Sunday, 2 January 2011

অর্ধ নিঃশ্বাস

অর্ধ নিঃশ্বাস 
কত কিছু বদলিয়ে গেছে 
তবু মাঝে মধ্যে 
রূপবাণী, মালঞ্চ ভেসে উঠে 
সহজে মিছিলের ভিড়ে 
পাঁচ মাথার মোড়ে যেন তুমি 
আজ ও রয়েছে পথ চেয়ে 
ওই সরু ভুরুর মিলন বিন্দুতে 
ছিল মরুন পূর্ণিমা চাঁদ  
শ্লোগান লিখতে গিয়ে তুমি বাধা 
দিয়ে ছিলে, কবি নিষ্ঠুর হয় না 
এই ভাবে ক্রুর শব্দে তোমার 
কচি আঙ্গুল টি ডুবি ও না 
সে দিন আমি বুঝি নি তোমার ভীরু 
মনোভাব, লিখে গেছি 
রক্তে ভেজা  ক্রান্তির কাব্য খানি 
আজ পড়ন্ত বেলায় ভাবি 
তুমি ঠিক ই বলে ছিলে 
উধ্বস্ত জীবনে আমি রয়ে গেছি 
একাকী 
দেয়ালের ওই কাঁচা হাতের লেখা গুলো 
কবে যে মিটে গেছে কেউ তা জানে না 
যারা দিয়ে ছিল কলম কিংবা ব্রাশ হাতে 
তারাই হয় ত মিটিয়ে গেছে স্বপ্ন 
ওই পুরনো ক্যানভাস বুকে জড়িয়ে 
ঘুরেছি সারাটা জীবন 
এই দশ বাই দশের ঘরে আর তো কেউ 
আসে না, আমি রয়ে গেছি 
অতীতের পৃষ্ঠে 
শুধুই এক অর্ধ নিঃশ্বাস  হয়ে /
---- শান্তনু সান্যাল  

