সে অপরূপ মায়া শুধায় প্রেমের উত্সর্গ
হয় তো আজ ও রয়েছে যিশুর পৃথিবী,
পদদলিত, অসুন্দর, অবহেলিত হৃদয়ে
তুমি আছো নিরব, মানুষের মাঝে,
করুনামুখী নির্ঝর দেখেছি সজল চোখে,
পরিত্যক্ত শিশুদের হাসি, জীবনের
ইতিকথা লিখে যায় হারানো পৃষ্ঠে,
অজানা দুটি হাত সহসা উঠে আসে
ভালবাসা জড়াতে চায়, মিষ্টি শীতের
গায়ে নরম যেন দিনান্তের শেষ আলো,
বাজারের নীলাম মঞ্চে,অদৃশ্য মুখ
সহসা বুকের কাছে জড়িয়ে বলে, ভয়
নাই তোমায় বিক্রয় হতে দেব না,
অনুরাগের চিকন আবরণে, ঝরিত
অশ্রু ধারা সে আত্মসাত করে সহজে,
কেমন করে, কীভাবে সে উঠে আসে,
আমি আজ ও বুঝতে পারি নি,
তার হটাত অকস্মাত আসা, মনের
স্বপ্নবৃন্তে বৃষ্টি ঝরায় অহর্নিশি //
--- শান্তনু সান্যাল
বাংলা আধুনিক কাব্য গুচ্ছ / BENGALI MODERN POETRY - শান্তনু সান্যাল / SHANTANU SANYAL © It's subject to copyright.
সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০
মুক্তির পথ
নিঃশব্দ পাখিরা উড়ে যায় অন্তরিক্ষে
ছায়াময় রাত্রি ঘুমন্ত পৃথিবী,
অন্তহীন অন্ধকার, যেন অশেষ প্রাচীন
এক গুহার মুখোমুখি আমার
অস্তিত্ব, বুকে পাষাণ বয়ে চলেছে --
চন্দ্র বিহীন আকাশ, নিরবতা সঘন
তবু যেন জাদুভরা চোখে তারাদের
আলো অজানা ভাষায় গল্প করে,
গোপন এক নদী একাকী বয়ে চলেছে
গন্তব্যহীন সাগর সঙ্গমে,বহু দূর -
আমাদের বন্ধুত্ব পুরাতন, আমি এবং
নদী প্রায: গল্প করি, তার কাহিনীর
কোনো ইতি নাই, শুনতে ভালো লাগে
এক বৃদ্ধ পুরোহিত, নাকি এক দিন
নিজের শ্রাদ্ধ নিজেই করতে গিয়ে বলে-
হে নদী, ছদ্ম যত সব আত্মীয়তা ছিল
মনের মাঝে তোমার অতল জলে তিলাঞ্জলি
দিয়ে মোহপাশের বাঁধন আজ খুলে দিলাম,
নদী নাকি মৌন উত্তর দিয়ে ছিল
এতই সহজ যদি হত, মুক্তির পথ -
যুগে যুগে অভিশাপিত জলরাশির ভার
আমিও যে কেন বয়ে যেতাম,
স্বেচ্ছায় শুকিয়ে দায়িত্য মুক্ত হতাম //
- - শান্তনু সান্যাল
ছায়াময় রাত্রি ঘুমন্ত পৃথিবী,
অন্তহীন অন্ধকার, যেন অশেষ প্রাচীন
এক গুহার মুখোমুখি আমার
অস্তিত্ব, বুকে পাষাণ বয়ে চলেছে --
চন্দ্র বিহীন আকাশ, নিরবতা সঘন
তবু যেন জাদুভরা চোখে তারাদের
আলো অজানা ভাষায় গল্প করে,
গোপন এক নদী একাকী বয়ে চলেছে
গন্তব্যহীন সাগর সঙ্গমে,বহু দূর -
আমাদের বন্ধুত্ব পুরাতন, আমি এবং
নদী প্রায: গল্প করি, তার কাহিনীর
কোনো ইতি নাই, শুনতে ভালো লাগে
এক বৃদ্ধ পুরোহিত, নাকি এক দিন
