Tuesday, 31 May 2011


জোছনার গায়ে  


অনুকম্পাবিহীন জগতে বহুবার
ধর্ম যোদ্ধারাই  লুন্ঠন করে গেছে  মনের 
মন্দির, দিয়ে গেছে ঘাত প্রতিঘাত 
নির্দোষের মাথায় দোষারোপ  
তালিময় বস্ত্র বন্ধু নয় কোনো জন্ম দাগ,
 প্রায়ই বসে থাকে আহত ভাবনা 
আদালতের ওই ভাঙা সিঁড়ির উপরে, 
প্রমানের কাগজ নিয়ে হাতে 
মৌসুম ফিরে চায় না সিক্ত চোখের স্বপ্ন,
 উচ্ছ আসীন সেই অভিশংসক
অনেক সময় অবিরল দিয়েছে মুক্তির 
বক্তৃতা, শুনিয়েছে ক্রান্তির কবিতা 
আঁধারে সে আবার দেখি বিক্রয়ের পথে,
দাড়িয়ে আছে অন্ধ গলির সীমান্তে 
 সেই পন্যবিনিময়ের আদিম ভুবনে !
তথাকথিত ত্রাণকর্তা সেই রাতে 
দিল মশাল আমার প্রতিবেশীর হাতে,
বারংবার শিকারে অগ্রসর সেই 
মুখোশ ধেয়েছে পঙ্গু তৃণ ভোজির পিছনে,
জঙ্গলের এই আইন মোছা যায় নি 
কোনদিন, ঘা  দিয়ে মলমের মাখামাখি,
সুযোগের শোধে সেই আঁখি দিয়েছে
বিশ্বাসঘাতকতা বহুবার বন্ধু,
তাপ্পি খুলে যাওয়ার ভয়ে ভীরু মন নিজেই 
উলঙ্গ হয়েছে  অনেক সময়, 
জীবনের বাস্তবিকতা বড়ই কঠিন,দুরূহ 
তবুও কালরাত্রি বলে স্বপ্ন মরে না কোনদিন ,
সেই অলৌকিক বিহানের সন্ধানে 
মন চায় ঘুমোতে কিছু ক্ষণ জোছনার গায়ে,
-- শান্তনু সান্যাল 

পলকা আবেগ 


ভালবাসায় কোনো চুক্তি ছিল না 
বাধ্যতার প্রশ্ন উঠে নি 
পলকা পানপাত্রে হাত দিতে গিয়ে 
যদি স্বপ্ন ভেঙে যায় সহসা 
হাতলের বা দোষ কি -
নিখুঁত ভাবে, সূর্য্য অস্তাচল লিখে 
গেছে আকাশে, কাঁচের আবরণে 
হাত দিও যেন সাবধানে,
 লুপ্ত ফাটলে ছিল হয় তো কিছু 
রহস্যময়ী নিঃশ্বাস, মৌন কাহিনী !
ঠুনকের শব্দে ছিল চাপা ক্রন্দন,
চোখের ওই নদীর তীরে 
এখনো দেখি গ্রীষ্মের গুটিয়ে যাওয়া 
ভীরু জলরাশি, বহে কি স্থির 
বলা বড়ই মুশকিল,কিন্তু 
ওই ঝিনুকি চোখে হারায় নি এখনো 
মুক্ত মনি, হয় তো তৃতীয় নেত্রের 
কপাট খুলে গেছে মৌসুমের 
মধ্য রাতির তন্দ্রা,
সকালের পথচারী গেছে ফিরে 
পার্কের ফাঁকা বেঞ্চে শালিকের 
বিচলিত চাওয়া, কৃষ্ণ চূড়া ঝরে 
চলেছে এক এক,বাতাসে এখনো আছে 
কিছু অদৃশ্য মধু কম্পন,
দুপরের অলস বেলায় মন কি খুলে 
চলেছে বহু শৃঙ্খল গিঁট,
কিংবা আটকানো নজরের মরিচিকা,
ফেলে চলেছে হৃদয় মিহি বোনা 
ভালবাসার জাল, বলা মুশকিল 
ঠিকই ত সাঁঝ লিখে যায় নি 
একাধিকারের চুক্তি ----
--- শান্তনু সান্যাল