রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১১

সমর্পনের ভূমি


সমর্পনের ভূমি
প্রগাঢ অন্ধকারে উড়ে যায় কোন পাখির
ঝাঁক, বিস্তীর্ণ নীলিমার দেহে কী সাড়া দেয় ?
নিদ্রিত পৃথিবী হারায় ঘূর্ণন, চন্দ্র বিহীন রাতে 
তারক বৃন্দ গেয়ে যায় স্বস্তির গান, নিজেকে 
ছড়িয়ে দিতে যায় শুন্য ব্রহ্মান্ডে, নীলাভ 
আলো খেলে লুকোচুরি, নদীর ঢেউ ধরা দিতে 
চায় না, ধেয়ে ধেয়ে যায় উজানের মুখে,
এই উদ্বায়ী পরিবেশে মন ধরে রাখে উড়ন্ত 
স্বপ্নের পশম, লুকিয়ে দিতে চায় হৃদয়ের মাঝে,
নদীর বুকে জাগ্রত, গোপন স্রোতের প্রেম 
ভেসে উঠে মাঝে মাঝে নিঃশ্বাসের লাগি উপরে,
ঝরে রয় শিউলি অবিরাম সারা রাত -
শিশির কণিকা খুঁজে বেড়ায় সমর্পনের ভূমি.
--- শান্তনু সান্যাল  

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১১

ঈশানী মেঘেদল


ঈশানী মেঘেদল 
ফুলের মরশুম, সিক্ত হৃদয়ে ঢেলে যেও
না বিরূপ আগুন, মালঞ্চ সম থেক উন্মুক্ত,
এই অশ্রুময় লেখচিত্রে ও আছে অনেক 
অব্যক্ত, দ্বৈত গানের মধুরিম স্বরলিপি,
যেন ঝুলে আছে, ভালবাসার সুক্ষ্ণ জালে 
শিশিরময় অগনিত বেগুনি মুক্তমালিকা,
 কী বা আছে যদি এই কল্পনায় জীবনের 
শেষ দিন গুলি যায় কেটে নিমেষে নিমেষে,
অনির্দিষ্ট পথে হাটতে গিয়ে দেখি তুমি 
অপ্রত্যাশিত ভাবে  তুলে চলেছ ঝরানো 
শুভ্র হরিদ্রাভ কত অনাম ফুলের স্তবক,
জীবনের বিতানে তুমি সাজিয়ে যাও এই 
ভাবে পল্লবময় হরিত প্রদেশ বহু বার, 
অন্ধকার পথে জ্বলে যাও প্রদীপের পংক্তি, 
তোমার স্নিগ্ধ লোচনে জেগে উঠে অজস্র 
স্বপ্ন, অমন সন্ধিক্ষণে হৃদয়ের শান্ত সুর
 বেজে উঠে আপন মনে, ভরে যায় জোছনা
জীবন নদী ছুঁতে চায় ঈশানী মেঘের আদ্রতা.
---- শান্তনু সান্যাল 

বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১১

রেখাঙ্কিত আবেগ

অধীর মনে গেছ রেখে, শুন্যতার মাঝে ও 
 প্রত্যাশার কিছু বিন্দু, রেখাঙ্কিত আবেগ,
 অনাগ্রহী তোমার মুখে ছিল অস্পষ্ট ব্যথা,
নিষ্পতির পথে উচ্ছল শ্যামলিমার সঙ্কেত,
 ওই দুবিধা ভরা ভালবাসায় থেমে রয়েছে 
কোথায় যেন স্থির মধুমাসের আন্দোলন, 
বিযুক্ত হয়ে ও তুমি গেলে জড়িয়ে বহু 
অপ্রকাশিত মনের স্বপ্নাবেশ, কিংবা হিয় 
দ্বন্দ, খুঁজতে গিয়ে নয়নের গভীরতা, ফিরে 
ফিরে আসি যেন কূল হারা উদাসীন খেয়া,
সুদূর তোমার পীছে মুড়ে সেই চাহনি যায় 
করে উদ্বেলিত, নিরব প্রেমের উপত্যকা,
নিষ্প্রভ সাঁঝের আকাশে এখনো দেখি কিছু 
 ভাঙা হাসিময় শুভ্র নিরদের উড়ে যাওয়া,
তুমি গেছ মিলিত ব্যক্তিত্বের শিরায় শিরায় 
এই  ভাবে, যে অবশ হৃদয় গেছে উন্মত্ত,
অবহেলনার মধ্যে ও দিয়ে গেছ ভালবাসা,
এই নিগুঢ মূলসুত্রে জীবন যায় বিশ্রঙ্খলিত.
---  শান্তনু সান্যাল 

