সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০১০

সান্ধ্য প্রদীপ - -

সান্ধ্য প্রদীপ জ্বলে আজ ও অজানার
পথ চেয়ে, কোন উজানের পথে
হারালে প্রণয় নৌকা বেয়ে,
 শঙ্খ বেলায় ঈশান
কোনে মেঘের
উত্পাত,
পুনরায় কাটবে যামিনী শুন্য গগন
চেয়ে, সুদূর আম্রকুঞ্জে, প্রবাসী
পাখিরা ফিরে গেছে, নিরব
কোকিল, হিয়া কম্পিত
বিলম্বিত লয়ে, স্মৃতি
এখনো গাহে
প্রতিশ্রুতি  
ঈমন
রাগে, ভালোবাসার কিংশুক কুসুম
ঝরেছে অসময়ে - -
- - শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০১০

কাচা প্রেম


তোমার কাচা প্রেম, ফুলদানি তে সাজিয়ে
ভুলে গেছি বহু দিন,
কখন যে রজনীগন্ধা শুকিয়ে
হারিয়ে গেছে স্মৃতি গন্ধ বাতাসে
ঠিক ঠিক আন্দাজ করা আজ মুশ্কিল,
বাসিফুলের সাথে নদীর ধারা
কখন যে হলো দিশাহারা
না আমিই জানি না তুমিই খোঁজ নিলে,
ফুলদানির উদাস মুখ
আর সইতে পারি নি
গত শীতের এক নিঝুম সন্ধ্যায়
হটাত দেখি সে দরজায় হাজির
হাতে সদয় প্রস্ফুটিত নিশিগন্ধা
মুখে রহস্যভরা হাসি
সে ফুলদানি নিজের হাতেই
সযত্নে সাজিয়ে গেল,
বাসী ফুলের গন্ধ,তুমিই জানো-
ব্ত্রিষ্ণা ভরিয়ে আনে বাতায়নে //
--- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০১০

অদৃশ্য রঙ্গমঞ্চ


অদৃশ্য রঙ্গমঞ্চ,মুখোশের খেলা
শ্রোতা দর্শক বিহীন, গভীর অন্ধকার
মাঝে মধ্যে অসামান্য চিত্কার
ধারাবাহিক নাটক, রাতের শেষ প্রহরে
রক্তিম ভোরে -
শ্বেত লাল রঙের কনা
ছেঁড়া অধবস্ত্র অশ্রু বিন্দু
নিভানো সিগারেট,রিক্ত মদ পাত্র
সাত সকালে, যত সব বিশ্রী গল্প
অভিব্যক্তি, অনুভূতি, সান্ত্বনা
পুলিসের ডায়রি,
সূর্যের আলোয় অভিনেতার
মহিলা কল্যাণ গৃহের উদ্বোধন ---
--- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০১০

ফিরে তো আর কেও দেখি নি --

ফিরে তো আর কেও দেখি নি --


ময়লা মাখা ছেঁড়া কাপড় জামায়

সে রাস্তায় দাড়িয়ে যুগান্তরে

এক সুগঠিত পুরুষ হলো

কত যে পূজার মিছিল, জিন্দাবাদ -

মুর্দাবাদ, দমকলের সায়রান

হরিবলের ধ্বনি, কাছে দিয়ে

মধুরীম কিংবা বিতৃষ্ণা ভরা দিন

কি ভাবে সরে দূর হলো সে

নিজেই জানে না --

বস্তির নর্দমা, চেনা গন্ধ

কাজের মেয়েদের ইশারা

নিম্নাঙ্গে অস্থিরতা,

ঘুপ আঁধারে সে ও মধুপান

করতে চায়, কিসের অশ্লীলতা

যৌবনের পরিভাষা

কোনো শ্রেণী ভেদ জানে না

স্বপ্নে শুধুই তোমাদের দাবি কেন ?

--- শান্তনু সান্যাল

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০১০

পুরাতন এলবাম

অলস পড়ন্ত বেলায় শীতের শিহরন সহজে


বেড়ে যায়, মধুর স্মৃতির ফুল ফোটানো শাল

গায়ে দিতে গিয়ে, ভালবাসা যেন ধুসর হারানো

পুরাতন এলবাম রঙ্গ বিহীন,আবছা- আবছা

বয়েসের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় প্রণয়ের পৃষ্ঠে,

অকস্মাত বুকের ভিতরে কম্পন বেড়ে যায়

হাত দিতে যেন ভয়, যদি ছিড়ে যায় অযত্নে,

সাঁঝ নামতে না, নামতে ভগ্ন মন্দিরে জানি না

কোন অপরিচিতা প্রদীপ জ্বালিয়ে নিমিষে

সরে যায়ে রঙ্গিন মেঘের আড়ালে---

নিশীথের দাপাদাপি, মধ্যরাত্রি বিনিদ্র চোখে

পুষ্পিত শালের সব কুসুম ঝরে, বুকে আবরণ

আর দরকার হয় না,প্রেমের লেপে হারিয়ে যেতে

ভালই লাগে //

---শান্তনু সান্যাল

নিস্তব্ধ যামিনী

নিস্তব্ধ যামিনী, পিকাসোর একাকী গিটারিস্ট


মনের নিরবে আত্মমন্থন করে যায়

মোনালিসার হাসি ঝরে কোন-

সেউলি বনে, মাইকেল এঞ্জেলোর তুলিকা

কাচা ঘুম ভাঙ্গা শিশুর রোদনে, কিছু অর্থ

খুঁজে বেড়ায়, যিশুর সুপ্ত পলকে শিশির কনা

বিন্দু বিন্দু ঝরে যায়

সারি সারি সহস্ত্র মরিয়ম, হাতে মোমবাতি

ঝির ঝির আলোয় কোথায় যেন

মৌন মিছিল হেটে চলেছে-

এলোমেলো রূপে বৃদ্ধা,রুগী, পঙ্গু, জর্জরিতমুখ

সকাল এখন বহু দূর মরু প্রান্তে

রাজপথের দুই ধারে অর্ধ উলঙ্গ পুরুষ বৃন্দ

অবাক চেয়ে রয়েছে

পূর্ব আকাশ শ্যাম রক্তিম

চিরকুট মেঘের দল ছড়ানো চার দিগে //

---শান্তনু সান্যাল
পিকাসোর সেই একাকী গিটারিস্ট


নিরব ননের গভীরতায় মোনালিসার

হাসির রহস্য নিয়ে আত্মমন্থন করে যায়,

শেষ প্রহরে মাইকেল এঞ্জেলোর তুলিকা

সহসা জেগে ওঠে কাচা ঘুমের শিশুর

ব্যথাভরা রোদনে, যিশুর দুই সুপ্ত চোখে

অশ্রু, বিন্দু বিন্দু ঝরে যায় সারা রাত

দেখি নিস্তব্ধ রাজপথে সারি সারি

মরিয়মদের হাতে মিট মিট মোমবাতি,

মৌন মিছিল হেঠে চলেছে অদৃশ্য দিগন্তে

এলোমেলো বৃদ্ধা,পঙ্গু,রুগী, জর্জরিত মুখ,

সকাল এখন বহুদূর কোন মরুপ্রান্তে

রাস্তার দুই ধারে রোমনযুগীন অর্ধ উলঙ্গ পুরুষ

অবাক চেয়ে রয়েছে,

কোন দেশের যাত্রী, কী যা চায়-

---শান্তনু সান্যাল