শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১১

অভিমানী সুর



প্রতিশ্রুতির সাঁঝ গেছে ঢলে,

ঘনিয়ে গেছে অপেক্ষার আঁধার
 সরোবর, কমলিনী, ভাশ্যমান পূর্ণ শশি
তরু ছায়া, নিঃস্তব্ধ জল রাশি   
হারানো প্রতিধ্বনি, মধ্য রাত্রি
প্রগাঢ ঘুম, আবেগে প্লাবিত বর্ষা বন
 স্বপ্ন জাল, নীহারিকার বিলীনতা
আকাশ গঙ্গার মরিচিকা,বিচলিত মনের
দশা, হস্ত রেখায় ভাগ্যের শিহরণ
নয়নের গভীরতা,লিখে গেছ তুমি হৃদয়ে
অজ্ঞাত ভাষায় মহা কাব্য খানি !
প্রাচীরের গায়ে শেওলা,বনলতার নেমে -
উঠা, সিঁড়ি ভেঙে জোছনার ছাতে
যাওয়া, বাহুপাশে তোমায় পাওয়া
প্রহরী নিশি পুষ্পের ঘুম ভাঙানি !
সুরুভীর ঢেউ বহিয়ে নিয়ে যায় সুদুর
ফাল্গুনী পাহাড়ের দেশে, মৌ ঝরে -
অধর নদীর তীরে, চন্দ্র যায় ডুবে
অরণ্যের পথ হারানো, জড়িয়ে আনে
অন্তিম প্রহরে, তোমার অভিমানী সুর !
--- শান্তনু সান্যাল



শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০১১


--
গ্রীষ্মের এক রাত্রি 
লালচে

গ্রীষ্ম 
লালচে বাদামী পাহাড়, পল্লববিহীন তরু শাখা 
ধুসর ছাই আকাশ, জনশূন্য ভূমি, সাঁঝের জাদু 
গেছে হয়ে শেষ, গ্রীষ্মের অনুসরণ করে জীবন !
বিষুবত রাতে তুমি রয়েছে কাছে, এই কি নয় এক 
অপ্রত্যাশিত উপলব্ধি, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছুঁয়ে 
তোমার অধর খানি, যায় জীবন পূর্ণতার পথে 
নীবিড় আঁধার যেন অদৃশ্য আলোকিত আপনমনে! 
তোমার নত বর্ষিত মুখ বক্ষে যায় হয় বিলীন
পিপাসার্ত ক্ষীন শ্বেত মেঘের দল ধেয়ে যায় 
নভের পথে শিশির সন্ধানে ! অভ্র মরিচিকা 
 সাগরের বিচলিত বাষ্প পুঞ্জ উঠে উর্ধ্বকার 
নীলিমার বুকে সহস্ত্র উপত্যকা, যায় তারা হারিয়ে 
শহরান্তে জল সমীর করে যায় একান্তের 
নিয়ম উল্লংঘন, ঘুরে বেড়ায় যাযাবর রূপে 
চায় এক রাত্রির আশ্রয় স্থলি ! উড়িয়ে আনে 
মধুমাসের শেষের কিছু গন্ধ খানি 
পথ চেয়ে থাকে জানালার কাচে, আদ্র কণিকা
রূপে, আস্তে -- বাহু বন্ধ সরিয়ে তোমার 
জানালার পট খুলে দেওয়া, স্বপ্নের আগমন -
ভরে যায় জীবনে ঘুমের মায়াবী জগত,
 মোরা যাই হারিয়ে বর্ষা বনে, অনাম
নদীর বিস্তীর্ণ ধারায়, বহে যাই অবিরাম 
শুধুই বহে যাই -- দুরে বহু দুরে 
--- ---- বাদামী পাহাড়, পল্লববিহীন তরু শাখা 
---ধুসর ছাই আকাশ, জনশূন্য ভূমি, সাঁঝের জাদু 
গেছে হয়ে শেষ, গ্রীষ্মের অনুসরণ করে জীবন !
বিষুবত রাতে তুমি রয়েছে কাছে, এই কি নয় এক 
অপ্রত্যাশিত উপলব্ধি, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছুঁয়ে 
তোমার অধর খানি, যায় জীবন পূর্ণতার পথে 
নীবিড় আঁধার যেন অদৃশ্য আলোকিত আপনমনে! 
তোমার নত বর্ষিত মুখ বক্ষে যায় হয় বিলীন
পিপাসার্ত ক্ষীন শ্বেত মেঘের দল ধেয়ে যায় 
নভের পথে শিশির সন্ধানে ! অভ্র মরিচিকা 
 সাগরের বিচলিত বাষ্প পুঞ্জ উঠে উর্ধ্বকার 
নীলিমার বুকে সহস্ত্র উপত্যকা, যায় তারা হারিয়ে 
শহরান্তে জল সমীর করে যায় একান্তের 
নিয়ম উল্লংঘন, ঘুরে বেড়ায় যাযাবর রূপে 
চায় এক রাত্রির আশ্রয় স্থলি ! উড়িয়ে আনে 
মধুমাসের শেষের কিছু গন্ধ খানি 
পথ চেয়ে থাকে জানালার কাচে, আদ্র কণিকা
রূপে, আস্তে -- বাহু বন্ধ সরিয়ে তোমার 
জানালার পট খুলে দেওয়া, স্বপ্নের আগমন -
ভরে যায় জীবনে ঘুমের মায়াবী জগত,
 মোরা যাই হারিয়ে বর্ষা বনে, অনাম
নদীর বিস্তীর্ণ ধারায়, বহে যাই অবিরাম 
শুধুই বহে যাই -- দুরে বহু দুরে 
-- শান্তনু সান্যাল 

