বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১১

অদৃশ্য প্রভুসত্তা !


অদৃশ্য প্রভুসত্তা !
আম্র মুকুলিত ওই হাসির মঞ্জিরি
পৌস মানে না পূর্ব ফাল্গুনী, চঞ্চল সমীরণ 
স্বর্ণ চম্পক বরন সেই রূপের আলো
সাজিয়ে রাখে অরুনোদযের পথ বিস্তীর্ণ, 
ব্রহ্ম মুহুর্তে তুমি হয় উঠ সজাগ 
হৃদয় নদীর ধারে বিশৃঙ্খল অর্ঘ্য রূপে,
নিঃশব্দ শঙ্খ ধ্বনি ! হারানো দীর্ঘ নিঃশ্বাস
নিয়ে তোমায় হেরি মন্দির সোপানে,
কম্পিত যজ্ঞ শিখা সুবাসিত ধুম্র বলয় 
আমি ভুলে যাই বৈদিক ঋচার মন্ত্র খানি, 
উত্তরীয় বিহীন বক্ষে তুমি এঁকে যাও 
কোন অদৃশ্য লিপিতে মহা কাব্য কিংবা 
মৌন ভাষায় রচিয়া যাও জীবনের মধু অর্থ, 
ওই কোমল গ্রীবায় জড়ানো, ভেজা আঁচলে 
 রাখো প্রণয়ের অগ্নিশিখা, লহরিয়া কেশের
জল বিন্দু মৃদু সুরে বলে যায় স্বাহা,
বৃন্দ লয়ে ঝরে যায় আকাশ কুসুম অবিরাম, 
পূর্ব গগনে, অমৃত কুম্ভ যেন যায় উচ্ছলীয়,
প্লাবিত সূর্য্য ভেসে যায় সজল অন্তরীক্ষে,
ভাব শুন্য আমার চোখে তুমি সাজিয়ে যাও 
অসংখ্য দীপমালিকা, হাতে পূজার থাল লয়ে 
তুমি নেমে যাও ধীরে ধীরে 
স্থির নদী গর্ভে, মহা স্রোত রূপিনি, সেই 
জলাবতরণের অসংখ্য আভায় হয়ে উঠে
পরিতৃপ্ত  চরাচর, পৃথিবী নভ, পাতাল ও মনের
 অথৈ গভীরতা, তুমি করে যাও এমন ক্ষণে 
প্রতিষ্ঠিত, জীবনের অসীম অনন্ত প্রভুসত্তা. 
--- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১১

আবিষ্কার


আবিষ্কার 
নতুন করে আবিষ্কার করতে যেও না
মনের বাতায়ন খোলা রেখো ভালবাসা, 
ওই মেঘের গর্জনে বৃষ্টি কোথায় যে হবে 
কেউ তা জানে না, মিছে মিছে স্বপ্ন ছাতা
হাতে নিয়ে পথে যেন নেমে পড় না
শীতল সমীরণে ভেজা মাটির গন্ধ 
ভাসিয়ে নিয়ে যায় এক অদ্ভুত জগতে 
দেহ হইতে মনের বীথিকায় অভিসার যতই 
সুখদ মনে কর, ওই বাড়ন্ত জলরাশি অবশেষে 
নেমে বিশ্রী কাদায় হয় পরিনীত,  
সেই আদ্রভূমির নীচে নিঃশ্বাস হয় উঠে দুষ্কর  
জ্বার ভাটায়, জীবন নৌকা যায় ক্রমশঃ গর্তে 
হিংস ভাবনার কালান্তরে হয়ে উঠে বাসা,
পরিত্যক্ত তটভূমি করে হাহাকার 
এখানে কৃতিম দাবানল নিষ্ক্রিয়, সজল 
দ্বীপে পাষণ ঘর্শনেও আগুন ধরে না,
শুধুই আগামী প্লাবনের পথ চাওয়া 
দিবা নিশি, সূর্য্য শশী, এক দীর্ঘ যাত্রা 
মৌচাকের  সন্ধানে বারে বারে পীছে চাওয়া 
যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক 
শয়নে, জাগরণে, নিদ্রিত অথবা উন্মুক্ত 
নয়নে যেন উন্মাদিত কামনা 
এক পা ফেলতে গিয়ে অন্যের দুর্গতি, খুবই মুশকিল 
মনের জিনিষ মনেই গোছালে ভালো 
শরীরে মাখতে গেলে বিতৃষ্ণার প্রতিধ্বনি
মেঘ গর্জন কিন্তু বৃষ্টির ঠিকানা জানে না.
---- শান্তনু সান্যাল  

