Friday, 31 December 2010

নায়ক নায়িকা

নায়ক নায়িকা 
ময়ুর পঙ্খী মেঘের পাট
ভাঙি নি এখনো  রয়েছে কোন 
অদৃশ্য সিন্দুকে 
জানি না কোথায় হইতে ঝরে আসে 
লেবু ফুলের ঝির ঝির সুগন্ধ 
ভরে যায় রিক্ত হৃদয় বারে বারে 
তুমি কি দাড়িয়ে আছ এখনো 
অজানা কোন অরণ্য বিথিকায় 
মৃগ নয়নে লয়ে স্বপ্ন মধুর 
অর্ধ নিশীথে শুনেছি তোমায় 
সারঙ্গের মর্ম স্পর্শী ডাকে 
ঝিলের উচ্ছ্স্বাসে জেগে উঠে যেন 
কুমুদীর সুপ্ত অভিলাষা
চেয়ে দেখি জানালার পারে 
অর্ধ নীল চন্দ্র ভেসে যায় 
তোমার সোনালী উত্তরিযর মাঝে 
ছুঁয়ে যায় দেহ ও প্রাণ 
উন্মাদিত তোমার কবিতার যবনিকা 
ঢেলে যায় আঁচলে 
অগনিত আকাশ গঙ্গা
আমি চেয়ে রই নিষ্পলক 
সেই শুভ্র অশ্বারোহী উড়ে যায় 
সুদূর আকাশ পথে 
সেই সোনালী উত্তরীয় বুকে জড়িয়ে আমি 
পাট করে যাই ইন্দ্র ধনুর গড়ানো রঙ্গ 
বারে বারে ---
 ---------------------------------------
অন্য জানা পথে হাঁটা যায় না 
ওই এক ঘেয়েমি মানুষের মধ্যে 
হা করে যেন গিলে যাবে, অসভ্য 
যত সব পরিচিত মুখ 
আর ভালো লাগে না চার দিগে যেন 
অদৃশ্য দহন দিবা নিশি 
তোমার সেই কথায় আমি হাসি নি 
কিন্তু আমি চেয়ে ছিলাম স্বপ্ন দেখতে 
প্রশ্নের মাঝখানে উঁকি দিয়ে ছিল 
অতৃপ্ত তোমার হৃদয়ের মরুভূমি 
শুন্য  স্থানে রং ভরতে পারি নি 
নিয়নের আলো তে ওই বড় বড় চোখে 
ছিল বাঁচার অদম্য বাধ্যতা কিংবা ইচ্ছা 
আমি চেয়ে ছিলাম দুই হাত সহজে ধরে বলি 
আমি আছি ত ! কিন্তু পারি নি 
আমার নিরবতা তুমি বুঝতে পারো নি 
হয়ত বুঝতে ই চাও নি সেই শ্রাবণ সন্ধ্যায় 
উলহানা দিয়ে তীব্র ঝড়ের মত তুমি গেছ চলে 
ফিরে আর যে দেখো নি 
একাকী আমি এখনো পথ চেয়ে থাকি 
কত শ্রাবণ বয়ে গেছে এই লেম্প পোস্টের নিচে 
নিজের ছায়া চিনতে চায় না আমায় 
হয় তো গেছ তুমি ও এই ভিড়ের প্রবাহে 
আর চিনেও চিনতে চাও নি 
ঠিকই ত বেদনা, চিরদিনের যুক্ত সন্ধি নয় 
বিগ্রহ ঘটে গেছে অনেক আগে 
ভালো টা আমার হৃদয়ে, বাসা হয় তো 
তুমি অনন্য কোথায় বেঁধে নিয়েছ //
---- শান্তনু সান্যাল  

