বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১২

তলহীন

দেখতে  চেয়ে ছিল সে ঝলসানো বুকের মাংস
পেশী, হয় ত পোড়া লোম ও ত্বকের 
গন্ধ তাকে কামার্ত ভাবে 
আবেশিত  করে 
গিয়েছে 
সে দিন, কিন্তু আমি বাধা দিয়ে জানিয়েছি, না, 
এখনো  জীবন জ্বলনশীল, হাত  দিলে খুঁজে
পাবে না নিজের  সম্ভ্রম, হারিও না 
অকারণে নৈসর্গিক কুহক, 
নিভুক  অরণ্য অগ্নি,
উঠুক আবার 
অঙ্কুরিত,
প্রেমের  কিশলয়, ছাইর স্তর পার করে ক্রমশঃ,
আস্তে করে তার দুই হাত, বুক থেকে 
সরিয়ে শুধিয়ে ছিলাম, ছিঁড়ে 
ফেল না কচি পাতার 
সঙ্গে তরুণ 
শেকড়, 
বোধ হয় সে সময় তার চোখে আমার অস্তিত্ব 
ছিল, কেবল জিজ্ঞাসাচিহ্ন, পরাজিত 
যোদ্ধা কিংবা কাপুরুষ, জানি 
না কি ভাবতে ভাবতে 
সে গুছিয়েছে 
খোলা 
বিনুনি, কিছু ক্ষণ চেয়ে রইলো বাতায়ন পারে, 
অবশ্যই তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে নিয়ে 
এক পশলা বৃষ্টি, ভিজিয়ে গেছে 
পাঁচ মাথা হতে মির্জা 
গালিব স্ট্রিট, 
আঁচল 
বুকে টেনে, আনত চোখে সে তুলেছিল কবিতার 
বই, চেয়েছিল অনুমতি বা  দিয়ে ছিল 
নিরব অভিশাপ, আমি কোন 
দিন তা বুঝতে পারি নি,
তার তেতলা 
হতে 
বাস স্টপ অব্দি নিস্তব্ধতার সঙ্গে হেঁটে যাওয়া, 
মনের ভিতরে পাতিয়ে ছিল বিচিত্র 
ভাঙন, এগিয়ে দিলাম তাকে 
হয় ত  জীবন পথের 
অনেক আগে, 
প্রেমের 
প্রমাণ করা টা হয় উঠি নি সহজ,  রাতে অনেক 
ক্ষণ ঘুম আসি নি চোখে, যেন  বিরাট 
একটি ভুল করে গেছি, কিন্তু 
সেই ভুলের সঙ্গে দেখি 
আগামী সন্ধ্যা 
হয় উঠেছে 
বেশি মধুর, দেখেছি তার মুখে অপ্রত্যাশিত 
বিশ্বাস, সঘন ভালবাসা, যেন নিশি 
গন্ধার বৃন্তে ফুটে চলেছে 
থোকা থোকা 
শুভ্র ফুল, 
কিছু লালচে ভাব, কিছু  আধখোলা পাপড়ি, গন্ধে 
ভরা অধিকরণ, অনন্ত সুবাসিত 
অঙ্গীকার - - 

- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
 painting river by Abhijit Bhattacharya





বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১২


মুখোশ বিহীন 

ব্যবহার ও  নিক্ষেপের মধ্যে হতে অস্তিত্ব কে 
টেনে আনা, খুব একটা দুঃসাধ্য  ছিল 
না, সময়ের  ধারার সঙ্গে তাই 
গা ভাসানো, অনেক 
সিদ্ধান্তের 
মেরুদন্ড শুধুই হিতোপদেশের বইর মধ্যে 
পাওয়া যায়, হাতির দাঁতের মতন 
শুভ্র ঝাকঝক, প্রদর্শনের 
জন্য প্রস্তুত, তার 
প্রেমের রূপ 
বিভত্স বলতে পারব না, সেই দ্বি অঙ্কীয়
নাটকে আমিও ত ছিলাম প্রমুখ 
ভূমিকায়, কালো পর্দার 
আড়ালে  খেলেছি 
স্ফিন্ক্সের
খেলা অর্ধাংশ  মানব কখনো পূর্ণ দানব,
আসলে নেপথ্যের হিংস্র  ভাব 
কোনো দিনেই বাদ পড়ে
না, আঁধার হল 
অনুঘটক, 
বিদ্যুত বেগে ভরে যায় বর্বরতা, আসলে
আদিম ভালভাসাই প্রদান করে 
সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি, মুখোশের  
ঝরে যাওয়াই হলো 
নৈসর্গিক 
সৌন্দর্য্য, মৌলিক, রুক্ষ, নিখুঁত সত্যতা.