নিজের শ্রাদ্ধ নিজেই করতে গিয়ে বলে-
হে নদী, ছদ্ম যত সব আত্মীয়তা ছিল
মনের মাঝে তোমার অতল জলে তিলাঞ্জলি
দিয়ে মোহপাশের বাঁধন আজ খুলে দিলাম,
নদী নাকি মৌন উত্তর দিয়ে ছিল
এতই সহজ যদি হত, মুক্তির পথ -
যুগে যুগে অভিশাপিত জলরাশির ভার
আমিও যে কেন বয়ে যেতাম,
স্বেচ্ছায় শুকিয়ে দায়িত্য মুক্ত হতাম //
- - শান্তনু সান্যাল
রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১০
প্রতিশ্রুতির চিঠি
অন্তর্দ্বন্দের মাঝে প্রেম যে
কখন হারিয়ে গেল নিজেই জানি না
অনুতপ্ত হৃদয়ে একাকী ফিরে দেখি
বহু দূর তুমি ছায়া সম
বিলীন হয়েছ উতলা নদীর স্রোতে
ঘাটের সোপানে প্রতিশ্রুতির চিঠি
মিষ্টি কিছু সুন্দর মুচকি হাসি
চেনা চেনা দেহের গন্ধ
হটাত যেন ভেসে ওঠে /
প্রজাপতির পাখার স্পর্শ
হাতে রয়েছে এখনো কিছু
সেউলি গন্ধে মাখা মিলন বিন্দু
সাঁঝের আকাশে মেঘের চিত্রলিপি
এলোমেলো, অন্যমনস্ক বালুর চরে
কিছু পদ চিহ্ন
হটাত যেন ভেসে ওঠে /
ঘোলাটে স্বপ্নের চক্র ধারায়
শিশুদের কাগজের নৌকায়
তোমার প্রতিচ্ছবি কিংবা
হারানো চিত্রকরের শেষ কৃতি
জানি না কি যে হয় অলস সন্ধায়
নদীর বুকে হটাত স্মৃতি গুলো ভেসে ওঠে //
-- শান্তনু সান্যাল
কখন হারিয়ে গেল নিজেই জানি না
অনুতপ্ত হৃদয়ে একাকী ফিরে দেখি
বহু দূর তুমি ছায়া সম
বিলীন হয়েছ উতলা নদীর স্রোতে
ঘাটের সোপানে প্রতিশ্রুতির চিঠি
মিষ্টি কিছু সুন্দর মুচকি হাসি
চেনা চেনা দেহের গন্ধ
হটাত যেন ভেসে ওঠে /
প্রজাপতির পাখার স্পর্শ
হাতে রয়েছে এখনো কিছু
সেউলি গন্ধে মাখা মিলন বিন্দু
সাঁঝের আকাশে মেঘের চিত্রলিপি
এলোমেলো, অন্যমনস্ক বালুর চরে
কিছু পদ চিহ্ন
হটাত যেন ভেসে ওঠে /
ঘোলাটে স্বপ্নের চক্র ধারায়
শিশুদের কাগজের নৌকায়
তোমার প্রতিচ্ছবি কিংবা
হারানো চিত্রকরের শেষ কৃতি
জানি না কি যে হয় অলস সন্ধায়
নদীর বুকে হটাত স্মৃতি গুলো ভেসে ওঠে //
-- শান্তনু সান্যাল
শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১০
হলাহল পান
হলাহল পান করা এত সহজ নয়
সূর্যের আলো তে উলঙ্গ দেহ
বৃতৃষ্ণা জাগায় হৃদয়ে
আবার গহন আঁধারে চরিত্র
নগ্ন হয় যায় সহজে
আত্ম বিশ্লেষণ করা খুবই
কঠিন, দুরুহ প্রতিক্রিয়া
সর্বদা নিজে কে ফাঁকি দিয়ে
দর্পণ কে দোষ দেয়া চলে না
খননে অনেক সময় নিজেই
ঝাপ দিয়ে যায় মানুষ
মৃগতৃষ্ণা ও সজল নদীর
প্রবাহে তপাথ কৃতিম নয়
ফাল্গু নদীর বুকে কবে যে
আবার জল রাশি ঢেউ তুলবে
