Tuesday, 4 January 2011

কমলা রং বিহান

কমলা রং বিহান 

  জানালার পারে মধুমাস
চেয়ে দেখি কমলারং বিহান 

পলাশের গায়ে সাজিয়ে গেছে
 কে যেন রঙ্গীন কবিতা গুচ্ছ,
উঁকি দিয়ে যায় কাঠ বেড়ালীর 
দুই চঞ্চল চোখে কার
 প্রণয়ের সুপ্ত অভিলাষ, 
ভরে যায় অন্তঃকরনে
 স্বপ্নময় অভিসার, 
সুদূর সাল সাগুন বনে 
কুহুক উঠে অজানা কোন পাখির,
 মনে হয় কে যেন ডেকে যায় মধু নাম,
আমি বিহ্বল হৃদয়ে সহসা 
খুলে যাই মুখ্য দ্বার, 
দেখি তুমি সদ্য প্রস্ফুটিত
 অনাম ফুলের দেহে
 ঘুমিয়ে রয়েছে এখনো,
আমি চাই সূর্য্য যেন ঢেকে যায়
 আবার সঘন মেঘের চাদরে,
নীলাম্বরী অন্তরীক্ষে দেখি
 দূর দূর মেঘের কোনো সাড়া নাই,
নিসর্গ জেগে উঠে বুকে নিয়ে অজস্র ভালবাসা,
 তোমার পরশে মধুমাস ছড়িয়ে
 গেছে মায়াবী বন্য সুরুভি দিগ দিগন্তে //
--- শান্তনু সান্যাল

দড়িতে ঝুলানো স্বপ্ন গুলো

দড়িতে ঝুলানো স্বপ্ন গুলো 
 
অলিন্দ পেরিয়ে প্রত্যুষ কিরণ দিয়ে গেছে
 
তোমার অভিনব কবিতা 

খবরের কাগজ ভেবেছে সবাই, 

আধ ভাঙা কাঠের চেয়ারে আমি বসে
 
থাকি বারান্দার এক শেষে,

বিগত সাঁঝের তোমার গায়ের সেই
 
পরিচিত, অনুরাগী ঘামের গন্ধ 

জড়িয়ে, পড়ে যাই তোমার নয়নের
 
নিরব সাঙ্কেতিক লিপির অর্থ,

কে যেন শুধিয়ে যায় শাল গায়ে দিতে,

সেই ডাহুক ডাকে তোমার নির্বাক
 
মুখাকৃতি আস্তে আস্তে মনিপ্লান্টের
 
লিক লিক লতায়ে যেন সবুজ আভা
 
ভরে যায়, আর যেন শীতের আভাস
 
কেটে যায়, ব্রিটিশ যুগের বারান্দার
  
রেলিঙে হাত রেখে,আমি চেয়ে দেখি 

আকাশে, তোমার কবিতার শব্দ গুলো
 
ঝরে যায় উত্তর কলকাতায়, সোনালী
 
কৃষ্ণচুড়ার সেই বর্ষণে তুমি আছ যেন
 
আমার হাত ধরে, আর বারে বারে
 
বলে চলেছ একই কথা যে তুমি 

শুধুই একমাত্র আমায় ভালোবাসো,
 
এই ভাবে কত ক্ষণ যে দাড়িয়ে আছি 

আমি নিজেই জানি না, পার্শ্বের 

ডাকাডাকির মাঝে আমি দড়িতে 

ঝুলানো স্বপ্নগুলো নামিয়ে বলি -

যাই মা --

--- শান্তনু সান্যাল