বুধবার, ১ জুন, ২০১১


জোছনার গায়ে  


অনুকম্পাবিহীন জগতে বহুবার
ধর্ম যোদ্ধারাই  লুন্ঠন করে গেছে  মনের 
মন্দির, দিয়ে গেছে ঘাত প্রতিঘাত 
নির্দোষের মাথায় দোষারোপ  
তালিময় বস্ত্র বন্ধু নয় কোনো জন্ম দাগ,
 প্রায়ই বসে থাকে আহত ভাবনা 
আদালতের ওই ভাঙা সিঁড়ির উপরে, 
প্রমানের কাগজ নিয়ে হাতে 
মৌসুম ফিরে চায় না সিক্ত চোখের স্বপ্ন,
 উচ্ছ আসীন সেই অভিশংসক
অনেক সময় অবিরল দিয়েছে মুক্তির 
বক্তৃতা, শুনিয়েছে ক্রান্তির কবিতা 
আঁধারে সে আবার দেখি বিক্রয়ের পথে,
দাড়িয়ে আছে অন্ধ গলির সীমান্তে 
 সেই পন্যবিনিময়ের আদিম ভুবনে !
তথাকথিত ত্রাণকর্তা সেই রাতে 
দিল মশাল আমার প্রতিবেশীর হাতে,
বারংবার শিকারে অগ্রসর সেই 
মুখোশ ধেয়েছে পঙ্গু তৃণ ভোজির পিছনে,
জঙ্গলের এই আইন মোছা যায় নি 
কোনদিন, ঘা  দিয়ে মলমের মাখামাখি,
সুযোগের শোধে সেই আঁখি দিয়েছে
বিশ্বাসঘাতকতা বহুবার বন্ধু,
তাপ্পি খুলে যাওয়ার ভয়ে ভীরু মন নিজেই 
উলঙ্গ হয়েছে  অনেক সময়, 
জীবনের বাস্তবিকতা বড়ই কঠিন,দুরূহ 
তবুও কালরাত্রি বলে স্বপ্ন মরে না কোনদিন ,
সেই অলৌকিক বিহানের সন্ধানে 
মন চায় ঘুমোতে কিছু ক্ষণ জোছনার গায়ে,
-- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১১

পলকা আবেগ

ভালবাসায় কোনো চুক্তি ছিল না 

বাধ্যতার প্রশ্ন উঠে নি 
পলকা পানপাত্রে হাত দিতে গিয়ে 
যদি স্বপ্ন ভেঙে যায় সহসা 
হাতলের বা দোষ কি -
নিখুঁত ভাবে, সূর্য্য অস্তাচল লিখে 
গেছে আকাশে, কাঁচের আবরণে 
হাত দিও যেন সাবধানে,
 লুপ্ত ফাটলে ছিল হয় তো কিছু 
রহস্যময়ী নিঃশ্বাস, মৌন কাহিনী !
ঠুনকের শব্দে ছিল চাপা ক্রন্দন,
চোখের ওই নদীর তীরে 
এখনো দেখি গ্রীষ্মের গুটিয়ে যাওয়া 
ভীরু জলরাশি, বহে কি স্থির 
বলা বড়ই মুশকিল,কিন্তু 
ওই ঝিনুকি চোখে হারায় নি এখনো 
মুক্ত মনি, হয় তো তৃতীয় নেত্রের 
কপাট খুলে গেছে মৌসুমের 
মধ্য রাতির তন্দ্রা,
সকালের পথচারী গেছে ফিরে 
পার্কের ফাঁকা বেঞ্চে শালিকের 
বিচলিত চাওয়া, কৃষ্ণ চূড়া ঝরে 
চলেছে এক এক,বাতাসে এখনো আছে 
কিছু অদৃশ্য মধু কম্পন,
দুপরের অলস বেলায় মন কি খুলে 
চলেছে বহু শৃঙ্খল গিঁট,
কিংবা আটকানো নজরের মরিচিকা,
ফেলে চলেছে হৃদয় মিহি বোনা 
ভালবাসার জাল, বলা মুশকিল 
ঠিকই ত সাঁঝ লিখে যায় নি ik
একাধিকারের চুক্তি ----
--- শান্তনু সান্যাল 

