Tuesday, 28 December 2010

পলাশময় নাহি জীবন,

মনের গভীরতায় নীলোত্পল জেগে উঠে 
সহস্ত্র পরাগ নিয়ে, কুসুমিত আকুল নিশ্বাসে,
 
নাভির বাহিরে সৃষ্টি করে এক অন্য জগত 
ব্যাকুল হরিণ ধেয়ে যায় অবিরাম প্রবাসে,

কেন অসীম তৃষা নিয়ে এখনো জেগে আছো
চির দিন কী কেও অমন করে  ভালবাসে,
 
চাঁদের রুপালি বন্যা ভিজে যায় দেহ  প্রাণ 
নিমিষে কিন্তু আঁধার নামে, সূর্যের গ্রাসে ,

 অফুরন্ত ঢেউ নিয়ে ছিলেম তটিনী সমুখে
বিলীনতা পরে ছিল মহাশুন্য আসেপাসে, 

স্বপ্ন কিংবা কুয়াশা ছুঁয়েছি বোধ হয় আমি
মধুর ক্ষণে আজ থাক, ভাবব অবকাশে,
 
নয়নের স্পর্শে লিখো কিছু নব কাব্য -
কে যেন এঁকে গেছে মধু ছবি নীলাকাশে
 
মাটির চন্দন মেখেছি দেহে, সরে যেও না 
পৃথিবী জুড়ে মাটি,তবু তারা কেন যে হাসে,
  
পলাশময় নাহি জীবন, দেখা হবে মধুমাসে //
---- শান্তনু সান্যাল  

ভালই ছিলাম

বেশ ভালই ছিলাম 
পুকুর পারে কলমির গন্ধে 
টিয়া রঙের কদলী পাতায় 
শালিকের আপন মনে, চাতালে 
বসে একাকী ভিন্ন ভাষী গল্পের মাঝে,
বাজের মত ধুসর ডানায়
কে যেন ঢিল ছুড়ল, শান্ত মনে -
দ্বিপ্রহরের ঘুমে ওই ছিঁটে ফোঁটা
বর্ষায়, হটাত তোমার প্রেমের চিরকুট 
উড়ে আসে ভেজা দালানের গায়ে, 
আমি পড়তে চাই নি এটাও মিথ্যে 
কিন্তু ভিজতে দিতে চাই নি ওটাও সত্যি 
আদ্র সাঁঝের সঙ্গে বৃষ্টি ও কেঁপে উঠলো 
অর্ধ উলঙ্গ যেন কোনো বৈরাগী, 
মিষ্টি অনুভূতির সেই চিঠির নৌকা 
না চেয়ে ও ভাসিয়ে দিলাম
অজানা নদীর ধারে,
কবে যে ভিজে গেছি মনে নাই 
নৌকা ভাসানোর ব্যথা নিয়ে বুকে 
আজ ও বসে আছি সেই শঙ্খ ঝিলের তীরে 
বর্ষা থেমে গেছে বহু দিন আগে, 
আকাশের গায়ে রঙ্গ ধনু যেন আবছা 
ধুয়ে গেছে ভালবাসা //
---- শান্তনু সান্যাল