সোমবার, ৯ মে, ২০১১


বাহ্য বলয় 
অন্তরে দাহ চিরস্থায়ী 
বাহ্য ভুবনে আলোর সন্ধান !
জীবনের বর্ণালী সীমাবিহীন 
নিজস্ব স্বার্থ গড়ে মহা বলয় 
অহংকারের চতুর্দিগে ঘুরে যায় 
সহস্ত্র দর্পণ দিবা নিশি -
অস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি,দুষিত কেন 
মরুভূমি, মুখ গুজে উঠপাখি !
বালুর ঝঞ্ঝা,মেঘের যেন আভাস,  
জীবনের কল্পিত ছায়া স্থির কিন্তু 
ইন্দ্রিয় প্রবাহ চঞ্চল দিয়ে যায় প্রতিপল 
ঘাত প্রতিঘাত, নয়নের মরিচিকা 
অদৃশ্য সে এক প্রেম,গোপন সৌন্দর্য্য !
আত্মস্বীকৃতি যেন পুরাকালীন দংশ,
নির্ঝর বিন্দু হাতের মাঝে -
মুক্ত মণি,খসে গেলে মাটির কণা, 
আকাশের পরিধি অসীম -
কপালের রেখা সীমাবদ্ধ,
চেয়ে ছিলাম করতে বিশাল সংগ্রহ 
প্রেমের প্রতিবিন্দু, হৃদয়ের সংকুচিত 
ভূমি পারি নি বুকে টানতে, 
সে গেছে ফিরে, মৌন পথে অশ্রুময় চোখে,
সুদূর ক্ষিতিজে, উড়ে যায় শ্বেত মেঘ -
বৃষ্টি বহুদূর, অনন্য প্রান্তরে -----
--- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ৪ মে, ২০১১

পুরাতন গন্তব্য পাথর



পুরাতন গন্তব্য পাথর  
শুষ্ক মুহুর্ত, আদ্র  নয়নের পাতি 
নিঃশ্বাসে ঘনিষ্ট গন্ধ, আজ ও কি  শিশির 
ঝরে  নিশান্তে -
অল্প কিছু জোছনা  মনে হয় 
পড়ে রয়েছে দিনলিপির পৃষ্টে, 
আবছায়িত পথ, আঁধারের জেদ, 
আলোকের অনুরোধ, কি আর ক্ষতি যদি 
এখনো জ্বলে হৃদয়ে স্মৃতি প্রদীপ,
হারাবার সেই আতঙ্ক  গেছে হয় অস্মৃত ,
তবুও পথের জন্য রেখো কিছু 
দিপান্বয় বুকের স্পন্দন,
জানি গেছে ফুরায়ে মিষ্টি সে গন্ধ, 
 আর উঠে না চাঁদ চেয়ে ,ভাবনার সেই 
তরঙ্গ, তবু ও আকাশে ,চাঁদ ভুলে না ভাসিতে, 
দক্ষিণা বাতাস, জানি না আজ ও বহে কি 
পল্লব বিহীন গাছে হয় তো কিশলয় 
গেছে গজিয়ে শাখা প্রশাখায়,
ধুসর আকাশে কি ছাই রঙের প্রস্তর 
দেখা যায় কিংবা অথৈ নীলের সাম্রাজ্য 
এখনো দাপটে করে রাজত্ব,
জানি না ,নিম্ন উপত্যকায় কি অসময়ের 
বৃষ্টি ভিজিয়ে গেছে, দাহিত বাবলা বন !
ভালই লাগে ভাবতে, পাহাড়ের ওই পারে, 
বহু কাঁটাগাছ, নাকি শাপমুক্ত,
ভরে উঠেছে ফুলে ফুলে বিথীকা,
জীবনের এই বৃষ্টি ছায়ার পথে আজ ও 
মনে হয় পড়ন্ত বেলায়,
মেঘেরা নেবে এক রাত্রির আশ্রয় 
আনমনা মন খুলে রাখে পান্থশালা !
চেয়ে থাকে জানালার ভাঙা রঙ্গীন কাচ,
সাঁঝ নেমে আসে আপনমনে, হরিনের পাল 
খুঁজে বেড়ায়  গোপন ঝীল, 
পাহাড়ের ঢালু ভূমি এখন মৃগয়ার দেশ !
--- শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১১

