শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১২


ফিরে আসি বারে বারে -- 

ওই সুর যে প্রাণ হতে ভেসে আসে, চোখের জলে 
লিখে যায় অগোচর প্রেমের মহাকাব্য, সে
একটি ভাবনা যে থেমে রয় শিশির 
বিন্দুর বুকে ফুলের হাসির
রূপে, তাজমহল কি 
কাচের মহল 
তার আগে কিছুই নয়, শুধুই রাজবংশীয় এক 
প্রদর্শনী, ওই আড়ম্বরের বাহিরে ছিল 
হয় ত তার ভালবাসা, সেই 
ক্ষয়িত দেয়ালের চুনে, 
কিংবা ভাঙা
জানালার 
কাচে, ছিল আটকিয়ে যেন ঝরা পালকের রূপে, 
সে যেন শৈবালিনি নামের নায়িকা 
জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীরের 
বুকে যুগ যুগান্তর 
হতে, বেঁধে 
আছে 
শুন্যে প্রণয়ের বাসা, প্রলয়ের পরে ও যেন খুঁজে 
যায় মরমীর সন্ধান, সে যে এক ঘিঞ্জি 
গলির নিঃশ্বাস জেগে রয় দিবা 
নিশি, ভরে যায় জীবনে 
কাল্পনিক সুবাস, 
অঝর শ্রাবণ 
ধারায় 
ধরে রাখে আমার হৃদয়ের বিধ্বস্ত স্তম্ভ, ক্ষণিক
সেই স্পর্শ থামিয়ে রাখে ভাঙনের 
কালচক্র, ফিরে আসে প্রাণ
বারে বারে ওই প্রাণ -
ঘাতক
উপত্যকার উপর হতে, তাই আমি আবার তাকে 
ভালোবাসি নতুন পরিভাষা নিয়ে 
বুকে - - 

- শান্তনু সান্যাল
paiting - Ralph F Perdomo's Albums 

শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১২

মনে হয় ভিন দেশী - -


ডানাবিহীন উড়ে যাওয়ার  উত্কন্ঠা, জেগে ছিল 
মনে তার, সেই ক্লেদিত বিকেলে, হাওয়ায় 
তখন সেঁতসেঁতে ভাব, অনেক দুরে 
যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, নদীর 
কিনারা ধরে সমানে 
হেঁটে যাওয়া, 
সম্ভবত কিছু দূর আমরা হেঁটে ও গেছি, আঁধার
নামার আগে, ঘামে একাকার, ওই
উপচ্ছায়া ঘেরা বিরাট বট 
বৃক্ষের নীচে, সে যেন 
হাঁপিয়ে উঠেছে, 
উটকা
ভয় যেন দাগ কেটে গেছে এঁদো গলির গায়ে, আর 
এগোতে পারি নি সে দিন, অবশ্যই মিথ্যে 
সাহস আমি ও দেখিয়েছিলাম তাকে, 
আসলে আমি চেয়ে ছিলাম 
একটি রঙ্গীন সাঁঝ 
চুরি করতে, 
কিছু সিক্ত চুম্বন, কিছু শিহরিত আলিঙ্গন, না 
জানিয়ে বুকের যাদুঘরে চেয়ে ছিলাম 
লুকিয়ে রাখতে, তার মধুরিম 
সামিপ্য, আর মনের 
দ্বন্দ্বের মাঝে 
সামঞ্জস্যের অভাব ছিল নিশ্চই, অর্ঘ্যের ফুল  রয়ে
গেছে হাতে, মন্ত্রমুগ্ধ এমন কি মন্ত্রৌচ্চার
গেছি ভুলে, উপাসনার শেষে 
দেখি দু জন দাঁড়িয়ে 
আছি প্রাচীন 
দেউলের 
মুখে, পুরোহিত অবাক বলে "মনে হয় ভিন দেশী -
আগে তো দেখি নি"

