বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১১


মৃগয়ার সম্মুখে 

জাফরানী বর্ণের আকাশ 
এইমাত্র ঘটেছে সূর্যের মৃত্যু !
সূর্য্যমুখী মত জীবনের নত ডাঁটা,
সব প্রাণশক্তি চুষে, সে এখন ভিন্ন দেশী 
সম্ভবত বিলিয়ে চলেছে বিহানের কচি আলো, 
ক্ষতস্থানে আলতো, অমায়িক
ভাবে স্পর্শ করে জাগিয়ে 
রাখতে চায়ে নিজের 
বুকের কাছে, সারা রাত সে 
লাবণিক হাতে ছুঁয়ে যাবে, ঔষধির
নামে, দিয়ে যাবে মৌন বেদনা, যন্ত্রণা, ত্রাসদী !
কিন্তু এখানেই তার মতি ভ্রংশ, আমায় নিয়ে 
তার এই খেলা, ডেকে আনছে স্খলনের 
পূর্বের আবেশ, অনুচ্চারিত, নির্বাক,
কস্তুরী মৃগের হাঁপানি, ঝড়ের 
দীর্ঘ নিঃশ্বাস, পতনের 
উন্মুক্ত দ্বার, 
মৃগয়ার সম্মুখে নিজে কে, উত্সন্ন
করা ! অবরুদ্ধ কন্ঠে ত্রানের গান সব
যেন এই পর্য্যায় অর্থহীন, আমি জাফরানী 
আলো ভেসে উঠি সূর্যের মৃত্যুর পরে, লিখি নিশির
স্তনে বেঁচে থাকার কাহিনী, হয় ত সে জানে 
না, কিংবা না জানার নাটক করে !

--- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

পরিচয়ের রং 

প্রখর গ্রীষ্মের অপরাহ্নে জানতে চেয়েছিল
সে আমার পরিচয় পত্র, সবুজ কি বাদামী,
হাত সরিয়ে জানিয়ে দিয়েছে
বিধর্মীয় হবার সাস্তি, আমি দিতে পারি নি
ধর্মনিরপেক্ষ দেশের পরিভাষা
সে আমায় জল ছুঁতে দেয় নি, ফেলে
দিয়েছে পরিচয় পত্র
ঘৃণিত ভাবে নিজস্ব ভাষায় দিয়েছে
গালাগালি, সেটা না বোঝার ভান করে
আমি ফিরে আসি, ওই রঙের
ভেদাভেদে গোটা পৃথিবী কে তারা করেছে
বিধ্বস্ত, তারা শুধুই এক মাত্র
ঈশ্বরের বৈধ সন্তান,
স্বর্গের সাম্রাজ্য শুধুই তাদের জন্য, সে দিন
আমি দেশের মাটির মূল্য বুঝেছি,
নিজের সংস্কৃতির গর্ব করেছি,
তবু ও আমি ঘৃনা করতে পারি নি -
দুঃখ যে তাদের কে মনুষ্যতা বোঝাতে পারি
নি,হয় ত তারা ঈশ্বরের নিকটে
নিরাকার, ভাব বিহীন, কিংবা মহাবিজ্ঞ
পথের যাত্রী, মনের ব্যথা বুঝে না
তারা তাদের পছন্দের পরিচয় পত্র চায়.


-- শান্তনু সান্যাল 



http://sanyalsplanet.blogspot.com/



সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১১


ব্রহ্ম কমল 

ওই শাঁসের মাঝে ফুটে ব্রহ্মকমল -
নিঃশ্বাসে ভরে যায় অজস্র পরিমল, 

কল্পমূর্তি জেগে রয় দুঃস্বপ্নের কাছে 
স্বত:স্ফূর্ত জীবন বহে দূর অবিরল,

বৃন্তের সুক্ষ্ম নলিকায় ধেয়ে চলে -
মানবতার, অদৃশ্য অনঘ অশ্রু জল,

ওই অনুভূতির মূলে সংক্ষিপ্ত প্রেম 
জ্বলে দিবা নিশি যেন অনন্ত অনল,

এখানেই নিরাকার আরাধনা মুখর 
জাগৃত হয় উঠে ক্রমশঃ পূর্ণ অতল !

