শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১১

গেরুয়া আকাশ

অনেক সময় কিছু লিখতে, ভাবতে 
কিংবা আঁকতে মন চায় না 
আকাশ হয় উঠে গেরুয়া, চাঁদ যেন 
ধরেছে বৌদ্ধ ভিক্ষুক রূপ 
খালি পায়ে হেঁটে চলেছে অদৃশ্য পথে 
ওই উঁচু নিচু রাস্তায় ঝরে যায় 
পিঙ্গল বর্ণ শেফালির অগনিত ফুল 
বুড়ো বট বৃক্ষের পাখিদের কলরব 
সহসা হয় উঠে সনাতন নিরব 
শব্দ গুলো খসে পড়ে ধরাতলে 
দোলায়মান জটা শিকড়ে জীবন যেন 
ঝুলতে থাকে দিবা নিশি 
বিপরীত দিশায় নদীর ঢেউ 
বহে রয় স্থির ভাবে 
নৌকা গুলো সম্ভ্রমে ঘুরে 
নিজস্ব বৃতে অবিরাম এক তালে 
হাঁড়ির ফেন যেন উথলিয়ে পড়ে
অজ্ঞাত ধুম্র উঠে যায় ক্ষিতিজে 
মহা অট্টহাসএর  মাঝে কবিতার পংক্তি 
দুটি হাত বাড়িয়ে 
উলঙ্গ দেহে আগ্নেয় বস্ত্র চায় 
আকাশগামী বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের দল
মোক্ষ বা কী যেন প্রাপ্তির আশায় এগিয়ে 
চলেছে, পৃথিবীর চাপা ক্রন্দন অস্রবণ করে 
আস্তে আস্তে থেমে যায়. যারা শুন্যে থাকে 
পিছিয়ে যায় সাক্ষী পটলে
তারা বলে - লিখে যাও যত খুশি 
এই দুরুহ কাব্য কত জন যে বুঝে 
কৃষ্ণ রুপি দুঃশাসনের এই জগতে অভাব তো নেই /
---- শান্তনু সান্যাল   

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১১

উল্কা পাত

উল্কা পাত 
মায়ামৃগ সম তুমি চেয়ে আছ 
বাহিরের জনসমুদ্র, অচেনা মুখ 
কিংবা ছাউ নাচের নানান মুখোশ 
রঙ্গীন আলোর আড়ালে আমিও রয়েছি 
কোনো এক নিস্তেজ আকাশদীপে, সে হয় 
ত  তুমি টের পাও নি,বসে আছি মুখোমুখি 
এই অজানা রেস্টরেন্টে, মুখ ঘুরিয়ে 
তুমি কী যে খুঁজে চলেছ যদি বলতে 
ওই দীর্ঘ ভাঙা গভীর নিঃশ্বাসে
ভালবাসা যেন হাঁপিয়ে উঠেছে 
সুদূর নীল পাহাড়ের গায়ে সূর্য্য গেছে ডুবে
এই নিষ্তব্ধ ক্ষণে দিয়ে গেছে কিছু 
প্রশ্ন চিহ্নেরআলেয়া ও জোনাকির আলো
অবহেলিত মোমবাতি জ্বলে উঠে 
জানি না কোন হারানো করূণ সুরে 
গোলাপ গুচ্ছটি হিমল হাতে ছুঁয়ে 
সরিয়ে রেখেছ এই ভাবে মনে হয় 
মধ্য রাতে নিশি ডাকের শিহরণ যাই নি 
এখনো, না বলে ও বলে গেছ অনেক কিছু 
হাসির প্রতি উত্তরে দেখি উল্কা পাত 
তুমি হারিয়ে গেছ অজ্ঞাত কোন অন্তরীক্ষে 
হয় ত তোমার মধ্যমা অঙ্গুলির মাঝখানে 
গেঁথে গেছে হিরক বলয় 
আস্তে করে স্পর্শ করি তোমার কোমল হাত
মোমবাতির আলো তে দেখি তোমার সরু আঙ্গুলের 
ডগায় ডগায় স্বপ্নগুলো ঝিলমিল ঝিলমিল ---- 
আমি অবাক চেয়ে রই তোমার এই অভিনব 
রূপখানি, শুধুই চেয়ে থাকি !
---- শান্তনু সান্যাল 
 

