রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১১

ত্রিকোণ

ত্রিকোণ 

চৈত্র মাসান্তে সেই নৈসর্গিক হ্রদের 
অনেকটা জলীয়ভূমি গেছে শুকিয়ে 
সুদূর নগ্ন, ধু ধু পাহাড়ের সীমান্তে 
মরিচিকা সম রয়েছে কিছু 
সজল ভালবাসার দিনগুলি,
 ওই মহুয়া বনের ছাই রং বন পথ 
হয় তো কিছু সুকনো 
কিংসুক কুসুম কিংবা 
কৃষ্ণ মৃগের করুন ডাক,
ভেসে যায় পল্লব বিহীন বিতানে, 
নল, দময়ন্তী ও রাজ হংস 
এই ত্রিকোনের মাঝে কোথায় যেন 
আছে, সেই  অলৌকিক বৃক্ষ 
 গাছের কাণ্ডতে লিখিত রয়েছে 
প্রণয়ীদের অজ্ঞাত নাম 
আদিবাসীরা বলে, গ্রীষ্ম কালে 
দাবানলের তাপে শাখা প্রশাখায় নাকি 
অসংখ্য ফুল ফুটে রয় 
কিন্তু সেই দৃশ্য সবাই দেখতে পায় না 
শুনেছি, ভরা পূর্নিমা রাতে 
যুগল অগ্নিস্নান করলে, সেই দুর্লভ 
প্রসূন দেহে প্রণয়ের সুধা ঢালে 
সে যে এক স্বর্ন খনির শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া 
জানি না কত জন এই ব্রত অঙ্গীকার করে // 
-- শান্তনু সান্যাল 

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১১

কলকাতা ডায়রি

কলকাতা ডায়রি
পুরনো বইর দোকানে খুঁজতে গিয়ে
ছিলাম, জীবাশ্ম শাস্ত্রের নামকরা
লেখকের বই, হয় তো রাশিয়ান কিংবা
নার্ভেজিয়ান, তুমি ই সেধে বললে
পাষানের শাস্ত্রে কী ভালবাসার আমেথিস্ট
ও থাকে না কী ! আমি মুখ ন দেখে ই
বললাম, সে তো জানি না -
তোমার অপরচিত সেই প্রশ্নময়ী আলাপ
ভূগর্ভ শাস্ত্রের পরিভাষা দারুন ভাবে
বদলিয়ে, দিয়ে গেছে যেন -
বিস্তৃত এক অনুসন্ধানের পথ,
ওই এক পশলা বৃষ্টির মাঝে, গল্পের
মধ্যে কলেজ স্ট্রীট হইতে বেথুন
কবে আমরা পৌঁছিয়ে গেছি মনে নাই,
আমেথিস্ট র বাংলা অনুবাদ সেই
আদ্র ভাবসে নিশীথে চেয়ে ছিলাম করতে,
পারি নি, জীবনের জাদুঘরে  সব কিছু ই
উপলব্ধ থাকে, জরুরি নয়
---- শান্তনু সান্যাল