আবর্তন বিন্দু


সেই আবর্তন বিন্দু তে রেখে এসেছি 
বিরোগ, নঞর্থকতা, বিদ্বেশীয় ভাবনা 
অধিকিন্তু  লেগেছি ভালবাসতে জীবন 
সেই বাঁক শীর্ষ বিন্দুতে, বর্ষার  সাঁঝে 
আদ্র  সংবেদনায় দেখেছি  কিশোর স্বপ্ন 
পরিপক্ব ভাবে সেই  উত্ফুল্ল মৃগ নয়নে  -
তড়িত আলোয়  সহসা হারিয়েছি আমি  
শিশুসুলভ  হৃদি খানি, তোমার সুক্ষ্ম হাতে 
সেই রাতে, তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে ছিল 
অন্তঃপুর , দেহ ও প্রাণ  একাকার 
লিখেছিলেম প্রথম প্রেম পত্র  অন্তে
চার দিগে ছড়ানো চিরকুটের মাঝে 
আমি জানি না  কোথায় হইতে 
এসেছিল আগুন্তুক কবিতার বাতাস 
করে গিয়ে  ছিল ঠিক ,সমস্ত  বানানের  
ত্রুটি ,শব্দে সুরুভি ও ভাসে সেই  দিন 
জেনে ছিলেম আমি, এই মিষ্টি আভাসে 
পুরুষালি বৃন্তে  ফুটে ছিল পাষাণী  ফুল  
 তোমার স্পর্শে  যেন ছিল মোহিনী মন্ত্র 
সহজে  হিংস  ভাবনারা  পোষ মেনে, করে 
ছিল আত্মসমর্পণ - - - -  
- শান্তনু সান্যাল

বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১১

আদ্র গোলাপ
গীত সঙ্গীত, উন্মুক্ত এক উচ্ছ্বাস
সাঁঝ হইতে বিলম্বিত যামিনী
জাদুমন্ত্রিত, আবেগময় মুহূর্ত গুলি
শেষ প্রহরে ভাঙলো নিদ্রা কোন
অজানা রঙ্গীন ক্ষিতিজে -
মধুরিম প্রভাত কি স্বপ্নের নিয়তি 
পাখিরা যায় উড়ে নতুন দিগন্তে
বিঘলিত মোম, ছাইর মিহিন গুড়ো
আর হৃদয়ের ধরাতল -
কিছু শিশির বিন্দু, নয়ন পাতে করে
ঝিলমিল, ছুঁয়ে যায় ব্যথার চিহ্নে
কিছু অতিরক্ত সময় চায় সংবেদনা, গুছিয়ে
চলেছে জীবন আবার ফুলদান
সদ্য কুসুমিত গোলাপ
উঠিয়ে রাখে মন, ভাঙা মদ পাত্র খানি
খণ্ডিত পুতুল, খুলে দেয় বাতায়ন.
--- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০১১