Thursday, 30 December 2010

কোথায় যে দেখিছি তোমায়

কোথায় যে দেখিছি তোমায় 
১.দেখেছি তোমায় কাদা পায়ে 
মাঠ পেরিয়ে সেই গঙ্গার ধারে
প্রাচীন কালী মন্দিরের বট -
বৃক্ষের ভাঙা সিড়ির উপরে 
গাঙচিলের সেই অসয্য চিত্কারে,
তুমি কী এখনো বসে আছ পা 
ঝুলিয়ে, ঘোলাটে অলস লহরে,
 শুধিয়ে ছিলাম এক দিন যে 
ডিঙ্গার হিল্লোলিত আবেশে ও থাকে 
নব সৃজনের অজস্র লুকানো গান 
ভেজা পায়ের ছাপে ছিল কিছু 
বিসর্গ বিন্দু প্রেমের বর্ণ পরিচয়, 
হাঁটু জলে নেমে তুমি চেয়ে ছিলে 
ডুব দিতে,প্রণয়ের কচি সাগরে 
তোমার বায়না শুনি নি সে দিন 
সেউলির অবিকসিত কুড়ি, শরতের 
ছোঁয়া ছিল বহু দূর ভিন্ন দেশে,
তুমি শুনো নি মনুহার কোনো রূপে 
পা এগিয়ে ছিলে সেই অজানা বাঁশ বনে 
কোন স্বপ্ন বুকে জড়িয়ে, শুনেছি 
দিবা নিশি বসে থাক মন্দির প্রাঙ্গনে,
শুনি চোখে নিয়ে উড়ন্ত অতীত 
সূর্য ঢলে গেছে নিস্তব্দ্ধ কবে যে 
সুপারি, নারিকেল বাগান বাদ দিয়ে 
চতুর্দশী চাঁদ উঠেছে বাঁশ  ঝোপের অনেক উপরে /
---- শান্তনু সান্যাল 
২.কোথায় যেন দেখিছি তোমায় 
পিতাম্বরী লাল পাড়ের তাঁতের সাড়িতে 
এক হাতে কুচি অন্য হাতে চটি ঝুলিয়ে 
তুমি ভয়ে থর থর 
সাঁকো পার করে গেছ ওই খালের 
বাঁ দিগে, সেই ঝুলন্ত আঁচল 
নিস্ছল হাসির মাঝে 
ছড়িয়ে গেছ একান্ত মাছরাঙ্গা 
বাতাস, কচি ধানের শিষে 
যেন ঢেউ খেলে যায় শারদীয় 
অন্তের সমীরণ, ওই সবুজ বাতায়নে 
স্বপ্ন কিছু সেউলির গন্ধে মাখা,
সূর্যের তীব্রতায় আবার 
দেখি তুমি সুদূরে শিমুল ফুলে 
বাসন্তিকা হয়ে রয়েছে অজয় নদীর পারে 
বাউলের বৃন্দ গানে কখনো দেখি 
আছ বৈষ্ণবীর সাজে 
পরে রয়েছে গলায় আমার তুলসী 
কাঠে জড়ানো কবিতা 
তোমার প্রেমের আবীর মেখে যায় 
অতুকান্ত ছন্দের পঙ্ক্তি, লাজুক হাতে 
আবার চেয়ে দেখি হটাত সাগর সঙ্গমে
হয় উঠেছে স্বছন্দ উর্মি মালা 
উন্মুক্ত কুন্তল খুলে যেন দিয়ে যাও 
হাতছানি, সেই ভুবন ভাসানো হাসি 
প্রতি পল দিয়ে যায় রহস্য গভীর 
অবাক  আমি পৃথিবী !
-- শান্তনু সান্যাল 
painting - sujeet kumar ghosh - kolkata 

রঙ্গ মঞ্চ বিহীন

রঙ্গ মঞ্চ বিহীন

রঙ্গ মঞ্চ বিহীন এই পুতুল নাচের খেলা


 তুমি আমি শুধুই নয় 

রয়েছে মহামিছিল, অদৃশ্য দর্শক ও শ্রোতা 

এই অন্তরিক্ষ জড়িত যবনিকা 

অগনিত প্রকাশপুঞ্জ মায়াবী নিহারিকা 

ভেসে যায় শুন্যে , গতিময় জন্ম মৃত্যুর ভেলা,

বৃহতম সেই কালজয়ী মহা চক্র 

দুলে যায় তীব্র বেগে সময়ের অজয় নাগরদোলা 

জানি তুমি বিশ্ব বিজয়ী নিজের ভুবনে 

তবুও পরাজিত অন্তঃ দাহের সমরে 

রাজন ও ভিক্ষু চলেছে এক পথে অনাম সন্ধি বেলা,

এখানে উদিত ভালবাসার শতদল পূর্ণ রূপে 

জলধির  বক্ষে আবার লুপ্ত মহা অগ্নিশিখা 

চেয়ে ও পাস কাটিয়ে যাওয়া অসহজ ও মুশকিল 

সব কিছুই পঞ্জিবদ্ধ রয়েছে অপরিচিত খাতায়

সময়ের বুকে সকল মুদ্রিত সর্ব প্রেম ও  অবহেলা ,

রং মঞ্চ বিহীন এই পুতুল নাচের খেলা //
-- শান্তনু সান্যাল 
painting by -JONE BINJONELLI -Italy

