শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১১

অন্ততঃ

অন্ততঃ যুযুত্সু হয় উঠেছি আমি -
ধর্ম অধর্মের পরিভাষা তারা বুঝিয়ে
গেছে তাদের দুর্বোধ্য ভাষায়, হেলানো
মাথায় স্বীকার করে গেছি সর্ব শর্ত,
একাকী যোদ্ধার ভূমিকা সহজ ছিল কি,
বংশ রক্ষার মোহে হয়েছি সহ চক্ষু -
ধৃতরাষ্ট্র, অনন্য পথ খুঁজে পাই নি তাই,
সৎ অসতের দ্বন্দে জীবনের এই
বলিদান,তারা বলে ছিল ফিরিয়ে দেবে
সমস্ত কিছু,বাস ভূমি,অতীতের স্বর্ণিম -
যুগ,সকাল সাঁঝে সমানে দাড়িয়ে রই
হাতে নিয়ে পরিচয় পত্র, তবু তো তারা
বিশ্বাস করে না যে আমি আস্ত জীবিত !
আরশির মুখোমুখি খুঁজেছি হারানো
ঠিকানা, দিতে চেয়েছি বারংবার প্রমাণ,
মহাভারতের সকল পাত্র দেখি বেশ  
মজায় আছে,আধুনিক অট্টালিকায় বসে
অতীতের ছদ্ম ঘটনার গল্প করে -
আমি চেয়ে থাকি অস্তাচলের সূর্য্য,বুকে
নিয়ে অনন্ত কালের আঁধার, সৎপথের
পরিনিতি বয়ে চলেছি নিয়ে কাঁধে -
জানি না এই কোন নগর, কোন পথ, কি
ভাবে জানব বল, আমি যে পুরাতন
এক মিথক, কল্পিত কাহিনী, অস্তিত্বহীন !
তারা খোঁটা দেয়, অট্টহাসে বলে, ওই
যে পাগলা যিশু খুঁড়ে চলেছে অবিরাম,
পিছনের  অবোধ বাচ্চাদের দল হয়
ত কিছুই ক্ষণেই হয় উঠবে -
 রোমান যোদ্ধা, অলিন্দের বহু জানা
মুখ,অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে দেখার জন্য
সে অভূতপূর্ব দৃশ্য --
--- শান্তনু সান্যাল

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১১


ঘাটের সরু পথ 
নির্বিশেষে পরাজয় আত্মসাত করা
সহজ ছিল না, অনেক সময় উপায় 
খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন, দুষ্কর -
তবু ও বাঁচতে গেলে অনিচ্ছায়ে মন 
বহু বার করে যায় আত্ম - সমর্পণ,
এখানেই জীবন নৌকার মাস্তুল যায় 
কেঁপে, কিন্তু হৃদয়ের মাঝি কোনো 
ভাবেই হার মানতে হয় না রাজি, সে 
বেয়ে যেতে চায় মুহানামুখী জলপথে,
এক  দৃষ্ট একাগ্র চিত্তে খেলে যায় -
নিয়তির খেলা,তরঙ্গের চক্রব্যুহ রচে 
মায়াবী জগত, করে ক্ষনিক বিভ্রান্ত !
অস্থায়ী মেঘেরা শেষে উড়ে যায় দূর 
অজানা দেশে, চাঁদ উঠে আসে মৌন -
শান্ত রূপে, সাজে অম্বর আবার পূর্ণ 
লাবন্যে, কার নয়নের কাজলে রাত 
এঁকে যায় স্বপ্নের কাহিনী, জোছনার 
স্পর্শ বেঁধে রাখে মন তোমার প্রেমে, 
তীরের জোনাকি হয় উঠে উজ্জ্বল - 
উড়ে যায় সকালের ডাকে বহু দূর,
ঘাটের সরু পথে ঝরে বকুল শেষে !
-- শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১


অমূর্ত ভালবাসা 
বিস্মিত করে যায় লেলিহান শিখা 
বন্য আগুন সম তোমার ভালবাসা 
দাউ দাউ করে জ্বলে চলেছে, সমস্ত 
আবেগের বাঁস বন, মেঘ বরণী -
ধুম্র বলয়  উঠে  যায়  নভ মণ্ডলে,
মধুর নিঃশ্বাসে জেগে রয়  অজস্র 
নিশীথ পুষ্পের গন্ধে মাখা পরাগ -
কণিকা, উড়ে যায় স্বপ্নের পতঙ্গ 
সারি সারি, উত্সর্গের বেদিকায়ে,
আজ প্রণয়ের মহা সম্মেলন, ঝরে 
চলেছে তারকের নীলাভ আলো - 
বিন্দু বিন্দু পদ্ম পল্লবে, ভাবনার 
শিশু খেলে শিশির ভেজা হৃদয়ে,
আপনমনে গান গেয়ে যায় ওই নীল 
দীঘি, পৃথিবী অবাক চেয়ে আছে 
দুই অমূর্ত আত্মার মিলনের দৃশ্য !
-- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১১

