বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১০

নিজস্ব বলে কিছুই নাই

নিজস্ব বলে কিছুই নাই


প্রতিবন্ধিত রেল লাইনের দুই ধারে

কিছু চেনা অচেনা মুখ, জর্জরিত, ক্লান্ত

শুন্য চোখে শুধুই চেয়ে থাকে -

ঝগ ঝগ সুন্দর এক উচ্চ অট্টালিকা

প্রাঙ্গনে মৌসুমী ফুলের বাহার,

বস্তির সীমান্তে গর্বিত মুদ্রায়-

দাপটের সঙ্গে দাড়িয়ে আছে /

এলোমেলো, অস্পষ্ট চোখের ভাষা

তারা যেন কিছু বলতে চায়

কিম্বা কিছু ভুলতে চায়

ওদের নিজস্ব বলে তো আর

কিছু নাই,যা হারিয়ে গেলে দুঃখ হবে /

কখনো মনে হয় -- বিলুপ্ত প্রাণীর

অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা, কোন

প্রশ্নই উঠে না, কার এত ফেলানো সময় আছে /

রাস্তার মাঝে,উড়ান পুলের নিচে,

ভাঙা ফুট পাথে,বৃহত ভাঙান গায়ে জড়িয়ে

সাঁঝের শেষে, পুরাতন কাগজের বিছানা

তারা ঘুমিয়ে পড়ে,

স্বপ্ন মিছিল ফিরে যায় মধ্য নিশীথে,

নিজস্ব বলে তো আর কিছু নাই-

তারা স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়েছে -

বহু কাল আগে //

-- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০১০

উদ্ঘোষিত আর্যবৃত - -

এই ভগ্ন দেবালয়ের প্রস্তর
আবার হউক জাগৃত,
গোধুলি তে শঙ্খ ধ্বনি
তুলসী তলে পঞ্চ প্রদীপ
নির্ভয় সান্ধ্য বন্দনা
উদ্ঘোষিত আর্যবৃত
গুঞ্জরিত বিজয় গান,
মহাসিন্ধুর উচ্চ তরঙ্গে
ঋচা অভিমন্ত্রিত বহে
জ্ঞানামৃত - -
- - শান্তনু সান্যাল

সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০১০

মেরু দন্ড বিহীন সমাজ

মেরু দন্ড বিহীন সমাজ


পুর্বাগ্রাহে গ্রসিত

এক পথিক বহু মুখী বিষধর

পূজা স্থলে করবদ্ধ

জীবন দানের করুনামুখি

...দিগ ভ্রমিত দর্শন

উন্মাদিত অনুযায়ী

রক্ত ও গরল অবিরাম প্রবাহিত

অদৃশ্য শক্তির জন্য

মানব রুধির

জানি না কি ভাবে

ঈশ্বর মহান ----

মানুষ মানুষের জন্য

মায়ের ভাষা এক দিন বলেছিল

আজ এই পথে ছড়ানো রক্ত

তোমায় প্রশ্ন করে -- কোথায়

দেখি তোমার মহান ঈশ্বর

যে করুনা করে -- জবাব চাই //

-- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০১০

বিরল কুসুম


বিরল কুসুম



যা ছিল কাছে দেহ ও প্রাণে


সবটাই তো দিলাম তোমায়


অবশেষ কিছুই নাই ----


ওই যেখানে আকাশ ও ধরণী মিলে


মহাসাগর হারায় বহু উচ্চ তরঙ্গ


ঝিনুকের বুকে লিখে যায়


প্রনয় লিপি -- অদৃশ্য অশ্রু বিন্দু,


পাহড়ের গায়ে ফাল্গুনী অগ্নিশিখা


দগ্ধ পায়ে খুঁজেছি বিলুপ্ত হৃদ,


সে এক বিরল বন্য কুসুম


অজস্র প্রনয় সুগন্ধে ভরা


যুগ যুগান্তরে ও যার অশেষ সুরুভি


নভ- জল - ভূ কে সুবাসিত করে,


খুঁজেছি অবিরাম--


যদি পেতাম তোমায় অবশেষে


প্রীতি শুভেচ্ছা সহ দিতাম /


--- শান্তনু সান্যাল



মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০১০

বোবা মানবতা - -

চেয়েছিল তারা এক সুন্দর ছবি আঁকতে
পদ্ম ভরা পুষ্করিণী, মধু মালতির
স্নিগ্ধতা, বিধর্মী বলে সরিয়ে
দিলে সহজে হাত, শরতের
পূর্ণ চন্দ্র, সিউলির
মাদকতা, নদ
নদীর উত্তল
তরঙ্গে,
মায়ের ভাষা তারা ভাসিয়ে এলো ব্যথিত
হৃদয়ে, ভাঙ্গা জীর্ণ শীর্ণ স্বপ্নের মন্দিরে
জানি আর সান্ধ্য প্রদীপ জ্বলে না,
জোছনা রাতে সুনেছি ঘৃনা
ঝরে কিছু চিত্রকর
অবশেষে,
 রাস্তার
মাঝে
মারা যায় প্রতিবেশী বন্ধুর হাতে, ভালই
হত যদি মায়ের ভাষা মৌন হয়ে
যেত এক দিন, বোবা মানবতা
বুকে লয়ে কত দিন দুনিয়া
বাঁচবে জানি না - -
- - শান্তনু সান্যাল

সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০১০

সান্ধ্য প্রদীপ - -

সান্ধ্য প্রদীপ জ্বলে আজ ও অজানার
পথ চেয়ে, কোন উজানের পথে
হারালে প্রণয় নৌকা বেয়ে,
 শঙ্খ বেলায় ঈশান
কোনে মেঘের
উত্পাত,
পুনরায় কাটবে যামিনী শুন্য গগন
চেয়ে, সুদূর আম্রকুঞ্জে, প্রবাসী
পাখিরা ফিরে গেছে, নিরব
কোকিল, হিয়া কম্পিত
বিলম্বিত লয়ে, স্মৃতি
এখনো গাহে
প্রতিশ্রুতি  
ঈমন
রাগে, ভালোবাসার কিংশুক কুসুম
ঝরেছে অসময়ে - -
- - শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০১০

কাচা প্রেম


তোমার কাচা প্রেম, ফুলদানি তে সাজিয়ে
ভুলে গেছি বহু দিন,
কখন যে রজনীগন্ধা শুকিয়ে
হারিয়ে গেছে স্মৃতি গন্ধ বাতাসে
ঠিক ঠিক আন্দাজ করা আজ মুশ্কিল,
বাসিফুলের সাথে নদীর ধারা
কখন যে হলো দিশাহারা
না আমিই জানি না তুমিই খোঁজ নিলে,
ফুলদানির উদাস মুখ
আর সইতে পারি নি
গত শীতের এক নিঝুম সন্ধ্যায়
হটাত দেখি সে দরজায় হাজির
হাতে সদয় প্রস্ফুটিত নিশিগন্ধা
মুখে রহস্যভরা হাসি
সে ফুলদানি নিজের হাতেই
সযত্নে সাজিয়ে গেল,
বাসী ফুলের গন্ধ,তুমিই জানো-
ব্ত্রিষ্ণা ভরিয়ে আনে বাতায়নে //
--- শান্তনু সান্যাল