মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১১


পশুপালের জগত 

পরশমণি হতে পারি নি মন, বহুবার 
তার ছোঁয়া লেগেছে অন্তরতরে,
পুরুষালী হিংস্র জেগে উঠে 
অহরহ নিমগ্ন ঘোরে,
এখানেই সৃষ্টির 
আগে জীবতত্ত্ব টলটলে,উলঙ্গ ছায়া 
ভেসে উঠে মুখোমুখি, মন 
ঢাকতে চায় স্খলনের 
তলদেশ, ধুইয়ে 
মুছে সাজিয়ে রাখে সর্ব বাহ্য আবরণ,
ক্ষুধার্ত চোখ ও পুরোহিতের 
বিনিময়ের শর্তে, প্রতিমা 
ছিল মুখচাপা এক 
জন, বন্ধ 
কপাটে, ওই দেয়া নেয়ার বিধি বিধান,
কত দূর এগিয়ে গেছে নৌকা 
উদ্বিগ্ন নদীর কটিপ্রদেশে,
হয় তো ডুবে গেছে 
অন্ধকারে, 
দেবদাসীর ক্রন্দনে ব্যাভিচারের সঙ্গে 
জড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি শব্দ 
বিধর্মিতা, কলঙ্কিনীর 
খেতাব,
সে এখন দেবতা ছাড়া করে নগরের 
প্রতিজনের সেবা, নৈতিক কি 
অনৈতিকের মাপদণ্ড ছিল 
পুরোহিতের হাতে,
রাজনের 
পান্থশালায় এখন আসবের অনুষ্ঠান 
বাহিরের জগতে দরিদ্র ভোজ,
কিছুই ত বদলায় নি 
যদ্যপি প্রাচীন 
ইতিহাস 
এখন গ্রন্থের পৃষ্ঠে বন্দী, শুধু কাল 
পরিবর্তন, যার হাতে লাঠি 
সেই হাঁকবে বন্য
 মোষের পাল.

-- শান্তনু সান্যাল


http://sanyalsplanet.blogspot.com/


Tapan Kar - Art Paintings of Indian Artists

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১


কাচনিভ প্রান্তর 

দ্রাবিত মুহুর্তে দেখিছি সেই সংকেত লিপি, ভেসে 
চলেছে যেন আবেশিত মুহুর্ত গুলো চোখের 
সজল ধরাতলে, মুক্ত করতলে খুঁজেছি 
জীবনের অতিক্রান্ত রেখা, নিয়তির 
অসমাধিত হেঁয়ালি, দেহের 
কাচনিভ প্রান্তর শুধুই 
আঁচড় ভরা, 
ওই স্বপ্নলোকে তুমি আছো, প্রেম আছে, অনেক 
কিছু, তবুও অন্ত: সারশূণ্য, বুকে উঠে 
মৌন বেদনা, চারদিকে শিলাসদৃশ
বহু মুখ চেয়ে রয় সন্দেহপূর্ণ 
ভাবে, মনে হয় জানতে 
চায় -
কবে আসবে সেই শ্রীমন্তীয় সকাল,ছড়িয়ে যাবে 
অপ্রত্যাশিত ফুলের গন্ধ, ভরে যাবে 
তৃণে তৃণে দীপ্ত প্রভা, জীবনের 
প্রাচ্য আকাশে উঠবে 
নতুন সূর্য্য,
পঙ্কের শিশু প্রজাপতির ঝাঁক, ডানা মেলতে চায় 
শুনেছে যেন বর্ষার আগমন, খুঁজে মন 
তোমার হৃদয়ের ঠিকানা, ভিজতে 
বারে বারে ভালই লাগে, যদি 
অসময়ে ঝরে এক পশলা 
বৃষ্টি, সাঁঝের পূর্বে 
শুক্রতারা -
আনচান, উঠতে চায় তিমিরের
বক্ষে উন্মত্ত ভাবে.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Artist~Marina Petro, Saratoga Springs, NY USA