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১১

কবিতা নয় মৃগয়ার মুখে

কবিতা নয় মৃগয়ার মুখে 
 গৌর বর্ণ, বড় বড় ধারালু চোখ, গেরুয়া বসনে 
মধ্য বয়সী সেই দিব্য আভা মুখী পুরুষ কিংবা ---
কোনো অনন্য গ্রহের  মানুষ জানি না,
ধারাপ্রবাহ ইংরেজি তে অবিরল কথা বলেই 
চলে ছিল, গঙ্গা পার হতে গিয়ে আলাপ, 
মন্ত্রমুগ্ধতার সঙ্গে মনে হয় বশীকরণ ও জানত,
ওই ক্ষণিক পরিচয়, নৌকা থেকে নামার বেলায় 
দেখি হাতে এক কার্ড থামিয়ে দিলেন, 
এক দিন চলে এস আশ্রমে -- আবার হাসির ঢেউ 
সেই বৈরাগীর জাল, ভেসে গেলাম 
ঠিকানা দেখি ঠিকই ছিল, কোন মহাপুরুষের 
নামে জড়িত সেই রাস্তা, ১১২ কী ১১৩ বি কি সি 
পৌঁছলাম, দেখা মাত্র সে অরন্যানন্দ কি যেন 
তরঙ্গিত মুদ্রায় বললে - আমি জানতাম তুমি আসবেই 
আশ্চর্য্য, আমি যেন তার প্রেমিক কী প্রেমিকা 
হাসি থামতে না থামতে দেখি আমার সুপুরুষ 
মাংসল গায়ে তার হাত কিছু যেন খুঁজে চলেছে 
অস্বস্তির মধ্যে আদর যত্ন, যেন প্রাণ ঢেলে দিতে চায় 
দেখি ভক্ত বৃন্দ সব কটা অল্প বয়সী পুরুষ 
নারীদের প্রবেশ না কী বর্জিত, পবিত্র ভক্তি মার্গ 
আরো কত কিছু, বিশ  বায়িশের বয়সে ওই সব 
ভারী ভারী মন্ত্র মাথার উপর দিয়ে গেল 
সাঁঝ ঘনিয়ে এলো, দেখি গায়ে থেকে হাত গুলো 
আর সরে না, প্রণাম করে বললাম গায়ে হাত দেবেন না 
মাথায় হস্ত রেখে আশীর্বাদের নিয়ম জানি 
ওখানেই বৈরাগের শ্রী ইতি, আর ফিরে দেখি নি.
--- শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১১

