না, জানতে চেয় না প্রণয়ের অথৈ গভীরতা
অজস্র অনল শিখা জ্বলে উঠে নিমিষে
সহস্ত্র সাওনের ধারা বহে গেছে জীবনে
তবু নিভি নি তোমার অনন্ত ভালবাসা,
হৃদয়ের সেই অতৃপ্ত গহ্বরে
অর্ধ প্রস্ফুটিত কত শতদল ভেসে যায়
লবনীয় অথাহ সলিলের উপরে,
কত স্বপ্ন গেছে বদলিয়ে
স্ফটিক শৈল রূপে, ঝরে যায়
বিন্দু বিন্দু অনুরাগ অশ্রু, ঝুলন্ত
পাষাণী জটাকৃতির অঙ্গ হইতে,
এই পাতাল পথে নিঃশ্বাস যায় হারিয়ে
রহস্যময় গুহা পেরিয়ে ভেসে উঠে
মধ্য মহাসাগরের বুকে,
মনের ব্যথিত উর্মিমালা ধেয়ে যায়
তোমার প্রেমের অন্তহীন সাগর তীরে,
যেন তুমি আজ ও দাড়িয়ে আছ
অবনত মেঘের অণু পরমাণু প্রবাহে
আমার তৃষিত বক্ষে বিলীনতার অভিমুখে,
সেই মহা সিন্ধুর তটে দেখি তুমি
হয় উঠেছে প্রকাশ স্থম্ভের নীল জ্যোতি
রিক্ত পাত্র নিয়ে, আমি হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকি
তোমার অমৃতময় ঝরিত নির্ঝর দীপ্তি
রোমাঞ্চ মিশ্রিত সেই তোমার হাসি
কোনো দিনেই ডুবতে দেয় না জীবনের মহাদ্বীপ
আমি ভেসে যাই দিশাহীন তোমার ওই
ভুবন মোহিনী রূপের অদৃশ্য বিরাট তরঙ্গে //
--- শান্তনু সান্যাল
বাংলা আধুনিক কাব্য গুচ্ছ / BENGALI MODERN POETRY - শান্তনু সান্যাল / SHANTANU SANYAL © It's subject to copyright.
বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১১
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১১
স্বর্ণিম বর্ণমালা
অভিষিক্ত পরাগে, ঘনিয়ে উঠে
ত্বম অনিন্দ্য হৃদয় ঢেলে রয় -
সুবাস, জীবনের মোহভঙ্গ বৃন্তে,
নব কল্পনার, কিশলয়ের শীর্ষে
যেন শিশির বিন্দু রয়েছে অস্থির,
পৃথিবীর ক্রন্দন থেমে যায় কিছু
ক্ষণ, ভূগর্ভ দহনের মাঝে,
ভূমিকম্প দেখে রয় অদৃশ্য সপন,
এই সৃষ্টির মধুরিম শয়নে
আমি পুঁতেছি দুর্লভ প্রেমাঙ্কুর,
ঢেলে গেছি আত্ম সুধা বারে বারে
সেই অঙ্কুরিত ভাবনার প্রবাহে
লিখে গেছি ইন্দ্রধনুর গায়ে কিছু
ভালবাসার গান, এঁকেছি মম
কল্পনার মনোরম ভিন্ন পৃথিবী,
এই সুন্দর কৃতির আড়ালে ও
লুকিয়ে রয়েছে বহু মরুভূমি
পরিত্যক্ত বন্ধ্যা বিস্তীর্ণ আকাশ,
যেন হাসতে গিয়ে ভেঙে গেছে
অশ্রু কটিবন্ধ, মণিমুক্ত হার
জীবনের এই আলো আঁধারের
নাগরদোলায়, দুলেছি আপন মনে
বহুবার, ত্বম প্রেমের প্রতিচ্ছায়া
লাগে ভালো, ভুলে রই কিছু পল
দুঃখ বেদন, তারা বলে আমি না
কী অর্ধাংশ মনু গ্রহণ,
ত্বম বর্চস্বমাধুরী, ভরে যায় জীবনে
নানান রঙের কাহিনী, গল্প, উপন্যাস
আমি তোমার প্রনয় কাব্যের পৃষ্ঠে
হয় উঠি স্বর্ণিম বর্ণমালা //
-- শান্তনু সান্যাল
সোমবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১১
তুমি, কলকাতা এবং মাতৃভাষা
আগামী জন্মে আমার শুধুই তিনটা জিনিষ চাই
তোমার ভালবাসা, কলকাতা এবং
মুখে বাংলাভাষা, এর বাহিরে নাই
কোনো অভিলাষা ----
এই তিন ভুবন ঘিরে আমি বেঁচে আছি
ওই গড়ের মাঠে সাত জন্ম
পেরিয়ে ও আমি পথ চেয়ে থাকব
সঘন বর্ষায়, জ্বলন্ত ফাল্গুনে
শারদীয় রাতে, শীতের প্রভাতে
বেলুর মঠে কিংবা বাবুর ঘাটে
আমার রুধিরে, নিঃশ্বাসে, দুঃখে, সুখে
জন্ম মরণে, তুমি, কলকাতা এবং মাতৃভাষা
থাকবে চিরন্তন, চিরস্থায়ী
মহাজল্প্লাবনে অথবা প্রলয়ন্কারী
ঘূর্ণিঝড়ে ও বেঁচে থাকতে চাই
বুকে জড়িয়ে রবি ঠাকুরের গান
সেউলি, কাঁশ ফুল, দেবীর আগমনী
ছায়াময়ী তুমি কুত্সিত কী সুন্দর
তা আমি জানি না, আমার প্রেমের উদয়াস্ত
তোমার হৃদয়ের মাঝে
আমি আর কোন অনন্য পথ শোধ করি নি
করতে ও চাই না - আমি চাই তোমার পরিপূর্ণ
প্রেম, দেহে বাংলার মাটি, কলকাতার জীবন !