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১১

আত্ম আবিষ্কার

এখানে সৃষ্টির বিচিত্র সংরচনা 
অগ্নিগর্ভের ভিতরে লুকিয়ে 
রয় ভূকম্পনের 
সম্ভাবনা, 
ভ্রুণ কোষের স্তরে স্তরে বহু 
অদৃশ্য অগ্নিশিখা লহর
খুঁজে মুক্ত জীবনের 
শুধু এক 
কণা, 
বিভ্রান্ত পরিত্রাণের পরিভাষা 
কেন্দ্রকে ঘুরে অহর্নিশ 
আবেশের স্তম্ভ !
পরিধির 
চক্র -
 রেখায়, ছদ্ম চিন্তনের বিন্দু 
মোহের আবর্তন ঘুরে 
রয় চিরন্তন,
নগ্ন 
চোখে সেটা দেখা সহজ নয় 
মায়াবী জগতের সেই 
আলোক, ফেলে 
আঁধারে মিহি 
জাল, 
প্রাণের মীন হারিয়ে ফেলে 
বহির্গমনের পথ, 
এখানেই 
জীবন চায় মোক্ষ প্রাপ্তির 
সাধন, সৃষ্টি করে 
নানান 
কাল্পনিক পুজাস্থল, তর্ক -
দর্শন, অসমাপ্ত 
অনুত্তরিত
গ্রন্থ, 
যদিও অখিল বিশ্ব থাকে নিজের 
ভিতরে, খুঁজে পায় না 
কোনো ভাবে.

-- শান্তনু সান্যাল 

 

  

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১১


শুন্য সাঁঝের পদধ্বনি 

জীবনের মূল্য নির্ধারণ, প্রিয়জনের 
অনুমোদনের পথ চায় না, 
প্রেমের মূল্য বুঝতে 
বিলম্বের কারণ 
কি যা ছিল 
জানি না, যখন তৃষ্ণা শুকিয়ে গেছে 
সে বাড়িয়ে দিল জলের কলসি 
অনেক বার এমন হয় 
থাকে, চোখের 
সম্মুখে 
বসন্তের আগুন ভরে যায় বুকের মাঝে 
শীতযাপনের নিদ্রা, পৃথিবী চলে 
উদীয়মান সূর্যের পিছনে 
উড়ন্ত পাতার 
ঠিকানা 
কেও মনে রাখে না, সান্ধ্য তারকের দীপ্তি 
ছিল অল্পকালীন, তার অস্তিত্বের 
ইতিহাস কেও জানতে চায় 
না, বিলুপ্তি কিংবা
উদ্ভাসিত,
মনের কপাট ছিল অনবরত খোলা কিন্তু 
জোছনা পথ ভুলে ও আসে নি 
তারা গেছে ভেসে বন্য 
কুসুমের গন্ধে 
জীবনের 
শুন্য সাঁঝে কাহিনী বলার মত কিছুই ছিল
 না.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১১


স্বপ্নের জগত 

স্থায়িত্ব বলে কিছুই নাই, সময় থামতে 
জানে না, আকাশ এখনো নীল 
প্রাকৃত, তথাপি সে 
পরিত্যাগ 
করে গেছে সম্মিলন, এক দশকের আগে  
নাম ফলক গেছে হয়ে অনুজ্বল, 
ধুলিকনা আচ্ছন্ন  আসক্তি ! 
কুসুমিত মৌসুম 
নিয়েছে কবে যে বিদায়,দিন লিপির জীর্ণ 
পৃষ্ঠের লিখন উড়ে গেছে হয় ত 
জীবনের তীব্র বায়ুবেগে, 
আদ্র ভাবনার -
চিরকুট অস্থির নড়ে  চলেছে, বাঁস গাছের
শীর্ষ ভাগে, চাঁদ প্রতিক্ষার নিয়ম 
মানে না, ভেসে চলেছে 
ধ্বংস স্তুপের 
মাথায়, 
উদ্বেলিত ঝিলের ধারা মনে রাখি নি তার 
চেহারা, পদ চিহ্ন মিটিয়ে গেছে 
সহজে, কিছু অসমাপ্ত -
কবিতা 
ও গোলাপের মালঞ্চ ভাসে তীরে, সে জীবনে 
দখলের প্রমাণ দিতে পারি নি, দলিল 
গেছে ভিজে বহু কাল আগে 
পাগল বর্ষার রাতে,
এখন সে এক 
অনিকেত,খুঁজে এক রাত্রির পান্থশালা,অথচ 
থামার কারণ বলতে কিছুই নাই,
মায়ার বন্ধন যে ভাঙা
খুবই মুশকিল, 
তাই বসে আছে, অন্ধকারে কাঁশ বনের ঝোপে !
একাকী দেখছে আপনমনে নীহারিকার 
বিলুপ্তি, পড়ন্ত তারকের নিয়তি 
উল্কার ভূমিসাত, শুন্যের 
ভব্যতা, জীবনের 
সত্যতা,
মৃত্যুর রহস্য, অন্তরিক্ষের বিশালতা, অপরিচিত 
নিজস্ব ছায়া, জানিত মুখোশের ভীড়
ধীরে ধীরে হারিয়ে চলেছে 
সব কিছু স্বপ্নের 
জগতে.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১১