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১১


অনাসক্ত গন্তব্যস্থান


অনাসক্ত পৃথিবী, জ্বলে বৃহদ আগুন 
দিবা নিশি আমি চলি সেই অনবলোকিত শিখায়
অনুসরণ কর না, বেদনার শুধুই আমন্ত্রণ
এখনো যদি ভাবো, যাও বদলিয়ে ভিন্ন দিশা 
 ঘিঞ্জি পরিবেশ, এখানে করে বাস দেবতার 
কুতিসিত প্রণয়নের শিশু, ঘৃণিত, লাঞ্ছিত
বর্তমান, ভবিষ্যতের বাহিরে
শ্যাম ধুসর কিছু চেহারা ঘুরে ফেরে 
মৃত ভাবনার জন্ম, উলঙ্গ বিছিন্ন জীবন  
অযাচিত লোকের বসবাস এই অন্ধ গলি 
ফেলানো আত্মার সংসৃতি, কঠিন বড়ই, প্রিয়তমা!
এস না পিছনে, যাও ফিরে
শোষিত, কল্পনা ঘুমিয়ে রয় কবরের নীচে
সমাধি স্থল, স্মারকহীন, অশ্রুবিহীন 
হতভাগাদের এই শয়ন ভূমি
দুর্ভাগ্যের শিশুরা খেলে লুকোচুরি, ক্লান্ত 
দেহেরা ঘুমিয়ে পড়ে কঙ্কালের বুকে !
দুঃস্বপ্নের ছড়ানো আঁধার, বিলুপ্ত স্বপ্ন যায় 
হারায়, সুদূরে সঘন কুহেলিকা, ক্রোস বহু ক্রোসে
দিপ্তিবিহীন জীবনের বন পথ 
প্রিয় ! অপর পার্শ্ব হইতে ভালোবেসো না আমায় 
এখানেই বিদায়,বিপরীত পথে যাও এগিয়ে 
নিয়ে সিক্ত আবেগ !ক্ষনিক অশ্রু জলে
দিও না প্রেমের তিলাঞ্জলি
দীর্ঘ গ্রীষ্ম,সম্ভ্রান্ত মেঘেরা চায় না মিশতে
তারা উড়ে যায় সহজে মাড়িয়ে
স্বপ্ন ছায়া, আমি উদাস চেয়ে থাকি
উলঙ্গ আকাশের ছেঁড়া হাসি !
-- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১