সত্য শাশ্বত সুন্দর


সত্য শাশ্বত সুন্দর
জানি সে সুন্দর নয় তবু ও ভালোবাসি
হৃদয়ের তার বহে পবিত্র জলধারা, 
আমার কুত্সিত ভাবনা সে করে যায় নির্মল,
নিষ্কলঙ্ক, তার অনুরাগে জীবনের উজ্জ্বলতা, 
শিশির বিন্দু ঝরে মধ্যে নিশীথে 
শরতের চাঁদ বোঝে না পার্থক্যের ভাষা, 
শাপলা ও পদ্ম সমান ভাবে ভেসে রয় 
বুকে লুকিয়ে অজস্র জল কণিকা, 
অবুঝ হৃত্পিন্ডের ভুবনে খেলে অহর্নিশি 
প্রেমের শিশু, কাঁদে হাসে ক্ষণে প্রতিক্ষণে, 
ভুলে ও যায় অনেক সময়, ছলনার ওই খেলনায় !
স্বপ্নের শিমুল তুলো উন্মুক্ত লয়ে, 
সুন্দর অসুন্দরের দ্বন্দ সে মানে না, শুধুই 
উড়ে যায় দিগ দিগন্তে, নদীর উতলা জলে মেঘের বিম্ব 
রচে নব মরিচিকা , আবার মরু তে কভু 
শ্বেত মেঘ যায় ঝরিয়া, ভরে উঠে বালুর মাঝে 
পুষ্প বাটিকা, ফুলে রয় কন্টকময় ভালবাসা, 
জীবনের বৃষ্টি ছায়ার প্রান্তরে, দুই দিগে 
দেখি নির্ঝর এঁকে যায় প্রণয়ের বিরাট এক ইন্দ্রধনু, 
এই মহাসেতুর দুই পারে রয়েছে অদৃশ্য আধার স্থম্ভ ,
বাহ্য আবরণে অন্তর্মনের গভীরতা নিছক-
এক কল্পনা, আমি জানি তার মনের নিবিড় সৌন্দর্য্য, 
নিশ্ছল ভালবাসার তরঙ্গিত অগাধ জলরাশি, 
ছুঁয়ে যায় তার নিষ্কলুষ চোখের ঢেউ বারে বারে,
 সেই পরম সত্যতার লাগি আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয় পড়ি,
সে যতই অসুন্দর হওক, আমি তাকেই ভালোবাসি, 
সত্য শাশ্বত সুন্দর, চিরদিন শুধুই এটা আমি জানি.
--- শান্তনু সান্যাল   

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১১

অদৃশ্য প্রভুসত্তা !


অদৃশ্য প্রভুসত্তা !
আম্র মুকুলিত ওই হাসির মঞ্জিরি
পৌস মানে না পূর্ব ফাল্গুনী, চঞ্চল সমীরণ 
স্বর্ণ চম্পক বরন সেই রূপের আলো
সাজিয়ে রাখে অরুনোদযের পথ বিস্তীর্ণ, 
ব্রহ্ম মুহুর্তে তুমি হয় উঠ সজাগ 
হৃদয় নদীর ধারে বিশৃঙ্খল অর্ঘ্য রূপে,
নিঃশব্দ শঙ্খ ধ্বনি ! হারানো দীর্ঘ নিঃশ্বাস
নিয়ে তোমায় হেরি মন্দির সোপানে,
কম্পিত যজ্ঞ শিখা সুবাসিত ধুম্র বলয় 
আমি ভুলে যাই বৈদিক ঋচার মন্ত্র খানি, 
উত্তরীয় বিহীন বক্ষে তুমি এঁকে যাও 
কোন অদৃশ্য লিপিতে মহা কাব্য কিংবা 
মৌন ভাষায় রচিয়া যাও জীবনের মধু অর্থ, 
ওই কোমল গ্রীবায় জড়ানো, ভেজা আঁচলে 
 রাখো প্রণয়ের অগ্নিশিখা, লহরিয়া কেশের
জল বিন্দু মৃদু সুরে বলে যায় স্বাহা,
বৃন্দ লয়ে ঝরে যায় আকাশ কুসুম অবিরাম, 
পূর্ব গগনে, অমৃত কুম্ভ যেন যায় উচ্ছলীয়,
প্লাবিত সূর্য্য ভেসে যায় সজল অন্তরীক্ষে,
ভাব শুন্য আমার চোখে তুমি সাজিয়ে যাও 
অসংখ্য দীপমালিকা, হাতে পূজার থাল লয়ে 
তুমি নেমে যাও ধীরে ধীরে 
স্থির নদী গর্ভে, মহা স্রোত রূপিনি, সেই 
জলাবতরণের অসংখ্য আভায় হয়ে উঠে
পরিতৃপ্ত  চরাচর, পৃথিবী নভ, পাতাল ও মনের
 অথৈ গভীরতা, তুমি করে যাও এমন ক্ষণে 
প্রতিষ্ঠিত, জীবনের অসীম অনন্ত প্রভুসত্তা. 
--- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১১