সুজন মানুষ বারে বারে ভুল করে
না, বালুর তলে জল লুকানো থাকে
সে জানে ভালো ভাবে -
সঠিক মুহুর্তে পিন্ড দান করাই বুদ্ধিমতা,
অযথা প্রেতের অভিশাপ বয়ে নেয়া মুর্খতা //
--- শান্তনু সান্যাল
সূর্যের আলো তে উলঙ্গ দেহ
বৃতৃষ্ণা জাগায় হৃদয়ে
আবার গহন আঁধারে চরিত্র
নগ্ন হয় যায় সহজে
আত্ম বিশ্লেষণ করা খুবই
কঠিন, দুরুহ প্রতিক্রিয়া
সর্বদা নিজে কে ফাঁকি দিয়ে
দর্পণ কে দোষ দেয়া চলে না
খননে অনেক সময় নিজেই
ঝাপ দিয়ে যায় মানুষ
মৃগতৃষ্ণা ও সজল নদীর
প্রবাহে তপাথ কৃতিম নয়
ফাল্গু নদীর বুকে কবে যে
আবার জল রাশি ঢেউ তুলবে
সুজন মানুষ বারে বারে ভুল করে
না, বালুর তলে জল লুকানো থাকে
সে জানে ভালো ভাবে -
সঠিক মুহুর্তে পিন্ড দান করাই বুদ্ধিমতা,
অযথা প্রেতের অভিশাপ বয়ে নেয়া মুর্খতা //
--- শান্তনু সান্যাল
শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১০
ত্রিশূলের মুখে শীষ অর্পণ করে
হে রিপুদল নাশিনী,
সহস্ত্র বাহু ধারিণী
হে মাত, অগ্নিপুরুষ জন্ম দিও
যে মেদিনীর বক্ষে আগ্নেয় গিরি সম
অধর্মির রক্তে স্নান করে
দেবালয়ের রক্ষার্থ
ত্রিশূলের মুখে শীষ অর্পণ করে
হে মহামায়া জগত জননী
অগ্নি কন্যা জন্ম দিও
যে দ্রৌপদির এলো কেশে
প্রতিশোধের আগুন সাজাতে জানে
হেয় দেবী দুগ্ধ দিও না
শিশুর মুখে যেন অমৃত পড়ে
পৃথিবীর সমস্ত ব্যথিত
প্রতারিত, অপমানিত, তৃষিত
মানুষের মুখ চেয়ে
সে যেন প্রাণ বলিদান করে
হে জগত জননী, মা ভারতী
শুধুই অগ্নি পুরুষ ও অগ্নি কন্যা
জন্ম দিও ।
-- শান্তনু সান্যাল
সহস্ত্র বাহু ধারিণী
হে মাত, অগ্নিপুরুষ জন্ম দিও
যে মেদিনীর বক্ষে আগ্নেয় গিরি সম
অধর্মির রক্তে স্নান করে
দেবালয়ের রক্ষার্থ
ত্রিশূলের মুখে শীষ অর্পণ করে
হে মহামায়া জগত জননী
অগ্নি কন্যা জন্ম দিও
যে দ্রৌপদির এলো কেশে
প্রতিশোধের আগুন সাজাতে জানে
হেয় দেবী দুগ্ধ দিও না
শিশুর মুখে যেন অমৃত পড়ে
পৃথিবীর সমস্ত ব্যথিত
প্রতারিত, অপমানিত, তৃষিত
মানুষের মুখ চেয়ে
সে যেন প্রাণ বলিদান করে
হে জগত জননী, মা ভারতী
শুধুই অগ্নি পুরুষ ও অগ্নি কন্যা
জন্ম দিও ।
-- শান্তনু সান্যাল
বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১০
আমিও তো স্বজাতি
এই ভাবে জীবিত থাকা আত্ম হনন ছাড়া কিছু নাই
মেরুদন্ড বিহীন, তারা বলে তুমি বাঁচতে জানো,
আমি বলি তুমি মৃত,বেঁচে থাকার অধিকার
কখন তাহারা কেঁড়ে নিয়েছে, সে জানো ?
