Saturday, 31 December 2011


সরাসরিভাবে মনের কথা - - 

সহসা যখন জীবন হয় উঠে বেখাপ্পা, নিরস 
ভুলে যেতে চায় মন নিয়তির অসম 
বন্টন, তখন আঁখি কোণে উঁকি 
দিয়ে যায়  চঞ্চল চমক,
পলকের ছায়া ঘিরে 
নেমে আসে 
রাত্রি, 
অরণ্য পথে ধীরে ধীরে বন্য কুসুমের 
বাড়াবাড়ি, আঁধারে যেন 
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগরিত,
এই জাগরণের 
ঘোরে 
জীবন এখন কৃষ্ণ মৃগ, মৃত্যুঞ্জয়, দৌড়িয়ে 
ডিঙিয়ে চলেছে নিরন্তর 
অনিশ্চয়তার  পথে,
সুদুর শুন্যে 
ঝুলছে 
প্রদীপ্ত বৃত্ত, পরিধির গায়ে আগুনের লহর,
এই জ্বলিত বলয়ের পারে যে গেছে 
সে না কি পরিপূর্ণ অমরত্বের 
অধিকারী, জন্ম মরণের 
মায়াজাল হতে সে 
মুক্ত জীব,
মনের দুনিয়া ওই পেঁচানো লিপি পড়তে চায় 
না, যা কিছু চোখের আগে সাকার 
সেটাই খাঁটি সেটাই আসল, 
তার আড়ালে, মোহের 
কুয়াশা ছাড়া 
কিছুই নাই, 
এক শ্বাসরোধিত গুহা হতে অন্য গুপ্ত পথের 
আঁধারে পাড়ি দেওয়া, প্রশ্ন চিন্হের 
ভিড়ে, বাস্তবিক অর্থের সন্ধান 
সহজ ছিল না, অথচ তার 
অনুপম, নিশ্ছল 
হাসির মাঝে 
ছিল 
সমস্ত অন্তরিক্ষ, শশী সূর্য্য, পুচ্ছল তারক কি 
ধুমকেতু, জ্যোতিপুঞ্জের জগত, যখন 
তার বিশুদ্ধ প্রেমের জোছনা 
ঝরেছে, উন্মুক্ত হৃদয়ে 
আমি করে গেছি 
 উপাসনা,
সেই 
পবিত্র ক্ষণে পাষাণী জীবন হয়েছে শাপমুক্ত ! 

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

Friday, 30 December 2011


নাভির গভীরতা 

গহন আঁধারে ও খুঁজে জীবন তার সন্নিধি, চাঁদ 
ডুবে গেছে অনেক আগে, সে জ্বালিয়ে 
গেছে অদৃশ্য প্রদীপ খানি, হৃদি
মন্দিরে, পরিণত রাত্রি !
অধিশায়িত ধরে 
আছে যেন 
কটিবন্ধের স্থির জাঙ্গাল, বাঁধের মাটি ভয়াতুর,
তার অভিসারের পদধ্বনি কাঁপিয়ে যায় 
জীবনের নিরাপদ অঞ্চল, কড়া 
নাড়ার শব্দে প্লাবনের মৌন
সঙ্কেত, সে এখন উন্মুক্ত 
মায়াবিনী নায়িকা 
খুলে দিয়েছে
সজল 
কেশের জলধারা,অনবহিত, আবরণহীন দেহে 
ঢেলে চলেছে কস্তুরী রাশি রাশি, নিঃস্তব্ধ
যামিনী, সে গড়েছে নিজের আলোর 
জগত, আমার নাভির উর্ধ্বে 
এখন পরাগের উত্পত্তি,
পুষ্পরেনুর সঞ্চার !
তার আবেগী 
পিপাসা 
উদ্দাম, উদ্বায়ী, চাহে সম্পূর্ণ তেজস্বী স্রোত !