রঙ্গ মঞ্চ বিহীন


রঙ্গ মঞ্চ বিহীন

রঙ্গ মঞ্চ বিহীন এই পুতুল নাচের খেলা

 তুমি আমি শুধুই নয় 

রয়েছে মহামিছিল, অদৃশ্য দর্শক ও শ্রোতা 

এই অন্তরিক্ষ জড়িত যবনিকা 

অগনিত প্রকাশপুঞ্জ মায়াবী নিহারিকা 

ভেসে যায় শুন্যে , গতিময় জন্ম মৃত্যুর ভেলা,

বৃহতম সেই কালজয়ী মহা চক্র 

দুলে যায় তীব্র বেগে সময়ের অজয় নাগরদোলা 

জানি তুমি বিশ্ব বিজয়ী নিজের ভুবনে 

তবুও পরাজিত অন্তঃ দাহের সমরে 

রাজন ও ভিক্ষু চলেছে এক পথে অনাম সন্ধি বেলা,

এখানে উদিত ভালবাসার শতদল পূর্ণ রূপে 

জলধির  বক্ষে আবার লুপ্ত মহা অগ্নিশিখা 

চেয়ে ও পাস কাটিয়ে যাওয়া অসহজ ও মুশকিল 

সব কিছুই পঞ্জিবদ্ধ রয়েছে অপরিচিত খাতায়

সময়ের বুকে সকল মুদ্রিত সর্ব প্রেম ও আবহালা,

রং মঞ্চ বিহীন এই পুতুল নাচের খেলা //
-- শান্তনু সান্যাল 
painting by -JONE BINJONELLI -Italy

Wednesday, 29 December 2010

ইচ্ছা মৃত্যু

ইচ্ছা মৃত্যু 

সেই কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকাল
গায়ে জড়ানো সাধারণ শাল
হেদুয়ার সেই বিবেকানন্দ রোডে
তুমি পথ চেয়ে ছিলে, সেই নীম গাছ,
অমলতাস কী শিরীষ কিংবা হয় ত 
কৃষ্ণচূড়া,পার্কের বেঁচে বসে অনেক ক্ষণ 
গল্পের মাঝে জেনেছিলাম যে 
তুমি আমায় ভালবাসতে, 
ট্রাম বাসের চলাচল সে দিন ছিল কম
মনে হয় সে দিন ছিল রবিবার,
ঢেউ খেলানো চুলের মাঝে 
কিছু অতীতের পৃষ্ঠে ছিল 
লুকানো রজনীগন্ধা, মেঘবিহীন
নযনাকাশে সে দিন ও ছিল প্রেমাঞ্জন,
আমি চেয়ে ছিলাম  পড়তে বহু দিন পরে 
পুরাতন অভিলেখের ভাষা,
তুমি নিস্তেজ চোখে চেয়ে ছিলে শুন্যে, 
ধুম্র্ময় আকাশে সূর্য্য তখন ও  অস্পষ্ট
ভাস্যমান, কী হলো কোথায় যে হারিয়ে গেলে?
অপ্রত্যাশিত তোমার উত্তরে আমি খুঁজেছিলাম 
প্রণয়ের লুপ্তপ্রায় বিশাল উপত্যকা 
যুগে যুগান্তর ধরে যথাবত 
যেন পরিপূর্ণ স্থির গভীরতম জলরাশি,
অনন্ত সলিলা,কিন্তু সচক্ষে কেও সে দেখি নি 
নীচে গড়ানো শাল, হাতে তুলে আমি শুধুই 
তোমার মৃতপ্রায় দেহে আসতে জড়াতে গিয়ে 
নিজেকেই মৌন প্রশ্ন করলাম -
প্রেমের কী ইচ্ছা মৃত্যু সম্ভব !
-- শান্তনু সান্যাল 
 painting - kanchanmala ghosh     

Tuesday, 28 December 2010

পলাশময় নাহি জীবন,

মনের গভীরতায় নীলোত্পল জেগে উঠে 
সহস্ত্র পরাগ নিয়ে, কুসুমিত আকুল নিশ্বাসে,
 
নাভির বাহিরে সৃষ্টি করে এক অন্য জগত 
ব্যাকুল হরিণ ধেয়ে যায় অবিরাম প্রবাসে,

কেন অসীম তৃষা নিয়ে এখনো জেগে আছো
চির দিন কী কেও অমন করে  ভালবাসে,
 
চাঁদের রুপালি বন্যা ভিজে যায় দেহ  প্রাণ 
নিমিষে কিন্তু আঁধার নামে, সূর্যের গ্রাসে ,