- শান্তনু সান্যাল
wild waves - by Penny The Artist




কায়াহীন প্রহরী 

ঠিক বুঝেছ নেহাৎ সোজা সরল মনের লোক,
ঘাঁতঘোঁত, ছল চাতুরী বোঝে না, 
যা বাহির তাই ভিতর, 
সে জন্যই ঠকেছে 
জীবনের 
হাটে, 
তারা গুনি জ্ঞানী ফেলে গেছে শনির বলয় 
বারে বারে, তাদের রাজনীতির 
চক্রান্তে সে এখন দাবার 
ঘুটি, মাত খেয়ে ও 
হেসে যায় 
সমানে, 
তারা সবাই মহাভারতের যোদ্ধা  সুপুরুষ বা 
কাপুরুষ বলা সহজ নয়, শিখন্ডি 
দের কে চেনা মুশকিল, 
হয় ত আঁধার 
কিংবা 
আয়না জানে ভালো ভাবে তাদের পরিচয়, 
জীবনের রঙ্গমঞ্চে কত যে নাটক 
অমিমাংসিত শেষ হয়ে 
থাকে, ঝুলে রয় 
প্রেম ও 
বিরংসার চরিত্র গুলো ফেলানো যবনিকার 
গায়ে, দর্শক আসে যায়, পান 
চিবোয়, নিশুতি রাতে 
খোলস খুলে 
ভদ্রতার 
স্তুতি করে, কৃষ্ণের ছদ্ম রূপ ধারণ করে, 
সাহায্যের আড়ালে করে যায় 
চীর হরণ, সতীত্বের 
নতুন সংজ্ঞা 
গড়ে, 
মধ্যযুগীন সেই পঙ্গু মানুষ, হাঁটুর উপরে হাত 
গুটিয়ে বসে সারা রাত পাহারা 
দিয়ে থাকে, সে অর্জুন 
কিংবা যুধিষ্ঠির ও 
হতে পারে, 
নিরীহ 
চোখে দেখে প্রতাড়িত এলোকেশী যামিনীর 
রক্তাক্ত রূপ, সে দাবার ছকের 
বাহিরে লিখে পরাজিত 
যোদ্ধার বিস্মৃত 
কাহিনী, 
আসলে সে জানেই না জীবনের যুদ্ধের ইতি,
মহাভারত ত দুরের কথা - - 

- শান্তনু সান্যাল
river desert 

মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১২


বহুমূল্য সে জন 

আজ নয় কোনো কথা, শুধুই চেয়ে থাকা, 
পরস্পরের মুখ পানে, ভেসে যাওয়া 
নিষিক্ত রাতের আঁধারে, 
কোলাহল থেকে 
বহু দূর, 
যেখানে ঝরে অসময়ের বৃষ্টি, ভরে যায় 
বুকে, নীল নির্ঝর পাগল কবির 
এলোমেলো কবিতা, 
শব্দ গুলো 
উড়ে চলেছে ঝরা পাতার সাথে, নির্বাক 
খৈর রঙ্গী চোখের মায়া, ধরতে 
চায় মন উড়ন্ত আগুনের 
ফুলকি, জোনাকির 
আলোর 
ছলনা কিংবা পতঙ্গের ইচ্ছা মৃত্যু, কোন 
সুরে গেঁথে চলেছে তার প্রেমের 
উন্মুক্ত মালা, আবেশিত 
মণি মুক্তা লুটিয়ে 
যায় 
হৃদয়ের বেখাপ্পা মানুষ, উজাড় করে 
জীবন, ভালবাসতে চায় তাকে,
সে যে ভারী মূল্যবান 
হারিয়ে গেলে 
শুধুই 
হাহাকার, অসমাপ্ত যেন প্রলয়ের রাত্রি.