-- শান্তনু সান্যাল 

  Misty Moonlight - Jeff Lewis
    



অন্তিম প্রহরের জোছনা 

তার দীর্ঘ নিঃশ্বাসে ছিল অদ্ভুত আবেগর প্রসার !
দেহের নৌকো গেছে নিমেষে নঙ্গরাবদ্ধ,
হিল্লোলিত মাংস পেশী, উচ্চ তরঙ্গে 
হৃদয় তখন ভেসে চলেছে ছুঁতে,
তার তরলিত স্পৃহার
 হিমবাহ, জীবন 
তার আঁখির 
তীরে 
এখন মাত্র, স্থির ঘাটের সোপান, উঠে চলেছে 
অন্তরের দেউল অভিমুখ, সেই নিরাকার
 প্রেমের প্রলয়ে, ফিরে পেয়েছি পুনঃ
আরোহণপথ, করেছি ধারণ 
পূর্ণ সামরিক পোশাক,
কিন্তু তার অধর 
সীমান্তে 
পৌঁছতেই যেন যুদ্ধ বিরাম, থেমে রয়েছে 
মরুপ্রান্তরে যেন শত শত বছরের,
মহাতৃষ্ণা, সামুদ্রিক গভীরতা !
চেয়ে আছে সান্দ্র লবণতা,
চায় প্রগাঢ় মধুরতা, 
বিপুল বৃষ্টি, 
বুকের 
উন্মুক্ত ভূখণ্ডে এখন তপ্ত আবেগের বিগলন !
আমি হয় উঠেছি রূপকার, ছাঁচকার,
ঘামন্ত দেহে খেলে চলেছি তার 
চরম উষ্ণতার শিল্প খেলা,
লিখে চলেছি কবিতা 
তার অপ্রতিম 
দ্রবীভূত 
রূপে !
সে জড়িয়ে চলেছে ক্রমশঃ আমার অস্তিত্বের 
কাঠামো, বক্ষঃস্থলের ফ্রেমে সে গেছে 
মিশে, শুধুই এখন মিশ্রিত ঘামের 
গন্ধ, নিঃশ্বাসের যমজ  ধুম্র -
বলয় কি সুরভিত বৃত্ত !
দুজনের অতিরিক্ত 
কেউ জানে 
না,
সঘন কুয়াশা ঢেকে চলেছে শেষ প্রহরের জোছনা,

--- শান্তনু সান্যাল

   


Thursday, 29 December 2011


উড়ন্ত সাধ 

সারা রাত ঝরেছে হাসনুহানার গন্ধ, কে ছিল 
জানি না, মনের বীথি ভরিয়ে গেছে,
গত রাতে, কল্পলোক অতিক্রম 
করে, অপূর্ণ জীবনের 
সাধ জাগিয়ে গেল 
সে দিগন্ত পথে, 
তার ফিরে 
যাওয়া !
স্বপ্নের ঘিরে আসা, কি যা ছিল অন্যোব্য -
সমীকরণ, বুঝতে চায় না চেতনা, 
মধুর পরিমলাচ্ছন্ন দেহে ফুটে 
চলেছে এখন বহু গন্ধ 
কোষীয় ধারা, 
ভাবনারা 
এই মুহুর্তে মেলেছে আলোকভেদ্য ডানা !

-- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/ 

শাশ্বত সত্য 

আকুলতার সঙ্গে জীবনে জড়িয়ে যাওয়ার, তার -
পটুতা কিংবা মিথ্যে সহানুভূতি, যাই হোক,
এই ভাবে মন নিয়ে খেলার শিল্প কোন 
নতুন নয়, তাই আমি ও খুলে 
দিলাম নোঙ্গর, জানা 
সত্তেও যে ঈশান 
কোণে অশনি
সঙ্কেত !
যখন উঠলো ঝড় সে সমাহিত বক্ষঃস্থলে, ডুবে 
গেছে সমস্ত তথাকথিত সভ্যতার ভণ্ড
জলবেষ্টিত ভুখণ্ড !এখন নিমগ্ন 
জীবনের খরাঞ্চল, ভেসে 
চলেছে ভেলা দিশাহীন 
তরঙ্গে, পুরাদস্তুর 
তার আনন্দ 
স্রোত !
সুদুর কোন শশাঙ্ক কালীন মন্দিরে এখন শঙ্খ
ধ্বনি, শুধায় দিব্য প্রভাতের আগমনী,
তার ময়ুরপঙ্খী আঁচলের ভাঁজে 
ছিটিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে, 
কিছু রহস্যময়ী 
রাতের গল্প, 
প্রেম কি 
রিরংসা, বিশ্লেষণ অতীতের বুকে ! এখানে 
নারী পুরুষ ছাড়া পৃথিবী যেন 
অস্তিত্বহীন, ক্রমাগত
সৃষ্টি, সৃজনের 
ক্রমিক 
বিকাশ, শাশ্বত জীবনের যাত্রা অনুক্রমিক পথে !

-- শান্তনু সান্যাল
arch painting by Julie Hill




Wednesday, 28 December 2011


সুজন মানুষ গেল যে কোথায় 

বুকে জড়িয়ে সেই বোবা বিগ্রহ, কে তুমি হে !
উন্মত্ত বৈষ্ণবী, ঘাটের চাতালে বসে 
কার লাগি পথ চেয়ে আছো, 
ডুমুর ফুল ফুটে ছিল না 
কি, কেউ ত দেখি 
নি, জানি না 
কেন 
নিঝুম রঙ্গীন সাঁঝে ফেলে চলেছ আঁখি জল,
তার প্রেমে ছিল দৈহিক গন্ধ, তাই 
সহজে ফুরিয়ে গেল, নদীর 
এক ডুব জলে, হৃদির 
সেই শূন্যে  ভরতে 
পারি নি,
অনন্ত উপাসনার মর্ম , শুধুই মধুকর হয়ে 
ঘুরে গেছে ফুলে ফুলে, গন্ধে গন্ধে 
ভরা শ্রাবণে যেন রইলো সে 
তৃষিত, অতৃপ্ত, তথাপি 
অন্তরে ছিল  সুধা 
প্লাবিত ভুবন, 
বাহিরে 
খুঁজে গেল সে আজন্ম, সুজনের প্রেমে অন্ধ 
লুটিয়ে গেছে দেহ ও প্রাণ, মনের 
গুপ্ত গর্ভ গৃহে সে পাই নি তার 
দেখা, বহুধা সোহাগ 
ঢেকে অন্ধকারে 
সে ফিরে 
এসেছে উদাস মনে, রাধা ও মীরার মাঝে 
খুঁজেছে সে তার হারানো পরিচয়,
অলৌকিক ও লৌকিক জালে 
জলবিহীন মাছের যেন 
নিয়তি, প্রাণ প্রতিষ্ঠা 
সদাই রইলো 
অপূর্ণ, 
বৃথা গেল দেহের উষ্মা, নিবন্ত অষ্ট প্রহর 
জ্বলে নি মনের প্রদীপ, ভাসন্ত সুখ 
গেছে উড়ে যেন এক শাপিত
স্বর্গ,  হাতছাড়া জীবন 
এখন খুঁজে খাঁটি 
প্রণয়ের 
হদিস, বিক্ষিপ্ত ভাবনা নিয়ে উড়ে যায়  শুষ্ক 
মেঘ, আকাশ পথে জানি না 
কোথায়  - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