 অফুরন্ত ঢেউ নিয়ে ছিলেম তটিনী সমুখে
বিলীনতা পরে ছিল মহাশুন্য আসেপাসে, 

স্বপ্ন কিংবা কুয়াশা ছুঁয়েছি বোধ হয় আমি
মধুর ক্ষণে আজ থাক, ভাবব অবকাশে,
 
নয়নের স্পর্শে লিখো কিছু নব কাব্য -
কে যেন এঁকে গেছে মধু ছবি নীলাকাশে
 
মাটির চন্দন মেখেছি দেহে, সরে যেও না 
পৃথিবী জুড়ে মাটি,তবু তারা কেন যে হাসে,
  
পলাশময় নাহি জীবন, দেখা হবে মধুমাসে //
---- শান্তনু সান্যাল  

ভালই ছিলাম

বেশ ভালই ছিলাম 
পুকুর পারে কলমির গন্ধে 
টিয়া রঙের কদলী পাতায় 
শালিকের আপন মনে, চাতালে 
বসে একাকী ভিন্ন ভাষী গল্পের মাঝে,
বাজের মত ধুসর ডানায়
কে যেন ঢিল ছুড়ল, শান্ত মনে -
দ্বিপ্রহরের ঘুমে ওই ছিঁটে ফোঁটা
বর্ষায়, হটাত তোমার প্রেমের চিরকুট 
উড়ে আসে ভেজা দালানের গায়ে, 
আমি পড়তে চাই নি এটাও মিথ্যে 
কিন্তু ভিজতে দিতে চাই নি ওটাও সত্যি 
আদ্র সাঁঝের সঙ্গে বৃষ্টি ও কেঁপে উঠলো 
অর্ধ উলঙ্গ যেন কোনো বৈরাগী, 
মিষ্টি অনুভূতির সেই চিঠির নৌকা 
না চেয়ে ও ভাসিয়ে দিলাম
অজানা নদীর ধারে,
কবে যে ভিজে গেছি মনে নাই 
নৌকা ভাসানোর ব্যথা নিয়ে বুকে 
আজ ও বসে আছি সেই শঙ্খ ঝিলের তীরে 
বর্ষা থেমে গেছে বহু দিন আগে, 
আকাশের গায়ে রঙ্গ ধনু যেন আবছা 
ধুয়ে গেছে ভালবাসা //
---- শান্তনু সান্যাল  

Monday, 27 December 2010

প্রেমের মায়া

নীলাভ তিমিরে সাঁঝের আলেয়া, ভেসে উঠে অসংখ্য 
প্রাচির গগনে, দেখি ত্বম অপরূপ দিব্য  প্রেমের মায়া,
মন্থর গতি লয়ে বহে যায়, দুই নদীর সুপ্তময়  কিনারা 
বহু দূর ক্ষিতিজে মিশে একাকার,স্নিগ্ধ দুটি মূর্ত ছায়া ,
মালবিকা বনে চন্দ্রিমা ঢেলে যায় অবিরল প্রণয় সুধা,
অনন্ত কালে পরিণিত মুক্ত ছন্দ, আজ যেন একান্ত কায়া,
অজ্ঞাত বৃক্ষে রয়েছে,স্বপ্নময়ী কৃষ্ণচুড়ার অগনিত কুড়ি
 মধুমাস পলাশের সন্ধানে, আজি বেয়ে যায় জীবন খেয়া,
সুদূরে জোনাকিদের দ্বীপে, বাউলের লেগেছে মস্ত  মেলা,
একতারায় মহামিলনের গান, হৃদয়ের শুধু নেয়া দেয়া, 
প্রাচির গগনে, দেখি ত্বম অপরূপ দিব্য প্রেমের মায়া //
---- শান্তনু সান্যাল  