অমরত্ব প্রাপ্তির সন্ধানে

ছায়াময়ী ধরাতলে ঘনীভূত 

কিছু মৃগজল কিংবা স্নিগ্ধ সকাল,

তোমার উজাড় করে উন্মুক্ত চাওয়া 

উদ্বেলিত করে যায় মনের বন্ধ্যা ভূমি 

ওই নয়নের তিলের মায়া

ঘনিয়ে আনে রাত্রি নিবিড়

ভুলে যাই ক্লান্ত দাহিত এই জীবন  

যেন কোনো এক অনন্য বসুন্ধরা 

অকল্পনীয় মহাদ্বীপ 

ভেসে যায় নীল হৃদির লহরে 

দূর অনেক দূরে নিয়ে যায় আপন করে 

কাছে আলতো করে জড়িয়ে বলে রয় 

ওই দেখো চাঁদের আলোয় তোমার 

কবিতায় প্রাণ জেগে উঠেছে 

শব্দগুলো ডানা মেলে উড়ে যেতে চায় 

সমবেদনার গায়ে নিশি অশ্রু ঢেলেছে 

ছন্দের গভীরতা, অর্থের গহনতা

নিয়ে নতুন প্রেমের পরিভাষা গড়েছে

আম্মি সম্মোহিত হেঁটে যাই বালুকা বেলায়

ঝিনুকের বক্ষে দেখি তোমার নয়ন খানি

ক্রমানুগত যেন মুক্তায় পরীনিত হয়

চলেছে, আমি নির্বিবাক চেয়ে রই

তোমার অপ্রতিম রশ্মি প্রবাহিত সে রূপ

সন্ধি ক্ষনে উত্সর্গ করি দেহ প্রাণ

পরিপূর্ণ ভাবে অমরত্ব প্রাপ্তির সন্ধানে /

-- শান্তনু সান্যাল       

মধ্যেখানি


 মধ্যেখানি 
যত টুক খুশি ছিল ভাগ্যে আমার 
ভাগ করে গেলাম, এই ভাগ ভাগির 
মধ্যেখানি রাখি নি কখনো হিসাব 
এই পলাস্তার ঝরা দেয়ালে,
 ঝুলে রয়েছে তবু কিছু জল রং ছবি 
রং যত ছিল গেছে ঝরে বিন্দু বিন্দু 
জলের ছাপ রয়ে গেছে শুধু 
ছবি গুলো তো আমারই আঁকা 
মায়ার ফ্রেমে জড়ানো তোমার অমূল্য 
হাসি, সেই বাঁকানো হাসির এক কোণে
জীবনের কিছু রহস্য রোমাঞ্চ খেলা করে 
এক ধুর্বে তুমি আছ ধরে স্বপ্ন দড়ি 
অন্য অন্তে আমি টেনে রাখার ভান করি 
আসলে আমি চির পরাজিত 
হয় তো হারিয়ে যাওয়াটাই ভালোবাসি 
ভাঙা আইনা না কী অশুভ, কই কিছুই ত 
হয় নি,চেহেরা আসলে বদলিয়ে গেছে 
আজও তুমি আমায় ভালোবাসো সেই 
এক অনুসন্ধান হারানো প্রাপ্তি  
ওই কোনায় যে ঝুলন্ত দেউল 
সান্ধ্য প্রদীপ নিজস্ব জ্বলে উঠে 
ধুপের গন্ধে ভেসে যায় হাসির গীতাঞ্জলি 
বিস্তারিত সিঁথির মুহানায় 
সূর্য্য ভুলে যায় পথ, হয়ে উঠে চন্দ্র 
জেগে রয়ে হৃদয়ের মাঝে সারা রাত /
 -------
সিড়ি ভেঙ্গে তেতলায় উঠে ছিলাম 
ফিরিয়ে দিতে তোমার দেওয়া কিছু গোপন 
অতীতের ছিন্ন পাতা, দিশাহীন রাত্রি 
মাতাল সাঁঝের ঝিমুনি, ক্লান্ত সকাল
দেহে লিপ্ত প্রবাল শৈবালের ছায়াকৃতি 
উঠেতে গিয়ে দেখি প্রতি সোপানে
ফেলানো ছিল মৃদু স্বপ্ন পালক মর্মাহত 
তুলে নিয়েছি সব কটা তোমার 
অবহেলিত প্রণয় পৃষ্ঠ 
সপথের মিথ্যে আয়ুর দলীল 
ভাঙা শব্দের চাঁপা কান্না 
উড়ন্ত সেতু সম চুম্বন 
ছদ্মময় বিষাক্ত আলিঙ্গন
 আর অনেক কিছু, তবু ও 
চেয়ে ছিল মন জানতে -
তুমি কী সত্যি আমায় ভালবাসতে 
নিঃশব্দ পায়ে উঠে ছিলাম 
সেই তারক প্রজ্বলিত নীলিমার 
মায়াবী জগতে, 
হাসির জুয়ারে দেখি তুমি বিকরাল 
রূপে, উঠে চলেছ চক্রবাতে
অচম্ভিত হৃদয়ে আমি কাঁদতে চেয়ে 
ছিলাম, যেন তুমি নেমে এস !
সেই লৌকিক বা অলৌকিক তোমার 
রূপ দেখে আমি ঘৃণা করি নি 
আমি হাত বাড়িয়ে ছিলাম 
আমি যে তোমায় ভালোবাসি 
নিরুত্তর  তোমার সজল নয়নে 
জীবন দেখতে চেয়েছিলাম 
আজও মন বলে তুমি ফিরে আসবে 
এই কাব্যময় বক্ষে হৃস্বই দীর্ঘই আকারে 
যেখানে আজও শান্ত গভীর 
লুপ্ত বালুময় নদী বহে যায় অবিরাম ---
--- শান্তনু সান্যাল