Tuesday, 27 December 2011


নিখোঁজ নাবিকের আশায় 

কাচিক মন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেক ক্ষণ,
যখন ভাঙলো তীরের মাটির স্তর, তখন 
দেখি নৌকো সরে গেছে বহু দূরে, 
মেঘেরা ছিল পরকীয় দেশী, 
কিছু সময় ছিল স্থির 
আকাশে, জাগিয়ে 
গেল অতৃপ্ত 
বাড়তি
তৃষা,
পারদর্শী পালকে লেখা ছিল মৌসুমের গান !
প্রবাসী প্রজাপতির ঝাঁক গেছে উড়ে,
উদাসীন উপবনে এখন পাতা 
ঝরার দিন, কুঞ্চিত নদীর 
বুকে পাষাণের স্তুপ,
জীবনের এই 
প্রান্তে 
রাত দীর্ঘ, আলগা, অগীত, তটহারা সংকীর্ণ 
প্রবাহ, তবু ও মনের ভাবনা মরতে 
চায় না, চেয়ে রয় তপ্ত গগনের 
পানে, করে বর্ষার আব্হান,
গাহে নিরদের মল্হার 
গান, জ্বালিয়ে 
রাখে  
আকাশ দীপমালা, সময়ের উধাত্ত বহিত্র,যদি 
ফিরে আসে এক দিন - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
Storm ravaged ship Painting by Vladimir Bibikov 
  

জানি না কার মোহে - - 

কার মোহে ধাবিত, জীবনের এই মায়া মৃগ !
খুঁজে নিজের ভিতরে নিজেরই 
প্রতিচ্ছায়া, কিসের জন্য 
এত যে পিপাসা, 
জানি না 
কোন 
মরুপ্রান্তরে আছে, সে ঘনীভূত মরিচিকা !
কেন উঠে সহসা বালুঝড়, সান্ধ্য 
আকাশে নির্বাপিত, সদ্য 
উদিত শুক্রতারা, 
পশ্চিমে গেছে 
বিলীনতার 
মুখে, 
সব ভ্রমনকারীদল নিয়ে সঙ্গে হয় ত নীল 
আকাশের শামিয়ানা, নিবিড় এই 
তিমিরে তার প্রাণদায়িনী 
মৃদু স্মিতে আমি খুঁজি 
এক রাতের 
ঠিকানা, 
নভ বিহীন সৃষ্টির এই সংরচনায় হৃদয় ভরে 
আনতে চায়, তার চোখের আলো, 
অধরের অমিয় বিন্দু,বুকের
পবিত্র দহন, সৃজনের 
আলিঙ্গন, শ্বাসের 
মধু গন্ধকোষ,
মহা সমর্পণ,
সিক্ত মাটির দেহ ও অদৃশ্য কুম্ভকারের চাক !
এখন জীবনের আকৃতি খুবই লাজুক 
গড়ে চলেছে নিয়তির হাতে, 
কিন্তু তার প্রণয়ের 
আলতো হাতের 
পরশে, স্বপ্ন 
গুলো 
বারে বারে ফিরে আসে জানি না কার মোহে !

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by - Stag In Moonlight by Linda Woodward 