কল্প লোকের বাসনা নাই
বাস্তবিক ধরাতলেই থাকতে চাই //
--- শান্তনু সান্যাল
রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১১
কলাবিজ্ঞ
শুধুই যৌন লিপ্সা, প্রেম ও ছলনা কিংবা
বস্ত্রহীন নারী পুরুষ, ক্রয় বিক্রয় অথবা
গিদ্ধ ভোজ দেখবে ?
এস দেখে যাও অন্তর্মনের ক্ষুধা, সমাজের
বিকৃতি, আমি পরিত্যক্ত বা অভিশিপ্ত !
বিক্ষিপ্ত ও যদি বল, দুঃখ পাব না
আমি বিভত্স বস্তির লোক
ওই ভারী ভারী সাধুভাষা বুঝি ই না,
পথেই জন্ম, পথেই দেখি স্বপ্ন, শেষে পথের
ধারে ই মরে যাই, জানি তুমি কোনো দিনই
ভালবাসতে পারবে না
ভাব করা এতই যে সহজ না ! তুলে নাও
কিছু গলিত কুষ্ঠের রঙ্গীন ছবি
বুকের চিত্র আঁকতে যেও না, এই ভাঙা
হাড় গুলো গেছে বহুকাল আগে শুকিয়ে
১৯৪৭ থেকে ২০১১, ঘুরেছি আমি, ওই
রক্তিম সীমান্ত হইতে বিভিন্ন প্রান্ত প্রান্তরে
দিয়ে যেও যত দিতে পারো শাপ, গালাগাল
সাজিয়ে বারবধু কিংবা বাস্তুহারা বলতে হবে না
স্পষ্ট ভাষায় বল - ভিখারী, দেশ হারা, জন্মহারা
ভবঘুরু, যাযাবর যত সব ফেলানো !
তোমার ভোটের তালিকায় আমার নাম লিখ না ,
আমার শুধুই পরিচয় রয়েছে
নেহরু কী টাটা আর্ট গেলারী, নিচে লিখে দিও
আহা রে ! বেচারা মানুষ ! যদি ওই কলাকৃতি
উজ্জ্বল দেখা দেয় না, তা হলে হেসে দিও
কলাবিজ্ঞর ভান করতে ক্ষতি আবার কিসের //
---- শান্তনু সান্যাল
painting by arup lodh - kolkata
শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১১
গেরুয়া আকাশ
অনেক সময় কিছু লিখতে, ভাবতে
কিংবা আঁকতে মন চায় না
আকাশ হয় উঠে গেরুয়া, চাঁদ যেন
ধরেছে বৌদ্ধ ভিক্ষুক রূপ
খালি পায়ে হেঁটে চলেছে অদৃশ্য পথে
ওই উঁচু নিচু রাস্তায় ঝরে যায়
পিঙ্গল বর্ণ শেফালির অগনিত ফুল
বুড়ো বট বৃক্ষের পাখিদের কলরব
সহসা হয় উঠে সনাতন নিরব
শব্দ গুলো খসে পড়ে ধরাতলে
দোলায়মান জটা শিকড়ে জীবন যেন
ঝুলতে থাকে দিবা নিশি
বিপরীত দিশায় নদীর ঢেউ
বহে রয় স্থির ভাবে
নৌকা গুলো সম্ভ্রমে ঘুরে
নিজস্ব বৃতে অবিরাম এক তালে
হাঁড়ির ফেন যেন উথলিয়ে পড়ে
অজ্ঞাত ধুম্র উঠে যায় ক্ষিতিজে
মহা অট্টহাসএর মাঝে কবিতার পংক্তি
দুটি হাত বাড়িয়ে
উলঙ্গ দেহে আগ্নেয় বস্ত্র চায়
আকাশগামী বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের দল
মোক্ষ বা কী যেন প্রাপ্তির আশায় এগিয়ে
চলেছে, পৃথিবীর চাপা ক্রন্দন অস্রবণ করে
আস্তে আস্তে থেমে যায়. যারা শুন্যে থাকে
পিছিয়ে যায় সাক্ষী পটলে
তারা বলে - লিখে যাও যত খুশি
এই দুরুহ কাব্য কত জন যে বুঝে
কৃষ্ণ রুপি দুঃশাসনের এই জগতে অভাব তো নেই /
---- শান্তনু সান্যাল
শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১১
উল্কা পাত
উল্কা পাত
মায়ামৃগ সম তুমি চেয়ে আছ বাহিরের জনসমুদ্র, অচেনা মুখ
কিংবা ছাউ নাচের নানান মুখোশ
রঙ্গীন আলোর আড়ালে আমিও রয়েছি
কোনো এক নিস্তেজ আকাশদীপে, সে হয়
ত তুমি টের পাও নি,বসে আছি মুখোমুখি
এই অজানা রেস্টরেন্টে, মুখ ঘুরিয়ে
তুমি কী যে খুঁজে চলেছ যদি বলতে
ওই দীর্ঘ ভাঙা গভীর নিঃশ্বাসে
ভালবাসা যেন হাঁপিয়ে উঠেছে
সুদূর নীল পাহাড়ের গায়ে সূর্য্য গেছে ডুবে
এই নিষ্তব্ধ ক্ষণে দিয়ে গেছে কিছু
প্রশ্ন চিহ্নেরআলেয়া ও জোনাকির আলো
অবহেলিত মোমবাতি জ্বলে উঠে
জানি না কোন হারানো করূণ সুরে
গোলাপ গুচ্ছটি হিমল হাতে ছুঁয়ে
সরিয়ে রেখেছ এই ভাবে মনে হয়
মধ্য রাতে নিশি ডাকের শিহরণ যাই নি
এখনো, না বলে ও বলে গেছ অনেক কিছু
হাসির প্রতি উত্তরে দেখি উল্কা পাত
তুমি হারিয়ে গেছ অজ্ঞাত কোন অন্তরীক্ষে
হয় ত তোমার মধ্যমা অঙ্গুলির মাঝখানে
গেঁথে গেছে হিরক বলয়
আস্তে করে স্পর্শ করি তোমার কোমল হাত
মোমবাতির আলো তে দেখি তোমার সরু আঙ্গুলের
ডগায় ডগায় স্বপ্নগুলো ঝিলমিল ঝিলমিল ----
আমি অবাক চেয়ে রই তোমার এই অভিনব
রূপখানি, শুধুই চেয়ে থাকি !
---- শান্তনু সান্যাল
বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১১
আজ ও ভালো লাগে
তোমার ওই ভাবে নিরব চেয়ে থাকা
যেন সব কিছু হারিয়ে পাওয়া,
আজ ও ভালো লাগে তোমার আড় চোখে
ছুঁয়ে যাওয়া, নিঝুম নীলাভ সাঁঝে
শঙ্খ ধ্বনির মাঝে ওই
সান্ধ্য প্রদীপ ঢেকে নিয়ে যাওয়া,
তুলসীর সামনে হাত জুড়ে কিছু নিম্ন
সুরে গাওয়া, অঙ্গনের আলপনায়
মুচকি হাসির রেখা,তুমি
এঁকে যাও জীবনের পরিভাষা,
পাত্ঝরার দিনে আঁচলের কোন দিয়ে
পুরাতন ছবির কাঁচের ধূল
নিমগ্ন ভাবে মুছে যাওয়া,
আজ ও ভালো লাগে, তোমার শ্যামবর্ণ
মুখের প্রদীপ্ত আলো নিঃস্বার্থ ভাবে
ধুপকাঠির মত জ্বলে যাওয়া,
ওই চশমার ভিতরে দুই সজল আঁখি
যেন শীতের রেশমি রোদ গায়ে মেখে
বসে রয়েছে বারান্দায়,
তোমার ওই সাঠ দশকের বাংলা গানের
আবৃতি, আজ ও ভালো লাগে
অধর বেঁকিয়ে লুকিয়ে হেঁসে যাওয়া,
দুপুর বেলায় বই বুকে রেখে সুপ্ত
অর্ধ খোলা ওই নয়নে
মমতার নৌকা বেয়ে সুদূর ভেসে যাওয়া
ভালো লাগে, প্রতিবেশীর সেই দুষ্টু
মেয়ের আবদারে তোমার অনিচ্ছায় উঠে
যাওয়া, ওই চন্দ্রাকার মুখে ভালোবাসার
সুরভিময় ঢেউর ভেসে যাওয়া
খুব ভালো লাগে তোমায় চিরদিন
মধুমালতীর সঙ্গে এই একান্ত ভাবে,
শুভ্র নিশীথে পরিপূর্ণ মিশে যাওয়া //
-- শান্তনু সান্যাল
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)