স্মৃতির সরু পথে 

পরিত্যক্ত  জীবন, বন্য আগাছা, নামবিহীন  

গুল্ম ঝোপ, কিন্তু ফণীমনসা ভুলে না ফুটতে  

উধ্বস্ত ঘর, ধ্বংসিত আচ্ছাদন, ভূমিসাত দেয়াল 

স্বপ্ন এখনো উচ্ছ্বাসিত, বহুভুজ পথে 

না কোনো অনুতাপ নাহি কোনো অভিযোগ 

তোমার অবর্তমানে ও শিখেছি বাঁচতে 

তা সত্তেও, সে ছিল এক দুঃস্বপ্ন, প্রচণ্ড আতঙ্ক   

অনিদ্রিত কালরাত্রি, ভাঙা নিঃশ্বাস  

বিভ্রমিত ভাবনা, কখনো আবার ধেয়ে যাই 

স্মৃতির সংকীর্ণ গলি পথে, নিরন্তর, উদাসীন 

দেখি তুমি এখনো মনের কাছে 


জীবনের সন্নিকটে, ভুলিতে চেয়েছি বহু বার 

তোমার বর্চস্ব হৃদয়, আত্মা, দেহে একাকার 

বিভক্ত করা সহজ না, মুশকিল বটে 

বিগলিত লৌহ পথে তবু যাই আমি হেঁটে 

কি ভাবে বিমুখ করি পরিবেশের এই 

প্রফুল্লিত কুসুমের হাসি, পাখির বৃন্দ গান 

আমার জীবন চায় নতুন যাত্রা, ভিন্ন আলো

এই দুঃখের সান্দ্রতা, তীব্রতার কি মূল্য  

কত মুখে যায় হাসি হারায়ে 

চুম্বন,আলিঙ্গন, যুগল শয়ন রাত্রি, দেহের গন্ধ
  
দিলাম করে মুক্ত আসক্তির শৃঙ্খল 

পুছে নিলাম বুকের ঘনীভূত নিশ্বাসের বাষ্প,

অধর উষ্মিত দাগ, পঞ্জরাস্থির আদ্রতা 

চন্দ্রিমা দিও না উঁকি আজ আমার সোহাগের 

যামিনী !
--- শান্তনু সান্যাল



সার্থক জীবন

অবিশ্বাসের কিছু নাই, প্রিয় বন্ধু, সদ্য

কুসুমিত জীবন দেখেছি সেই নয়ন তীরে

স্বীকার কর অথবা না, সাস্বত সত্য

ভিড়ের মাঝেও তুমি একাকী, হারানো এক দ্বীপ

আপন মনে হেসে যাও শুন্যতা ঘিরে

অদৃশ্য ছায়া ঢেখে রাখে তোমার মুখ খানি

আন্দোলিত মন খুঁজে বেড়ায় শুধু আমায়

সিক্ত সমীরণ বহিয়া আনে সুরুভি

বয়ন শিল্পের প্রক্রিয়া দিবস রজনী গতিশীল

স্বপ্ন গুলো রয় ঘুমিয়ে মিহি রেশম তন্তুর মাঝে

ভাবনার গুটি জড়িয়ে রাখে হৃদয় খানি

লাজুক সংবেদনা, গোপন মন্থন

ভরে যায় জীবনে মিষ্টি রঙের বাহার

মন চেয়ে রয় মিলনের তিথি, সুপ্ত আবেগ

ছুঁতে চায় মন সুন্দর ফুল, সৃষ্টি করে পাষাণে দেবতা

অর্থ সন্ধান করে প্রতি মূর্ত অমূর্ত রূপে

শিশুর নিস্বার্থ হাসি, বিশুদ্ধ করে যায় দেহ ও প্রাণ

নিসর্গ টানতে চায় নিজের কাছে অনায়াস

মন হয় উঠে সহসা কবি অপ্রকাশিত

জীবনের মূল্য যায় হটাত বদলিয়ে, মুলায়ম


ভাব, কুতিস্ত লাগে সুন্দর, আস্তিক হয় উঠে কালা পাহাড়

জীবনের দৃষ্টিকোণে সপ্ত রঙ্গী ক্ষিতেজের উদয়


বন্য পুষ্প যেন প্রস্ফুটিত চতুর্দিগে

নব কোষে, নব পাপড়ির গায়ে  সঞ্চারিত  মধু কনিকা