উলঙ্গ প্রতিচ্ছায়া করে যক্ষ প্রশ্নাবলী 
জীবনের খাতা যেন ভাষান্ত ধরাতল,

ফাঁকি দিতে পারে না ছদ্ম দেহের রং 
প্রায়াস্চিতে ভেসে উঠে নয়ন সজল, 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১১



নিঝুম সাঁঝে 

শাশ্বত প্রেমের অঙ্গীকার, অযৌগিক ছিল না,
দেহ উপস্থাপনের পূর্বে ভাব নি তুমি একবার,

তোমার ওই প্রাপ্তির পার্শ্বে ছিল ,প্রতিহিংসা -
ক্ষণিক আবেশের, সে লুপ্ত প্রাক্কালীন হাহাকার,

আমি চেয়ে ছিলাম জানতে শুধুই অন্তর্মন -
ভিত্তির অনুবল ছিল কল্পনীয়, শুন্য নিরাধার !

সর্বস্ব ওই ভাবে সাবাড় করা, অব্যক্ত ছিল 
পরিপূর্ণতার বাসনায়ে, হলো  জীবন ছারখার,

ভাবি নি বিশ্বাস কর, প্রেমের অমন মৃত্যু -
এগিয়ে আসলে তুমি, জ্ঞানত গভীর মাঝধার,

এখানেই ছিল সেতুর বন্ধন, আস্থার ইষ্টক,
ভেঙে সর্ব সীমা, গেছ তুমি ভেসে  সিন্ধু পার,

সেই উত্তর পুর্বিয় হাওয়ায় গেছ উড়ে দূর 
নিঝুম সাঁঝে একাকী, পথ চেয়ে আছি তোমার !

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by -  Samiran Sarkar
 



শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০১১

ভেজা খড়ি


 জীবনের সমান্তরালে, শুধুই কি সব প্রেম ছিল,
ওই অন্ধ কূপে দেখেছি নিজের  বিকৃত  চেহারা,

কে, কাহাকে, ঠকিয়েছে বলা এত সহজ নয়,
বহুরুপি অন্তর্মনে বাজে, বিভোর সুরে এক তারা, 

উঠে গেছে উপরে, যারা ছিল সময়ের আরোহী
খুঁজে বেড়ায় মন আঁধারে, দূর  সকালের কিনারা,

লুন্ঠন করে গেছে, সুপ্ত পৃথিবী, মৃত জাগরণ,
স্বপ্নরা করে অরণ্য রোদন, সবাই যেন দিশাহারা,

চেয়ে ছিলাম শুধু এক চিলকে খুশির আলো, 
দ্বারে গেছে লাগিয়ে কুলুপ, মেঘেরা দিচ্ছে পাহারা,

তড়িতের ভাঙনে, ভাঙি নি ক্ষিতিজ রেখা -
মাঝি বিহীন নৌকা, বেয়ে চলেছে অথৈ জলধারা, 

ভারসাম্য রাখতে গিয়ে, নিয়তি দিল বাধা 
দেয়ালের  বিদ্রোহী স্লোগান, ক্লান্ত, রংহীন বেচারা,

ফিরে এসেছি বহু বার, সিংহদ্বার ছুঁয়ে আমি 
বন্দ কপাট, চুনাপাথর দিয়ে লিখেছি ,জীবন সারা,

-- শান্তনু সান্যাল 

http://sanyalsplanet.blogspot.com/






বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১১


শেষ রাত্রির খেলা 

ওই জ্বলন্ত বাঁশ বনে, ছাই রাঙ্গা চাঁদ, উঠেছে আবার -
জীবনের বিথী, কবে ভুলে গেছে মায়াবী নীল আঁধার,

ঠাহর করতে পারি নি, ঝিলের বুকের অথৈ গভীরতা 
পা বাড়িয়ে দেখি,শুধুই স্রোতের ভিতরে স্রোত অপার,

জলের উপরে ভেসে চলেছে, রাশি রাশি কাচের আলো 
জোনাকিরা কি দেশান্তরী, গেছে ঢেলে, শেষ  অন্ধকার,

কিসের অনুরণন অবিরাম, খেলা করে জোছনার দেহে 
হয় ত এই মুহূর্তে, তুমি ছুঁয়েছ আমায়, কোমল গান্ধার !