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১১

আজ ও ভালো লাগে

তোমার ওই ভাবে নিরব চেয়ে থাকা 
যেন সব কিছু হারিয়ে পাওয়া,
আজ ও ভালো লাগে তোমার আড় চোখে   
ছুঁয়ে যাওয়া, নিঝুম নীলাভ সাঁঝে 
শঙ্খ ধ্বনির মাঝে ওই 
সান্ধ্য প্রদীপ ঢেকে নিয়ে যাওয়া, 
তুলসীর সামনে হাত জুড়ে কিছু নিম্ন 
সুরে গাওয়া, অঙ্গনের আলপনায়
মুচকি হাসির রেখা,তুমি 
এঁকে যাও জীবনের পরিভাষা,
পাত্ঝরার দিনে আঁচলের কোন দিয়ে 
পুরাতন ছবির কাঁচের ধূল 
নিমগ্ন ভাবে মুছে যাওয়া,
আজ ও ভালো লাগে, তোমার শ্যামবর্ণ 
মুখের প্রদীপ্ত আলো নিঃস্বার্থ ভাবে 
ধুপকাঠির মত জ্বলে যাওয়া, 
ওই চশমার ভিতরে দুই সজল আঁখি 
যেন শীতের রেশমি রোদ গায়ে মেখে 
বসে রয়েছে বারান্দায়,
তোমার ওই সাঠ দশকের বাংলা গানের 
আবৃতি, আজ ও ভালো লাগে 
অধর বেঁকিয়ে লুকিয়ে হেঁসে যাওয়া, 
দুপুর বেলায় বই বুকে রেখে সুপ্ত 
অর্ধ খোলা ওই নয়নে 
মমতার নৌকা বেয়ে সুদূর ভেসে যাওয়া 
ভালো লাগে, প্রতিবেশীর সেই দুষ্টু 
মেয়ের আবদারে তোমার অনিচ্ছায় উঠে 
যাওয়া, ওই চন্দ্রাকার মুখে ভালোবাসার
সুরভিময় ঢেউর ভেসে যাওয়া 
খুব ভালো লাগে তোমায় চিরদিন 
মধুমালতীর সঙ্গে এই একান্ত ভাবে, 
শুভ্র নিশীথে পরিপূর্ণ  মিশে যাওয়া //
-- শান্তনু সান্যাল  

বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১১

ভারতীয় উপমহাদ্বীপ এবং ভাষা

লঘু প্রবন্ধ -
ভারতীয় উপমহাদ্বীপ এবং ভাষা
বিশ্বের সমস্ত ভাষা, উপভাষা, বিভিন্ন হলেও পরস্পর জড়িত রয়েছে,
আসলে এক বিস্তৃত বিশ্লেষনের ভাবনা দরকার, নিজের মাতৃ ভাষা
ছাড়া ও অন্য ভাষায় কী মাধুর্য্য রয়েছে সে জানার জন্য, সে ভাষার
প্রতি সম্মান, আগ্রহ জরুরি, অধিকাংশ সময়ে আমরা সে এড়িয়ে যাই /
সংক্ষিপ্ত ভাবে ভাষার বিশ্লেষণ, শ্রেণী তালিকা ও উদ্ভবের দৃষ্টি তে
নিম্ন রূপে বিশ্বের ভাষার বিভাজন করা হয় -
১ . সেমেটিক ভাষা - আরবী, আহারামিক, হিব্রু ( মধ্য পূর্ব এশিয়া )
২. ইনডো ইউরোপিয়ান - ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত উপমহাদ্বীপ
             প্রায় সমস্ত ভারতীয় ভাষা এই শ্রেণী তে বিদ্যমান রয়েছে /
৩. দ্রাবিড়  - দক্ষিণ ভারতীয় ভাষা
৪. চিনা তিব্বতীয় - দক্ষিন পূর্ব, সকল মোঙ্গলজাতীয়
ইনডো ইউরোপিয়ান ভাষার শ্রেণী তে সংস্কৃত, বাংলার সঙ্গে উড়িয়া, অসমীয়া,
হিন্দী, গুজরাটি, মারাঠি, ভোজপুরি, মৈথলী, অবধি,ব্রজ,রাজস্থানী,
ছত্তিসগড়ি, পাঞ্জাবি, নেপালী, মগহী, মাগধী, উর্দু, কাশ্মিরি, সিন্ধি ইত্যাদি
জড়িত রয়েছে / এই সমস্ত ভাষার নিজস্ব মাধুর্য্য বৈশিষ্ট্য আছে /  এক উন্নত
সাহিত্য ও ইতিহাস রয়েছে / ভারতীয় উপমহাদ্বীপের অধিকাংশ ভাষার
জন্ম প্রাচীন শাস্ত্রীয় এবং গ্রাম্য ভাষার দ্বারা হয়েছে - অর্থ হলো আমাদের
সবাইর বাসার গোড়ায় রয়েছে তিনটি বিশেষ স্থম্ভ - সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত /
যদি পাঠক বৃন্দ হিন্দী জানেন তাহলে  তারা বুঝতে পারেন যে কত শব্দের মিল
 আছে বাংলার সঙ্গে, উদাহরণস্বরূপ - বলদ শব্দ রাজস্থানী ভাষায় ও আছে /
সেই প্রচলিত অর্থের সঙ্গে / পাঞ্জাবি তে কোল শব্দের প্রারূপ কোড হয়েছে,
পাঠনো - এই শব্দ ব্রজ, মারাঠি, ভাষায় সম অর্থে প্রয়োগ হয়ে থাকে,আসলে
সম্পূর্ণ উত্তর পূর্ব, উত্তর পশ্চিম, মধ্য, উত্তরাঞ্চলের বৃহদ ভাগের ভাষার ভিত্তি
একেই রয়েছে, কালান্তরে ভাষা গুলোর রূপ বদলিয়েছে, বিদেশী ভাষীদের সম্পর্কে
এসে ভারতীয় ভাষায় আরবি, ফারসি, ইংরেজি, ইত্যাদি ভাষার প্রভাব ও ঘটেছে /
উর্দু কে নিয়ে নানান ভ্রান্তি আমাদের মনে থাকে, আসলে উর্দুর ফারসি লিপির
জন্য অনেক জন ভাবে যে এটা বিদেশী ভাষা কিন্তু সে টা পূর্ণ মিথ্যা, উর্দু পূর্ণ
রূপে ভারতীয় ভাষা, শুধুই তপাথ রয়েছে শব্দকোষে যে হেতু এই ভাষাটি মুসলিম
দের মধ্যে প্রচিলিত, আরবি ও ফারসি ভাষার অত্রিক্রমন বিপুল সংখ্যায় রয়েছে /
শুধুই উর্দুতে আরবী ও ফারসি ভাষার প্রভাব দেখা যায় না, বাংলা, হিন্দী ও
অনন্য ভাষায় এই ভাষাদের স্পষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয় / আসলে ভারতীয় কোনো
ওভাষা পরিপূর্ণ রূপে বিশুদ্ধ নয় / সংস্কৃত আসলে বিশুদ্ধ ভাষা কিন্তু সে সীমাবদ্ধ
রয়ে গেল, পন্ডিতদের বর্চ্স্বের জন্য সংস্কৃত পিছিয়ে পড়ল, কিন্তু সে সমস্ত ভারতীয়
উপ মহাদ্বীপের ভাষার জননী, সংস্কৃত কে সরানো সহজ নয়, সংস্কৃতের প্রভাব, গ্রীক
লাটিন,রোমন ভাষায় বিস্তৃত ভাবে দেখা যায় / বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতের শোধ ও অনু-
সন্ধান অবিরাম ভাবে চলছে / ভারতীয় দর্শন ও ধর্ম নিয়ে পূর্ণ বিশ্ব যেন চিন্তনশীল /
ইউরোপিয় দেশের প্রতি ভারতীয় সংস্কৃতি যেন মরু উদ্যান, তাহারা নাস্তিকবাদ এর
দুনিয়া থেকে বেরিয়ে হিন্দুত্ব কে গ্রহন ও আবিষ্কার করতে চায়, এটাই সংস্কৃত ভাষার
অবদান / আমাদের নিজের সাহিত্য সংস্কৃতি প্রতি গর্ভিত হওয়া উচিত / ভারতীয় -
বিভিন্ন ভাষা ভাষী আসলে এক, শুধুই ভারত কেন - বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা,
এই ভাষার দৃষ্টিতে পৃথক নয়, তাহারা স্বাধীন ভূভাগ হলেও ভারতীয় সংস্কৃতি কে কোনো
ভাবেই বাদ দিতে পারবে না, তারা অপ্রত্ক্ষ্য রূপে আমাদের অভিন্ন অঙ্গ / এখানে ধর্ম
একান্ত নিজস্ব শ্রদ্ধা, কিন্তু সংস্কৃতি অনন্ত, সেটা সহজে পরিবর্তিত হয় না /
--- শান্তনু সান্যাল
 