পরাশ্রয়ী পুরুষ

পরাশ্রয়ী পুরুষ 
নাকের ডগায় সিঁদুরের কিছু কণা দেখে 
ভালবাসার ঠাওর করা যায় না 
তোমার ওই উত্তরে শাঁখা ও পলার
দ্বন্দ কোথায় যেন ভেসে উঠে ছিল 
অবশ্যই ওই সোহাগের চিহ্ন নজীর পড়ি নি 
না জানার সত্তেও তোমার বিতৃষ্ণার সুর 
নিজেই যেন তটবন্ধ ভেঙে ফেলেছিল 
আমি কিন্তু ওই ঘায়ে হাত দিতে চাই নি 
সহানুভূতি কিংবা সম্মোহনের বশিভুতে 
নাটকীয় প্রেম দেখলাম তোমার অতৃপ্ত মনে 
অসময়ের বৃষ্টির সম ক্ষনিক শান্তি দিয়েছে 
সেই থেকে অবৈধ প্রণয়ের বীজারোপন
প্রেম আবার বৈধ ও অবৈধতা মানে না কী 
আলাপের আধারশীলায় আমি জানিয়ে দিয়েছি 
যে আমি মুখ্য অতিথি এবং তুমি শুধুই 
বাঞ্ছিত বাস্তু ভূমি, আমার ইচ্ছার বাহিরে 
তোমার কোনো গতি নাই, আমি পরজীবী 
অমরলতা, যেখানে মন চায়, সাম্রাজ্য গঠিত করি, 
ক্রমশঃ তোমার জড়িয়ে পড়া, যেন আমার 
উত্থানের পথ প্রসস্ত করে দিয়েছে 
ওই নাকের ডগার সিঁদুর গেছে মলিন হয়ে 
পুরাতন কাপড়ের দোকানে নির্বাচনের বিধান কী 
আছে, এই ভাবেই তোমার অস্তিত্ব গেছে হারিয়ে 
আমি হয়ে উঠলাম মহা নদ, ভাঙনের স্রষ্টা 
এবং তুমি গুটিয়ে গেছ সমস্ত ব্যথা 
জানি তুমি একাকী পড়ে থাক অভিশপ্ত জীবন 
নিয়ে, আমি চির পরজীবী আবার 
পুষ্প ভরা উচ্চ গাছের সন্ধানে //
--- শান্তনু সান্যাল  

শনিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১১

পুনর্মৃত্যুর পথে


পুনর্মৃত্যুর পথে 
জীবনের এই জটিল চক্রব্যু ভাঙতে গিয়ে
অনেক কিছু যায় হারিয়ে, সরে যায় আপন জন 
প্রেমের অনর্থক বিলাপের কোনো অস্তিত্ব থাকে না 
নিজের শব নিয়ে দাড়িয়ে আছি মণিকর্ণিকা  ঘাটে
তারা সবাই সত্যবাদী রাজা হরিশ্চন্দ্র 
শ্বশান শুল্কের পণ জানি দেবে না কেউ 
আস্তে আস্তে আত্মীয়তার মুখোশ খুলে 
মুখ্য দ্বার থেকে ফিরে যাবে নিজের ভবনে 
এটা আমার প্রথম মৃত্যু তো নয় 
জীবনের রঙ্গভূমিতে কত যে নাটক, প্রহসন 
ঘটে যায়, সবাই তা কী মনে রাখে 
এই ধর সে দিন তুমি আমার নগ্ন ছবি আঁকলে 
জানি কিছু পয়সার জন্য আমি রাজি হলাম 
বাঁচার পথ খুঁজতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করা 
কোনো আশ্চর্য্যর ব্যাপার নয় 
কিন্তু যাদের জন্য এই মরণ আত্মসাত করলাম 
তারাই শেষ গায়ে আগুন দিয়ে লিখে দিল 
আমি কলঙ্কিত, নোংরা, নষ্ট মানুষ, বাজারু 
এই মৃত্যুর ভষ্ম গায়ে মেখে আসলে 
আমার আত্মা গেছে অমৃত মন্থন পার করে 
তাকে কেউ আর মারতে পারবে না 
পার্থ সারথির মতে -
নিজের অন্ত্যসংস্কার করতে গিয়ে দেখি 
যারা আমায় ভালবাসত তারা সব ঋণ আগেই 
মুক্ত করে, খাতায় এক এক হিসাব লিখে রেখেছে 
ওই সমস্ত ভালবাসা, প্রেম, অনুরাগ, প্রণয়
নাটকের গাদা গাদা পৃষ্ট বুকে নিয়ে 
নেমেছি তিলাঞ্জলী দিতে, পুনর্মৃত্যু পথে //  
-- শান্তনু সান্যাল 

বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১১

অলৌকিক

জীবন্ত হৃত্পিণ্ড নিয়ে আছি সম্মুখে 
এই ভাবে তফাতে যেও না সরে,
নির্বাক স্পন্দনের কিছু বাঞ্ছিত রেখা 
চায় স্বীকৃতি, শর্তের বাহিরে পাওয়া,
পার্থিব সমর্পণের সীমান্তে ও আছে -
নতুন এক অভূতপূর্ব সিংহ তোরণ,
অন্তঃকরণ ও তোমার সৌম্য আঁখির 
মধ্যিখানে রয়েছে সে অনামিত প্রেম, 
এই বেগবান প্রবাহে শুধুই থেকো
আশেপাশে, ঘূর্ণাবর্তের জাদু লয়ে যায় 
শুন্যতার দিগে ক্রমশঃ নিমজ্জিত, 
এই মিহিন সাঁঝে, নির্বাপিত হয় উঠে 
সমস্ত বাসনা, মনে জেগে রয় শুধুই 
তোমায় চেয়ে থাকার অনিন্দ্য চাহনি,
এই চাহনি তে গড়ে যেতে চাই 
জীবনের ধ্বংসময় প্রাচীন অনুরাগের 
লুপ্তপ্রায় সভ্যতা,নিঃস্বার্থ মূল্যায়ন, 
অলৌকিক প্রণয়ের ইচ্ছে প্রজ্বলিত হয় 
উঠে শিরায় শিরায়, এমন সময় তুমি 
মানবীর রূপে যেন দিব্যতার দিগে এগিয়ে 
যাও নিরন্তর,শুভ্র চন্দ্র রশ্মি রেখা উর্ধ মুখী //
---- শান্তনু সান্যাল 

নির্ঝর দীপ্তি

না, জানতে চেয় না প্রণয়ের অথৈ গভীরতা

অজস্র অনল শিখা জ্বলে উঠে নিমিষে
সহস্ত্র সাওনের ধারা বহে গেছে জীবনে
তবু নিভি নি তোমার অনন্ত ভালবাসা,
হৃদয়ের সেই অতৃপ্ত গহ্বরে
অর্ধ প্রস্ফুটিত কত শতদল ভেসে যায়
লবনীয় অথাহ সলিলের উপরে,
কত স্বপ্ন গেছে বদলিয়ে
স্ফটিক শৈল রূপে, ঝরে যায়
বিন্দু বিন্দু অনুরাগ অশ্রু, ঝুলন্ত
পাষাণী জটাকৃতির অঙ্গ হইতে,
এই পাতাল পথে নিঃশ্বাস যায় হারিয়ে
রহস্যময় গুহা পেরিয়ে ভেসে উঠে
মধ্য মহাসাগরের বুকে,
মনের ব্যথিত উর্মিমালা ধেয়ে যায়
তোমার প্রেমের অন্তহীন সাগর তীরে,
যেন তুমি আজ ও দাড়িয়ে আছ
অবনত মেঘের অণু পরমাণু প্রবাহে
আমার তৃষিত বক্ষে বিলীনতার অভিমুখে,
সেই মহা সিন্ধুর তটে দেখি তুমি
হয় উঠেছে প্রকাশ স্থম্ভের নীল জ্যোতি
রিক্ত পাত্র নিয়ে, আমি হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকি
তোমার অমৃতময় ঝরিত নির্ঝর দীপ্তি
রোমাঞ্চ মিশ্রিত সেই তোমার হাসি
কোনো দিনেই ডুবতে দেয় না জীবনের মহাদ্বীপ
আমি ভেসে যাই দিশাহীন  তোমার ওই
ভুবন মোহিনী রূপের অদৃশ্য বিরাট তরঙ্গে //
--- শান্তনু সান্যাল