বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১১


আলোর আড়ালে 

আলোর উত্সবে, মনে পড়ে
আঁধারের কিছু চেনা 
মুখ, চেয়ে আছে 
যেন আজ ও 
ঝিলমিল আকাশপানে, 
ফুলঝুরির ছুটন্ত 
ঝিকিমিকির মাঝে কিছু 
জোনাকির কোমল
পালক, লুটিয়ে আছে পথের 
দুই ধারে, আতশবাজির 
জ্বলিত অগ্নিশিখার 
তাপে ঝরে চলেছে অর্ধ 
উন্মেষিত কুঁড়ির বহু গুচ্ছ,
নেকড়া সংগ্রহকারী 
যেন আমার মন খুঁজে কিছু 
অবিস্ফোরিত স্বপ্ন,
অলিন্দের আকাশদীপ যদি 
দিত, কিছু আলেয়া 
পথের শিশু যেন ভাবনা,
একদৃষ্ট চেয়ে রয়েছে 
উচ্চ তোরণের মণি মালা,
ভেঙে ছড়িয়ে যেত 
অপ্রত্যাশিত রূপে নিজের 
ভাগের কিছু আলোক 
বিন্দু, কিছু খুশির মুহূর্ত.

-- শান্তনু সান্যাল



  

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১১

গোঙানির রহস্য

সেই শ্রাবণের কোন এক রাত্রি, সাবেকী
আমলের ওই বাড়ির কাছাকাছি,
উত্তর কলকাতার সেই ঘিঞ্জি
গলির মোড়ে, সত্যি সে
দাড়িয়ে ছিল, তখন
বৃষ্টি গেছে অল্প
বিরতির
জন্য,
আটপৌরে ভাষায়, পরিষ্কার ভাবে সে -
তার মনের গ্রন্থী খুলে বললে," তুমি
জানো প্রেম কি হয় " না, এস
ভিতরে এস, ভেজানো
দরজা ঠেলে, কম
ভোল্টেজের
বাল্ব
জ্বালিয়ে, ওই ধোঁয়াটে ঘরে, ভাঙা চেয়ার
টেনে সে বসতে বলল, পাসের রুমে
গোঙানির শব্দ ক্রমশঃ মুখর,
আমি থ হয়ে চেয়ে রয়েছি
বর্ণহীন দেয়ালের
অপূর্ণ ছবি
হয় ত
শিল্পী আনমনা ভাবে বাদ দিয়েছে, যেমন -
অনেক সময় শ্বেত কুষ্ঠ লুকোবার
জন্য ব্যথিত মন, সম্পূর্ণ
দেহের ত্বক পুড়িয়ে
দিতে চায়, সে
সাদা হোক
কিংবা
ছাই রং,আরশির গায়ে এক রঙিয় প্রতিবিম্ব
ভালো লাগে, গোঙানির তরঙ্গ উচ্চতর,
তার ভাবশুন্য আঁখির কোণে
কিসের ঝিলিক, বুঝে
উঠতে গিয়ে
দেখি,
রাত গড়িয়ে গেছে বহু দূরে, তাহলে উঠি -
ওই গোঙানির শব্দ এখন ভাটার
দেশে, খুঁজে হয় ত স্বপ্নের
ভাঙা ঝিনুক, শামুক
তার উদাস মুখে
এখন প্রেমের
ছায়া
কি না,জানি না, কিন্তু তার নিঃশব্দ চোখের 
কবিতা স্পষ্ট ভাবে বলে গেছে দীর্ঘ
কাহিনী, প্রেম ও মৃত্যুর মাঝের
সেই খালে সাঁকো হবার
প্রত্যাশা নিয়ে ফিরে
এসেছি বহুবার
একাকী.


