রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১


ত্রিশঙ্কু 
জীবনের তিন বিন্দুএ ,ওই উপগ্রহটি স্থিত 
তদুপরি মহাজগতে বিপুল শুন্যতা 
তুমি,আমি ও প্রণয়,এই ত্রিকোণে ই রয়েছে 
স্বপ্ন,বস্তুবাদ,কল্পনা,ইন্দ্রজাল,আবেগ 
অশ্রু,লাবণ্যময় ভাবনা ,ভাঙা গড়ার 
কাহিনী,সুর তাল ছন্দ ,কবিতা ,হৃদয়ের 
স্পন্দন,এই ত্রিশঙ্কুর পৃথিবী কে জড়িয়ে আছে 
রঙ্গীন ক্ষিতিজ ,সমান ভাবে,আস্থা বিশ্বাসের 
অনন্ত রেখার গায়ে, এই মৌলিক সংরচনা -
মৌসুমের পৃষ্ঠে লিখে যায় জীবনের গল্প 
কাব্য, ভালবাসার ইতিহাস, দিয়ে থাকে কিছু 
নব অঙ্কুরিত কিশলয়ের রূপে নতুন প্রজন্ম 
বিচিত্র ত্রিভুজের কেন্দ্রে সমস্ত ব্রহ্মান্ড 
যেন পরিপূর্ণ রূপে সমাহিত, জীব নির্জীবের 
এখানে কোনো শ্রেণী ভেদ নাই, অণু পরমাণু
ক্ষুদ্রতম জন্তুর অস্তিত্ব, শৃঙ্খলিত স্বরূপে জড়িত 
এই তিন বিন্দুএ সৃষ্টির মহারচনা, অনাদি র পথে 
অফুরন্ত রহস্য বুকে নিয়ে বহমান, নিরন্তর 
ভবিষ্যতের  মহাযাত্রায়  অগ্রগামী  ----
-- শান্তনু সান্যাল  

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১


চন্দ্র বিহীন রাত্রি 
একত্রে বোনা প্রেম কি আরাধনা
পথহারা সে এক সন্ধানী, ভরা 
দ্বিপ্রহরে সন্ধ্যার অবতরণ, করে 
যায় ভাবনার বিচিত্র রোমন্থন,
সৌর গ্রহণে যেন ভ্রমিত খগ বৃন্দ, 
আলো ও আঁধারের চিরন্তন ক্রীড়া  
অন্তর্নিহিত,অসমাধিত, প্রাচীনতম
উপভাষা নয়নে ভেসে উঠে সহসা,
অলির  উন্মাদ ও কাগজের পুষ্প ! 
সেই উপসংহারের স্পর্শ, হৃদয়ে এঁকে
যায় অমূর্ত,অপরিভাষিত চিত্রাবলী,
লবনীয় তরঙ্গে জেগে উঠে সমুদ্রের 
অশেষ তৃষা, উদ্দীপ্ত হৃদয়ের নদী -
উপনদী চমকপ্রদ যেন চঞ্চল হরিণী, 
আবেগময় অগ্নিগর্ভে বিস্ফোরণের 
পূর্বাভাস,অকল্পনীয় অনুভূতির মহা - 
প্রাদুর্ভাব ঘটে চলে যেন শিরায় শিরায়,
জীবন ক্রমশঃ কক্ষপথে খুঁজে, নিজস্ব 
পরিচয়, হয় উঠে কৃষ্ণ মৃগের সেই 
নয়ন কোণের রহস্যময় স্রাব  গ্রন্থী,
রচে থাকে আবেশীয় কাঁটার সীমানা,
চন্দ্রবিহীন নিশীথে জীবন খুঁজে রয় 
কস্তুরী মিলিত ভালবাসা, দৈহিক ও 
পরালৌকিকের অন্তর অর্থহীন হয় -
 উঠে নিমিষে,ছিন্ন তন্তুর ঘুড়ি দোল 
খেয়ে উড়ে যায় উন্মুক্ত আকাশে, 
নির্বাধ ভাবে দেহে ভরে যায় বন্য 
সুরভি, শ্রাবনের অঝর বর্ষণ এখানে 
পরাজিত, নিভে না অদৃশ্য দাবানল !
-- শান্তনু সান্যাল 


শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১১


পুরাতন ভালবাসা 
বাণ শয়নে শায়িত জীবনের দিনগুলি,
অপরাহ্ন বেলায় কিছুতেই ছাড়তে চায়
না মখমলি হলুদ রাঙা আলো,সবাই ত
দেবব্রত নয়, সূর্য্য  অনুরোধ রাখে না !
প্রতিচ্ছায়া, মহাকায় রূপে আঁধারের  -
আব্হান করে, নেমে আসে জীর্ণ সাঁঝ,
সিঁড়ির ধাপ ভেঙে রাত্রি উঠে চলেছে -
ছুঁতে অগনিত আকাশ কুসুম,উল্কা ও
নীহারিকার গোপন জগত, এই মায়া
ভরা রাতে, বহুকোণে ভাঙা আরশির
রূপে, তার কোঁচকানো রেখা ভরা মুখ,
শুন্যে খুঁজে হারানো মধুর দিবা রাতি,
খুলা পিঞ্জর দ্বার,হাড়ের মাঝে জড়ানো
ভালবাসা কোনো ভাবে উড়ে যেতে
চায় না,এই পুরাতন পিতলের ফুলদানি
আজ যেন চমক লাগিয়ে যায় হৃদয়ে,
ফুলেরা অল্পআয়ুর সাথী, হেসে হারিয়ে
যায় নিরালায়, উঠোনের জোছনা, আজ
ও ভুলেনা, উঁকি দিয়ে যায় দৈনিক ভাবে,
শুধিয়ে যায় রাতের গভীরতা, বলে -
ওই যে, দরজায় খিল দিতে ভুল না কিন্তু !
-- শান্তনু সান্যাল

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১১


দেহের চন্দন 
তার প্রণয়ের ব্যুৎপত্তি ছিল লোকোত্তর
গভীর, আবেগের আগ্রহে গেছে হয়ে ধীর 
জলধির তরঙ ও পূর্ণ শশির সেই মৌন 
আলাপন, বুঝতে পারি নি উতলা মন !
অবিলম্বে হৃদয় হয় উঠতে চায় শুধুই 
চক্রাকার পাষাণ,চন্দন কাঠের ছোঁয়া 
রহস্যময়ী অনুভূতি, আদ্র  স্পর্শ যায় -
অনেক সময় মৃগ জলে হারায়ে, বিলীন 
ভাবনার গন্ধ খুঁজে মুক্তির পথ অবিরাম, 
তৃষিত নয়নে আকাশগঙ্গা ভেসে উঠে 
শ্রাবনের মহা প্রবহনেও দেহ জ্বলে 
দিবানিশি, সে এক মোহফাঁসের সৃষ্টি , 
উত্তরকালে  দিগ্ভ্রমিত পরিত্যক্ত জীবন,
দেহের কাঠ হয় উঠে না কোনো দিনেই 
চন্দন, ঝরে যায় সুগন্ধিত ভালবাসা, 
শুন্য গগনে কল্প নিরদের বুকে, অনন্ত পথে.
-- শান্তনু সান্যাল 

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১১


অদেখা পৃথিবী 
 হাসাতে পারি নি কোনো ও ভাবে 
তার এই বিফলতায় মন কষ্ট পায় -
কি বা করি হাসতে গেলেই চোখের 
বন্ধু গড়িয়ে আসে পথের মাঝে,
সে শুধুই ভাবে আমার লাগি দিবা 
নিশি, সরে যাওয়া এত সহজ নয় 
আজন্ম ঘিরে রয়েছে উদাসীন ওই 
দেওয়ালের পলাস্তর খসা হৃদয়,
চেয়ে থাকি মন্ত্র মুগ্ধ ওই  কৌতুক !
হয় তো ক্ষণস্থায়ী সে দিয়ে যাবে 
কিছু রফু জাতীয় স্বপ্নের তাপ্পি 
রজনীগন্ধার গুচ্ছ, আতরের শিশি 
বদলে হয় ত তার চাওয়া অশেষ 
দেহের ভিতরের পৃথিবী তার 
অদেখা, সে দেখতে চাইবে ও না,
ওই ভূমি হলো দেবদাসীর জগত 
দেবতার ছাড়া প্রবেশ যেন নিষিদ্ধ,
সে পুরোহিত হতে চায় শুধু 
দক্ষ পতঙ্গ কি আগ্নেয় গিরি কিংবা 
হাসির সম্মোহনে খেলতে চায় 
আদিম আঁধারের খেলা, তার এই 
ছদ্মবেশী  রূপ করে আতঙ্কিত 
আমি চেয় ও হাসতে চাই না কোনো 
ভাবে, যে যায় ফিরে যাক -
-- শান্তনু সান্যাল  


