বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১


স্মৃতির সরু পথে 

পরিত্যক্ত  জীবন, বন্য আগাছা, নামবিহীন  

গুল্ম ঝোপ, কিন্তু ফণীমনসা ভুলে না ফুটতে  

উধ্বস্ত ঘর, ধ্বংসিত আচ্ছাদন, ভূমিসাত দেয়াল 

স্বপ্ন এখনো উচ্ছ্বাসিত, বহুভুজ পথে 

না কোনো অনুতাপ নাহি কোনো অভিযোগ 

তোমার অবর্তমানে ও শিখেছি বাঁচতে 

তা সত্তেও, সে ছিল এক দুঃস্বপ্ন, প্রচণ্ড আতঙ্ক   

অনিদ্রিত কালরাত্রি, ভাঙা নিঃশ্বাস  

বিভ্রমিত ভাবনা, কখনো আবার ধেয়ে যাই 

স্মৃতির সংকীর্ণ গলি পথে, নিরন্তর, উদাসীন 

দেখি তুমি এখনো মনের কাছে 


জীবনের সন্নিকটে, ভুলিতে চেয়েছি বহু বার 

তোমার বর্চস্ব হৃদয়, আত্মা, দেহে একাকার 

বিভক্ত করা সহজ না, মুশকিল বটে 

বিগলিত লৌহ পথে তবু যাই আমি হেঁটে 

কি ভাবে বিমুখ করি পরিবেশের এই 

প্রফুল্লিত কুসুমের হাসি, পাখির বৃন্দ গান 

আমার জীবন চায় নতুন যাত্রা, ভিন্ন আলো

এই দুঃখের সান্দ্রতা, তীব্রতার কি মূল্য  

কত মুখে যায় হাসি হারায়ে 

চুম্বন,আলিঙ্গন, যুগল শয়ন রাত্রি, দেহের গন্ধ
  
দিলাম করে মুক্ত আসক্তির শৃঙ্খল 

পুছে নিলাম বুকের ঘনীভূত নিশ্বাসের বাষ্প,

অধর উষ্মিত দাগ, পঞ্জরাস্থির আদ্রতা 

চন্দ্রিমা দিও না উঁকি আজ আমার সোহাগের 

যামিনী !
--- শান্তনু সান্যাল



সার্থক জীবন

অবিশ্বাসের কিছু নাই, প্রিয় বন্ধু, সদ্য

কুসুমিত জীবন দেখেছি সেই নয়ন তীরে

স্বীকার কর অথবা না, সাস্বত সত্য

ভিড়ের মাঝেও তুমি একাকী, হারানো এক দ্বীপ

আপন মনে হেসে যাও শুন্যতা ঘিরে

অদৃশ্য ছায়া ঢেখে রাখে তোমার মুখ খানি

আন্দোলিত মন খুঁজে বেড়ায় শুধু আমায়

সিক্ত সমীরণ বহিয়া আনে সুরুভি

বয়ন শিল্পের প্রক্রিয়া দিবস রজনী গতিশীল

স্বপ্ন গুলো রয় ঘুমিয়ে মিহি রেশম তন্তুর মাঝে

ভাবনার গুটি জড়িয়ে রাখে হৃদয় খানি

লাজুক সংবেদনা, গোপন মন্থন

ভরে যায় জীবনে মিষ্টি রঙের বাহার

মন চেয়ে রয় মিলনের তিথি, সুপ্ত আবেগ

ছুঁতে চায় মন সুন্দর ফুল, সৃষ্টি করে পাষাণে দেবতা

অর্থ সন্ধান করে প্রতি মূর্ত অমূর্ত রূপে

শিশুর নিস্বার্থ হাসি, বিশুদ্ধ করে যায় দেহ ও প্রাণ

নিসর্গ টানতে চায় নিজের কাছে অনায়াস

মন হয় উঠে সহসা কবি অপ্রকাশিত

জীবনের মূল্য যায় হটাত বদলিয়ে, মুলায়ম


ভাব, কুতিস্ত লাগে সুন্দর, আস্তিক হয় উঠে কালা পাহাড়

জীবনের দৃষ্টিকোণে সপ্ত রঙ্গী ক্ষিতেজের উদয়


বন্য পুষ্প যেন প্রস্ফুটিত চতুর্দিগে

নব কোষে, নব পাপড়ির গায়ে  সঞ্চারিত  মধু কনিকা

মিলন বিন্দু চির সুবাসিত, অবিরল প্রহাবিত

উদ্গমবিহীন সে এক জলরাশি

মৌন বেলা শুধায় প্রেমের অনুভূতি

চন্দ্র ও চন্দ্রিমা করে অভিসার, নিশি প্রসুন

বৃন্তের বক্ষে করে আত্ম সমর্পণ
--- শান্তনু সান্যাল


সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১১

নবম মাসে 
সংকীর্ণ দ্বার,প্রকাণ্ড গর্ভ গৃহ,গহ্বর পথ
কোনো বাধা নাই,যাও অন্তঃপুরে -
প্রলয় শিখা উজ্বলিত,হৃদয় পরিশোধন
সতত প্রবাহিত, নিদারুন হাতুড়ির ঘাত !