শনিবার, ২৮ মে, ২০১১

উড়ন্ত আবেগের মেঘ


দমকা ঝড়ের সেই তমসাবৃত রাত্রি
মন্ত্রমুগ্ধ করে গেছে জীবনের শুন্যতা,
সহসা বিস্মিত মনের আঁধার -
আকাশীয় ক্ষনিক আলোয় গেছে
পরিপূর্ণ ভরে, পুলকিত লোম ছিদ্র !
গেছে ভেঙে নদীর সর্ব পাষাণী তটবন্ধ,
অপ্রত্যাশিত রোমাঞ্চে প্রেমের আবেগ -
যেন প্রশান্ত মহাসাগরে ডুবেছে বৃহৎ
হিমশৈল,তীরের সমস্ত উপত্যকা
হটাত জল প্লাবিত, মহৎ ভাস্যভূমি !
তলদেশে যেন দীর্ঘ্য নিঃশ্বাস,
প্রবাল দ্বীপে জাগৃত রঙের খেলা,
উদ্ভাসিত হৃদয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিহীন,
বুকের নিম্ন ভাগে শীতাগ্নির উদয়
ভুমিগ্রস্ত ভাবনার কন্দে অদৃশ্য অঙ্কুরণ,
 জীবনের ছন্দে অনাম সুবাসিত গন্ধের
অতিক্রমণ, ইন্দ্রজালিক সানিদ্ধ্যে
পুংজাতীয় মকরন্দের বিস্ফোরণ -
অবাক মায়াবী রাত চেয়ে রইলো শুধু
উড়ন্ত শিমুল তুলো কিংবা আবেগের
সারি সারি রুপালি মেঘের উড়ে যাওয়া,
চাঁদের পার্শ্বে গেছে তারা মিশে,
উদভাসিত এক বিরাট বলয়ের পরিনিতি !
ঝিমন্ত চোখে এখন বিন্দু বিন্দু
শিশিরের সংগ্রহ করে থাকে -
প্রণয়ের শেষ প্রহর !
--- শান্তনু সান্যাল
 

শুক্রবার, ২৭ মে, ২০১১



আদ্র রাত্রি

পুনঃ জ্বলুক অনল,কাল বৈশাখীর
অসমাপ্ত রাত্রি বহিবে সকাল পর্য্যন্ত
নিবিড় অন্তরঙ্গের উপাদান
আসক্ত গ্রন্থির  উন্মুক্ততা
নৈসর্গিক ঢালু পথে বহে তরলতা,
সেই পৃথিবী সৃজনের সাঁঝে
দিয়ে ছিলুম প্রতিশ্রুতি, আজ
প্রন্তবর্তীত হয়ে উঠেছে প্রেমের রূপ
অসীম ,অপরিভাষিত এক উপাসনা,
ঢেলে গেছে জীবনের অঙ্কুর
পাষাণে দেখি তাই সজীবতার অংশ,
খুলে দাও সকল বাতায়ন, লুপ্ত
লৌহ কপাট,দেবত্বের আলোক রশ্মি !
অবিরাম কড়া নড়িয়ে যায়
দিবা নিশি, মন্থিত আত্ম পিযুষ,
সুদূর অরণ্যে, কাষ্ঠ সেতু এ আজ 
জোনাকিদের  সপথ সমারোহ,
উদ্ভাসন ক্রমশঃ উলম্বিত
আচ্ছাদন মুখী, সে এক বিহঙ্গম দৃশ্য !
বন্য কুসুমের বৃহত পুঞ্জ সুরুভি,
নেত্র
প্রণোদনা মূলনীতির বাহিরে
চিরদিন, মৌন ভাবনার মাঝে র -
স্থান তরঙ্গ ময় জলাভূমি,
স্ববিম্বে বিচলিত মৃগের তৃষা,
চাঁদের জাদু ঢেলে রয় অতিরিক্ত
সম্মোহনের জোছনা, জামিরা নিশীথ
ঝড়ের আরোহণ ক্ষনিক, নিশান্তে
এক পশলা বৃষ্টি , স্বপ্নের অঙ্কুরণ, প্রেম
জেগে থাকে যেন প্রাচীন আগ্নেয় গিরি,
-- শান্তনু সান্যাল 