Monday, 26 December 2011


আবার ভিজে আসি 
দেখেছি তাকে সঘন বর্ষার রাতে, খুলে 
বসে আছে একাকী মনের বাতায়ন,
হাত বাড়িয়ে ধরতে চায় সে 
তরল, চঞ্চল নীর, নিলীন 
মনে নিমগ্ন ডুবে আছে 
যেন প্রাণ ও 
শরীর !
তার প্রশ্নের  জল তরঙ্গে ভাসে জীবনের 
অস্পৃষ্ট ছায়াময় প্রদেশ, " যদি 
তুমি বৃষ্টি হতে নিশীথ 
রাতে, আমি 
সুরভিত 
সাধ 
মেখে গায়ে ভিজতাম তোমার সাথে "
আমি নির্বাক,নিষ্পলক 
চাহনি নিয়ে তখন 
সম্মোহিত কি 
মন্ত্রমুগ্ধ,
তার 
 দিকে চেয়ে আছি, ঢেউ খেলানো কেশে 
জমে চলেছে ছোট ছোট জল 
কণিকা , আমার উত্তরে 
সে শুধুই হেসে যায়, 
তার আধ ভিজা 
মুখের 
মায়া যেন ঝিলের গায়ে জোনাকিদের 
আলোক বিম্ব ! তার এই শৈশবের 
পুনরাবর্তন ভালো লাগে, 
শুধাই " রাত 
হয়েছে,
ওই ভাবে ভিজলে যে শরীর খারাপ হবে,"
অনিচ্ছায় সে অলিন্দের দরজা দিয়ে 
এখন আয়নার সামনে, চুল 
মুছতে মুছতে বলে - 
জানো, এই 
সজল 
রাতে ঘুম যেন কোন ভিন দেশী, অচেনা 
আজ না ঘুমোলেই হয়, ঘুমিয়ে 
পড়লেই তো সব কিছু 
কাল্পনিক, স্বপ্নের 
আবরণে
 ঢাকা, 
সেই রোজের এক পথ হইতে প্রবেশ আর 
রাত ফুরালেই অন্য পথ থেকে 
হাঁপিয়ে সকালের হাত 
ধরা, এটাই কি 
জীবন !
চল বর্ষায় ভিজে আসি, উন্মুক্ত ভাবে ঠিক 
রজনীগন্ধার বৃন্তের মতন, লুকিয়ে 
প্রণয়ের সিক্ত সুরভি রাশি 
রাশি, চল না আবার 
সেই আর্দ্র, মধুর 
 জোছনায় 
ঘুরে আসি, আবার পরিপূর্ণ ভিজে আসি .
--- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by - Moonlight and Rain by Terry Wylde

Sunday, 25 December 2011


মেরুপ্রভার আড়ালে

বুনো তুলসীর ছোঁয়া বাতাসে, মেরুপ্রভার 
আড়ালে সাঁঝ, সাজে তখন নিজের মনে,
হৃদয়ের দ্বারে তার কম্পিত হাতের 
স্পর্শ, জাগিয়ে রাখে আবেগের
মোমবাতি, নিভানো 
আসক্তি জ্বলে 
উঠে ক্রমশঃ,
হঠাৎ -
ছুঁতে চায় মন তার বাহ্যান্তর জগত ! সেই 
লাজুক সঙ্কোচনে, স্বপ্ন গুলো দিয়ে যায় 
 বেহায়া উঁকি, প্রণত দুই মৃগনয়নে 
ঝরে চলেছে, বিন্দু বিন্দু যুথি
গন্ধ, অন্তরীক্ষে যেন এক 
বিরাট অলংকৃত পাত্র 
হতে উপচে পড়ছে
রঙ্গীন ফেনপুঞ্জ,
সেই ছায়া 
পথের 
আলোকে দেখি তোমার মৃন্ময় রূপ ক্রমে 
ক্রমে হয় উঠছে সজীব, চৈতন্যময় ! 
বাড়িয়ে চলেছে বাহুডোর, 
নতজানু আমার 
অস্তিত্ব তখন 
যাচক,
যেন রিক্ত সুধা পাত্র নিয়ে দাড়িয়ে আছে 
অকূল, অনিঃশেষ, যুগযুগান্তর 
ধরে, চেয়ে আছে একদৃষ্ট 
তোমার অপরূপ রূপ !
ওই অবিকল 
সমর্পণের 
আশায়
জীবন যেন নব অভ্যুথানের পথে প্রতীক্ষারত ---

