শনিবার, ১২ মার্চ, ২০১১

মধুর মুহূর্ত

মধুর মুহূর্ত
সরিয় না স্বপ্নের যবনিকা কিছু ক্ষণ দিও
মোরে ঘুমের দেশে অযথাই হারিয়ে যেতে,
ফুটেছে আজ চাঁদের চার পাসে জাদু বলয়
থামিয় না এমন রাতে সুরভি ছড়িয়ে দিতে,
দুঃখ সুখের সন্ধিক্ষণে অদৃশ্য প্রীত বন্ধনে
ভুল না হে চন্দ্রিমা সুধাপ্রাণ ভরিয়ে দিতে,
জেগেছে অসংখ্য নিশি পুষ্প লতিকা বৃন্তে
কস্তুরিময় পলে মন চাহে মৌ ঝরিয়ে যেতে,
পথের ক্লান্ত ধুম্র গেছে লুপ্ত বাস্পিকৃত হয়ে
ভুল না প্রিয় জীবনের শুন্য ভরিয়ে নিতে,
জানি ক্ষিতিজে উঠেছে মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত
 হৃদয় চাহে নাএই মধুর মুহূর্ত সরিয়ে দিতে.
--- শান্তনু সান্যাল

সোমবার, ৭ মার্চ, ২০১১

অজানা পথিক

অজানা পথিক 
কোন জ্বলন্ত পথে গেছে আমার বসন্ত 
গোধুলি বেলায় রেখে গেছে প্রশ্ন অনন্ত 
পলাশের রং ঝরেছে নাকি, কেউ সহজে 
দিয়ে গেছে এক  মৌন বেদনা চিরন্তন 
বিজনে ভাঙা সুরে বাঁসুরী কেঁপে যায় 
জ্বলে উঠে যেন একাকী প্রদীপ অকিঞ্চন
উধ্বস্ত দেউলের বুকে এখনো কি গাহে 
পাখিরা গান বলে রয় প্রেমের অবদান 
সে  কোন দেশের পথিক খুঁজে বেড়ায়
হারানো দিনগুলি  অতীতের কিছু ঘ্রাণ
সরে সরে যায় ছায়ার যবনিকা ক্রমশঃ 
ভেসে উঠে শেষ প্রহরে বহু চাপা ক্রন্দন
একাকী কে যেন হেঁটে যায় রেল লাইনের 
উপর দিয়ে দূরে, মুক্ত করে  সর্ব বন্ধন 
সকালমুখী সেই যাত্রা কি যায় পার হয়ে 
ওই নদীর পুলে নাকি সবাই যায় হারিয়ে 
ঝরা বসন্তের এই ভাবে যাওয়া উদাস করে 
মন, কিন্তু কেউ ত থামালো না হাত বাড়িয়ে.
--- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১১

আমি কি আছি ?
এস দাও আগুন এই ছাত বিহীন ঘরে
মাটির ভিত্তি, কঙ্কাল ময় দেহের দেয়াল
যাও পুড়িয়ে, কোথায় আছে মিছিল মশাল !
কি বা আছে আমার ঘরে দু খানা ঝুরি
বেলচা, শাবল, বাবুদের দেওয়া মাটি
কাটার আসবাব দামী, মাটির হাড়ি, ছেঁড়া
মাদুর, ভাঙা খসা উঠোনের নিয়তি,
দড়ি বিহীন খাট ঝুলানো সকালের গায়ে
কাঁধের কালো দাগে লুকিয়ে রেখেছি স্বপ্ন
আপনজন আবার কোন জীবের নাম জানি না
কোথায় কোন বস্তিতে তারা নাকি নাচ
গান করে, বেঁচে আছে সেই বড় উপলব্ধি
বেড়া দেব কার লাগি, দুই চার মরা গাছ নিয়ে
কিসের মায়া, তুমি বললে আমার ও নাম আছে
ভালো কথা, লিখে রেখো নিজের কাছে
ধার ফিরিয়ে দেব আগামী জন্মে, এই মাঝ
আঙ্গুলের কি বা মূল্য, দাও পুড়িয়ে
হাড়, মাংস ই যখন নাই গায়ে কি হবে দেখে
হিরক বলয় চিকচিকে !
--- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