ঘুমন্ত উপত্যকা 




নিশাচর পাখি, শিষের পুনারাবৃতি -
উচ্চ তরু শাখা,অনুরণন ভেঙে যায় নিস্তব্ধতা
ঘুমন্ত গভীর উপত্যকা, জ্যোত্স্না ভরা আচ্ছাদন
বাঁধে মন প্রণয়ের সেতু, অলিন্দে হইতে দেখি
সুদরে ছাড়ানো ছোট্ট স্বর্গ যেন ভেসে যায়
অন্ধকারে,রাত্রি পূর্ণতার দিগে -
 অভিলাষার শিশু খেলে হারানো প্রাপ্তির খেলা
মেঘেরা ছুঁয়ে যায় পাহাড়ের শীর্ষ, কুয়াশার ঢেউ
উদ্বিগ্ন, আদ্র ভাবনারা চায় আশ্রয়
তুমি নিঃশব্দ, নিমগ্ন চেয়ে আছো, গাছের
 রুক্ষ কান্ড খানি, জোনাকিদের সর্পিল খেলা
দীর্ঘ নিঃশ্বাস, প্রবল ঝড়ের পূর্বাভাস -
ঝিমন্ত চোখে লুকানো প্রণয়ের আন্দোলন !
আবেগের গর্ভে স্বপ্নের সাগর মন্থন
সুমেরু প্রান্তরে হিমের বিঘলন
নীলাভ আকাশে চাঁদের বিহ্বলতা
সুদূরে বিহানের পথ চাওয়া, আমি শুধুই তোমার
এই অপরূপ রূপ দেখে যাই -----
- শান্তনু সান্যাল 

সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১১

জীবনের যজ্ঞ


পাহাড়ের ব্যথা অবুঝ,অপরিভাষিত

নীলের গভীরতা ঘনিয়ে আনে রহস্য
চোখের অনুমান চির দিন কি 
প্রকৃত সত্য
নিঃশ্বাসের লেখচিত্র লিখে যায় কুয়াশা

হৃদয়ের সমীপে তোমার আবছা উপস্থিতি 
ভাবনার কম্পন, বন্য নদীর আন্দোলন
দ্বিধা গ্রসিত মনোভাব, অনিদ্রিত রাত্রি
হৈমন্তী সমীরণ, পিঙ্গল প্রণয় পত্রাবলী ঝরে
আকাশ হইতে, তিমিরময় হৃদির ভূমি
স্মৃতি কপাট খোলা রয় সারা রাত, চেয়ে
থাকে সংবেদনা, ফিরে যায় কার পদধ্বনি
ধীরে ধীরে,পাহাড় হয় উঠে তাম্র বরণী
আগুনে তপ্ত ভালবাসা,ডাকে শ্রাবনের ধারা
নিশি যায় ফুরায়ে, মেঘবিহীন নীলাম্বর
নিষ্ঠুরতার সঙ্গে করে প্রভাতের সংরচনা
রক্তিম ক্ষিতিজ, বলিবেদির দিগে অগ্রসর
পুনঃ পুনঃ জীবনের যজ্ঞ হয় উঠে জাগৃত !
-- শান্তনু সান্যাল 

রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১১

পরিপূর্ণতা

পরিপূর্ণ প্রেমের প্রত্যাশা,আত্ম বিশোধন -

অপ্রত্যাশিত আর্বিভাব, জীবনে স্বপ্নোদয়

অগাধ বৃষ্টির মেঘ, করে মন অঙ্গীকার -

আবৃত সম্পূর্ণ মরু ভূমি, আবেগ ঝরাতুর

স্বভাঙন চায় হৃদয়, বহু অংশে সম্বলিত, ভরিতে

প্রত্যেক জীবনের শুন্যতা, অঙ্গীভূত তুমি ও !

পক্ষপাত বিহীন, নীতিবোধের আদ্রভূমি

মুক্তিদান চাহে মন, উন্মুক্ত বিহগের সম যাত্রি

উপগ্রহের সৌন্দর্য্য, সম্মোহিত দেহ প্রাণ

পুষ্পের কুহক আমার অন্তর্মন, সমুদ্র

নদী, উপত্যকা যেন চুম্বকীয় ধুর্ব, শুধুই ডেকে

যায়, কর মম পার্থিব রূপ, আসক্তি মুক্ত

পূর্ণ মুক্তি চায় হৃদয়, দাও প্রিয়ে মুক্তিদান !

--- শান্তনু সান্যাল