চিরযৌবন লালসা, জীবনের পূর্ণ ভোগ 
লজ্জা নিষেধ, খুলে রাখো বস্ত্র খানি 
মুখোশ,মুদ্রাদোষ,পরকিয়া প্রেম,সজ্জনতা 
অসুভিধে কোথায়, দুর্যোধনের নগ্নতা 
গান্ধারীর সতীত্ব, অমরত্ব গ্রহণ কর -
পারদর্শী কাচের পাত্র, অদৃশ্য দ্রব্য কিংবা
শুক্র জল পান কর, প্রলয় নৃত্যের পূর্বে 
ভুল না,এক বার দেখতে আত্ম প্রতিচ্ছায়া !
 প্রক্রিয়া অশেষ, হস্তাক্ষর রয়েছে বাকি 
জামিন বাহ্য দেহ প্রস্তর, পুনরায় প্রাপ্তি 
পরিশ্রুত প্রণালী, অনন্ত অসীমের যাত্রি
আর ভাবনা কিসের, পূর্ণ আলোকিত রোম
প্রতি রোম, দাও ভুবন পার পাড়ি
ফিরে যাও গর্ভাশয়ে বিপরীত স্রোতে 
পুনর্জন্ম নবম মাসে, দেখবে নিজেকে 
বিশুদ্ধ রূপে, স্বর্ণিম আভায় ঝল মল নিখুঁত.
---- শান্তনু সান্যাল   

রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১১

ঘুম আসে না কেন সারা রাত

জরায়ুর অণু, পলাশ গাছের কাণ্ড
অচেতন লাক্ষ, লাস্যময় অতৃপ্ত ভাবনা
শুকের খোল ঝুলে রয়েছে ত্রিপল্লবের নীচে !
রেশমের কীট, হামা গুড়ি করে আবেগ
নাল বিছিন্ন কমল, দেবতার পদতলে -
ঝলসে যায় বৃন্ত, কেন্দ্রকে উঠে আসে স্ফীতি
ঋতুচক্র চঞ্চলমতি, ঘুরে যায় ঘড়ির কাঁটা
মস্তিষ্ক, বক্ষ, নাভি, কটিবন্ধের সীমানা
হইতে জীবনের কামনা বহমান, চিরন্তন
অবিরাম ধেয়ে যায় স্রোতস্বিনী, নিসর্গ
অবাধ্য, করে যায় প্রতিপলে নবীন সৃষ্টি
প্রেমাঙ্কুর পবিত্র কি অপবিত্র, অপরিভাষিত!
উর্ধস্থিত জলধারা নিম্নগামী শুধুই বহিতে জানে
বিপরীত স্রোতের স্বপ্ন, কুহকে কুয়াশা
ভরে যায় অন্ধকার যদ্যপি তারক খচিত
আকাশ দেদীপ্যমান, জ্যোতির্ময় আকাশগঙ্গা
জীবনের অন্ত প্রহর, দুঃখ দায়ক মায়া
সন্ধান রত ইচ্ছা, ধেয়ে যায়, সুদূরে নীল ছায়া
গড়ে মন কাল্পনিক জগত, আজন্ম বেঁচে থাকার
অদম্য, অস্বাভবিক আকাঙ্ক্ষা, খুলতে চায় না
দ্বার খানি, কড়া নড়ার শব্দে রহস্যময় আগন্তুক
রজনীগন্ধা জেগে রয় সম্পূর্ণ নিশা ----

---- শান্তনু সান্যাল


  

হোমাগ্নি

নির্বাক আরশি, অবাক পলাস্তর খসা দেয়াল
খুলে চলেছি অন্তর্বাস, কুড়িয়ে রাখি লজ্জা
বেঁচে থাকার ব্যতিক্রমিক প্রয়াস,
বেশিক্ষণ দেখো না গলন্ত ঘা, ঘৃণার পূর্বে
কর আমায় হোমাগ্নি, অদাহ্য নাভি
জঠর অনল, পরিমার্জিত, পুনর্জীবিত
করতে চেয়ো না, সব কিছু করে যাবে নিমিষে
স্বাহা, অন্তঃপ্রবাহ বহে যদি বহে যাক,
 থামিও না, উলঙ্গ জন্ম, নগ্ন মৃত্যু
নিরাবরণ জীবনের সঙ্গে করেছি সম্বন্ধ
বহুবার সে করেছে আমায় নির্বস্ত্র  
অনেক সময় নিজেই খুলে ফেলেছি ত্বক,সল্ক !
হতে চাই নি গঙ্গাপুত্র, ইচ্ছামৃত্যুর
বরদান চাহি নি কোনো দিন, নিয়তি কে
দিলাম ক্ষমা করে, কেন ঘিরে আছো
চতুর্দিগে, কি চাও পরিশেষে, রক্ত
হাড়, মাংস, বীর্য, মেধা, মজ্জা, স্নায়ু, স্পন্দন
সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ উপভোগ করেছে জীবন!
অশ্রুর লবনতায় আর ঢেকে রেখো না
মায়াবী দেহের মৃত ভূমি, অফলন গাছের
স্থিরতার কোনো অর্থ নাই, ইন্ধনে দাও কি
ঝড়ের পথ চাও! কিংবা নদীর ভাসান -
--- শান্তনু সান্যাল