সুপ্রভাত

সুপ্রভাত
কাঁচা হলুদ রঙ্গে, ভোরের আলো
শুভ্র চন্দ্রমল্লিকার বুকে সজল কম্পন,
তুমি কী ঘুমিয়ে আছো এখনো
হৃদয় দিয়ে যায় সমানে ডাক, শুনো নি,
শরত সকালে মিলনের প্রতিশ্রুতি  ?
শ্রাবনের মেঘ নিশ্চই জানিয়েছে!
প্রেমের আমন্ত্রণ, সঘন আকাশে
লিখে যায় নি সৌদামিনী স্বরলিপিকা!
স্মরণে দোলা দিয়ে যায় না
মালতি গন্ধে ভরা প্রথম যুগ্ম অধর
নিশ্বাস বিনিময় শিহরিত আলিঙ্গন,
সাড়া দিয়ে যায় অবশ্যই
দেহের বিশ্রঙ্খলিত আবেগ, উন্মুক্ত চেতনা,
কই  বেলা গড়িয়ে গেল তুমি দ্বার  যে
খুলতে ভুলেই গেছ, মনে হয় বিহানের
স্বপ্ন এখনো তোমায় বুকে জড়িয়ে রয়েছে,
গলিয়ে গেলাম দরজার নিচে দিয়ে কিছু
অশ্রু ভেজা পুষ্প গুচ্ছ -- শুভেচ্ছা সহ /
--- শান্তনু সান্যাল
photo - Nkhilesh Sanyal - Dacca

Thursday, 16 December 2010

ডুবে গেছে ভালবাসা

ডুবে গেছে ভালবাসা 
১ -অসময় কড়া নাড়ার শব্দ 
    শব্দে মনে হলো শুনেছি সে 
    বহু কাল আগে, রহস্য ও 
    কৌতুহলের মাঝে, দরজা 
    খুলে দিলাম, গাল ভরা দাড়ি 
    কঙ্কাল দেহে রয়েছে কিছু 
    ক্ষত, ঘায়ের অমিট দাগ 
    কলিঙ্গ বিজয়ী যেন মহা যোদ্ধা 
    নিরস্ত্র দাড়ায়ে আছে সম্মুখে 
    নিখোঁজ আমার প্রতিচ্ছায়া 
     ফিরে পেলাম কোন অরণ্য পথে,
     আজ আমি নিজেই নিহত 
     বাহিরে উল্লসিত বৃন্দ গান 
     জানি না কোন পন্থের অনুযায়ী 
      আগে তো আর তাদের দেখি নাই, 
      সমানে গেয়ে চলেছে অজানা 
      ভাষায় অবিরাম একসুরে,
      আত্ম উত্থানের বিস্মৃত গান 
      আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন 
      কে জানে কোথায় বয়ে যায় 
      আনন্দ ধারা --------------
২  এই কোলাহলের মাঝে প্রতিধ্বনি বিলুপ্ত 
     শিশুরা খেলছে নদীর চরে
      লিখছে কিছু হারিয়ে যাওয়ার কবিতা 
     ওই মাঠের শেষে কিছু ছায়া 
      সহসা উধাত যেন অজ্ঞাত মায়াজালে 
      বহু দূরে মনে হয় তাহারা খেলে 
      লুকুচুরি, 
      চেয়ে ছিলাম থামাতে ঢেউর অশান্তি 
      সাগর সৈকতে তুমি আর পথ 
       চাও নি, উদাস মনে ফিরে গেছি,
       জানি তুমি আর সে তুমি নও 
       প্রতিধ্বনির পথে হয় তো 
       জেগে উঠেছে ঘুমন্ত পাহাড় কিংবা 
       রমনীয় পর্যটক স্থল
       এক ঝিলিক রোদে ডুবে গেছে 
       ভালবাসা 
     -- শান্তনু সান্যাল  
      

Saturday, 11 December 2010

অহম অনন্ত স্বপ্ন পশ্যামি

অদ্ভুত নীলাভ ওই দৃষ্টি 
শুন্য নিয়ে উঠে আসে অন্তরীক্ষে 
জীবনের অবুঝ প্রহর
গতিমান, চিরস্থায়ী, চিরন্তন 
প্রশ্নের আলো ছায়ার মাঝে 
নিয়তির ধুম্র বলয় নিমিষে নিজের 
খেলা নিঃশব্দে দেখিয়ে যায় 
শুধু রয়ে যায় এক শ্বেত দীর্ঘ রেখা 
উর্ধমুখী বিলীনতার দিগে 
আকাশ অবাক যেন বুঝতে চায় 
মিসরের অজ্ঞাত চিত্র লিপি 
কিংবা ভাগ্য লিখন গভীর ভাবে 
এখানে জীবনের উদ্গম এখানেই 
মৃত্যুর মহাপ্রস্থান ও শেষে 
অহম অনন্ত স্বপ্ন পশ্যামি -
--- শান্তনু সান্যাল