বিভাবরির অঞ্জনে, কি যে মন্ত্র ছিল, জানে না যে মন 
খুলে গেছে স্তর, একের পরে এক, যেন দিব্য চমত্কার,

শিহরিত হৃদয় তুলে চলেছি, বন্য কুসুম,  মসৃন ছোঁয়া 
অন্তরঙ্গ গন্ধের বাতাস, ঝরে চলেছে ঘনীভূত অহংকার !

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১১


অনাহুত

তারা অবুঝের ভান করে, নাস্তিক ও আস্তিকের
রেখায় নিজস্ব স্বার্থের হরি লুট করে, 
আসলে মনের সুপ্ত অভিলাষার গুপ্ত সমীকরণে -
শুধুই পরের পরিধানের সুক্ষ্ম খুঁত ধরে,
তাদের নজরে বৈজ্ঞানিক সীমার বাহিরে শুন্য,
ওই শুন্য ছিদ্রে লোকপ্রিয়তার সুত ভরে,
তারা কাপুরুষের আড়ালে লুকিয়ে রাখে অস্তিত্ব 
বর্তমানের খুন করে ভবিষ্যতের ভূত ধরে,
স্বপ্নের সৌদাগর ভালই ভাবে জানে ভাবের খেলা 
নিজে রাজনের সিংহাসনে, মুর্খ রাজদূত করে,
তারা অসাধরণে সাধারণ বহে যায় অগ্রিগামী পথে 
কিরীটের প্রেমে কুরুবংশী তাদের পদচ্যুত করে, 
সেই সন্যাসী কি বৈরাগী,পরিভাষার বাহির মানুষ 
আমূল ক্রান্তির পরে, সময় তারে অনাহুত করে,

-- শান্তনু সান্যাল

The Paintings Of Salvador Dali

http://sanyalsplanet.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

ফুলের মৃত্যু



অগ্নিমুখের সমান্তরালে রেখে এসেছি 
মনের বিশৃঙ্খলা, শপথের বিধি -
ইতিমধ্যে কি শেষের দিকে ?
ওই গোপন মন্ত্রণায় তৃষ্ণার্ত জীবনের 
বহু প্রশ্ন, অনাবিষ্কৃত ভাবে পড়ে
রইলো, উলঙ্গ দেহে ছিলাম 
গর্ভ গৃহে একাকী, নিবিড় তিমিরে কি 
ছুঁয়েছ অন্তর্মনের গভীরতা, 
আবেশিত স্নায়ু, অতৃপ্ত -
নাভিস্থল, উথিত কমল বৃন্ত, দীর্ঘ শ্বাস 
পারো নি ধরে রাখতে তবুও 
অন্তরাত্মার পলায়ন, দেশান্তরী পাখির 
ঝাঁক, পতঙ্গের নিশি দাহ,
ওই বিন্দু তে থেমে আছো এখনো,
পাহাড়ের গায়ে কবে যে একপশলা বৃষ্টি
ভিজিয়ে গেছে নাগ কেশরের ঝোপ,
অভিপ্সার কৃশ - কন্টক, বিদ্ধ 
করে বুকে জড়িয়ে রয়েছে জীবন, মায়ার 
সমাগমে তুমি কাঁপছ  কোন 
শিহরণে, সমর্পণের এই মুহুর্তে 
আঁকড়ে ধরে আছো আমার অস্তিত্ব কিংবা 
স্বাহার ভয়ে পরেছ মুখোশ, 
আগ্নেয় গিরির প্রীতি শুধুই তোমায় 
সাজে, কিন্তু ফুলের আয়ু অল্প দিনের, ঝরতে 
কিছুই সময় লাগে না, মৃদু পবনের -
 স্পর্শে খুঁজেও পাবে কি -
ভালবাসা, জানি না ?
--- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০১১

