রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১১


ফিরিয়ে দিতে চাই না 

অনেক কাছে এসে চূর্ণ মেঘ 
ছুঁয়ে গেছে ত্বক হতে 
হৃদয়ের পলকা 
প্রদেশ,
জানি উড়ন্ত আবেশ ছাড়া 
তোমার আপন কিছুই 
ছিল না,
হাত গুটিয়ে পাহাড়ের সেই 
উচ্চ বৃষ্টিছায়ার 
সীমান্তে 
একাকী দেখেছি তোমায় উড়ে 
যেতে, সুদুর চিড় -
 পাইনের 
উপরে যেন দিশাহীন ঘুঁড়ি -
দোল খেয়ে চলেছে 
লযবদ্ধ,
কাণ্ড হতে গোড়ার অভিমুখে,
ক্ষুদ্র নদীর ক্ষনিক 
চুম্বনে,
নদী উপত্যকার সেই তির্যক
আবর্তে, জিরেন লাগি 
ভুলে এসেছ
আভ্যন্তরীণ বস্ত্র, লজ্জা, পরিচয় 
জীবনের অর্থ, উঠতে 
পারো নি বনের 
ঠাড়মোড়,
শ্যাওলা যবক মাখা শৈল শ্রঙ্খলা,
ভারসাম্য হারাবার ভয়ে 
বাড়িয়ে ছিলে 
হাত, 
অদৃশ্য কোনো প্রভুসত্তার দিকে,
সেই সূর্যের জরাগ্রস্ত 
আলোয়, টের
পাওনি মনের অক্ষুন্ন প্রতিভাস !
সরু জল স্রোত পার 
করতে গিয়ে 
নিরুপায় চেয়ে ছিলে মুক সাহয্য,
সেই তারল্য মুহুর্তে, জড়িয়ে 
ধরার সহজ বৃতি, 
ভাসিয়ে 
তুলেছে তোমার প্রেম, জীবনের 
অনাম সন্ধিক্ষণে দেখেছি 
ভীরু চোখের ঘুম 
মোহভঙ্গের 
সমাধিস্থ মানুষ, কেশ মুঞ্চিত মুখ 
সংকুচিত, ভয়ার্ত নিশাচরী 
বিহগ,পথ হারানো 
যাত্রী, খুঁজে 
শুধুমাত্র, এক রজনীর পান্থশালা,
কড়া নাড়ার শব্দে আমি 
আত্মসাত করি, 
জীবনের বিষাক্ত অনুভূতি, পেরিয়ে 
চলেছি সর্ব  বিষ বাধা !

-- শান্তনু সান্যাল  


http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১



বর্বর প্রণয় 

সম্ভবত, ভালো বেসেছিলেম
সক্রিয় আগ্নেয় গিরি ও মহাসাগরের 
মাঝখানে, কোথায় যেন 
ক্ষণিক আবেশে ছুঁয়ে ছিলেম তোমায়,
ধুম্র মেঘের দেশে, বিহ্বল রূপে 
বিভূতির বেশে জড়িয়ে গেছি তোমার 
অঙ্গে, বয়ঃ সন্ধির লোম কূপে 
তখন ছিল অগ্ন্যুত্পাত মারাত্মক ভাবে, 
পুষ্পকোষ সংরক্ষণে বিবেকহীন,
আলিঙ্গনবদ্ধ করেছি আসন্ন ধুলি ঝড় !
বাতাসে ছিল অদৃশ্য উদ্ভিজ্জানু 
দংশনের ভয়ে শুধুই টেনে রেখেছি কাছে,
অসূয়ক,বর্বরতা,আদিম মনোভাব 
হইতে তোমায় বাঁচাবো বলে, নিজস্ব আত্ম- 
শুদ্ধির পথ খুঁজেছি আমি,ভুকম্পিত 
আবেশ যায় না ছড়িয়ে অন্তরীক্ষের শুন্য 
গর্ভে, আগ্রহান্বিত
প্রেম করেছি
তোমায় ! 

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

painting by Stella Dunkley

কি যে তুমি খুঁজ ?
অয়নের বুকে এখনো খেলে অর্কের
শিশু,উষসীর মুখে রয়েছে 
ছড়ানো কিছু
সোনালী অভ্র, এক ফালি ছায়া নিয়ে 
জীবনের নদী বহে আঁধারমুখী 
সুদূরে কোন অশ্বত্থ তলে 
জানি তুমি গেছ 
দীপ জ্বলে, 
বন্য গাছড়া পেরিয়ে কেওড়ার বনে 
কেউটের থাবল বাঁচিয়ে 
মন উড়ে যেন 
বুলবুলি,
নৌকো ঠেলে মাঝির ভুল ভাঙানি 
মাস্তুল খুঁজে মাঝ দরিয়ায় 
মেঘের হুমকি বড়ই
ঘরোয়া, রোজ 
বলে 
নিয়ে যাবে বুকে জড়িয়ে সপ্ত সিন্ধু 
পারে, কোথায় যেন তুমি যাও 
ঝরে, প্রলম্বিত এক রাশ 
যখন ও দেখেছি 
হে জীবন 
কেন যে তুমি এত মনমরা, আকুল !
একাকী হেঁটে চলেছ নদীর 
সমান্তরালে, চেয়ে 
আছ এক 
ঠাউরে, ঢেউর চিত্রলেখ, ভাসন্ত মরদেহ 
বাসিফুল, ঘোলাটে মোচড়, ঝুলন্ত -
সেতু এখন আলোকিত, শুধায় 
তোমায়, বন্ধু ফিরে এস.
--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
   