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০১১

পুনর্লিখন

জীবন চলমান থামে না এক জায়গায়

পৃষ্ঠ বদলিয়ে নিন, নতুন পাতায়
মৌসুম লিখে গেছে নব স্মারকলিপি,
যাযাবর মেঘের ঝাপসা গন্তব্য !
কূল খুঁজে পায় না মনের চঞ্চলতা,
কারা চেয়ে আছে নদীর বক্ষস্থল
সাঁঝের নেমে আসার দৃশ্য !
কোনো দিন আগে ত দেখি নি, সে
সমস্ত মুখ কালের গালে গেছে হারিয়ে
জানি না তারা ছিল না কি নদী তীরে,
উড়ন্ত সেতু ছুঁয়ে যায় আকাশ পথে
শুনেছি বৃন্দ বিলাপ অমাবস্যার রাতে
করে থাকে ধ্বন্স স্তূপ,জীর্ণ মন্দির
ইতিহাসের পুনরাগমন নাকি
অবশ্যম্ভাবী,কখন,কি ভাবে,বলা কি
সহজ,কিন্তু ভবিষ্যৎএক রহস্যময়
প্রহেলিকা,নদীর প্রতিঘাত, তট
পরিবর্তন দুখদায়ী, এখানেই স্বপ্নের
সৃষ্টি জাগিয়ে রাখে সুপ্ত
মহত্বাকান্ক্ষিক অভিলাষার চর,উপরে
মরু ভিতরে বহে যায় লুপ্ত প্রবাহ,
গ্রহের গ্রহন ক্ষনিক অন্ধকার,
যারা পার করে গেছে ছায়াগ্রস্ত অন্তরিক্ষ
তারাই আজ স্থায়ী বাসিন্দা -
চন্দ্রলোকে, উদ্ভাসিত জগতে করে তারা
আলোকের গান, গর্ভিত প্রাণ
লিখতে চায় ইতিহাস পুনঃ পুনঃ !
প্রেরিত করে যায় মৃত সংস্কৃতি,
জাতীয় অভিমান,বেদের দুরূহ ঋচা,
জয় উদঘোষিত করে পূর্ব পুরুষের কন্ঠ,
তারা নমন মুদ্রায় করে বিজয়
আত্মসাত, বিনম্র ভাবে ঝরে আকাশ
কুসুম, পৃষ্ঠ যায় বদলিয়ে,
বাতায়নে রেখে যায় স্মৃতি গন্ধ --
-- শান্তনু সান্যাল
 








সোমবার, ১৬ মে, ২০১১

নতুন গ্রহের সন্ধানে -

নবীন গুরুত্বে সৃষ্টির উদ্ভাসন
অসাধারণ মায়ায় জড়িত সে ভূমি
স্বপ্নের ওপারে করে বিমোহিত
শ্বাসরোধের মাঝে এই অমূর্ত প্রেম
চাহে শিকল মুক্তি, এক ভিন্ন সন্ধ্যা 
মৃত ভাবনার পুনর্জীবন
ওই সরু সোনালী রেখায়,কিছু
তুষার বিন্দু চেয়ে আছে
জীবনের দিগে কিছু ক্ষণের জন্য
এক মধুরিম উচ্ছ্বাস, অল্প
মুচকি হাসি, বৃন্তের অবহিতি, ভয় -
মুক্ত ফুলের ফুটে যাওয়া !
শিশুদের বর্ষাগানে ভিজে উঠেছে
মসজিদ লাগোয়া দেউলের প্রাঙ্গন,
সীমাবিহীন বহে যায় জলধারা
আকাশ যেন এক মিথক কল্পনা,
রঙ্গধনুর সেতু বেয়ে চাঁদের উঠে আসা
অভিভূত করে যায় মনের
গভীরতা, অথৈ বিশ্বের দর্শন, চেয়ে
থাকে এই মিলন বিন্দু !
আস্তে আস্তে শিশুদের মিষ্টি কলরব
হয় উঠে সাঁঝের তারক বৃন্দ
তারা কোনো প্রভেদ বুঝে না
শুধুই খেলে যায় মেঘের আড়ালে লুকোচুরি.
--- শান্তনু সান্যাল 

বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০১১

প্রতিবিম্ব



সুদূরে ছায়াময় নাবিক
বেয়ে যায় জীবন খেয়া অবিরাম
অদৃশ্য ছন্দময় ধারা বহে মন্থর বেগে
যেন নিষ্প্রভ বিন্দু বেসে চলেছে
ভাবনার প্রবাহে
মুহানার মোহে অগ্রগামী নদী
অবহেলিত তলানির ব্যথা
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তটবন্ধ
বয়প্রাপ্ত রাত্রির বুকে হিমল প্রহার
স্থির সংবেদনার হটাত -
চক্রবাতীয় জাগরণ,
দ্রুত পাকে ঘুরে স্বপ্ন বলয়
খন্ডিত জলরাশির বিষন্নতা,
উদ্বেলিত মনের আঁধার -
করুন সুরে নদী - উপত্যকা, করে
শেষ প্রহরে শোকের বৃন্দ গান,
তীরের অনাম শ্বেত পুষ্পের শাখা,
ঝরিয়ে যায় অনুকম্পার অশ্রু
পূর্ণ শশী মুক ভাবে চেয়ে রয়
নদীর তুরীয় আত্ম মন্থন সারা রাত !
অপরিচিত প্রতিবিম্ব জলের মাঝে
করে রহস্যের রচনা,
দেখি মনের সমস্ত লালসা, ক্রমশঃ
নিমজ্জনের পথে, পূর্ণ বিসর্জনের মুখে
ঝরিত শ্বেত কুসুমের মালিকা
ধীরে ধীরে পীত বর্ণে পরিবর্তিত,
বহে চলেছে জীবন উজানের দেশে !
--- শান্তনু সান্যাল