অন্তিম ইচ্ছা কি সকাল জানে


তোমার যাওয়ার অনেক ক্ষণ পরে, 


সদর দরজায়, মসৃন হাতের গন্ধ নির্গত হলো,
ভেসে উঠলো জানালার শার্সি তে 
বিগত মুহুর্তের বাষ্প বিন্দু, দূর অরণ্যে ঢেকে
আছে এখনো মিহি কুয়াশার ধুম্র, 
লাজুক রোদের পথে, তোমার বিলুপ্তির রহস্য !
জানতে পারি নি জীবন, তথাপি 
সূর্যের তাপে বন্য বিথী ছিল পরিষ্কার, সু স্পষ্ট, 
সেদিন তুমি ফিরে চাও নি, নিঃশব্দ -
ঝরে গেছে কৃষ্ণচুড়ার, কএক অবশিষ্ট  শৃঙ্খল,
নদীর বর্জিত তটে অবাঞ্ছিত আগাছার 
জঙ্গল, চেয়ে থাকে যেন এখনো আবেশে, সরে 
যায় ক্ষীণ জল রাশি,সম্পর্কের বাইরে,
ধরা দিতে চায় না, নিশিগন্ধার স্নিগ্ধ সুরুভি,
উড়ে গেছে সঘন মেঘের দল, দিশাহারা
মৃগ বৃন্দ ধেয়ে চলেছে ব্যাধের দেশে, অকস্মাত !
বসন্ত বহু দুরে, দাবাগ্নির ষড়যন্ত্র অবিরাম
ফেলে যেতে চায় অদৃশ্য জালের দুনিয়া, আখেটক
যবনিকার পার্শ্বে করে হাতছানি, হৃদয়ের
ঝিলে ভাসে চন্দ্র বিহীন রাত্রি,বধ্যভূমি পূর্ণ সজাগ
উজ্জ্বল স্বপ্নের অন্তিম ইচ্ছা সকাল কি জানে ?
--- শান্তনু সান্যাল  

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০১১

এখনো তুমি আছো
শুন্য উপাসনার বেদি, অর্ঘ্যের ফুল উদাস
চেয়ে রইলো সারা রাত এক মুঠো আকাশ,
বিলুপ্তির পথে নক্ষত্র, নিষ্প্রভ পূর্ণ রজনীশ,
ঝিলের শান্ত লহর, জীবনের দীর্ঘ নিঃশ্বাস,
কোথায় যেন ঝরে এখনো ভালবাসার গন্ধ
কাটতে চায় না মায়ার বৃহৎ সে মোহপাশ,
ফিরে আসি প্রায়ই আমি বন্দ কপাট হইতে,
হয় ত সে পায় না সাক্ষাত্কারের অবকাশ,
তার পরিহারের অর্থ,অন্তর্মন ঝাকিয়ে তুলে
অতল গভীরে যেন খুঁজি তারে বারোমাস !
ধরা দিতে চায় না উজ্জ্বল পালকের সে পাখি,
হারিয়ে যায় অকস্মাত, জীবনের উচ্ছ্বাস !
ভরতে চেয়েছি বুকে জোছনার কিছু কণা -
খাপছাড়া স্বপ্ন, বন্য পথ,সুদূরে ওই মহাকাশ,
সীমাহীন,অশেষ, দুর্জ্ঞেয় মায়াবী এই রাত্রি 
এখনো তিমিরে ভাসে, মধুর ভোরের আভাস,
এখনো তুমি আছো যেন জীবনের আসে পাসে,
ছুঁয়ে চলেছে মন শিশির,পুষ্প, মুগ্ধ - অনায়াস,
-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১১

কাচের নিয়তি
মনে আছে কি না, জানি না, সেই শৈশব কালে,
সরিয়ে হাত, আমায় বলে ছিলে কাচের, ভাঙবে !
যত্নে সাজানো সেই কাচের আলমারি তে ছিল -
স্বপ্ন কি জিজ্ঞাসা, খুঁজে দেখো, সেখানেই  থাকবে,
লিখে ছিলাম দেয়ালের জগতে অনেক কবিতা,
 রং ঝরার আগে, হয় ত এক দিন সে ভালবাসবে,
ছুঁই নি, ঘন সবুজ কচু পাতা, দেখেছি দূর হতে
বিস্ময় চোখে জল বিন্দু ,হয় ত কিছু ক্ষণ থাকবে,
তীব্রগামি রেলের কম্পন, সেতুর বুকে লিখেছে -
কোন লয়ে জীবনের গান, সে কি আবার আসবে ?
জোয়ার ঠেলে গেছে, নানান কাঠামো, নদীর তীরে
উত্সব,মৃত্যু,সাজের গহনা, ফিরে অপার ভাসবে,
কে যায় সুদূরে, নিস্তব্ধ সাঁঝের, আঁধার গায়ে ঢেকে -
চাঁদের বিথী পথ চেয়ে আছে, সে কি স্মরণ রাখবে,
কাচের নিয়তি ভেঙে যাওয়া, এক দিন সে ভাঙবে !
-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১


