মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১১


কূল কিনারা 

হাসির আয়ু অল্প কিন্তু দিয়ে যায় অদৃশ্য 
অশ্রু আঁখির কোণে, সে দিন তাই 
হলো, কড়া নাড়ার শব্দ শুনে 
বিরক্তির ভাব নিয়ে 
ছেলে খুলতে 
গেছে 
দ্বার, না মুখ দেখে বলল, মাফ করবেন,
আবার ঠক ঠক, দরজা খুলতে 
না খুলতে, চিত্কার -
হতভাগা নিজের
মাকে চিনিস 
নে, ছেঁড়া জর্জর সেমিজে বৃদ্ধার হাঁপানি, 
জড়ো হলো হালদার গুষ্ঠী, যেন 
চার দিকে ত্রাহি ত্রাহি, আর 
বলিস নে, ওই নাগা 
বাবাদের যুদ্ধের 
কাহিনী,
পরান বাঁচাইয়া ফিরেছি তা দেখবি কেন,
শুধুই জানতে চাস তাদের কেস্সা,
বাসায় ফিরলাম দেখি নিজের 
পেটের পোলা বলে মাফ 
করবেন, ওই যে 
হা করে কি 
দেখছিস, ভূত ভাবছিস না কি, বৃদ্ধার 
ক্লান্ত মুখে কুম্ভ মেলার দাপট, 
ত্রিবেনির পবিত্র মাটির 
দাগ যেন এখন 
দেদীপ্যমান,
বড় ছেলের আবদার একটু বেশি, বললে -
সে জন্যই বারণ করেছিলাম যেও 
না, কারো কথা শুনলে ত,এই
চুপ কর হারামজাদা 
তোকে হাড়ে 
হাড়ে 
 চিনি, ট্রেনের ভাড়ার জন্য যত সব 
ন্যাকামি, আমি সব বুঝি,ন মাস
পেটে রেখেছি বুঝলি, যা  
ফুল কিনে আন দেখি 
যত সব বড় বড় 
কথা আমার 
পূজা দিতে হবে," কুম্ভের স্নানের পরে কি 
আবার স্নান করতে হয় নাকি "
ছেলে ফিসফিসিয়ে 
দরজার 
শিকলে হাত দিল, 
গঙ্গা পর্বের যেন কূল কিনারা নাই - - - -

-- শান্তনু সান্যাল

http://sanyalsplanet.blogspot.com/



সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১১


যা ইচ্ছে নাম দিও 

সে জিজ্ঞেস করে চলেছে আমায়, আমার ঠিকানা 
এই যে শুনুন, আপনি কি চিনেন ওই 
লিকলিকে মানুষ, মোটা চশমায় 
ঝুলন্ত ভাসা - ভাসা চোখ 
মাথায় টাক, কিছু 
লিখত ঠিকত, 
মনে হয় 
নামটি কি যেন, এই যে ভুলে যাওয়ার বেরামটি -
মন্ত্র মুগ্ধ চেয়ে আছি তার মুখে নিজের 
আত্মজীবনী, শুনেছি এককালে 
তিনি না কি জঙ্গল মহলে 
ঘুরে ঘুরে কি যেন 
জন জাগৃতি 
ঠাগ্রতি
করে যেতেন,  তাই না কি, তাহলে এখন কোথায়,
আমার প্রশ্নের সেঁকা জানি না কত দূর, 
ছুঁয়েছে তার মর্মের ত্বক, অল্প 
বিরামের পরে তিনি 
দেখি, আবার 
প্রস্তুত, 
এর  মধ্যে সাত টার উপনগরীয় লোকাল গেছে,
পার হয়ে কচুরি পানার জগত, কাঁপিয়ে 
ঝাঁপিয়ে সমস্ত বাগদি পাড়া হতে 
সাঁওতাল ভিটা, মহুয়া 
গাছের ছায়া, 
নালার 
গায়ে ভাঙা পুল, গাল চিপা সাঁঝ নেমেছে মনে হয় 
অরণ্যের পাংশু রঙ্গী ঝুলন্ত বুকে, আঁধার 
খুঁজে চাঁদের বিম্ব, রিক্ত হাঁড়ির
হাঁড়িয়া গেছে ফুরায়ে 
বহু দিন আগে,
এখন আমি থাকি গা ঢাকা, গোলাপী শীত যদি 
লাগে গায়ে, আমার যে শীতের ধাত, 
না ভাই, আমি চিনি না, হয় ত 
কখনো দেখেছি কিন্তু 
আপনি - - -আর 
জেনে কি বা 
হবে,  
ওই পাহাড়ের নিভানো আগুন, খুঁজি বর্ষার ক এক 
ফোঁটা জল, আমি কাহিনীর হারানো শীর্ষক 
খুঁজি উপসংহার, লেখকের নাম, 
যে করেছে আমায় স্বপ্নময়,
এখন নিজেই যেন সে 
নিখোঁজ - - - 