-- শান্তনু সান্যাল 


সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১১


নীল শুন্যের আবেগ 

ওই উন্মত্ত পথের অন্ত ছিল না, ঘুরে চলেছে 
তন্তুময় জালে, বহুবিধ ভাঁজে, অনেক 
বিন্দুর নিজস্ব যেন রয়েছে অখণ্ড 
গ্রহ , উপগ্রহ  -এক প্রবাল 
প্রাচীরের বৃহৎ জমি , 
ওই চোখের 
তোরণ 
খুলে না বারংবার ,জীবনে এক  বা দুই বার, 
আবেগময় তরঙ্গ খুবই উপাদেয় , উঁচু 
নিচু লেখ যেন প্রাণ ভরা 
রজনীগন্ধা র বিক্ষিপ্ত 
সুবাস, জঙ্গলময় 
বুকের ভূদৃশ্য
 এবং
 জোছনাময় অধর ,রাত তখন  বিগলিত 
রুপালি বন্যা, দেহ ও আত্মার দিব্য
 মিশ্রণ, চরম আসক্তির সেই 
ক্ষিতিজ রেখায়, পরিপূর্ণ 
 নৈবদ্য , উন্মুক্ত 
সমর্পণ,
 নিশীথ বৃষ্টি ভরে চলেছে প্রণয়ের উপত্যকা, 
নবজাতক  ব্রততী  যেন  খুঁজে চলেছে 
কামনার উত্স, সৃজনের গর্ভ 
দ্বার, নিঃশ্বাস লযবদ্ধ 
ধরে রাখতে চায় 
পরমানন্দ,
বৃষ্টির 
উন্মান্দ তুঙ্গে , রাত্রি অশেষ , রাতজাগা 
আকাশগঙ্গা ঝিমিয়ে চলেছে নীল শুন্যে - 

-- শান্তনু সান্যাল  
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

Merging Souls | Paintings by Rika Turel

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১১

অপর পার্শ্বের গন্তব্যস্থান

বিঁধিয়ে গেছে অন্তরতর তার ওই ভাবে 
উজাড় করে চাওয়া, চোখের তীরে 
দেখেছি যেন উঠে আসছে  
ডুবন্ত ময়ুরপঙ্খী 
নৌকা, 
অমন
তাকানির অর্থ, প্রাণপণে খুঁজেছি গ্রন্থের 
পাতায় পাতায়, হিসাবনিকাশের  
খাতায়, বন্ধ দেউলের দ্বারে 
উন্মুক্ত মনের জানালায়,
তার মুক কৌতুহলে 
ছিল জীবনের 
 সারাংশ,
সে যেন স্পষ্ট জানিয়ে গেছে সিঁড়ি ছাড়াও 
উপরে ওঠা যায়, স্বপ্ন ছোঁয়া যায়,
সুরুভিত বিহানের নাই কোন 
জাতি বিচার, সে ছড়ায় 
আলোর ঝরনা, 
সিক্ত করে 
মনের অন্ধকার, সেই আলোকিত আদ্রতায় 
দেখেছি তার অলৌকিক ইচ্ছাশক্তি 
প্রেরিত করে যায় অন্তর্মনের 
গভীরতা -ভীষণ ভাবে, 
উচ্চ তরঙ্গে যেন
ভিড়িয়ে 
চলেছে সে জীবনের উড়ন্ত পাল নৌকা -

-- শান্তনু সান্যাল
 


শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১১


ভাসন্ত বাসা 
তার পরিতৃপ্তির আকাশ ছিল অপরিসীম 
দিগন্তের পরে মায়া বিম্বিত বলয়,
বহু পরিধির মাঝে আবেশের 
আবর্তন,আমার পৃথিবী 
যেন স্থির, চেয়ে 
রইলো শুধু 
তার সাধের মহা সমুদ্রের বিশালতা,সেই 
আলোড়নের কেন্দ্রে, মন খুঁজেছে
 প্রেমের মৃগজল,অন্তিকের 
পরিভাষা,ভাবনার 
শুচিতা,
তার প্রাণ ভরা হাসির মাঝে শুনেছি, কাচ
ভাঙার স্পষ্ট শব্দ, আসবের সঙ্গে 
অশ্রু বিন্দুর গড়িয়ে যাওয়া, 
মগ ডালের মচকানো 
আওয়াজ,
পুষ্প ঝরার নিঃশব্দ ফিসফিসানি, কিশলয় -
ডগার স্থির, শিশির কণার উদাস 
ভাবে, অরুনোদয়ের আগে   
শুকিয়ে যাওয়া,
ঝিলের 
বুকে এখন কুহেলীর খেলা, কচুরি পানার
ভিড়ে, অনুরাগী জকানা* খুঁজে 
চলেছে ভাসন্ত বাসা, মৌন
জলজ বলতে পারি নি 
তার হারানো 
ঠিকানা.