সোমবার, ২৭ জুন, ২০১১

ফিরে আসা

সে খুলে নি অতীতের গ্রন্থী -
বেদনার প্রতিচ্ছায়ায় সুপ্ত ছিল
বহু আহত স্বপ্নের অংশ ছড়ানো,
বিশুষ্ক কুসুমবৃন্ত, ঘনীভূত অশ্রু
ক্ষয় গ্রস্ত হাসির নীচে ছিল গোপন
জীবনের সত্যতা, চোখের ভাষা
বলে গেছে বিপুল মনের গভীরতা !
দেখিছি জীবনে প্রথম তার মৌন
প্রশান্ত, দিপ্তিবিহীন মুখে শ্রাবনের
ছায়া,এক লয়ে আকাশে চাওয়া,
মোমের আলোয় সে হয় উঠি নি
গোলাপ, হয় তো  মনের কাননে
আর ফুটে না ভাবনার প্রসুন -
খুঁজে চলেছে সে যেন কিছু অশেষ
ভালবাসা, দেখি সে সজল নয়নে
হারিয়ে গেছে প্রাচীন জাদুঘরে
স্বপ্ন গুলো মামি, ছুঁতে চায় মন
পূনর্জীবনের আশায় কাচের পুতুল,
সহসা দুর্বল একটি হাত, বেড়ে
আসে বুকের কাছে, রিক্ত করতল
কি চায় পয়সা অথবা প্রজাপতি
বোঝা খুবই মুশকিল, সে ফিরে
আসে সম্প্রতি যুগে, একাকী উদাস,

-- শান্তনু সান্যাল

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১১

কোথায় যেন আমিও রয়েছি

অভিশপ্ত পাষাণে লাগি নি আজ ও 
চরণ ধুলি,অহিল্যা হয় উঠি নি 
ক্ষয় গ্রস্ত জীবনের বহু অঞ্চল,
ওরা ছিল হয় তো অন্য গ্রহের 
মানুষ,হা করে  সমানে দেখে রয় 
ছেঁড়া আঁচলে দুগ্ধ গ্রন্থী,
কাঁচের সন্দুকে  স্বপ্ন গুলো 
উলঙ্গ সুয়ে রয়েছে রসে ডূবে 
খোলা গায়ে পরিত্যক্ত  শিশু 
বিস্ময়ে  চেয়ে থাকে  গোল সকাল 
স্থির  দাড়িয়ে  চিন্তামগ্ন, চকের 
ষাঁড়, চিবিয়ে চিবিয়ে ভেবে চলেছে 
রাত্রি র ষড়যন্ত্র,গুঁতোর ভয়ে পাস 
কেটে হাঁটছে সাঁঝ, বড়ই ভদ্র লোক 
উর্দিওয়ালা  নেকড়ে বাঘ  মধ্য রাতে 
গন্ধ শুঁকে বেড়ায়,স্টেশনে,পার্কে 
কি  ভাবে  চুষবে  কঙ্কালের  লেপ্টানো 
ক  এক  বিন্দু  রক্ত,মাংস,মজ্জার 
রেষা , বিভত্স  স্বপ্নের  মাঝে 
কিছু  ঘুমিয়ে মন হয় উঠে 
ঘোলাটে  সূর্যের  মরা  রশ্মি ,উড়ান 
সেতুয়ে  আবার  বেগবান  জীবনের 
রেখাচিত্র   দৌড়িয়ে  চলেছে  অনন্ত 
পথে, ফুটপাথের  নেড়ি কুকুরগুলো 
এখনো গুটিয়ে ঘুমোতে  চায়, এক  চোখ 
খুলে, নোংরা  থলির বাহিরে  উঁকি 
দিয়ে  চলেছে পুই  ডগার কচি পল্লব 
বৃদ্ধ  ভাবনা লুঙ্গি উঠিয়ে খুবই 
কষ্টে উঠতে  চায়  তেতলায়,সিঁড়ির 
ঠিক  নীচে জীবন রয়েছে আজ ও 
ময়লা,দুর্গন্ধে ভরা,বিশ্রী,ফেলানো
তোষক,বালিশ,মাদুরতেলেপোকা 
কোথায় যেন আমিও রয়েছি 
হয় ত এখানেই আসে পাসে, যান উঠে 
যান ডিঙিয়ে যে ভাবে পারেন -
-- শান্তনু সান্যাল