শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

শেষ মুহূর্তে - -

সুদুর ভূমধ্য সাগর হতে, সিন্ধু নদীর
তীর পর্যন্ত, তার বিজয় পতাকার
ছিল আলোড়ন, তবুও ওই
বিশ্ববিজেতা ছিল
নিজের চোখে
খুবই
নিরুপায়, সহজ নয় মানুষের হৃদয়ে
একছত্র রাজ করা, গায়ের জোরে
ভূ ভাগের দখল খুবই সরল,
নিয়তির আগে সমস্ত
আকলন ছিল
বৃথা !
শেষ মুহূর্তে কিছুই কাজে লাগে না - -
ওই সুবর্ণ মুকুট তখন অর্থহীন,
কাঞ্চন দেহের প্রয়োজন
শুধুই এক ভুমিগৃহ,
খোলা পিঞ্জর
চেয়ে
রয় নির্বাক ভাবে, ইতিহাসের উড়ন্ত
কিছু বিছিন্ন পাতা, কালান্তরে
ভুলে যায় মানুষ ক্রমশঃ
তাদের গৌরব
গাথা !

* *
-  শান্তনু সান্যাল

 

http://sanyalsplanet.blogspot.in/
Claudio Perina paintings 1

শুক্রবার, ২৩ জুন, ২০২৩

ফিরে আসা - -

সব কিছুই ছিল নিজের জায়গায়
সচরাচর, ঘাটের চাতালে
কিছু শালিকের ঝাঁক
আর উদাস
চোখের
অপরিচিত অর্ধ উলঙ্গ শিশু। ওই
বিশাল নদীর ভাঙনে থেমে
ছিল কোথায় যেন সেই
অপ্রবাহিত প্রেম।
যখন ফিরে
এলো
দিনের শেষ খেয়া, কে যেন ডাক
দিল নদীর ওপার হতে, যে
সূর্য গেছে ডুবে অনেক
ক্ষণ আগে, এখন
তোমার
ফেরার পালা, আর মিছে পথ -
চাওয়ার কোনো মানে নেই,
নদীর হাতে কিছুই
নেই, সময়ের
বন্যা
খুবই একগুঁয়ে, ভেঙ্গে গড়ে যায়
নিজের ইচ্ছায়। আর তুমি
কি ফিরে পাবে ওই
কবলিত এক
ফালি
হরিৎ প্রদেশ। প্লাবিত প্রান্তর করে
যায় অবিরল মৌন অট্টহাস।
* *
- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

পরবর্তী স্টপ - -

সবাই একই পথের যাত্রী, কে কখন কোথায়
যে হারাবে কুয়াশার দেশে, বলা কঠিন,
অনেক কিছুর পাওয়ার আশায় অনেক
কিছুই যায় হারায়ে, তবুও
অভিলাষের তালিকা
অন্তহীন, যদি
কোনো
এক দিন বিস্মৃত মরুদ্যানের তীরে দেখা হয়
হটাৎ, তাহলে বলবো, তোমায় মরীচিকার
নীরব কাহিনী, অনেক কিছুই জীবনে
রয়ে যায় অনুচ্চারিত, বুকের
গভীরে চিরস্থায়ী বিলীন,
কিন্তু থামে না ঋতু
চক্র, থামে না
কেউ
কারোর জন্য, আকাশের গায়ে যথারীতি - -
ভরে উঠে চন্দ্র তারার সম্মেলন, আর
পৃথিবীর বুকে জেগে থাকে চাপা
সুপ্ত দহন, আর মানুষের
চিরকালীন ঘাত -
প্রতিঘাতের
মাঝে
জীবন খুঁজে বেড়ায় উজানের পথ, শূন্য
দিগন্তে ভেসে উঠে ডুবন্ত চাঁদের
কিছু ভাঙা ভাঙা প্রতিফলন,
চেয়ে রয় অরণ্য কুসুম
আকাশের পানে,
অন্তর্তমের
কাহিনী
নিজের ছাড়া কেউ কি জানে ? আবার
সেই পরিচিত পুনরাবৃত্তি - - সরু -
পথ, সুড়ঙ্গ, সিঁড়ির ধাপ,
মেট্রো ট্রেন, জন -
অরণ্যের
মাঝে
নিজের সন্ধান। তুমি কিংবা আমি বলে
কিছুই নেই সবাই সহযাত্রী, কত
দূরের সঙ্গী, এটাই বোঝা
মুশকিল - -

* *
- শান্তনু সান্যাল



 

মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩

পূর্ব পরিকল্পিত কিংবা - -

অভিলাষের সিদ্ধি ছিল, হয়'ত প্রচ্ছন্ন 
রূপে বুকের গভীরে, অথবা 
সব কিছুই ছিল পূর্ব 
পরিকল্পিত 
চক্রান্ত !
বলা মুশকিল এই মুহূর্তে, এখন - - - 
স্পন্দনের ঢেউ ফেরার 
পথে, নিঃশ্বাসের 
সমীকরণ 
শুন্য মুখী, বহে গেছে বহু দূর সজল 
সমীরণ, প্রবল বর্ষা সুনিশ্চিত, 
অশনি উৎসের সন্ধান 
পাওয়া এই লহমায় 
বড়ই কঠিন,
আবছা 
দিগন্ত, পৃথিবী ও আকাশের পার্থক্য 
অর্থহীন, অপ্রত্যাশিত সব 
কিছু যেন একাকার,
যা ঘটার ছিল 
সে গেছে 
ঘটে, অনাহূত প্লাবনে ভেঙ্গে গেছে 
জীবনের তটভূমি, এখন 
চার দিকে শুধুই 
ক্লেদিত 
অনুভূতি, ঝুলন্ত বট বৃক্ষের শিকড়ে 
জোনাকির ঝাঁক আর 
গভীরে নিহিত 
প্রণয়ের 
উপত্যকার অন্তহীন জলরাশি - - - 
* * 
- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
artist Julie Gilbert Pollard 





রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩

অপহন্তা রাত্রি

অতিবেগুনী কিরণে দেখেছি অপরূপ মায়াবী রাত,
নীরন্ধ অন্ধকারে, চোখের বন্য হরিতাভ 
আলোর তরঙ্গে, জীবন মরণের খেলা, 
কৃষ্ণ পক্ষের সেই যামিনীর গায়ে 
তাজা মাংসের গন্ধ, গরম 
রক্তের সান্দ্রতা, গহন 
আর্তনাদ, দীর্ঘ 
গোঙানির 
পরে হয় ত ক্রমশঃ মৃত্যুমুখী কিংবা বুনোকুকুরের  
ভক্ষণ ! নিজের চোখে আবছা মৃত্যু দেখা,
হয় ত এই বীভৎস, ঘৃণিত রাতে, 
কোনো অবিকশিত ভ্রুণের 
শ্বাদন্ত হতে ফসকে পড়া,
তৃণাবৃত জীবনের 
উৎপত্তি !
সংবেশিত হরিণের পাল আঁধারে পথ খুঁজে পায় না,
আখেটক দল নিরব ধাপে তাদের হদিস জানে, 
ভয়াতুর জীব এখন দিক ভ্রমিত, বিহ্বল
হৃদয়ের অন্তিম নিঃশ্বাস, কিছু 
ক্ষনেই সন্নিহিত এলাকা 
নিঝুম, হাওয়ায় 
তামসিক 
বিতৃষ্ণা, মুদ্রার টংকার, অসংহত আবরণের খোঁজ !
জীবনের টুকরোগুলোকে জড়ো করে, হিংস 
রাতের বুক থেকে মুক্ত হওয়া, শেষ 
প্রহরে তৃণভূমিতে পড়ে রয়েছে 
অস্থি পিঞ্জর কিছু বিবর্ণ 
মাছিময় রুধিরের 
দাগ, চাপা 
ক্রন্দন,
নিরীহ হরিণশিশুর অসমাপ্ত, দুগ্ধময় স্তনের সন্ধান !

- - শান্তনু সান্যাল
Night Magic Painting by Brenda Owen 
   
  

শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩

মায়া মৃগের পথে - -

 


অন্ধকার যত ঘনায়, আলোর তৃষা

অতই বেড়ে যায়, জীবন উঠে
আসে বিহানের উঁচু তলায়,
ফোস্কা পায়ে যেকোনো
অবস্থায়, এই বেঁচে
থাকার নেশা
বারংবার
আশার
সিঁড়ি
বেয়ে নতুন সকালের পথে নিয়ে যায়,
তোমার প্রেমের কুয়াশায় যত বার
হারাই, জীবনে এক অভিনব
অর্থ খুঁজে পাই, অভিলাষের
ফর্দ চিরদিনই অফুরন্ত
থেকে যায়, হাত
থেকে রেশমি
মুহূর্তগুলো
যেন
ফিসলিই সুদূরে গড়িয়ে যায়, নিশীথের
আলো মায়া মৃগের পথে নিয়ে যায় ।
– শান্তনু সান্যাল

রক্তিম কুঞ্জের ব্যথা - -

এ কেমন অগ্নিগর্ভ দেশের নাগরিক, কার বিরুদ্ধে
সমরের হুঙ্কার, চার দিকে উঠছে ধোঁয়ার
জুয়ার, এ কেমন সমাজের পুরোধা
আগুন লাগিয়ে সারা প্রান্তে
সাধুর বেশে দাঁড়িয়ে  
করছে দোষারোপ,
এ কেমন
প্রজাতন্ত্র, রক্ষক হয়ে উঠেছে রক্ত ভক্ষক, এ কেমন
সংবিধানের দোহাই, হাতে নিয়ে বোমা বন্দুক
লাঠি করেছে দানবদের মনোনয়ন, কোন
দেশের এরা বর্বর নাগরিক মানে না
কোনো আইন কায়দা, এ কেমন
গুন্ডাবাহিনী গ্রামে গঞ্জে
করছে তাণ্ডব -
খেলা,
মা গুলো কাঁদছে বুকে নিয়ে ছেলের মরদেহ, মাটির
উপরে গড়িয়ে যায় মানুষের রক্ত ধারা, এ
কেমন রক্তে রাঙা বাংলা, কোনো
দিন কি ফিরবে না রবি
ঠাকুরের সোনার
বাংলা ।
- - শান্তনু সান্যাল