অনন্ত আলেয়া 
তার গল্পের ভিতরে গল্প ছিল, মন্ত্রমুগ্ধ করে গেছে
প্রতি বাক্য, অজানা সম্মোহনের বিদ্যা হয় ত সে 
জানত, সেই মধুর মিষ্টি সম্ভাষণে, জানা যাই নি 
অপ্রকাশিত, বহু গোপনীয়, প্রবল স্পৃহা, ইতিমধ্যে 
জল গড়িয়ে গেছে অনেক দূরে, রাস্তা ঝলমল, সে 
ফেলে গেছে অনিবিড় বোনা, মোহের মহাজাল !
যতই করি চেষ্টা, মুক্ত্রীপথের  সন্ধান, দূরে যায় -
সরে, অন্তিম খেয়া ভেসে চলেছে পশ্চিমগামী জলে,
বিশাল বট বৃক্ষ শুধায়,ঘিরে চলেছে সঘন তিমির, 
ঘাটের বাঁস বনে এখন নিরবতা, আবেশের অন্ত, 
আগাছার জঙ্গলে খুঁজি এঁদো গলি, ক্লান্ত দেহের ওই 
অমূল্য উত্তরীয়, কখন গেছে খসে জানি না আমি, 
ধীর পদক্ষেপে উঠতে চায় জীবন, ভগ্ন দেউলের -
শৈল সিঁড়ি, সান্ধ্য প্রদীপ হয় ত নিভি নি এখন ?
-- শান্তনু সান্যাল 





সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১১


কোন কুলের ঘাট, তুমি ?
ক্রম বিকাশের শৃঙ্খলায় মানুষের পদবি
ধারণ করা সহজ ছিল, মানুষ কত দূর 
যে হলাম, নিরিবিলি তে বসে ভাববো 
আর এক দিন, মাটি, নদী, ফুল, পাখি -
সব কিছুই ত আছে, তবে কি যে অমন 
 হারিয়ে গেল, অবুঝ মন বুঝে উঠে না,
ওই গর্ভের আঁধার কাটে না, ঘিরে রয় 
দিবা নিশি, বুড়ো শিব মন্দির, মজার 
ঘেসে বহে যায় ময়লা, মরা -পচা খাল,
সেই নিয়ে মিছে মিছে, আকাশ পাতাল !
সাঁকোর কাঠ ভাঙে নি, বৈষ্ণবী, ফকির 
বিরাট বিরাট, দ্বিজ মুরবি গেছে ওপার,
প্রতিশ্রুতি ভাঙার ভয়ে দাঁড়িয়ে রইলে কি 
কিনারায় সটান, নৌকা ডুবির  পরে কে 
কোথায়,কবরের মাটি কি জ্বলন্ত শ্বশান !
--- শান্তনু সান্যাল 
  

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১


কদাচিত আমি দেখেছি !
কোঁচকানো রেখায় সে খুঁজে জীবনের
অতীত,উঁচু নিচু ধরাতলের মাঝে ফাটল,
বৃশ্চিকের পিঠ,ভগ্ন মেরুদণ্ডের চিহ্ন,
জীর্ণ পাতার কঙ্কাল, হেমন্তের শেষ দিন !
মোতিবিন্দুর চোখে আবছা সকাল, 
দূরে বহুদূরে নবজাত শিশুর সরু ক্রন্দন,
রঙ্গীন মাছের ছটফটানি, কড়া নাড়ার 
বিভ্রান্তি, ঝুলন্ত আরামকেদারা,ডুবন্ত -
সূর্যের ক্ষীণ আলো, রং হীন, ছেঁড়া ছাতা,
বর্ণ পরিচয়ের প্রথম ভাগ, কালার পেন্সিল,
স্লেটে ভুল বানান, মুছে যাওয়া কাহিনী, 
ভিড় করে আসে ভালবাসা, মরিচিকার 
আভাসে মন খুঁজে পবিত্র সাঁঝের হাসি ও 
শঙ্খ ধ্বনি, ভুল ভাঙিয়ে যেতে চায় এমন 
ভাবে মন, যেন উলের বল খুলে গড়িয়ে চলেছে 
নদী, পাহাড়, উপত্যকা পার করে, শেষে 
 বেড়ালছানা হাতে, জীবনের খেলা - 
অপূর্ণ, দর্শক ক্রমশঃ উঠে চলেছে মুখ্য দ্বারে,
নয়নের ছানি চিনতে পারে না কোনো 
কিছু, ফিসফিসানি ছাড়া কানে কিছুই শোনা
যায় না, হয় ত তারা ভাঙা দর্পণ, ফেলে 
দিয়ে স্বস্থি পেয়েছে  অনেক দিন আগে !
-- শান্তনু সান্যাল 