- শান্তনু সান্যাল
PAINTING BY JONAS GERARD s fine art 

সোমবার, ১৯ মার্চ, ২০১২

আঁধার পেরিয়ে - - -


পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সম্ভব নাই, তার এক নজরে
পৃথিবী পুনরায় আবর্তনশীল, বালুর
ঝড় থেমে চলেছে  আস্তে আস্তে,
জীবনের মরু প্রান্তরে
ফুটে চলেছে
নাগফণীর গুচ্ছ, জন শুন্য নিশি পান্থশালা,
রাতের যাত্রি হয় ত গেছে পৌঁছিয়ে
বহু দূর পেরিয়ে বাবলা
বন, নোনা জলের
ঝিল, ফিরে
যাচ্ছে আকাশে প্রবাসী রাজহংসের ঝাঁক,
ঝরে বিন্দু বিন্দু তার মৌ ভরা
হাসি, রঙ ভরে গেছে কে
যেন তাই দেখি
চঞ্চল সজল
আঁখি, অদৃশ্য জড়িয়ে রয়েছে বুকের মাঝে
কার ভালবাসা, কে যেন সরিয়ে
গেছে আবছা আরশির
জমা ধুলা, মলিন
মুখপান,
অকস্মাৎ হয় উঠেছে ঝলমল, পূর্ণ প্রদীপ্ত
অন্তর্মনের আঁধার, ছড়িয়ে গেছে
পবিত্র প্রেমের নির্ঝর, চার
দিকে টাটকা উচ্ছ্বাস,
জীবনের ক্লান্ত
পথে
সে যেন ভরে গেছে পুনর্জাগরণের অনন্ত
বিশ্বাস - - -

- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
art - desert_cactus by Felipe D Tapia

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২


জীবনের লয়ে 

কতটুকু যে পরিচয়, আর জীবন মরণের 
জামিন, গড়ে চলেছ নিজের মনে 
অনন্ত কালের  সহাবস্থান, 
জানি না কত দূরের 
অনুযায়ী তুমি!
ফিরে 
চেয়েছি যখন ও দেখি  সাঁঝের বুকে আছো
একাকী দাঁড়ায়ে, ডুবন্ত সূর্যের  দিকে
 চেয়ে রয়েছো এক লয়ে, 
জানি না  কীসের 
অভিলাষ, 
মৌন ব্যথা বুকে লয়ে ফিরে ফিরে আসো,
ঠিক আঁধারের পিছনে, গঙ্গার 
তীর হতে জনারন্যে, 
উঠছো মন্থর 
পায়ে 
মধ্যযুগীন শিলালেখা ডিঙিয়ে  সমাধি স্তম্ভে,
থেমে রয়েছো কিছু ক্ষণ দুয়ারের 
মুখে, যেন হারিয়ে এসেছো
সিম সিম খুলে যার 
মন্ত্র কিংবা
অন্ধকার বাদ দিয়ে ঢুকতে চাও স্বপ্নের ঘরে,  
তোমায় দেখে মনে মায়া জড়ায় 
অদ্ভুত ভাবে, অনিচ্ছায় 
ভালোবেসে যাই 
হে জীবন 
তোমায়, তাছাড়া বিকল্প নাই, তাই খুলে 
রাখি বিষন্নতার আবরণ, জীর্ণ 
আলনা, ভাঙা আয়না 
চেয়ে রয়ে নির্লজ্জ 
ভাবে,
নির্বস্ত্র জীবনের বিচ্ছিন্ন হাত পা, হৃত্পিণ্ড 
ভাবনার গোঙানি, নিঃশ্বাসের
বিগলন, নিরুপায় 
কিন্তু আবার 
জুড়তে 
বসি সারা রাত, একের পরে এক স্বপ্নের 
ক্ষত বিক্ষত টুকরো, চেয়ে থাকি 
দিগন্তের উদ্ভাসিত 
সরু রেখা.

- শান্তনু সান্যাল 
painting by Stephen Heigh - alone 




প্রতিবিম্বিত  মনের  অর্ঘ্য 

জানতাম  তুমি আবার ফিরে আসবে ভরে
আঁচলে সদ্য ঝরা  ফুলের  বাহার, 
হয় ত  গাঁথবে সিক্ত  মনের 
বরণ  মালা, আঁকবে 
উঠোনের  গায়ে
প্রথম বৃষ্টির  আল্পনা, তাই দেখি হৃদয়ের 
দেউলে ভেসে চলেছে  দিব্য  সুবাস, 
স্বপ্রকাশিত যেন  জীবনের 
গহিন  তমসা, অনাম
স্বরে  তরঙ্গিত 
ভৈরব  রাগের আলাপ, সূর্যের  আহ্বান, উঠে 
চলেছে নদীর বুকে  বাষ্পিত  নিঃশ্বাস, 
নৌকার  নিঃস্তব্ধ  দোলন, ঝরে 
চলেছে  আঙ্গুলের  ফাঁক 
হতে  জলের  অর্ঘ্য, 
বিন্দু বিন্দু প্রতিফলিত  প্রণয়ের  অবদান.

- শান্তনু সান্যাল  
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
Mallikarjuna Temple