রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১


অমূর্ত ভালবাসা 
বিস্মিত করে যায় লেলিহান শিখা 
বন্য আগুন সম তোমার ভালবাসা 
দাউ দাউ করে জ্বলে চলেছে, সমস্ত 
আবেগের বাঁস বন, মেঘ বরণী -
ধুম্র বলয়  উঠে  যায়  নভ মণ্ডলে,
মধুর নিঃশ্বাসে জেগে রয়  অজস্র 
নিশীথ পুষ্পের গন্ধে মাখা পরাগ -
কণিকা, উড়ে যায় স্বপ্নের পতঙ্গ 
সারি সারি, উত্সর্গের বেদিকায়ে,
আজ প্রণয়ের মহা সম্মেলন, ঝরে 
চলেছে তারকের নীলাভ আলো - 
বিন্দু বিন্দু পদ্ম পল্লবে, ভাবনার 
শিশু খেলে শিশির ভেজা হৃদয়ে,
আপনমনে গান গেয়ে যায় ওই নীল 
দীঘি, পৃথিবী অবাক চেয়ে আছে 
দুই অমূর্ত আত্মার মিলনের দৃশ্য !
-- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১১

অগোচর তার ভালবাসা মাঝে মাঝে 
বলে যায় জীবনের বহু অনুক্ত ব্যথা,
শ্রান্ত নিয়তির অশান্ত পৃথিবী, মনের 
অগ্নিপথে জ্বলে একটানা অনন্ত রূপে,
ওই উপাসনার বেদিকাযে অমূর্ত  -
স্বরূপে তার মায়াবী জগৎ টেনে রয় 
মনের সর্ব দ্বন্দ,অধীর হৃদি স্পন্দন,
-- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১


শীর্ষক বিহীন  
মরচে পড়া দর্শন বুকে জড়িয়ে 
যাও এগিয়ে যত দূর পারো - 
খোলা আছে স্বর্গের দ্বার, রক্তের 
রঙ্গে সাজানো সিংহাসনে কি 
আছে সে পরম সত্য আসীন !
হয়ত প্রফুল্লিত চেয়ে রয়েছে মর্ত্য 
লোকের চিত্কার, অশ্রুধার, 
ছড়ানো ছিন্ন ভিন্ন দেহের কম্পন,
লিখে রেখো হিংস, ঘৃণিত ইতিহাস 
ওই তথাকথিত পবিত্র স্থানে ,
নিষ্পাপ আত্মার আশির্বাদ রয়েছে 
তোমার শীর্ষে, করে যাও ধ্বংস 
এই বিশ্ব, অন্তরিক্ষ, চাঁদ, সূর্য্য, 
করো অমরত্ব পান, হয়তো সে
 নিরাকার  ব্রহ্ম হবে আনন্দিত 
দেবে তোমায় অভয়দান, ফিরে পাবে 
পুনঃরায়ে বন্য বর্বর জীবন !
হয় ত হবে এক দিন শাপমুক্ত --
-- শান্তনু সান্যাল 


মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১১


সুরভির বৃতে
উত্সর্গের উত্সে সে বলে গেছে
প্রেমের পরিণাম
পাথর ছিল সবার হাতে ছুঁড়ে
গেছে যে যেমন পারে
রক্ত ঝরিত হাসির মাঝে ছিল না
কোনো ও অভিযোগের চিহ্ন
মনের প্রাঙ্গনে খেলে যায় নিষ্পাপ
পরিত্যক্ত নিয়তির শিশু
আপন পরের মেঘ খুঁজে পাই নি
অনাবৃত আকাশ সহজে বুঝিয়ে গেছে
জীবনের দর্শন, প্রণয়ের রহস্য -
গভীরতম,অল্প  জীবনের এই রোমাঞ্চ
থাকুক সজল নয়নের কোণে
হৃদয়ের এই বিশাল ভূ ভাগে লাগে না
ফনিমনসার চারা, এখানে ফুটে
জুঁই, নিশিগন্ধা, জড়িয়ে রাখে বুকে
তোমার আমার প্রেমের সুরভিত ধারা, 
-- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১১