এই দেশে,পূর্বে তুমি বাঁচার জন্য
নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত,
একই দেশে পশ্চিমে উন্নতির উদয়
তারা অনুদান দিয়ে গর্ভিত --
কারা বাঁচতে জানে আর কে প্রতি মুহুর্তে
মৃত্যু মুখী নিজেরাই বিচার কর,
যদি না, তাহলে পুড়িয়ে দাও সমস্ত ইতিহাস,
ভুলে যাও রবি, বঙ্কিম, শরত
তাহাদের আত্মা দুঃখ পাবে
যে জাতি নিজের অবন্নতি কে নিয়তি বলে
তাহাদের জন্য আত্মঘাত ছাড়া কোন
পথ নাই,চল আমিও বিষ পান করি - - -
আমিও তো স্বজাতি -- তা ভুলতে তো পারি না //
-- শান্তনু সান্যাল
মেরুদন্ড বিহীন, তারা বলে তুমি বাঁচতে জানো,
আমি বলি তুমি মৃত,বেঁচে থাকার অধিকার
কখন তাহারা কেঁড়ে নিয়েছে, সে জানো ?
এই দেশে,পূর্বে তুমি বাঁচার জন্য
নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত,
একই দেশে পশ্চিমে উন্নতির উদয়
তারা অনুদান দিয়ে গর্ভিত --
কারা বাঁচতে জানে আর কে প্রতি মুহুর্তে
মৃত্যু মুখী নিজেরাই বিচার কর,
যদি না, তাহলে পুড়িয়ে দাও সমস্ত ইতিহাস,
ভুলে যাও রবি, বঙ্কিম, শরত
তাহাদের আত্মা দুঃখ পাবে
যে জাতি নিজের অবন্নতি কে নিয়তি বলে
তাহাদের জন্য আত্মঘাত ছাড়া কোন
পথ নাই,চল আমিও বিষ পান করি - - -
আমিও তো স্বজাতি -- তা ভুলতে তো পারি না //
-- শান্তনু সান্যাল
পরজীবী
পরজীবী অমর বেল,ছদ্ম অনুরাগ
সহজে দেহচ্যুত করা যায় না
বট বৃক্ষ বাঁচাতে হলে, বন্য লতা
কেটে ফেলতে হয়, এটাই নিয়ম,
বন্য মোষ দল বেঁধে যদি এক হয়
সিংহ কুটুম্ব পথ খুঁজে পায় না,
মানুষ এখনো বিলুপ্ত হয় নি
পৃথিবীর বুকে রাজত্ব চরাচর,
মহাভারত মিথক তোমার চোখে
সাধারণ মানুষ অন্তরে কুরুক্ষেত্র
লয়ে বেঁচে আছে দিবা নিশি,
দাবানল বিক্ষিপ্ত পথিক অবিরাম
যদি ছড়ায় ভালো মন্দ ভুঝে না,
পথের সমস্ত বাধা সমুল নষ্ট করে
যায় নিমিষে,প্রকৃতির এটাই নিয়ম,
বৃহত কোন দর্শনের দরকার বৃথা //
-- shantanu sanyal
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)