কে তুমি রহস্যময়ী ভালবাসা

কে তুমি রহস্যময়ী ভালবাসা
নিঃশ্বাসের ভিতর হইতে তুমি গেছ
হৃদয়ের মাঝে ছড়িয়ে পারিজাতক,
 পরশে জীবন্ত মম মরু উদ্যান, তুমি
রচিয়েছ জাগ্রত, মৃত প্রণয় ইতিহাস,
রুধিরের সেই প্রাণ কণায় তুমি ভেসে
গেছ বিলম্বিত লয়ে, ত্বক ছিদ্রে ভরেছ
রজনীগন্ধার বিন্দু বিন্দু ইমন স্রোত,
অধরে দিয়ে গেছ মৌ প্লাবিত কবিতা
সজল দুই নয়নে জ্বলে দিয়েছ সান্ধ্য দীপ,
জীবনের তমস ঘন এই অরণ্য পথে
তুমি স্বপ্ননীল প্রজ্বলিত মধু নিহারিকা,
নিদ্রিত মম ভাবনায় তুমি যে নির্ঝরিণী
দিয়ে যাও প্রতিপল নব স্বপ্ন, নব কল্পনা
সেই অমৃত ধারায় ভেসে যাও কে তুমি
অভিসারিকা,হৃদয় মঞ্চের লিখে যাও
অনন্ত স্বরলিপি, কে তুমি হে সুনায়িকা,
তোমার ছোঁয়া লেগে হয়েছে জীবন
অভিশাপ মুক্ত, কে তুমি অশরীরী মায়া,
পাষাণে ও ফুটিয়েছে অসংখ্য কুসুম
মরুতে দিয়েছ যেন অদৃশ্য প্রতিচ্ছায়া,
কে তুমি রহস্যময়ী ভালবাসা !
--- শান্তনু সান্যাল




  

মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১১

যাত্রী

বিফলের সঙ্গেই ছিল সফলতার ছায়া 
হস্তলিখনের পার্শ্বে নিয়তির মায়া 
কপালের ওই কল্পনা লোকে গেছি সাজিয়ে 
ধুম্রকেতু, বহু ভবিষ্যবাণী,
জানার সত্তেও যে জীবন শুধুই 
ক্ষণ ভঙ্গুর, ছাড়ি নি কখনো ও 
স্বপ্ন দেখা, আজন্ম তুমি ভালবাসবে 
এমন  অনুবন্ধ কোনো দিনেই ছিল না 
হৃদয়ে তোমার কি যা আছে তুমি 
শুধুই জানো, আশীষ কিংবা অভিশাপ 
এই পান্থশালায় ভেদাভেদ কিছুই নাই 
কোন দিশায় প্রতিধ্বনিত নাম কির্তন 
কোথায় ভেসে যায় আজানের নৌকা 
ঘাটের চাতালে ঝরে যায় বকুল আপন মনে 
ওই উজানের প্রবাহে জীবনের গান
লিখে যায় শরতের পূর্ণ চাঁদ 
এই পথ কিছু দূরে গিয়ে, দুই ভাগে 
মুড়ে যায় বিপরীত গন্তব্যে 
দুঃখ সুখের মুহানায় জানি আছে 
এক গোপন মহা রহস্য, জল প্লাবিত ভূমিখণ্ড
অথৈ সাগরের সেই স্বপ্নীল লীলা 
ভাসিয়ে নিয়ে যায় অন্য ভুবনে 
পদচিহ্ন বিহীন সেই মহা তটরেখা 
চির মৌন হয় দেখে যায় 
অংশুমালির অস্ত উদয়ের খেলা 
ঋতু চক্র খুলে দ্বার নিজস্ব হাতে 
কখনো শতদল রক্তিম সকাল 
আবার কখনো গহন অরণ্যের মহাকাল 
রাত্রি, আমি তুমি সবাই ওই পথের 
নিরন্তর গতিমান যাত্রী //
--- শান্তনু সান্যাল