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/



অদৃশ্য ভালবাসা 

সিক্ত চোখে তার ওই ভাবে ফিরে চাওয়া, জাগিয়ে 
রাখে জীবনের অঙ্গার, অর্ধ নিবন্ত স্বপ্ন রয়ে 
উদ্দীপ্ত সারা রাত, সাফল্য ব্যর্থতা, 
প্রেম ঘৃনা, আপন পর, উচ্চতম 
নিম্নতম, হারানো পাওয়ার 
দ্বন্দ্বের মাঝে তার প্রণয় 
যেন ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণ!
বিস্মিত করে 
যায় 
মনের মরুপ্রান্তর, ভিজিয়ে যায় জীবাশ্ম ভূমির 
ধরাতল, ভাবনার অঙ্কুরিত কচিপাতায়, 
তার লাবণীয় অশ্রুবিন্দু লিখে 
রয়,ভালবাসার নিরব 
শীর্ষক বিহীন 
কাহিনী !
মহাশুন্যের পথে ভেসে আসে সে নিয়ে জীবনের 
বার্তা, মেঘের গায়ে লিখে যায় সে 
শ্রাবনের শ্লোগান, কড়া 
নড়িয়ে  সে লুকিয়ে 
হাসে শিশুবৎ 
হাসি !
আমি খুঁজি সেই হাসি, বাবলা বন পেরিয়ে বকুল 
সীমানায়, দেখি ঝরে আছে ভালবাসার 
অমূল্য কিংশুক কুসুম চারি ধারে,
অদৃশ্য  মধুমাস ধরে আছে 
অনন্ত তৃষা, চিরন্তন 
আকুল মনের 
উপগ্রহ !

--- শান্তনু সান্যাল
  http://sanyalsplanet.blogspot.com/


Saturday, 24 December 2011


হারানো ভাব প্রবণতা 

অভ্যন্তরীণ আলোর জগত সে দেখতে চাই নি,
মনের সেই গভীরতার মূল্য ছিল শুধুই 
মাটি তার নজরে, অন্তঃস্থ প্রণয়ের 
স্রোত ভাঙার পূর্বেই তার 
দেহের অগ্নিস্নান হয় 
ত করে বিস্ময়,
কিন্তু ছিল 
সত্য !
নীতি দুর্নীতির সমাজ নির্মিত সীমানা ডিঙিয়ে,
সে এক মুক্ত বিপ্লবীর অবিকল অনুকৃতি, 
তার অট্টহাসে ছিল নাম মাত্র গ্লানি,
মৌন বিজয়ীর ভঙ্গি কিংবা 
বিসর্জনের পূর্বে নিজেকে 
দর্পণে দেখা, বলা 
মুশকিল, বাধা 
দিতে পারি 
নি,
তার উচ্চ অভিলাষের সম্মুখে আমি ছিলাম 
যেন বামন অবতার, সে উড়ে গেল 
একদিন সিন্ধু পার, যখন ফিরে 
এসেছে মৌসুম গেছে সমগ্র 
বদলিয়ে, বসন্ত হবে 
কি হেমন্ত 
সঠিক 
মনে নাই, ঠিক হরতকি বাগান মোড়ে দেখি 
সে দাঁড়ানো, চিনতে কিছু ক্ষণ দেরী 
হলো, কঙ্কালের গায়ে যেন স্বপ্ন 
ঝুলে রয়েছে মাকড়সার 
জালে, নিরব চেয়ে 
রয়েছি আমি, 
স্মৃতির
দেয়াল হইতে ফ্রেস্কো খসে চলেছে একে একে ---
ক্ষয়্করণের পূর্বাভাস, ঝঞ্ঝার কড়া
নাড়ার শব্দ, তার ডুবন্ত নিস্তেজ 
চোখে আমি খুঁজতে চায়নি 
প্রথম প্রণয়ের গন্ধ,
তখন আমার 
এড়ানো 
মেজাজ, ভুলতে চাই যত সব কাঁচা ভালবাসা !
এখন আমি মণিরত্ন পরীক্ষক, আর 
জেনেশুনে বিষ গিলতে চাই না,
শুধুই ধারণ করি নিজের 
স্বার্থের জন্য, অঙ্গুরীর 
রূপে, মনের
জ্যোতিষ 
এখন পূর্ণ বৃতিমূলক, ভাবপ্রবণতা গেছে হারিয়ে,
বহু কাল আগে - - - 

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting by -- Rainy_Day_Kolkata_2-Ranit_Dutta