উন্মুক্ত দ্বার 
সজল সাওনের রাতি, জেগে রয়েছে 
এখনো আদ্র নিঃশ্বাসে, প্রণয়ের গন্ধ, 
আকাশে মেঘের উঠেছে আন্দোলন 
তড়িতের কম্পিত আলোয়ে দেখি -
পৃথিবী সম তোমায় অভিসারিকা !
ঝরে চলেছে আবেগের জল তরঙ্গ,
ভিজে একাকার হৃদয়ের শুষ্ক ভূমি,
ফুটতে চাহে স্বপ্নের অভিনব অঙ্কুর
ছুঁয়ে গেছে কে যেন অচেতনে, সকল 
মনের অনুদ্বিগ্ন, লাজুক ভাবনার -
স্নায়ু, জানালার কাচে ভেসে উঠেছে 
বিন্দু বিন্দু কবিতার অনুভূতি,তরু 
শাখার দেহে সাজিয়ে গেছে সিক্ত 
অধরের মধুরিম চিহ্ন, অগণিত ভাবে,
বৃষ্টির ক্ষণিক বিরতির ফাঁকে -
জোছনার পাগলামি, ভেঙে চলেছে 
ঘুমন্ত চোখের ইন্দ্রজালিক মায়া, চেয়ে 
আছে মন উন্মুক্ত দ্বারের নিরবতা !
-- শান্তনু সান্যাল  
   


মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১১

 শুন্যতা 
অবারিত হৃদয়,অনাবৃত ব্যোমের বিশালতা
জীবনের পারদর্শী দ্বার উন্মুক্ত বাহির মুখী -
এখানেই ভেসে আসে পরম সত্যের জ্যোত্স্না,
সে দাড়িয়ে ছিল অনেক ক্ষণ নিয়ে হাতে কিছু
সদ্য প্রস্ফুটিত প্রণয়ের স্বর্ণিম কমল, ভাবনার
বৃন্তে জড়ানো, আদ্র স্বপ্নের লাজুক প্রতিশ্রুতি,
অন্তর নেত্র চিনতে পারি নি, ফিরে গেছে সর্ব
প্রতিধ্বনি, নির্বাক আঁধার নিয়ে বুকে, জীবন
রইলো, অন্তহীন পথের পরিশ্রান্ত ভ্রমিত যাত্রি!
যারা ছিল ছায়া সম দিবা নিশির প্রাণবন্ধু
একে একে পথের পান্থশালায় জিরনের লাগি
থামল, আর তো দেখি না কোনো ও পথচারী,
একাকী, সুদুর পৌঁছিয়ে ফিরে তাকালাম, শুধুই -
কুয়াশার সাম্রাজ্য, চারদিকে ব্যাপক শুন্যতা,
সারি সারি অপরিচিত পদ চিহ্ন এঁকে রয়েছে
নদীর কিনারা, সবাই একই দিগন্ত মুখী, পূর্ব -
গামী, ফিরে আসার মনে হয় অবসর তারা পায়
না, কিংবা খুঁজে হদিস পায় নি হারানো প্রেমের
সেই রহস্যময়ী ঠিকানা, কোন গন্তব্যে আছে
লুকিয়ে সুজন যে  ফিরে গেছে দ্বার হইতে, যদি
আবার কোনো দিন দেখা পাই, বেঁধে রাখব
হৃদয়ের বাঁধনে,ভালোবাসবো তোমায় জীবন !

-- শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১


ত্রিশঙ্কু 
জীবনের তিন বিন্দুএ ,ওই উপগ্রহটি স্থিত 
তদুপরি মহাজগতে বিপুল শুন্যতা 
তুমি,আমি ও প্রণয়,এই ত্রিকোণে ই রয়েছে 
স্বপ্ন,বস্তুবাদ,কল্পনা,ইন্দ্রজাল,আবেগ 
অশ্রু,লাবণ্যময় ভাবনা ,ভাঙা গড়ার 
কাহিনী,সুর তাল ছন্দ ,কবিতা ,হৃদয়ের 
স্পন্দন,এই ত্রিশঙ্কুর পৃথিবী কে জড়িয়ে আছে 
রঙ্গীন ক্ষিতিজ ,সমান ভাবে,আস্থা বিশ্বাসের 
অনন্ত রেখার গায়ে, এই মৌলিক সংরচনা -
মৌসুমের পৃষ্ঠে লিখে যায় জীবনের গল্প 
কাব্য, ভালবাসার ইতিহাস, দিয়ে থাকে কিছু 
নব অঙ্কুরিত কিশলয়ের রূপে নতুন প্রজন্ম 
বিচিত্র ত্রিভুজের কেন্দ্রে সমস্ত ব্রহ্মান্ড 
যেন পরিপূর্ণ রূপে সমাহিত, জীব নির্জীবের 
এখানে কোনো শ্রেণী ভেদ নাই, অণু পরমাণু
ক্ষুদ্রতম জন্তুর অস্তিত্ব, শৃঙ্খলিত স্বরূপে জড়িত 
এই তিন বিন্দুএ সৃষ্টির মহারচনা, অনাদি র পথে 
অফুরন্ত রহস্য বুকে নিয়ে বহমান, নিরন্তর 
ভবিষ্যতের  মহাযাত্রায়  অগ্রগামী  ----
-- শান্তনু সান্যাল