অগোচর তার ভালবাসা মাঝে মাঝে 
বলে যায় জীবনের বহু অনুক্ত ব্যথা,
শ্রান্ত নিয়তির অশান্ত পৃথিবী, মনের 
অগ্নিপথে জ্বলে একটানা অনন্ত রূপে,
ওই উপাসনার বেদিকাযে অমূর্ত  -
স্বরূপে তার মায়াবী জগৎ টেনে রয় 
মনের সর্ব দ্বন্দ,অধীর হৃদি স্পন্দন,
-- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১১


শীর্ষক বিহীন  
মরচে পড়া দর্শন বুকে জড়িয়ে 
যাও এগিয়ে যত দূর পারো - 
খোলা আছে স্বর্গের দ্বার, রক্তের 
রঙ্গে সাজানো সিংহাসনে কি 
আছে সে পরম সত্য আসীন !
হয়ত প্রফুল্লিত চেয়ে রয়েছে মর্ত্য 
লোকের চিত্কার, অশ্রুধার, 
ছড়ানো ছিন্ন ভিন্ন দেহের কম্পন,
লিখে রেখো হিংস, ঘৃণিত ইতিহাস 
ওই তথাকথিত পবিত্র স্থানে ,
নিষ্পাপ আত্মার আশির্বাদ রয়েছে 
তোমার শীর্ষে, করে যাও ধ্বংস 
এই বিশ্ব, অন্তরিক্ষ, চাঁদ, সূর্য্য, 
করো অমরত্ব পান, হয়তো সে
 নিরাকার  ব্রহ্ম হবে আনন্দিত 
দেবে তোমায় অভয়দান, ফিরে পাবে 
পুনঃরায়ে বন্য বর্বর জীবন !
হয় ত হবে এক দিন শাপমুক্ত --
-- শান্তনু সান্যাল 


মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১১


সুরভির বৃতে
উত্সর্গের উত্সে সে বলে গেছে
প্রেমের পরিণাম
পাথর ছিল সবার হাতে ছুঁড়ে
গেছে যে যেমন পারে
রক্ত ঝরিত হাসির মাঝে ছিল না
কোনো ও অভিযোগের চিহ্ন
মনের প্রাঙ্গনে খেলে যায় নিষ্পাপ
পরিত্যক্ত নিয়তির শিশু
আপন পরের মেঘ খুঁজে পাই নি
অনাবৃত আকাশ সহজে বুঝিয়ে গেছে
জীবনের দর্শন, প্রণয়ের রহস্য -
গভীরতম,অল্প  জীবনের এই রোমাঞ্চ
থাকুক সজল নয়নের কোণে
হৃদয়ের এই বিশাল ভূ ভাগে লাগে না
ফনিমনসার চারা, এখানে ফুটে
জুঁই, নিশিগন্ধা, জড়িয়ে রাখে বুকে
তোমার আমার প্রেমের সুরভিত ধারা, 
-- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১১


উন্মুক্ত দ্বার 
সজল সাওনের রাতি, জেগে রয়েছে 
এখনো আদ্র নিঃশ্বাসে, প্রণয়ের গন্ধ, 
আকাশে মেঘের উঠেছে আন্দোলন 
তড়িতের কম্পিত আলোয়ে দেখি -
পৃথিবী সম তোমায় অভিসারিকা !
ঝরে চলেছে আবেগের জল তরঙ্গ,
ভিজে একাকার হৃদয়ের শুষ্ক ভূমি,
ফুটতে চাহে স্বপ্নের অভিনব অঙ্কুর
ছুঁয়ে গেছে কে যেন অচেতনে, সকল 
মনের অনুদ্বিগ্ন, লাজুক ভাবনার -
স্নায়ু, জানালার কাচে ভেসে উঠেছে 
বিন্দু বিন্দু কবিতার অনুভূতি,তরু 
শাখার দেহে সাজিয়ে গেছে সিক্ত 
অধরের মধুরিম চিহ্ন, অগণিত ভাবে,
বৃষ্টির ক্ষণিক বিরতির ফাঁকে -
জোছনার পাগলামি, ভেঙে চলেছে 
ঘুমন্ত চোখের ইন্দ্রজালিক মায়া, চেয়ে 
আছে মন উন্মুক্ত দ্বারের নিরবতা !
-- শান্তনু সান্যাল