শিমুল রঙ্গী সকাল 

জানি না কোন পরিপৃক্ত মনের 
ভাবনা নিয়ে, ঝরে যায় 
উন্মেষিত শিউলি 
বৃন্ত 
এখনো নিবিড় রাতের নিরবতা 
ধরে আছে হৃদয়ের আঁধার 
জানি না কোন দেশে 
জেগে রয়েছে 
শিহরিত শরতের চাঁদ, কার মৌন
অনুচ্চারিত মর্মে, জীবনের 
ছায়া খুঁজে হারানো 
পূজা মণ্ডপের
সেই শিশু,
ভিড়ের মাঝে যেন চেয়ে রয়েছে -
অশ্রুমুখে, সরে যাওয়া 
আপনজন, সাঁঝের 
অন্তিম 
ডিঙ্গা যেন অপার বিলীনতার মুখে, 
প্রতিধ্বনিত নিরীহ, কচি 
আত্তয়াজ হেঁটে চলেছে 
বনেদী বাড়ির 
পাঁচিল
জড়ানো পথে, কুড়িয়ে রাখতে চায় 
কিছু স্বপ্নের কুঁড়ি, কিছু ছিন্ন 
বিল্ব পত্র, দিতে চায় 
অর্ঘ্য, মন্ত্র -
বিহীন, 
পুষ্পাঞ্জলির গান ধরেছে পুরোহিত,
কম্পিত হাতে সে চায় ধরে 
রাখতে বেঁচে থাকার 
বিকল্প, শিমুলরঙ্গী 
সকাল. 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১১


আগন্তুক


সুদুর ঝলসানো পাহাড়ে, সুপ্ত দাবানলের
উত্পত্তি ,হৃদয়ে যেন অনাসৃষ্টির
সূত্রপাত, ওই ফাল্গুনী রাত
উষ্ণ নিঃশ্বাস, বহে
বাস্পিত বাতাস, মধ্য নিশি, অবিরাম
মৃগ দলের আর্তনাদ, মর্মর
অশ্বত্থ পল্লব, পাখির
উড়ন্ত ছায়া,
নিশ্চল রজনীগন্ধার সুরভি ,জীবন ও
আমি কথা বলি সারা রাত ,
ধাওয়া করে যায়
অজানা
রহস্যময়ী ছায়া ,চিরদিনের সেই কাঁচা
অঙ্ক নিয়ে  হিসাব মেলানো ,
বহুত মুশকিল
কে, কোথায় ,
কেন যে নিরব ভাবে ভাবনার মিছিল
হতে নিজে কে সরিয়ে নিল
নিঃশব্দভাবে , যেন
কাচের সুন্দর
ফুলদানি
ভাঙার পরে মন বলে সব কিছুই ত
ভঙ্গুর ,অনুবন্ধের ভাঙন ও
জ্বলিত অরণ্য ,বর্ষার
পথ চেয়ে রয় না ,
হটাত কে কোথায় কোন গলি র মোড়ে,
অনাহুত মেঘের রূপে, ভিজিয়ে
যায় শেষ প্রহর ,ভরে  যায়
মরুভূমির তৃষিত
বালিয়াড়ি,
লিখে যায় প্রাচীর অম্বরে জীবনের ইতিকথা ,


-- শান্তনু সান্যাল
  http://sanyalsplanet.blogspot.com/

painting by - Leonid Afremov