ঝাউ বনের সেই অর্ধ উত্খনিত ঢিবি 
জ্যোত্স্না রাতে খুলে উন্মুক্ত বুক খানি 
চাতক কি কোন অপরিচিত নিশাচর পাখি 
হটাত তির্যক ঝাপটা মেরে, ধরে নিয়ে যায় 
সুক্ষ্ম কীট, পতঙ্গ, তৃণ ও শিখর 
ডানার শব্দে কেঁপে উঠে প্রাচ্য ইতিবৃত 
পোড়া মাটির ভাঙা অশ্ব,পুতুল, কলশি
মাটির ফুল, পাতা, শ্যাওলা মাখা স্বপ্নগুলো 
বাষ্পময় আলোয় খেলে দুই আকৃতি 
ফিসফিস কথায় জোনাকিরা হাসে, ফাঁস করে 
গোপন মর্ম, উড়ন্ত ছায়াকৃতি কিছু ক্ষণ 
স্থির থেমে রয় শ্বেত চাঁপার বৃন্তে 
ধুম্র বলয়ের রূপে দোল খেলে, হারায় 
আবার প্রগট সর্পাকার উর্দ্ধমুখী -
তারা লৌহ যুগের প্রান্তরে যায় উড়ে 
পরিতৃপ্ত করে দেহ ও প্রাণ, সারি সারি আধজ্বলা
কাঠের অঙ্গারে খুঁজে প্রেমের আলেয়া 
পর্ণ বস্ত্র চ্যুত করে মৃগচর্ম করে ধারণ 
মনের অরণ্যে হিংস ভাবের উত্পত্তি উতুঙ্গে
মৃগয়ার বেশে উলঙ্গ ভাবনার পুনর্জন্ম 
সে করে যায় চিত্কার, সভ্যতার সঙ্গে চাঁপানো
আদিমতার উদয়, তারা নিরন্তর হেসে যায় 
তামসিক রাত্রি ঢেলে রয় রহস্য রোমাঞ্চ 
ক্রন্দন ও হাসির মাঝখানে আকৃতি ফিরে পায় 
লাজুক সকাল, তুলে থাকে অমূল্য ইতিহাস 
ডিবির বক্ষে নখের দাগ কিংবা পাখির পদচিহ্ন
এঁকে যায় জীবনের বাস্তবিকতা, শিশির ভেজা তুলিকায় !
--- শান্তনু সান্যাল      

শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১



আলোছায়ার খেলা 

নিশিগন্ধ ভরা হৃদয়ের কম্পন, 
আধখোলা জানালায় লিখে আসে 
প্রণয় গীতি, অনুরাগের অনুভূতি 
তুমি হয় ত টের পাওনিএই অতিক্রমণ 
ঘুমের ভরে গেছ ভুলে জানালা দিতে ?
দেখো নি হয় ত বহু দিন ধরে 
নিজের প্রতিচ্ছবি,ফুলদানির ফুলে কী 
গন্ধ যায় নি বদলিয়ে,জানো না যে তোমার 
নয়নের পাতে সাজিয়ে গেছে কে যেন 
প্রজাপতির স্পর্শ, রেখে এসেছে মৃদু
 ভাবনার পশম বালিশের তলে, ছড়িয়ে 
দিয়েছে অদৃশ্য অস্তিত্ব,মনে হয় 
অনেক দিন দাড়াও নি অলিন্দে ছুঁয়ে 
সুদূরে কৃষ্ণচূড়া ভেসে যায় বাতাসে !
দেখো নি আজ ও চোখ মেলে আকাশের 
শাশ্বত নীল, কবে গেছে মিলে 
আবিরময় সমুদ্র তীরে,কত কাল দেখো নি 
হয় ত পারদর্শী জলধারা 
বহে যায় একাকী অরণ্য পথে প্রতিবিম্ব 
সাজিয়ে বুকে, থেমে রয় চাঁদের আলো
যখন তুমি যাও স্বপ্নে হারায়ে 
খুঁজে পাগল মন কস্তুরী মৃগ সম, নদী 
পাহাড়, বন বনানী, ঢেকে রাখো তুমি 
প্রণয়ের পুষ্প, মদির আঁখির ধারে 
খেলে যাও জাদুময়ী কী যে মেঘের খেলা 
মনের ভাঙা গড়া, ছলনা কী আত্ম প্রবঞ্চনা !
নদীর গভীর স্রোতে যেন ভেসে যায় 
আলো ছায়া --
--শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

নিস্পন্দ সাঁঝের বেলা নিঃশ্বাসে ভরে উঠে 
অন্তরঙ্গের পরিচিত সেই মধুর সুরভি -
কে যেন ছুঁয়ে যায় অন্তর্নিহিত ভালবাসা,
দিনের শেষে নলিনের বেশে ভেসে যায় 
হৃদয়ের ঝিলে অবিচলিত একাত্ম ভাবে,
ভাবনার স্থির প্রবাহে দেখি সহস্ত্র দীপমালা 
কম্পিত শিখায় গেয়ে চলেছে বৃন্দ গান,

শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

তারা পোষ মানে না


তারা পোষ মানে না


চাঁদ,পুষ্প,আকাশ, শব্দের জাদু
সবাই শুধুই স্বপ্ন দেখে যায়
জীবনের বৃষ্টি ছায়ার প্রান্তে
অভিশিপ্ত হৃদয়ের মরুভূমি
নষ্ট মেয়ের ভাগ্য হয় যায়
লাঞ্ছনা,কলঙ্ক সমাজপতিদের
থু থু গায়ে মেখে সে এক
দিন, বহিস্কৃতবাজারু হয়ে যায়
নষ্ট ছেলেদের যে কিছুই
হারায় না, জন্মগত তাহারা
নষ্ট কর্তা,বহুগামী স্রোত
যৌন সমাগমের মহাসাগর
কোনো ভেদ বিভেদ নাই,
পুরুষালি জগতে প্রাকৃতিক
অপ্রাকৃতিক বলে কিছুই নাই
দেহ তৃপ্তির সেই বন্য আকাঙ্খা
কোনো বিচারধারা মানে না
নদীর শুধুই চায় ভাঙ্গন
কেবল ভাঙ্গন, তটভূমির বেদনা?
তার লেনাদেনা কিছুই না
সে হাহাকারে আনন্দ ভোগ করে
তারা পোষ মানে না //
--শান্তনু সান্যাল