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/




রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১১


রিক্ত জীবনের থলি 

কখনো কাঁচা ধানের গন্ধে, গোধুলির আকাশ 
বলে সে নাকি আখের সরু ডাঁটা, শীতের 
পথ চেয়ে আছে, বুকে নিয়ে 
স্যাঁতসেঁতে সুরুয়া,
পানসে -
নিরস স্বাদ, কি বা করা যায়, যদি সব কিছু 
হত কবিতার মতন, এই ফিকে সাঁঝের 
অসাড় ভাব, অনিচ্ছায় আনে রাত্রির 
মোহিনী রূপ, ওই পাসের পাঁচ 
তলার বাড়ি, উঠতে দিতে 
চায় না যেন শিশু 
চাঁদের আলো,
অলিন্দির সেই খণ্ডিত জোছনায়, ভুলিয়ে 
আনতে চায় মন, চন্দ্রমল্লিকার গন্ধ,  
পুরাতন ভালবাসার পরশ, 
অবুঝ চিত্রলিপি, নীল -
নদের  নৌকাবিহার,
তার চেয়ে ও 
না দেখার ভান, ভাঙিয়ে যায় কর্কশ কন্ঠের 
খোঁটা, স্বপ্নে কি পেট ভরে, বেরিয়ে আসে
 দীর্ঘ ফর্দ, বাস্তব ভূমি স্পষ্ট ভেসে 
উঠে, গলা পর্য্যন্ত দেখি জল -
রাশি, হৃদয় এমন সময় 
মধ্যম মার্গীয় 
সিদ্ধার্থ,
রাত ক্রমশঃ রিক্ত থলি, ভাবনা হাট মুখী,

---- শান্তনু সান্যাল

http://sanyalsplanet.blogspot.com/
PAINTING BY ASIT KUMAR SARKAR 

শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১১


সাময়িক আবেশ 

উলকি রং ছিল ফিকে উত্তরোত্তর গেছে ঝরে, 
অন্তর্নিহিত ভালবাসা চেয়েছে  আপ্রাণ
ধরে রাখতে তার আধিপত্য,
শিরায় শিরায় থেকেও 
সে দিয়ে গেছে 
ফাঁকি,
ওই আসক্তির  বন্ধনে বিস্মৃত স্বগুরুত্ব, এখন 
খুঁজে চলেছে বাস্তব ভস্মভূমি, তার নিগূঢ়
রূপের জাদুময় গভীরতা, ঠাহর 
করতে পারি নি হৃদয়, 
শুধুই স্পর্শের 
অনুভূতি, 
দেহের উচ্চতর অংশের অধরাঙ্কিত ভূভাগ,
এখন জ্বলিত অরণ্য শিখা, ঝলসিয়ে 
পড়ছে লোম, ত্বক, মাংসপেশী 
উলকি খুদিত সেই 
পলকা স্থলে 
প্রেমের 
নিলীন চিহ্ন, প্রায় অধুনালুপ্ত, নিস্পন্দ নেত্র 
চেয়ে আছে চাঁদের সঙ্কোচন, রাতের 
শেষে নিপতিত বন্য কুসুম,
গন্ধের অবসন্নতা, 
জীবনের 
সংপ্রশ্ন আঁকতে চায় দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ, কিন্তু 
কোথায় যেন মন চায়, আবার উলকির
শাশ্বত রং,গভীরতম দংশ 
নবীন বোতলে যেন 
পুরাতন সোম 
রস, 
নেশার ঘোর কাল, যুগ, তর্কের বাহিরের জীব.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/


শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১১



জীবন তৃষ্ণা 

পরিত্যক্ত নদীর হ্রদ, গ্রীষ্ম উত্তাপে হয় উঠে 
প্রাণবন্ত, তৃষ্ণার্ত মৃগ পাল নিঃশব্দ 
পদক্ষেপে নামে জল কুম্ভের 
জগতে, অরণ্য এখন 
নিঝুম, হৃদয়ের 
স্পন্দনে, 
আতঙ্কের ঢেউ খেলে যায় ঐন্দ্রজালিক খেলা, 
শান্ত ঝিলের কম্পিত বুক শিহরিয়ে 
উঠে সহসা, পাতা ঝরার  শব্দে -
ও যেন জীবন, ঝুলে রয় 
শুন্যে, হাঁটু গভীর 
জল যেন 
অসহায় দৃষ্টি তে দেখে যায় আসন্ন ঘটনাক্রম,
মৃগ সারের সজল নয়নের ভাষা, কেও 
কি কোনো দিন জানতে চেয়েছে,
দুঃস্বপ্ন জড়ানো সেই 
বাঁচার প্রচণ্ড
ইচ্ছা, 
সে মৃত্যুর ভয় ভুলে যায় নিমেষে, সারংদল 
এবং শিকারীর লুকোচুরির এই খেলা 
চলে মধ্য নিশির শীর্ষে, অবিরাম, 
প্রাগৈতিহাসিক প্রবৃত্তি সহজে 
জেগে উঠে ব্যাপক ভাবে 
তিমিরাচ্ছন্ন মুহুর্তে,
কে বিজয়ী 
কে বা পরাজিত, বলার কিছুই নয় যদি 
জানার ইচ্ছে করে কোনো দিন 
চলে আসবে মহুয়া ঝরার 
মাসে, রক্ত রঞ্জিত 
ধরাতলে, 
খুঁজে যদি পাও হাড়, মাংস, হৃতপিন্ডের 
অবশেষ, নিঃশ্বাসের কিছু টুকরো,
স্বপ্নের বিছিন্ন পাতা, জীবনের 
ছড়ানো নিপীড়িত পাপড়ি,
ম্লানমুখী নিশি পুষ্পের 
গন্ধ, হারানো 
প্রতিবিম্বের এক মুঠো আলো, অশ্রুবিন্দু.

-- শান্তনু সান্যাল   
painting by - Phillippa-Cannan

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১১


অন্তঃ করণের মৃত্যু  ঘটে নি  .

প্রচ্ছন্ন রূপে তার মাঝ রাতে, ঘুমন্ত দেহে
জড়িয়ে যাওয়া, দমকা বৃষ্টির 
ইশারা ছিল না, অবিকল 
ভাবে পরাশ্রয়ীর 
হবার 
প্রস্তুতি মাত্র ছিল, আমি বাধা দিতে পারি 
নি, খুলে দিয়েছি সহজে, মনের 
বন্ধ স্নায়ুর মার্গ, সে বহে 
গেছে প্রাণ বায়ুর 
সমান্তরাল,
বিমুক্ত, যেখানে ইচ্ছে ওখানে, করেছে 
দংশ, সেই দংশিত দাহ  অঞ্চলে 
ছড়িয়ে গেছে অতিরিক্ত 
বাসনার নিষ্ঠীবন, 
আরশির 
মুখ ভার, সে যে এক চরিত্রবান মানুষ 
হয় তো মোহাবিষ্ট রূপে আমায় 
দেখতে চায় না, সে চায় 
শুধুই নির্বস্ত্র 
বিশুদ্ধ 
রূপে, তার এই ধর্ষিত দখল করে যায় 
আত্ম মন্থন, ঝরন্ত মর্মঘাত জেগে 
উঠে, পূর্ণ চন্দ্র ভাস্যমান, 
জোছনার সেই 
অমত্র্য
ধারা পূর্ণ দেহে  ছড়ায় স্বয়ংশ্রদ্ধার 
শীতলতা, আমি নিজেকে 
তুলি নিজের হাতে 
কাচের মত
ঝন্ন করে ভাঙার আগে, অন্তঃ করণে
এখন হাসনুহানার গন্ধ 
একাকার.

-- শান্তনু সান্যাল
http://sanyalsplanet.blogspot.com/
     

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

উদ্ভাসিত হৃদয় 

অভিভূত করে যায় যেমন অদ্ভুত আলো,
মধ্য নিশির গগনে, সেই নক্ষত্রের
ঔজ্জ্বল্য ক্রমশঃ হয় উঠে 
স্তিমিত, নদীর ঢালুর 
পার্শ্বে 
গ্র্যানিট পাথরের পুরাতন দেউলে, মৌন
সান্ধ্য প্রার্থনা এখন মুখরিত, আহত 
হৃদয়, শোণিতলিপ্ত আত্মারা 
করে অন্তহীন বিলাপ,
মধ্যস্থিত
প্রবাহে সমতার স্বপ্ন, সমবেদনার অর্চনা,
বহে চলেছে উজানের কোন দূরবর্তী
মহাসাগরের বুকে, সুদুর এক 
অজ্ঞাত দ্বীপে ওই 
উদ্ভিদকূলে 
ভাবনারা গড়তে চায় নতুন বসবাস -
নতুন সংস্কৃতির বীজারোপন,
প্রেম, শান্তি, মানবতার 
আদ্র মাটি চেয়ে রয় 
প্রশান্ত আকাশের
অবুঝ মন,
নদীর দুই ধারে সারি সারি লোক একত্র 
কন্ঠে করে চলেছে উদঘোষ, চাইছে 
বাঁচার অধিকার, উদ্বর্তনের 
অন্তিম অভিমত, 
জীবনের 
সার্থকতা, পরিপূর্ণ মানবতার প্রসার.

-- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
painting island by  Kerri Settle