আবিষ্কার


আবিষ্কার 
নতুন করে আবিষ্কার করতে যেও না
মনের বাতায়ন খোলা রেখো ভালবাসা, 
ওই মেঘের গর্জনে বৃষ্টি কোথায় যে হবে 
কেউ তা জানে না, মিছে মিছে স্বপ্ন ছাতা
হাতে নিয়ে পথে যেন নেমে পড় না
শীতল সমীরণে ভেজা মাটির গন্ধ 
ভাসিয়ে নিয়ে যায় এক অদ্ভুত জগতে 
দেহ হইতে মনের বীথিকায় অভিসার যতই 
সুখদ মনে কর, ওই বাড়ন্ত জলরাশি অবশেষে 
নেমে বিশ্রী কাদায় হয় পরিনীত,  
সেই আদ্রভূমির নীচে নিঃশ্বাস হয় উঠে দুষ্কর  
জ্বার ভাটায়, জীবন নৌকা যায় ক্রমশঃ গর্তে 
হিংস ভাবনার কালান্তরে হয়ে উঠে বাসা,
পরিত্যক্ত তটভূমি করে হাহাকার 
এখানে কৃতিম দাবানল নিষ্ক্রিয়, সজল 
দ্বীপে পাষণ ঘর্শনেও আগুন ধরে না,
শুধুই আগামী প্লাবনের পথ চাওয়া 
দিবা নিশি, সূর্য্য শশী, এক দীর্ঘ যাত্রা 
মৌচাকের  সন্ধানে বারে বারে পীছে চাওয়া 
যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক 
শয়নে, জাগরণে, নিদ্রিত অথবা উন্মুক্ত 
নয়নে যেন উন্মাদিত কামনা 
এক পা ফেলতে গিয়ে অন্যের দুর্গতি, খুবই মুশকিল 
মনের জিনিষ মনেই গোছালে ভালো 
শরীরে মাখতে গেলে বিতৃষ্ণার প্রতিধ্বনি
মেঘ গর্জন কিন্তু বৃষ্টির ঠিকানা জানে না.
---- শান্তনু সান্যাল  

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১১

কবিতা নয় মৃগয়ার মুখে

কবিতা নয় মৃগয়ার মুখে 
 গৌর বর্ণ, বড় বড় ধারালু চোখ, গেরুয়া বসনে 
মধ্য বয়সী সেই দিব্য আভা মুখী পুরুষ কিংবা ---
কোনো অনন্য গ্রহের  মানুষ জানি না,
ধারাপ্রবাহ ইংরেজি তে অবিরল কথা বলেই 
চলে ছিল, গঙ্গা পার হতে গিয়ে আলাপ, 
মন্ত্রমুগ্ধতার সঙ্গে মনে হয় বশীকরণ ও জানত,
ওই ক্ষণিক পরিচয়, নৌকা থেকে নামার বেলায় 
দেখি হাতে এক কার্ড থামিয়ে দিলেন, 
এক দিন চলে এস আশ্রমে -- আবার হাসির ঢেউ 
সেই বৈরাগীর জাল, ভেসে গেলাম 
ঠিকানা দেখি ঠিকই ছিল, কোন মহাপুরুষের 
নামে জড়িত সেই রাস্তা, ১১২ কী ১১৩ বি কি সি 
পৌঁছলাম, দেখা মাত্র সে অরন্যানন্দ কি যেন 
তরঙ্গিত মুদ্রায় বললে - আমি জানতাম তুমি আসবেই 
আশ্চর্য্য, আমি যেন তার প্রেমিক কী প্রেমিকা 
হাসি থামতে না থামতে দেখি আমার সুপুরুষ 
মাংসল গায়ে তার হাত কিছু যেন খুঁজে চলেছে 
অস্বস্তির মধ্যে আদর যত্ন, যেন প্রাণ ঢেলে দিতে চায় 
দেখি ভক্ত বৃন্দ সব কটা অল্প বয়সী পুরুষ 
নারীদের প্রবেশ না কী বর্জিত, পবিত্র ভক্তি মার্গ 
আরো কত কিছু, বিশ  বায়িশের বয়সে ওই সব 
ভারী ভারী মন্ত্র মাথার উপর দিয়ে গেল 
সাঁঝ ঘনিয়ে এলো, দেখি গায়ে থেকে হাত গুলো 
আর সরে না, প্রণাম করে বললাম গায়ে হাত দেবেন না 
মাথায় হস্ত রেখে আশীর্বাদের নিয়ম জানি 
ওখানেই বৈরাগের শ্রী ইতি, আর ফিরে দেখি নি.
--- শান্তনু সান্যাল