প্রারব্ধ 
জিজীবিষা 
সহজে যেতে দিতে চায় না দূরে 
ফিরে ফিরে আসি আমি
সিঁড়ি নামা দুভর! 
দুই ধারে  দাড়িয়ে রয়েছে কত 
চেনা মুখ, প্রতি মোডে
নানান প্রারব্ধ, 
বহু ভাব -
ভঙ্গী, ঘাটের সেই অর্ধনত গাছ 
হয়ত বাঁচতে পারত 
পারি নি, ওই 
চেনা কাশি, ছিঁড়ে চলেছে 
মাদুরের দেয়াল, ক্ষীণ আলোয় 
তার পুরাতন উই ধরা হাসি, শ্রাবনের 
প্রথম বৃষ্টি কি দেখেছে, জানি 
না, হটাত নিয়নের আলোয় হয় ত 
স্বপ্নের পালক ঝরে লুটিয়ে 
পড়েছে নিঃশব্দ, 
নিরব, আমার মুক্ত দেহের অর্থ আর 
খুঁজ না, এই জিজীবিষাই 
মরিচিকা, আমি খুঁজি 
তোমার মিথ্যে 
প্রতিশ্রুতি, 
ভালবাসা, যে কোনো দিনেই ছিল না.
-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১১


মৃগয়ার সম্মুখে 

জাফরানী বর্ণের আকাশ 
এইমাত্র ঘটেছে সূর্যের মৃত্যু !
সূর্য্যমুখী মত জীবনের নত ডাঁটা,
সব প্রাণশক্তি চুষে, সে এখন ভিন্ন দেশী 
সম্ভবত বিলিয়ে চলেছে বিহানের কচি আলো, 
ক্ষতস্থানে আলতো, অমায়িক
ভাবে স্পর্শ করে জাগিয়ে 
রাখতে চায়ে নিজের 
বুকের কাছে, সারা রাত সে 
লাবণিক হাতে ছুঁয়ে যাবে, ঔষধির
নামে, দিয়ে যাবে মৌন বেদনা, যন্ত্রণা, ত্রাসদী !
কিন্তু এখানেই তার মতি ভ্রংশ, আমায় নিয়ে 
তার এই খেলা, ডেকে আনছে স্খলনের 
পূর্বের আবেশ, অনুচ্চারিত, নির্বাক,
কস্তুরী মৃগের হাঁপানি, ঝড়ের 
দীর্ঘ নিঃশ্বাস, পতনের 
উন্মুক্ত দ্বার, 
মৃগয়ার সম্মুখে নিজে কে, উত্সন্ন
করা ! অবরুদ্ধ কন্ঠে ত্রানের গান সব
যেন এই পর্য্যায় অর্থহীন, আমি জাফরানী 
আলো ভেসে উঠি সূর্যের মৃত্যুর পরে, লিখি নিশির
স্তনে বেঁচে থাকার কাহিনী, হয় ত সে জানে 
না, কিংবা না জানার নাটক করে !

--- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

পরিচয়ের রং 

প্রখর গ্রীষ্মের অপরাহ্নে জানতে চেয়েছিল
সে আমার পরিচয় পত্র, সবুজ কি বাদামী,
হাত সরিয়ে জানিয়ে দিয়েছে
বিধর্মীয় হবার সাস্তি, আমি দিতে পারি নি
ধর্মনিরপেক্ষ দেশের পরিভাষা
সে আমায় জল ছুঁতে দেয় নি, ফেলে
দিয়েছে পরিচয় পত্র
ঘৃণিত ভাবে নিজস্ব ভাষায় দিয়েছে
গালাগালি, সেটা না বোঝার ভান করে
আমি ফিরে আসি, ওই রঙের
ভেদাভেদে গোটা পৃথিবী কে তারা করেছে
বিধ্বস্ত, তারা শুধুই এক মাত্র
ঈশ্বরের বৈধ সন্তান,
স্বর্গের সাম্রাজ্য শুধুই তাদের জন্য, সে দিন
আমি দেশের মাটির মূল্য বুঝেছি,
নিজের সংস্কৃতির গর্ব করেছি,
তবু ও আমি ঘৃনা করতে পারি নি -
দুঃখ যে তাদের কে মনুষ্যতা বোঝাতে পারি
নি,হয় ত তারা ঈশ্বরের নিকটে
নিরাকার, ভাব বিহীন, কিংবা মহাবিজ্ঞ
পথের যাত্রী, মনের ব্যথা বুঝে না
তারা তাদের পছন্দের পরিচয় পত্র চায়.


-- শান্তনু সান্যাল 



http://sanyalsplanet.blogspot.com/



সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১১


ব্রহ্ম কমল 

ওই শাঁসের মাঝে ফুটে ব্রহ্মকমল -
নিঃশ্বাসে ভরে যায় অজস্র পরিমল, 

কল্পমূর্তি জেগে রয় দুঃস্বপ্নের কাছে 
স্বত:স্ফূর্ত জীবন বহে দূর অবিরল,

বৃন্তের সুক্ষ্ম নলিকায় ধেয়ে চলে -
মানবতার, অদৃশ্য অনঘ অশ্রু জল,

ওই অনুভূতির মূলে সংক্ষিপ্ত প্রেম 
জ্বলে দিবা নিশি যেন অনন্ত অনল,

এখানেই নিরাকার আরাধনা মুখর 
জাগৃত হয় উঠে ক্রমশঃ পূর্ণ অতল !

উলঙ্গ প্রতিচ্ছায়া করে যক্ষ প্রশ্নাবলী 
জীবনের খাতা যেন ভাষান্ত ধরাতল,

ফাঁকি দিতে পারে না ছদ্ম দেহের রং 
প্রায়াস্চিতে ভেসে উঠে নয়ন সজল, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/