অনেক দিনের পরে

অনেক দিনের পরে তুই আসলি
ভালই লাগছে, ত্রিস কী চল্লিশ বছরের পরে
আজকাল জানিস অনেক কিছু গুলিয়ে যাই
এই চশমাটার কী যে আবদার বুঝি না
মাঝে মাঝে আবছা
আবার অনেক সময় উজ্জল হয় উঠে
আবার দেখা হবে  ভাবতেই পারি নি
যাক, আর বল- কোথায় যে বসবি
জীবন আর এই তক্তপোষ, বেশ মিল না
একটু সাবধানে যেন বসিস
এই লাটুবাবু লেনের ঠিকানা ত কেউ ই জানে না
খুঁজতে নিশ্চই কষ্ট হয়েছে
এমনিতে খুব একটা কেউ আসে না
আসবে ও বা কেন, এই অন্ধ গলি তে
ভাড়া র  ঘরে, স্মৃতিগুলো কবে যে মরে গেছে
সবাই তোকে অবশ্যই অবাক চোখে দেখেছে
বলিস নি ত যে ত্তুই আমার এক কালের
বন্ধু, তথাকথিত বিদ্রোহী বন্ধু
যাক গে, বল- ওই মুম্বাই  থেকে এত দূরে
ভালই ত আছিস নাম আছে সুখ্যাতি ও কম নয়
প্রতিবেশী বাড়ির টিভি তে প্রায় তোর মুখ দেখি
ভালই লাগে, সবাই তোকে ভালবাসে
জানিস সেই যে তুই হটাত নিরুদেশ্য হলি
আমি সে দিন খুবই দুখিত ছিলাম
আমরা নিম্নবিত্তীয়, জামিন পাই নি
কাচা সেই বয়সে মনে হয়ে ছিল যে তুই
বিশ্বাসঘাতকতা করেছিস
কিন্তু আজ ভাবি ভালই করেছিস
বাঁচিয়ে নিলি গোটা কুটুম্ব কে
আমি জানতে চাই না তোর অকস্মাত
আসার কারণ -
কিন্তু তোর কিছু বিদ্রোহী কবিতা, উপন্যাস
প্রবন্ধ আমি এখনো সংগ্রহ করে রেখেছি
ওই উই ধরা কাঠের বাক্সের ভিতরে
নিয়ে যা হয় তো সিনেমার জন্য ভালো প্লট হবে
আর বল কী বা দিতে পারি, তোর জিনিষ তুই নিয়ে
যা, আমি না অতীত নিয়ে বাঁচতে চাই না /
--- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১১

কখনো কখনো

কখনো কখনো
বিরহ মিলনের বাহিরে ও আছে
সে এক অপ্রকাশিত হারানো কবির
পান্ডুলিপি, শব্দগুলো নিজেরাই
যেন খেলে যায় লুকোচুরি
কাঁচের সেই পারদর্শী ঘরে
মনের রঙ্গীন মাছেরাও বুঝি
অনেক সময় খেলে কানামাছি,
ভালবাসা ভেসে উঠে স্তরে স্তরে
যখন কোনো পরিচিত স্পর্শ
ছুঁয়ে যায় বাহ্য আস্তরণে
ব্যথার ফেনপুঞ্জ সরে যায়
আস্তে আস্তে সমুদ্র সৈকতে
সূর্যের ক্ষীণ আলো ভরে যায় স্বপ্ন
মধুর,এমন সময় আমি ভুলে যাই তোমারে
না, ভালবাসার ঢেউ কী শুধুই
তোমার জন্য, মনে পড়ে যায় 
কত অশ্রুময় মুখ চেয়ে রয়েছে যে আমায়
আশার হাত বাড়িয়ে, সেই মুহুর্তে
মন তুলে দিতে চায় যা কিছু হৃদয়ের
খুশি ও রং তাদের হাতে,
আঁকতে চায় জীবনমুখী অনুরাগের
কিছু অপূর্ণ ছবি, গড়ে দিতে চায়
কিছু খেলনা, আমি ভুলে যাই সব কিছু
এমন সময়ে ------
---- শান্তনু সান্যাল
  

বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১১

সে কী যে মায়া

 সে কী যে মায়া বুঝি নি আজ ও 
যেন অরণ্য নদীর বালু চরে 
খনন করে  যাই দিবস রজনী 
অঞ্জলি ভরা  তোমার ভালবাসা 
উঠে আসে জলের সেই ক্ষুদ্র 
রেনু স্রোতে, সেই দেখে  তুমি 
হেসে যাও শিশু সুলভ হাসি
আমি বারে বারে গর্তের গভীরতায় 
খসে যাওয়া বালু গুলো উপরে 
আনতে চাই, আর চেয়ে দেখি তোমার 
শ্যামবর্ণ মুখের দীপ্তি 
তুমি কখনো চেয়ে রয়েছে 
আমার বালু মাখা বুকের দিগে 
আবার মাঝে মাঝে নিমগ্ন চোখে 
এক দৃষ্ট হেরিয়ে চলেছ 
পাহাড়ের গায়ে সূর্যাস্ত 
সেই জামুনি সন্ধ্যার আগমনে 
তোমার অনেক কাছে বসে যাওয়া 
আমায় মন্ত্রমুগ্ধ করে যায় 
বালুর বক্ষে সজল প্রতিবিম্ব তোমার 
আমি আবিষ্কার করে যাই 
তুমি বল কী  সুন্দর লাগছে চাঁদ 
তোমার নির্মিত এই ছোট্ট ঝিলে, অদ্ভুত 
কই চাঁদ কৃষ্ণ পক্ষে 
নিজের প্রতিচ্ছবি চিন না আমি বলি 
তুমি শুধুই হেসে যাও 
জল প্রপাতের বিন্দু সম ছড়িয়ে 
বহু রঙ্গীয় জাদু 
এমন সময় জীবনের ক্লান্ত বেলা 
হয় উঠে মধুর হইতে মধুরতম //
--- শান্তনু সান্যাল  
  

বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১১

কমলা রং বিহান

কমলা রং বিহান 

  জানালার পারে মধুমাস
চেয়ে দেখি কমলারং বিহান 

পলাশের গায়ে সাজিয়ে গেছে
 কে যেন রঙ্গীন কবিতা গুচ্ছ,
উঁকি দিয়ে যায় কাঠ বেড়ালীর 
দুই চঞ্চল চোখে কার
 প্রণয়ের সুপ্ত অভিলাষ, 
ভরে যায় অন্তঃকরনে
 স্বপ্নময় অভিসার, 
সুদূর সাল সাগুন বনে 
কুহুক উঠে অজানা কোন পাখির,
 মনে হয় কে যেন ডেকে যায় মধু নাম,
আমি বিহ্বল হৃদয়ে সহসা 
খুলে যাই মুখ্য দ্বার, 
দেখি তুমি সদ্য প্রস্ফুটিত
 অনাম ফুলের দেহে
 ঘুমিয়ে রয়েছে এখনো,
আমি চাই সূর্য্য যেন ঢেকে যায়
 আবার সঘন মেঘের চাদরে,
নীলাম্বরী অন্তরীক্ষে দেখি
 দূর দূর মেঘের কোনো সাড়া নাই,
নিসর্গ জেগে উঠে বুকে নিয়ে অজস্র ভালবাসা,
 তোমার পরশে মধুমাস ছড়িয়ে
 গেছে মায়াবী বন্য সুরুভি দিগ দিগন্তে //
--- শান্তনু সান্যাল

মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১১

দড়িতে ঝুলানো স্বপ্ন গুলো

দড়িতে ঝুলানো স্বপ্ন গুলো 
 
অলিন্দ পেরিয়ে প্রত্যুষ কিরণ দিয়ে গেছে
 
তোমার অভিনব কবিতা 

খবরের কাগজ ভেবেছে সবাই, 

আধ ভাঙা কাঠের চেয়ারে আমি বসে
 
থাকি বারান্দার এক শেষে,

বিগত সাঁঝের তোমার গায়ের সেই
 
পরিচিত, অনুরাগী ঘামের গন্ধ 

জড়িয়ে, পড়ে যাই তোমার নয়নের
 
নিরব সাঙ্কেতিক লিপির অর্থ,

কে যেন শুধিয়ে যায় শাল গায়ে দিতে,

সেই ডাহুক ডাকে তোমার নির্বাক
 
মুখাকৃতি আস্তে আস্তে মনিপ্লান্টের
 
লিক লিক লতায়ে যেন সবুজ আভা
 
ভরে যায়, আর যেন শীতের আভাস
 
কেটে যায়, ব্রিটিশ যুগের বারান্দার
  
রেলিঙে হাত রেখে,আমি চেয়ে দেখি 

আকাশে, তোমার কবিতার শব্দ গুলো
 
ঝরে যায় উত্তর কলকাতায়, সোনালী
 
কৃষ্ণচুড়ার সেই বর্ষণে তুমি আছ যেন
 
আমার হাত ধরে, আর বারে বারে
 
বলে চলেছ একই কথা যে তুমি 

শুধুই একমাত্র আমায় ভালোবাসো,
 
এই ভাবে কত ক্ষণ যে দাড়িয়ে আছি 

আমি নিজেই জানি না, পার্শ্বের 

ডাকাডাকির মাঝে আমি দড়িতে 

ঝুলানো স্বপ্নগুলো নামিয়ে বলি -

যাই মা --

--- শান্তনু সান্যাল