছু 
ক্ষনেই সন্নিহিত এলাকা 
নিঝুম, হাওয়ায় 
তামসিক 
বিতৃষ্ণা, মুদ্রার টংকার, অসংহত আবরণের খোঁজ !
জীবনের টুকরোগুলোকে জড়ো করে, হিংস 
রাতের বুক থেকে মুক্ত হওয়া, শেষ 
প্রহরে তৃণভূমিতে পড়ে রয়েছে 
অস্থি পিঞ্জর কিছু বিবর্ণ 
মাছিময় রুধিরের 
দাগ, চাপা 
ক্রন্দন,
নিরীহ হরিণশিশুর অসমাপ্ত, দুগ্ধময় স্তনের সন্ধান !

- - শান্তনু সান্যাল
Night Magic Painting by Brenda Owen 
   
  

শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩

মায়া মৃগের পথে - -

 


অন্ধকার যত ঘনায়, আলোর তৃষা

অতই বেড়ে যায়, জীবন উঠে
আসে বিহানের উঁচু তলায়,
ফোস্কা পায়ে যেকোনো
অবস্থায়, এই বেঁচে
থাকার নেশা
বারংবার
আশার
সিঁড়ি
বেয়ে নতুন সকালের পথে নিয়ে যায়,
তোমার প্রেমের কুয়াশায় যত বার
হারাই, জীবনে এক অভিনব
অর্থ খুঁজে পাই, অভিলাষের
ফর্দ চিরদিনই অফুরন্ত
থেকে যায়, হাত
থেকে রেশমি
মুহূর্তগুলো
যেন
ফিসলিই সুদূরে গড়িয়ে যায়, নিশীথের
আলো মায়া মৃগের পথে নিয়ে যায় ।
– শান্তনু সান্যাল

রক্তিম কুঞ্জের ব্যথা - -

এ কেমন অগ্নিগর্ভ দেশের নাগরিক, কার বিরুদ্ধে
সমরের হুঙ্কার, চার দিকে উঠছে ধোঁয়ার
জুয়ার, এ কেমন সমাজের পুরোধা
আগুন লাগিয়ে সারা প্রান্তে
সাধুর বেশে দাঁড়িয়ে  
করছে দোষারোপ,
এ কেমন
প্রজাতন্ত্র, রক্ষক হয়ে উঠেছে রক্ত ভক্ষক, এ কেমন
সংবিধানের দোহাই, হাতে নিয়ে বোমা বন্দুক
লাঠি করেছে দানবদের মনোনয়ন, কোন
দেশের এরা বর্বর নাগরিক মানে না
কোনো আইন কায়দা, এ কেমন
গুন্ডাবাহিনী গ্রামে গঞ্জে
করছে তাণ্ডব -
খেলা,
মা গুলো কাঁদছে বুকে নিয়ে ছেলের মরদেহ, মাটির
উপরে গড়িয়ে যায় মানুষের রক্ত ধারা, এ
কেমন রক্তে রাঙা বাংলা, কোনো
দিন কি ফিরবে না রবি
ঠাকুরের সোনার
বাংলা ।
- - শান্তনু সান্যাল      
 

বুধবার, ১৪ জুন, ২০২৩

কিসের জন্য

কিসের বিজয় যাত্রা, পুড়িয়ে সমস্ত মানবতা !
এগিয়ে যেতে চায় স্বর্গের খিলানের পারে,
কোন দর্শনের গোলকধাঁধা, ধ্বংসের 
অভিমূখে ফেলে চলেছে মিথ্যা 
ফাঁদের বৃত্ত, খেলে যেতে 
চায় নিরীহ আবেগের 
সাথে অগ্নিখেলা,
তোমার 
চোখের জলে যদি না দেখি ব্যথিত জীবনের -
বিম্ব, কিসের আমার উপাসনা, শুধুই 
আত্মকেন্দ্রিত ভালবাসার কি যে 
অর্থ, কিসের সুখে হর্ষিত 
মঠাধীশের হৃদয় !
ধু ধু উঠে 
চলেছে 
গ্রাম প্রান্তরে ঘৃণা, হিংসার ধোঁয়া একাকার, কার 
জন্য এত দ্রোহের ঝঞ্ঝা, যখন সব কিছুই 
নশ্বর কিসের লাগি অমৃত সন্ধান,
না তোমার গৌরব চিরস্থায়ী,
না আমার অহংকার রবে 
অনন্তকাল - - - 

- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩

জলমগ্ন সমারোহ

সূর্য ডুবেছে গহন অন্ধ খাদের মাঝে,
রাত্রি ভূগর্ভস্থ পথের যাত্রী, ঠিক
অবগাহন বিন্দু থেকে ভেসে
উঠবে সারা গায়ে মেখে
জোনাকির আলো,
আমি অতলে
গিয়ে খুঁজি
প্রাণবায়ু,
তুমি
কিনারায় বসে দেখছো ভেসে উঠা
নিঃশ্বাসের বুদবুদ, আস্তে আস্তে
সারা বিবস্ত্র দেহে জলছবির
অঙ্কন, অথৈ জগতের
এখন আমরা অন্ধ
মাছ, বিবর্তনের
সিদ্ধান্ত এই
মহূর্তে
অর্থহীন, সারা শরীরে চকচকে স্পর্শ
আঁশ, তুমি যে পথ দিয়ে নেমেছো
আমার ভেতরে, ওই পথের
কোনও প্রস্থানের দরজা
নেই, শুধুই একমুখী
রাস্তা, এখন
জলের ধরাতলে সব কিছুই অধরা, না
কোনো ঘূর্ণি, না ভেসে উঠা বুদবুদ,
সূর্যোদয় পর্যন্ত সব কিছুই
নিঃস্তব্ধ, কিন্তু অতলে
জলমগ্ন বসন্তের
সমারোহ |
– শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩

জীবন্ত সমাধি

অনেকটা পথ হাঁটার পরে ফিরে
তাকিয়ে দেখি সব পিছুটান
আবছা, পুরাতন ঘড়ির
কাঁটা থেমে আছে
কুয়াশা ভরা
আকাশের
গায়ে,
এই
শহরের সীমান্তে, নিভু নিভু আলোর
মাঝে, নদীর বুকে জোনাকিরা
করে অদ্ভুত নীলাভ খেলা,
আর কিনার রেখায়
চলে সারা রাত
মুখাগ্নির
মেলা,
ঝুলন্ত পুলের নীচে বহে যায় শতাব্দীর
আবর্জনা, আধপোড়া সোনার দেহ,
কত কিছু , অগণিত গলন পচনের
পরেও সেই জলেই দেউলের
জলাভিষেক, নদী তখন
দিব্য জলধারা সংজ্ঞা
বিহীন জীবন
দায়িনী
মাতৃ রূপা, মহানগরের বুকেও আছে
এক বিস্তৃত মরা নদীর চড়, ভাঙা
দেউলের গায়ে লেখা আছে
তার ইতিহাস, ব্যস্ত রাস্তার
দুই পাশে রয়েছে কত
হারানো গোঙানি,
চাঁপা কান্নার
মাঝে এক
ঘেয়ে
জীবনযাপন, শেওলা ধরা ছাদে দাঁড়িয়ে
দেখি সুদূর নদীর গায়ে জোছনার
রুপালি চাদর, আর নিথর
দেহে রজনীগন্ধার
আতর - -
* *
- - শান্তনু সান্যাল