--- শান্তনু সান্যাল
* এক ধরনের তিতির পাখি
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১১


সাঁতারের ঝাঁপ 

মধ্যযুগীন দেউলের ইট ক্ষয়িত দেয়ালে, 
আভিজাতের ছাপ নিয়ে গর্বিত 
হবার কিছুই ছিল না, 
বিগ্রহ বললে -
আভ্যন্তরিক সংস্কার ছাড়া গতি নাই, 
প্রাণ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্ঘ্য, ধুপ 
দীপ, পুষ্প অবান্তর এই 
মুহুর্তে, চাই কিছু 
মুঠো চাউল,
ক্ষুধার -
জাতি বর্ণ নিয়ে বিচার কর তার পরে, 
মনের দেবালয়ে গহন আঁধার 
যুগ যুগান্তর ধরে, কোন 
গর্ভ গৃহে তুমি আছ 
অনঘ আসন 
পেতে, 
জীবনের প্রদীপ চায় উজ্জ্বল পারদর্শী আলো, 
পুরোহিতের বুকের আরশির বিম্ব 
পথ খুঁজে পায় না, দেখো 
গিয়ে ঘাটের সোপান -
হতে নামছে 
নদীর 
উলঙ্গ দেহে, মোক্ষ প্রাপ্তির মোহে, এতই 
সহজে মুক্তির পথের উপলব্ধি ?
অনর্থক ছিল যত সব 
সরঞ্জাম, গলা বন্ধ -
হাড় ধরে 
অন্তর 
বলে, চিরন্তন পথ সাঁতরিয়ে যাওয়া কঠিন.

-- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১১


নদীর ধরাতলে 

অনবরত গতিশীল জীবনের কাহিনীবৃত্ত,
অভিমুখীন যেন নতুন দিগন্তের পথে,
নদীর এই রূপ অভিভূত করে 
যায় অভ্যন্তরীণ ভাবে,
তার হৃদয়ের আদ্র - 
ভূমি খেলে 
রোদ -
ছায়ার খেলা, দুই প্রান্তের হাসি কান্না -
জড়িয়ে বহে যায় সুদুর সাগরে,
কখনো মাঝির গানে খুঁজে 
উদ্গমের মূল বিন্দু 
আবার চায় 
বর্ষা -
রাতে ভেঙে সমস্ত কারা শিকল, প্লাবিত -
করে আসে মরুভূমির তপ্ত বসুধা,
প্রখর গ্রীষ্মে খুলে দিতে চায় 
যেন গোপন স্রোতের 
উপত্যকা, 
ঘাটের উদাসীন চোখের ভাষা বুঝতে চায় 
সে, ঢেউর রূপে ছুঁয়ে যায় বারম্বার 
সোপানের জগত, আত্মসাত 
করে বাসি ফুলের মালা,
উচ্ছিষ্ট প্রতিদানের 
নিয়তি নিয়ে 
বহে যায় মৌন অহর্নিশি সুদুর মুহানামুখী, 
লিখে যায়ে মর্মের বহু কাহিনী,
গাঙ্গ চিলের মন্ত্রণা শুনে 
চুপচাপ, মীনের 
অস্থিরতায় 
দেখে
 মৃত্যুর প্রতিবিম্ব, সে আনমনা ভাবে চেয়ে 
রয়, তীরের  ধুম্র বলয় উর্ধ্বকার 
উঠে চলেছে অন্তরিক্ষের 
পথে, যেন রহস্যের 
ধুমকেতু 
খুঁজছে হারানো বাসভূমি, চাইছে পারিবারিক 
পুনর্মিলন, কি জানে তার অভিলাষ 
কোনো দিন পরিপূর্ণতার 
বয়স পার করেও 
যাবে কি না ?

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/