রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

জীবনধারা


জীবনধারা
অনাবদ্ধ পার্বত্য শিখরে সূর্য্য অস্তগামী,
সন্ধ্যা নেমে আসে সাগুন মহুয়ার বনে - 
বন্য ব্রততী সম লতিয়ে যায় মনের বৃন্ত 
মন্থর বেগে বহে জীবনের ক্ষুদ্রনদী,ক্লান্ত 
দিবসের হাঁপানি বয়ে আনে অবসন্ন,কিন্তু 
এখানেই ঢালুভূমির অস্থিরতা জাগিয়ে -
রাখে মন ও প্রাণের অদৃশ্য স্বপ্ন লোক !
হামাগুড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে অন্যমনস্ক
ভাবে বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছার শিশু
জন্ম গ্রহণ করে,নিজস্ব প্রতি মায়া জাগে !
নিবিড় আঁধারে সুদূর বিস্তৃত ভূমিখণ্ড 
ভরে যায় ক্রমশঃ আলোর মহাসাগরে, 
জীবনের এই সন্ধিক্ষণে, প্রতি মুহুর্তে কল্প 
আভাস সাড়া দিয়ে বলে, অনেক কিছু 
দেখা, অন্বেষণ করা, পৃথিবীর মায়ার 
ভব্যতা, ভালবাসার গভীরতা,এখনো ত 
বহু প্রান্তরে আমার হয় নি যাওয়া,এই 
ভাবনা,পুনরায় ভালবাসতে চায়,ফিরে 
ফিরে আসে তোমার সমীপে জীবনধারা !  
--- শান্তনু সান্যাল 

শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

বিনিময়ের বিধান


বিনিময়ের বিধান 
জানতে কী যে যা চাও বুঝি নি আজ ও !
শুধুই সরিয়ে যাও দগ্ধাবশেষ অধিকন্তু,
খুঁজে থাক আঘাতের পুরাকালীন স্মৃতি-
 চিহৃ,এই উদারতায় মগ্ন কি ভালবাসা, 
অথবা করুনার ছলে দাবার ছক রেখে 
 স্বৈরাচারী শাসকের ভূমিকায় দাবি ?
এই বিনিময়ের খেলায় চিরদিন কী তুমি 
যাবে হয়ে বিজয়ী, যদ্যপি ওই অনুগ্রহে 
দেখিছি তোমার অহংকারের পরাজয় !
দেহের মরুভূমিতে চিরকাল অতৃপ্ত -
মেঘের চিরকুট যায় উড়ে,অচৈতন্য মনে 
কোনো দিনেই ফণী মনসায় ফুল ধরে না,
সেই আদিম মনোভাবের ধরাতলে দেখেছি 
তোমায় বহুবার হেলানো মাথায় কিছু -
ভাবতে,শুন্য জমি তে আঙ্গুলের ডগায় কিছু 
লিখতে, কত কাল এই ভাবে গেছি মোরা
পরস্পরের অস্তিত্ব ডিঙিয়ে, তবু ও মনে হয় 
অনেক কিছু দেয়া নেয়ার চুক্তি এখনো আছে 
বাকি,এই যে লেখচিত্রের বিন্দু অস্থির ভাবে 
নড়ে যায় জীবনের জ্যামিতি, কিন্তু সুদূর 
মুক্তির পথ সরে যায় অজানা ক্ষিতিজের 
সীমান্ত,কালরাত্রি জড়িয়ে বুকের পাঁজর পুনঃ 
স্বীকার করে চলে বিনিময়ের বিধান !
--- শান্তনু সান্যাল  

শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

হারানো পথে


হারানো পথে 
ওই নীল সবুজের নিঃশর্ত মিলন, সাঁঝের যবনিকা
টেনে, অশেষ গভীরতায় অগাধ ঘুমে হারানো !
পীত বরণী শশী উঠে আসে সরিয়ে নিঝুম উর্মির
প্রবাহমান বাহুপাশ, আমি চেয়ে রই শুধুই তোমায়.
এই জামীরা অন্ধকারে জোনাকিরা চুরি করে যায় 
তোমার নয়নতারার গোপন মিষ্টি আলো কণিকা, 
ভাশ্যময়ী এই অন্তরঙ্গতা ভরে রয় জীবনে জোছনা,
মনে হয় কত শতাব্দী ধরে তুমি জড়িয়ে রয়েছে -
একান্ত লয়ে হৃদয়ের সুক্ষ্ম, কোমল স্নায়ুতন্তু খানি, 
জলধির নিস্তব্ধ জলরাশিময় স্বরলিপি লিখে যায় -
আমাদের প্রণয়ের সংগুপ্ত গানের আরোহঅবরোহ,
যুগল অধরে থেমে রয় পৃথিবীর মধু আবর্তন.
আকাস্মিক ভাবে তোমার আলিঙ্গনে মিশে যাওয়া 
দেখি চন্দ্র হেঁটে চলেছে নভে, মেহেন্দি ভরা পায়ে !
কম্পিত সমীরণে মহুয়া গেছে ঝরিয়ে অহংকার 
কিংবা আবেশের লাগি গেছি মোরা সমস্ত পথ ভুলে ?
--- শান্তনু সান্যাল 

আবরণহীন


আবরণহীন 
প্রথম আলাপে ই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া, মনের
পৃষ্টভূমি, ভালো না লাগার কারণ খুঁজে পাই নি, 
পরিষ্কার,পারদর্শী, সেই হৃদির স্তরে, ভ্রান্তির -
কোনো আবরণ ছিল না, কেবল নগ্ন সত্য !
ওই পুস্তকীয় প্রেমের লুপ্ত শাখা প্রশাখার বাহিরে 
সে খুলে গেছে পেঁচানো গ্রন্থী প্রতি গ্রন্থী,
প্রণয়ের আর্বাচীন মুক্ত পরিভাষা, বিম্বিত সলিল,
অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা না বেঁধে সরাসরি,
সহজ ও বোধগম্য ভাষায় সে বুঝিয়ে দিল,
শুধুই সে ভালবাসে দৈহিক সংরচনা, হাড়, মাংস-
পেশী, রক্তের উত্তাপ, পূর্ণ পৌরষময় কাঠামো 
এখানে হৃত্পিণ্ড অর্থহীন, বন্ধ্যা ভূমি মাত্র !
অভিব্যক্তির পার্শ্বে ছিল উলেখযোগ্য পূর্ণতা -
একাকী তন্দ্রা হারা রাতে দেখেছি ওই ক্লিষ্ট কবিতা 
দাড়িয়ে রয়েছে সমুখে সম্পূর্ণ শব্দ বিহীন উলঙ্গ !
আর আমি খুঁজে বেড়িয়েছি হারানো বর্ণমালা, স্বর -
ব্যঞ্জন, লিপি, চন্দ্রবিন্দু ইত্যাদি, সেই দিন থেকে আজ 
পর্য্যন্ত, বিচিত্র অনুসন্ধানে আমি যেন বিক্ষিপ্ত !
খুঁজে চলেছি জীবনের বালুকা বেলায়, হৃদয়ের রক্ত বিন্দু 
মধ্য নিশীথে ব্যংগ্য হাসির বহ্নিশিখা 
চুসে বেড়ায় ভালবাসার চন্দ্রিমা, পাহাড়, নদী 
 উপত্যকা,সাল বন, মাদক মহুয়ার বিতান, বৃহতম -
ভূমি, দেহের পরিপূর্ণ ইন্দ্রিয়, সে ক্রমশঃ করে যায় শীথিল !
নাভির পরিধি জুড়ে এঁকে যায় রজত কমল সারি সারি,
বিশাল বক্ষে ঘনীভূত স্বেদ কনের স্খলন, ভিজিয়ে রাখে 
হৃদয়ের স্নায়ু, দীর্ঘ নিশ্বাসে ভরে যায় অজ্ঞাত তীব্র সুরুভি !
-- শান্তনু সান্যাল   

বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

প্রাকৃত সত্য


প্রাকৃত সত্য  
আদিকালের গুহ কন্দরা, মাকড়সা জালে ঘেরা
আঁধার খুঁজে দেহের দীপ্তি, মনের দ্বন্দ 
টেনে নিয়ে যায় মায়াবী পথে, অবশ শরীর 
পড়ে থাকে ঝরা পাতার উপর আকাশ চেয়ে, 
এই কন্টক শয়নে, জীবনের রোমাঞ্চ নির্লিপ্ত,
দুই মুক্ত হাত পূর্ণ সমর্পনের  দিগে -
এগিয়ে যায় অদম্য পিপাসার পিছনে,
সমুদ্রময় ভালবাসা ঢেলে রয় অপরাপর
তরলতা, নদীর বিপিরিত তরঙ্গে ফিরে ফিরে 
আসে জলমগ্ন বহু কামনার অণু পরমাণু
দেহের লোম প্রতিলোমে অতিরিক্ত পাওয়ার ইচ্ছা,
লক্ষ লক্ষ সুক্ষ্ম লালসার জন্ম !
প্রথম বর্ষায় যেন উন্মুক্ত পতঙ্গ 
এক গর্ভ হইতে অনন্য গর্ভে স্থানান্তরণ 
এই মহামিছিলের যাত্রী সীমাহীন, যুগবিহীন 
বাধা প্রতিরোধ নিয়মের ওপারে, সঘন তিমিরে 
যায় মিশে, সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার ব্যাখা 
বুঝতে চায় না,নিসর্গ সতত পরিবর্তনশীল 
উতক্রান্তির মায়া অপরূপ, শুধুই চায় 
নবীন কল্পনা, নব আনন্দ, নতুন সৃষ্টি 
এখানে দর্শন নিষ্ক্রিয়, দেহ হয় উঠে 
রাসায়নিক প্রযোগশালা, প্রেম ঘুলনশীল
দেহ ও হৃদয়ের মাঝখানে মস্তিষ্কের জাদু 
ভরে যায় অসমাপ্ত জোছনার অবিরল জুয়ার.
---- শান্তনু সান্যাল    

রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১১

সমর্পনের ভূমি


সমর্পনের ভূমি
প্রগাঢ অন্ধকারে উড়ে যায় কোন পাখির
ঝাঁক, বিস্তীর্ণ নীলিমার দেহে কী সাড়া দেয় ?
নিদ্রিত পৃথিবী হারায় ঘূর্ণন, চন্দ্র বিহীন রাতে 
তারক বৃন্দ গেয়ে যায় স্বস্তির গান, নিজেকে 
ছড়িয়ে দিতে যায় শুন্য ব্রহ্মান্ডে, নীলাভ 
আলো খেলে লুকোচুরি, নদীর ঢেউ ধরা দিতে 
চায় না, ধেয়ে ধেয়ে যায় উজানের মুখে,
এই উদ্বায়ী পরিবেশে মন ধরে রাখে উড়ন্ত 
স্বপ্নের পশম, লুকিয়ে দিতে চায় হৃদয়ের মাঝে,
নদীর বুকে জাগ্রত, গোপন স্রোতের প্রেম 
ভেসে উঠে মাঝে মাঝে নিঃশ্বাসের লাগি উপরে,
ঝরে রয় শিউলি অবিরাম সারা রাত -
শিশির কণিকা খুঁজে বেড়ায় সমর্পনের ভূমি.
--- শান্তনু সান্যাল  

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১১

ঈশানী মেঘেদল


ঈশানী মেঘেদল 
ফুলের মরশুম, সিক্ত হৃদয়ে ঢেলে যেও
না বিরূপ আগুন, মালঞ্চ সম থেক উন্মুক্ত,
এই অশ্রুময় লেখচিত্রে ও আছে অনেক 
অব্যক্ত, দ্বৈত গানের মধুরিম স্বরলিপি,
যেন ঝুলে আছে, ভালবাসার সুক্ষ্ণ জালে 
শিশিরময় অগনিত বেগুনি মুক্তমালিকা,
 কী বা আছে যদি এই কল্পনায় জীবনের 
শেষ দিন গুলি যায় কেটে নিমেষে নিমেষে,
অনির্দিষ্ট পথে হাটতে গিয়ে দেখি তুমি 
অপ্রত্যাশিত ভাবে  তুলে চলেছ ঝরানো 
শুভ্র হরিদ্রাভ কত অনাম ফুলের স্তবক,
জীবনের বিতানে তুমি সাজিয়ে যাও এই 
ভাবে পল্লবময় হরিত প্রদেশ বহু বার, 
অন্ধকার পথে জ্বলে যাও প্রদীপের পংক্তি, 
তোমার স্নিগ্ধ লোচনে জেগে উঠে অজস্র 
স্বপ্ন, অমন সন্ধিক্ষণে হৃদয়ের শান্ত সুর
 বেজে উঠে আপন মনে, ভরে যায় জোছনা
জীবন নদী ছুঁতে চায় ঈশানী মেঘের আদ্রতা.
---- শান্তনু সান্যাল