   


শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০১১

কাহিনী নয় কিন্তু
সে দিন তুমি দ্বার খুল নি, ছিলাম দাড়িয়ে
অনেক ক্ষণ, হয় ত ক্লিপ জড়ানো চটি -
ময়লা টি শার্ট, সস্তা দামের হাত ঘড়ি,
মুখ ভরা কচি দাড়ি, কুহক হীন চেহারা,
 কোথায় যেন অদৃশ্য রেখায় হাঁপিয়ে
উঠেছিলে তুমি, আমিও জোর দিতে পারি
নি, দামী আতরের শিশি যেন সে দিন
হাত খসকে পড়ে গিয়েছিল, সিঁড়ির ধাপে
বুঝেছিলাম জীবন গড়ানোর  মর্ম,
ধরতে গিয়ে দেখি সকল পাপড়ি গুলো গেছে
 ঝরে, নিশি গন্ধার বৃন্ত, প্রায় সুকনো -
ডাঁটা, বিশ্রী, দুর্গন্ধময়, আঠালো, হয় ত
পচা ধরেছিল, বহু চেষ্টায়, ফেলতে পারি নি,
বুকের অজানা বন্দিগৃহে রইলো সে
অভিশপ্ত, মুক্তির পথ খুঁজে পাই নি ভীরু হৃদয়,
পলে পলে মৃত্যুর আলিঙ্গনে এগিয়ে এসেছি
তাকে, তার এই ভাবে মরণের পদক্ষেপ -
কোথায় যেন আত্মঘাতী করে তুলে, জীবনের
দুরারোহ পথ ফুরাতে চায় না কোনো রূপে,
নিরব অবহেলনার অর্থ খুঁজে মন,তবু ও ভুলতে
চায় না আপন জন, তথা কথিত ভালবাসা !
বন্দ দ্বারের আত্মীয়তা, অনেক অব্যক্ত সম্পর্ক,
মৌন প্রতারণা, বিষাক্ত হাসির মায়া !
ক্রমশঃ পা এগিয়ে যায়, যেন কিছুই ত ঘটে নি,
সহজ ভাবনায়, জীবন ঢাকতে চায় হাত -
দু খানি রেখে, জীর্ণ জামার অদৃশ্য ছিদ্রময় জগৎ,
-- শান্তনু সান্যাল










 

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

জীবনের দ্বীপ
আলোক পথের যাত্রী ছিল সবাই, মনে
রাখি নি তাই আঁধারের ঠিকানা,
নিভলো যখন প্রদীপ্ত মশাল চার দিকে
ছিলাম আমি নিঃসঙ্গ, অজানা,
বস্ত্র হরণে দায়ী শুধুই কি এক দুঃশাসন
অট্টহাসে ছিল শামিল পূর্ণ ঘরানা,
যখন ভস্মিভূত প্রায় আমার খড়ের ঘর
হটাত পুরোধা করেছে তীব্র মানা,
নদী পার, ভালই করিয়েছ হে প্রিয় মাঝি
কোথায় রক্ত আর কোথায় ডানা,
ওই শুন্য পিঞ্জরে,ভরেছ কি নতুন ময়না
ঝাপটিয়ে যাও কি দাও প্রবল হানা,
কোন গানের অন্তরায়ে ভিজলো হৃদয়
পাগল বাউল গায়ে এক সুরটানা,
অম্বরে জেগে আছে কিছু জীবনের দ্বীপ
তরী ভাসে, সুদূরে আছে জানি মুহানা !
-- শান্তনু সান্যাল
 

