শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১১


উন্মুক্ত বাঁধন 

তার প্রেমের পরিভাষা পরিবেষ্টক ছাড়িয়ে 
সীমান্ত, নদী, পাহাড়, সমুদ্র পার,
ভেসে চলেছে আকাশের 
নিগূঢ় আলোক 
গহ্বরে, 

ধরা দিতে চায় না সে, যদি ও প্রাণপণে 
ভালোবেসেছি তারে, নিখোঁজ 
কোন শিল্পীর সে এক 
অসমাপ্ত কৃতি, 
বোধ হয় 

অতৃপ্ত দেহের আগুন নিয়ে উড়ে চলেছে, 
শুন্যের অলৌকিক রং খুঁজতে, 
নির্বাক মেঘের স্পর্শ, 
অসময়ের 
বৃষ্টি 

কম্পিত বুকে নিয়ে একদৃষ্ট চেয়ে আছি 
তার বিস্তীর্ণ মেরূপ্রভা, সে এখন 
বিঁধে যেতে চায়, ত্বক ছিদ্র 
হতে স্নায়ু, মাংস
পেশী হতে 
অস্থি 

মজ্জার জগৎ, সে পরাজয় করে চলেছে 
ক্রমশঃ পুরুষত্ব, বাসনা, অহং,
ঢেলে চলেছে অজ্ঞাত 
দিব্য অমিয়
স্রোত,
খুলে দিতে চায় সে আলিঙ্গনবদ্ধ মায়াবী বাঁধন.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১১

সৃজনের দ্বারে

প্রবল বর্ষার সেই মায়াবিনী রাতে, উল্লম্ব
বর্ষণে যখন আকাশ পাতাল মিলে
একাকার, ক্ষিতিজ রেখা
খুঁজে পাই নি আমি,
ছুঁয়ে গেছি
তার
বিমুগ্ধ বিন্দু, ত্রিকোণের মধ্যস্থল, জৈব -
কেন্দ্রক, সেই সম্মোহিনী হাস্যের
মাঝে ছিল জীবনের উত্স,
অবারিত দর্শন, নগ্ন -
সত্যের  তর্ক বিদ্যা,
গর্ভের পাবক,
সৃজনের
ব্যথা, নাভিযুক্ত নিঃশ্বাসের সমীকরণ, খোলা
চোখে তার অনুভূতি সহজ নয়, প্রগাড়
আঁধারে ভেসে গেছি সেই গভীর
জলের নিম্নাভিমুখ গহ্বরে,
তবুও খুঁজে পাই নি
 দুষ্প্রাপ্য মুক্তার
সন্ধান,
শ্বাসরোধে উঠে এসেছি যখন ধরাতলে, তার
অধর সুধায়ে পেয়েছি ফিরে জীবন,
বুকের শিথিল স্পন্দন, হয়ে -
উঠেছে চলন্ত লেখচিত্র,
দেহের রন্ধ্র প্রতি
রন্ধ্রে তখন
ষটকোণীয় মৌ ভরার প্রক্রিয়ার সূত্রপাত !

-- শান্তনু সান্যাল
 






বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১১


নিঝুম নিশীথে 

গভীর নিশীথে, তন্দ্রালু চোখের কাজলে, 
খুঁজে পেয়েছি জীবনের হারানো -
সুর, অনুজ্বল স্বরলিপি, বেঁধে 
চলেছে মন তোমার 
পরশের রেশমী
বাঁধন, 
জেগে উঠতে চায় প্রসুপ্ত আগ্নেয়গিরির -
দহন, ঝরে যেতে চায় আকাশ -
কুসুম, খুলে চলেছে শুন্য !
নীল বিপুল শামিয়ানা,
আলোর জামীরা -
কেলাস
ছড়িয়ে যায় অজবীথি, জীবনের তৃষা
এমন সময় হয় উঠে প্রান্তর,
তার দুই অধর তীরে 
মরুদ্বীপ ভেসে 
উঠে, 
সহসা, নিঝুম শেষ প্রহরে জোছনা লতিয়ে 
গেছে আবেশিত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, নিশি
প্রসুনের গন্ধে উদ্বেলিত
মাংসপেশী, ভরে 
গেছে মনের 
মদির -
ভালবাসা তার বহুমুখী কোষের জগৎ ক্রমশঃ,

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting - night sea - Leonid Afremov

মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০১১


ঝড়ের পূর্বে

চক্রবাতের আভাস হয় ত পেয়ে ছিল,
সুদুর তীরের আকাশে উড়ে 
গেছে সারস যুগল, 
ষষ্ঠেন্দ্রিয়র 
জাগরণ,
সে দিন ও ঘনিয়ে এনেছে নিরবতা -
কিন্তু বুঝতে যুগ গেছে গড়িয়ে,
আবেগহীন ঝড় যখন 
গেছে বহে, তুলতে 
পারি নি মন,
ছাদের দড়ি রইলো নিঃশব্দ, অনুপায়,
উড়িয়ে নিয়ে গেছে প্রচণ্ড বায়ু -
বেগ, ঝুলানো স্বপ্নের কিছু 
রঙ্গীন পটশিল্প, আদ্র
ভাবনা, বিক্ষিপ্ত 
আবেশ, 
রিক্ত হাতে, নেমে এসেছি, আকাশ তখন 
বাষ্পময়, মেঘের অভিমান চুর 
ছড়িয়ে চলেছে জলবিন্দু,
কৌতুহলে খুলে 
দিয়েছি 
সদর দরজা, তার  আসা পর্য্যন্ত হয় ত 
জ্ঞান ছিল, পরবর্তী মুহূর্তে কি 
যে ঘটল, না আমি জানি 
না সে জানে, যখন 
ফিরে পেয়েছি 
চেতনা,
দেখি ফিরে এসেছে উড়ন্ত সিক্ত আবরণ,
ছাদের জগতে এখন চন্দ্রপ্রভা,
লেবু ফুলের গন্ধে 
উদ্ভাসিত
দেহ
ও প্রাণের উন্মুক্ত চিত্রবীথি, নিমগ্ন জীবন,

--- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/  
PAINTING BY -  CHRIS PLUNKETT

  

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১১


শেষ পোঁচ

বলেছিলাম শুনো নি যে সত্য, নিতান্ত তেতো !
তবুও দেখতে চাইলে গলৎ ঘায়ের জগৎ,
এখন বিতৃষ্ণা জাগিয়ে বসে আছ,
দেহের প্রাপ্তির পরে দেহের 
পরিত্যাগ, বৈরাগ্য ও 
 বিপথের মাঝে 
ছিল খুবই 
মিহি 
অন্তর, সেই মনের সুক্ষ্ম যন্ত্রে ধরা পড়েছে অতি
প্রলোভনের গতি, যাক যা হোক, তৃষিত 
নয়নে অশ্রু জাগায় অতৃপ্ত অভিলাষ,
আমি এখনো চতুরঙ্গ, উচ্ছলিত 
জলপাত্র, ভরে যেতে চাই 
রিক্ত মৃন্ময় শরীর,
তুমি কিন্তু 
কাচা, 
অগ্নিকুণ্ডের তাপে তপ্ত হও নি, ভেঙে যাবার 
আগে, ঠুকে দেখে নিও যে নিজের সদ্য 
গঠন, অন্যথা ভাঙনের পরে ভুলে 
ও ফিরে চাইবে না বসন্ত, সরে 
যাবে জীবন নদী অন্য 
অজানা ঘাটে,
চুপসান
 বসে রবে একাকী সেই বকুল গাছের নিচে ---

--- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১১


 মোহাবিষ্ট অন্তর 

আবছায়া জল রং ছবির মতো ভাসা ভাসা 
সঘন অরণ্য বিথির সীমান্তপ্রদেশে,
সে এখন মহুয়া বনের 
ভোরের উঠন্ত 
ধোঁয়া, 
শার্সির কাচে আবেগের বাষ্প বিন্দু -দ্রবণীয়,
আবেশহীন, ক্লান্ত, চুষিত, উভচর নৈশ - 
প্রাণী যেন আমার বৃষ দেহ, 
বসে আছে গুটিয়ে 
চতুষ্পদ 
আমলকির নীচে আধ ঘুমন্ত, হেলান মাথায়,
নাভি শীর্ষে ঘনীভূত কস্তুরী কণা,
এখন সংজননের পথে, 
ঝরে চলেছে 
মকরন্দ
বিন্দু বিন্দু পলাশবৃন্ত হতে মনের রিক্ত কোষে,
পাকিয়ে চলেছে অস্তিত্ব, নানান 
চাণক্য মান্ত্রিক সুচতুর,
টোপ ফেলার 
রণনীতি,
রেখাচিত্র প্রায় শেষের দিকে, এখন সূর্য্য অলস 
জালক ছড়িয়ে দিয়েছে মদ্যরঙ্গী 
গোলাপী সাঁঝ, এখন আমি 
পরিপূর্ণ ঘাতক জীব,
লুক্কায়িত ছোবল 
নিয়ে আছি 
পথ চেয়ে.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Antonela's Fine Art - painting 


শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০১১

আদিম যুগের সেই চাঁদ

চেয়ে ছিলাম চোখে চোখ রেখে কথা বলতে,
যখন সে এসেছে মুখোমুখি, যেন 
লুকোতে চায় নিজের ছায়ার 
আড়ালে নিজেই, টেনে 
আনতে চায় মন 
বহু বার তার 
 আলগা
অনাবিষ্কৃত রূপ, উন্মুক্ত আলাপ হত যদি 
তার আনত আঁখির পল্লব খুলত, 
খিলানের রহস্য, তির্যক 
হাসির রোমাঞ্চ,
সেই কাচের
পারদর্শী 
ছায়া পার করে যেতে চায় হৃদয় বাস্তবিক - 
ধরাতলে, বিংশ শতাব্দীর অনেক 
পিছনে, তাম্র কি লৌহ যুগের
আশেপাশে, নির্বিবাদ 
আখেটক জীবন,
মুখোশ 
বিহীন আরণ্যক ভালবাসা, সাংকেতিক সেই 
চোখের আদি ভাষা, আঙুলিক লিপি,
প্রণয়ের সেই নিশীথ রাতের 
দাবাগ্নি, নিশাচরের 
মাঝে জীবনের 
উত্পত্তি,
দর্শন, ধর্ম বিহীন সেই অমর প্রেমের প্রাপ্তি -
শুধুই চাঁদ জানে সেই রাতের মর্ম, 
আজ ও ভাসে আকাশে নিয়ে 
সেই হারানো রজনীর 
সুরভিত আলো,
অগণ্য 
উদ্ভাসিত হৃদয়ের ছড়ানো অসংখ্য মিলন বিন্দু,

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting - Cincyjim's