মিলন বিন্দু চির সুবাসিত, অবিরল প্রহাবিত

উদ্গমবিহীন সে এক জলরাশি

মৌন বেলা শুধায় প্রেমের অনুভূতি

চন্দ্র ও চন্দ্রিমা করে অভিসার, নিশি প্রসুন

বৃন্তের বক্ষে করে আত্ম সমর্পণ
--- শান্তনু সান্যাল


সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১১

নবম মাসে 
সংকীর্ণ দ্বার,প্রকাণ্ড গর্ভ গৃহ,গহ্বর পথ
কোনো বাধা নাই,যাও অন্তঃপুরে -
প্রলয় শিখা উজ্বলিত,হৃদয় পরিশোধন
সতত প্রবাহিত, নিদারুন হাতুড়ির ঘাত !
চিরযৌবন লালসা, জীবনের পূর্ণ ভোগ 
লজ্জা নিষেধ, খুলে রাখো বস্ত্র খানি 
মুখোশ,মুদ্রাদোষ,পরকিয়া প্রেম,সজ্জনতা 
অসুভিধে কোথায়, দুর্যোধনের নগ্নতা 
গান্ধারীর সতীত্ব, অমরত্ব গ্রহণ কর -
পারদর্শী কাচের পাত্র, অদৃশ্য দ্রব্য কিংবা
শুক্র জল পান কর, প্রলয় নৃত্যের পূর্বে 
ভুল না,এক বার দেখতে আত্ম প্রতিচ্ছায়া !
 প্রক্রিয়া অশেষ, হস্তাক্ষর রয়েছে বাকি 
জামিন বাহ্য দেহ প্রস্তর, পুনরায় প্রাপ্তি 
পরিশ্রুত প্রণালী, অনন্ত অসীমের যাত্রি
আর ভাবনা কিসের, পূর্ণ আলোকিত রোম
প্রতি রোম, দাও ভুবন পার পাড়ি
ফিরে যাও গর্ভাশয়ে বিপরীত স্রোতে 
পুনর্জন্ম নবম মাসে, দেখবে নিজেকে 
বিশুদ্ধ রূপে, স্বর্ণিম আভায় ঝল মল নিখুঁত.
---- শান্তনু সান্যাল   

রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১১

ঘুম আসে না কেন সারা রাত

জরায়ুর অণু, পলাশ গাছের কাণ্ড
অচেতন লাক্ষ, লাস্যময় অতৃপ্ত ভাবনা
শুকের খোল ঝুলে রয়েছে ত্রিপল্লবের নীচে !
রেশমের কীট, হামা গুড়ি করে আবেগ
নাল বিছিন্ন কমল, দেবতার পদতলে -
ঝলসে যায় বৃন্ত, কেন্দ্রকে উঠে আসে স্ফীতি
ঋতুচক্র চঞ্চলমতি, ঘুরে যায় ঘড়ির কাঁটা
মস্তিষ্ক, বক্ষ, নাভি, কটিবন্ধের সীমানা
হইতে জীবনের কামনা বহমান, চিরন্তন
অবিরাম ধেয়ে যায় স্রোতস্বিনী, নিসর্গ
অবাধ্য, করে যায় প্রতিপলে নবীন সৃষ্টি
প্রেমাঙ্কুর পবিত্র কি অপবিত্র, অপরিভাষিত!
উর্ধস্থিত জলধারা নিম্নগামী শুধুই বহিতে জানে
বিপরীত স্রোতের স্বপ্ন, কুহকে কুয়াশা
ভরে যায় অন্ধকার যদ্যপি তারক খচিত
আকাশ দেদীপ্যমান, জ্যোতির্ময় আকাশগঙ্গা
জীবনের অন্ত প্রহর, দুঃখ দায়ক মায়া
সন্ধান রত ইচ্ছা, ধেয়ে যায়, সুদূরে নীল ছায়া
গড়ে মন কাল্পনিক জগত, আজন্ম বেঁচে থাকার
অদম্য, অস্বাভবিক আকাঙ্ক্ষা, খুলতে চায় না
দ্বার খানি, কড়া নড়ার শব্দে রহস্যময় আগন্তুক
রজনীগন্ধা জেগে রয় সম্পূর্ণ নিশা ----

---- শান্তনু সান্যাল