পৃথিবীর বুকে 
চিলেকোঠার অন্ধকার, বেয়াড়া পড়ন্ত বেলা 
সিঁড়ির ধাপে অদৃশ্য পায়ের উদ্বিগ্ন চলা ফেরা 
ভয়াতুর স্নায়ু, নির্লিপ্ত মনে আলোর ঝিলিক -
সূর্য্য জারজ সন্তান, খুঁজতে চলেছে বংশাবলী,
সন্ধ্যা হলো বিগত ইতিহাস, রাত বিবস্ত্র হাসে !
সমুদ্র তলে,অথৈ,প্রগাঢ় আঁধারে ঘুমিয়ে আছে -
নাকি জন্মদাতা নিভৃত ভাবে,বিহান জড়িয়ে 
সমস্ত গায়ে,ঢেলে চলেছে আগুনের শুক্র, বিন্দু 
বিন্দু,তবু ত ভেসে উঠে না আগ্নেয়গিরি শিশু!
অবশেষে জরাগ্রস্ত লাট পড়ে থাকে শৈল তীরে, 
জলীয় আগাছা জড়িয়ে, অংশুমালির উদয় -
উদাসীন,বিবর্ণমুখে চেয়ে থাকে বসুধার বুক !
পৃথিবীর স্তনে বৈমাত্রেয় গ্রন্থী নাই, সে করে 
যায় গ্রহণ, গরল, সুধা, তাপ সন্তাপ, সব কিছু.
--- শান্তনু সান্যাল



শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০১১

দেহের ভিতরে দেহ
মেঘ, নদী, বনপথ, অভয়ারণ্যের মুখ্য দ্বার
বোবা চাঁদ, ঝির ঝির হিমল বৃষ্টি
কটেজের সীমারেখা, নেমে আসে বন্য কুকুর
বহুগামী জোছনা ঘুরে বেড়ায় সারা রাত !
তীব্র আবেশ,মদির নয়ন,আবরণহীন সানিধ্য
বিষাক্ত গন্ধ,বক্ষস্থলে উষ্ণ কটিবন্ধীয় -
অনুভূতি, ত্বকের ছিদ্রে পরাগের জন্ম, আশ্চর্য্য
স্বেদের মধুরতা, অন্ধকার চুষে নোনা ভূমি !
মধু চক্রকোষ, দেহের যন্ত্রণা, ভাটার সংকেত
প্রলম্বিত বর্ষা, জানালার কাচ, পতঙ্গের
বধ্যভূমি, অবিরাম ঝিঁঝির গান -
আবেগের নিঃশ্বাস,মাংসল স্ফীতি, লোম পুঞ্জে
যেন মেঘের আঙ্গুল বুলিয়ে যাওয়া, এখনো কি
পাহাড়ের চুড়ায় উঠছে শ্বেত বাষ্পের ধুম্র বলয়
বাহিরে হয় তো থেমে গেছে হিংস রাতের খেলা
সকাল গড়িয়ে গেল কবে, ঘুম আদৌ -
সরাতে চায় না, জড়ানো কার দেহের ভিতরে
দেহের অনুভূতি !
--- শান্তনু সান্যাল





  

শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০১১

জ্বলে অদৃশ্য দীপশিখা ----
অশান্ত মনে অস্থির চিত্তে দিও না নৈবদ্য খানি
সাধনার পথে জড়িয়ে মায়ার পরাশ্রয়ী ব্রততী,
যজ্ঞের জ্বলন আনে ক্রমশঃ নয়নে কোণে নীর
ধুম্র বলয় ঘনীভূত রূপে করে ঝড়ের আমন্ত্রণ,
প্রেমের উপগ্রহে সাজিয়ে স্বপ্নের কল্প ইহলোক
আত্ম  সমর্পণের পরে কিসের যে আত্মমন্থন !
ওই দেবালয়ের গর্ভগৃহে জ্বলে অদৃশ্য বাতি -
দেখিতে যদি না পেলাম তা উত্সর্গের নিয়তি,
মহা অন্তরীক্ষে ঝুলে প্রেয়েসির পুষ্প দোলনা
স্পন্দন দুলিয়ে রয় দিবা নিশি সে অনন্ত প্রীতি,
খেলে যায় রৌপ্য বরণী মেঘের শিশু নিরন্তর
দুঃখ সুখের ছায়া নিয়ে আনে গ্রীষ্ম  শ্রাবণ -
বজ্রধ্বনির সঙ্গে টেনে লয় সে বক্ষে ভয়াক্রান্ত
অবোধ, দিগভ্রমিত, নিরীহ সমস্ত চেতনা !
--- শান্তনু সান্যাল