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১১

দুরন্ত ধারা

শাপিত গন্ধর্ব  ছিল হৃদয় আমার
গেয়ে যায় সেই অপূর্ণ জীবনের গান,
রুদ্র বীণার তারে খেলে, জল বিন্দু
বৃষ্টির স্বরলিপি, মানে না অভিধান !
বাঁধতে পারি নি, তার দুরুন্ত হাসি
গেছে বিঁধে প্রতি ক্ষণে, দেহ ও প্রাণ,
ক্ষুদ্রনদীর জলস্ফীতি,আবেগের স্রোত
অফুরন্ত অনন্ত  পথে, কেবল বহমান,
খুলে দিও পালের আকাশ, মাঝি মন
জীবনের লহর সহসা,আজ বেগবান,
কি যে মায়া, তার দুই সজল নয়নে
জানি না ভালই লাগে ভাঙন, ভাসান !
উদ্বিগ্ন নৌকা, নোঙর ছুঁতে চায় না
খেলে যায় তরঙ্গে, দূরে দিবা অবসান,
-- শান্তনু সান্যাল



বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১১


অসময়ের মধুমাস 
উঠিয়ে গেছে কে যেন, বিস্ফারিত রাতের আকাশ,
কুটোর শিখা নিভু নিভু,জীবন শুধুই দীর্ঘ্য নিঃশ্বাস !
ডুবন্ত তারকের পথে, আছে এখনো আবছা নীলাভ 
সিক্ত প্রতিধ্বনির আবেগে, ঘুমন্ত সর্ব হাস পরিহাস,
আদ্র বুকের বেষ্টনী, ঝরেছে অঝর বৃষ্টি সারা রাত -
ভরে গেছে কে যেন রিক্ত হৃদয়, হটাত, অনায়াস ?
ক্লান্ত দেহে র পরিমণ্ডলে কে লিখে গেছে, অভিলেখ -
জেগে উঠেছে অজস্র কাচের স্বপ্ন,জীবনের আসপাস !
গভীর স্পন্দনে,বহে যায় অগণিত প্রণয়ের কণিকা
ফিরে ফিরে আসে, যেতে যেতে অসময়ের মধুমাস,
-- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১১


অন্তরঙ্গ ভুবন  
ওই শুন্য বলয়ে কিছুই ছিল না
তুমি যে বললে স্বপ্ন জেগে উঠে,
সারি সারি শতদল না কি ফুটে 
সেখানে ঝরে সুধাময় জোছনা !
ঝিলের বুকে লিখে যায় সমীরণ 
দিব্য প্রেমের কবিতা,প্রবুদ্ধ হয় 
যায় জীবনের তমস ঘন রাত্রি !
অবসাদ নিয়ে মনে ফিরে এলাম 
দেখি নি, কোনো অলৌকিক ছবি, 
চতুর্দিকে শুধুই আচ্ছন্ন নিরবতা,
আহত মনে ফিরে আসার পথে -
খুঁজেছি শিশুর মুখের হাসি,ধানের
ক্ষেতে কৃষাণীর সৌম্য চেহারা,
ডিঙ্গার গায়ে লহরের প্রতিবিম্ব -
উড়ন্ত গাঙ চিলের আবর্তনে পূর্ণ 
আকাশের গুটিয়ে যাওয়া, নদীর 
তরঙ্গায়িত বুকে তোমার প্রণয়ের 
পালতোলা নৌকা, মাঝি বিহীন 
বহে চলেছে উজানের পথে, বিস্মিত 
নয়নে চেয়ে রই ক্লান্ত সাঁঝের নিস্তেজ 
ভালবাসা, ক্রমশঃ সূর্য্য যেন হয় 
উঠে পঞ্চ ধাতুর কলসি, ডুব দিয়ে 
ভরে আনি জীবনের অজ্ঞাতপূর্ব জল 
রাশি,কিছু ক্ষণ আগেই মায়াবী রাত 
পা ফেলেছে ঘাটের সোপানে, আমি -
ও ফিরে চলেছি অন্তরঙ্গ ভুবনে !
--- শান্তনু সান্যাল