- শান্তনু সান্যাল 
http://sanyalsplanet.blogspot.com/  
Blue_Leaf


স্মৃতি চিহ্ন

জোছনা রাতে পাংশু রঙ্গী পাহাড়, পাগলের 
মতন ডাক দিত আমায়, যখন সবাই
ঘুমিয়ে পড়ত, চেয়ে থাকতাম 
সম্মোহিত ভাবে তার 
নিরব অনুরণন, 
অশ্বত্থ 
গাছের পাতা, নিশুতি রাতে দুলে দুলে কি -
যেন বলতে চাইত আমায়, মালতির 
গন্ধে  যখন ভরে উঠত মনের 
আঙ্গিনা, সাবধানে দরজা 
খুলে বাইরে বেরিয়ে 
আসতাম, 
চার দিকে নিস্তব্ধতা, নিশাচর পাখির ছায়া 
ছাড়া সব কিছু যেন ঘুমন্ত পৃথিবী, 
স্থির, চেতনা শুন্য, মনে হত 
নভ, জল, স্থল, অণু
পরমাণু সবাই 
অসাড়
পড়ে রয়েছে, সুদূরে সারসের কাতর ডাক ও 
গেছে হয়ে বোবা, কেমন একটা ঘোর,
কুয়াশাচ্ছন্ন জগত ঘিরে থাকত 
জীবনে, কিন্তু আমার 
ওই ভাবে নিশা 
অভিসার,
ক্রমাগত হয়ে উঠে ছিল অভ্যেস, মধ্য রাতের 
সঙ্গে নেশার প্রভাব ঘনিয়ে উঠত, ওই 
গল্পের মতন ঘুমে হেঁটে যাওয়া, 
সুদুর নদী, পাহাড়, সাগর 
মরুভূমি, পেরিয়ে 
ভোরের মুখে 
ফিরে আসতাম, দেহের ক্লান্তি দুরে সরে যেত,
যখন সবাই বিহানের স্বাগত করে 
চলেছে, তখন আমার চোখ 
নিজে নিজেই বুজে 
আসতো, কে 
যেন 
বলত ঘুমিয়ে পড় দেখি, মাথায় হাত বুলিয়ে 
অদৃশ্য ভাবে বলত, আমি তোমায় 
ভীষণ ভালোবাসি, আস্তে
আস্তে সে যেন হাত 
সরিয়ে বিলুপ্ত 
হয় যেত,
চোখের ফাঁক হতে দেখতাম সে উড়ে চলেছে 
পুবাল আকাশে, ছড়িয়ে সোনালী 
ডানা, উন্মুক্ত স্বপ্নীল 
বাতাসে, রেখে 
প্রেমের 
ময়ুরপঙ্খী পাখা বালিশের তলে, স্মৃতি চিহ্ন রূপে,

- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
 Thomas Oil Paintings Night Sky & moonlight

  

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১২

তলহীন

দেখতে  চেয়ে ছিল সে ঝলসানো বুকের মাংস
পেশী, হয় ত পোড়া লোম ও ত্বকের 
গন্ধ তাকে কামার্ত ভাবে 
আবেশিত  করে 
গিয়েছে 
সে দিন, কিন্তু আমি বাধা দিয়ে জানিয়েছি, না, 
এখনো  জীবন জ্বলনশীল, হাত  দিলে খুঁজে
পাবে না নিজের  সম্ভ্রম, হারিও না 
অকারণে নৈসর্গিক কুহক, 
নিভুক  অরণ্য অগ্নি,
উঠুক আবার 
অঙ্কুরিত,
প্রেমের  কিশলয়, ছাইর স্তর পার করে ক্রমশঃ,
আস্তে করে তার দুই হাত, বুক থেকে 
সরিয়ে শুধিয়ে ছিলাম, ছিঁড়ে 
ফেল না কচি পাতার 
সঙ্গে তরুণ 
শেকড়, 
বোধ হয় সে সময় তার চোখে আমার অস্তিত্ব 
ছিল, কেবল জিজ্ঞাসাচিহ্ন, পরাজিত 
যোদ্ধা কিংবা কাপুরুষ, জানি 
না কি ভাবতে ভাবতে 
সে গুছিয়েছে 
খোলা 
বিনুনি, কিছু ক্ষণ চেয়ে রইলো বাতায়ন পারে, 
অবশ্যই তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে নিয়ে 
এক পশলা বৃষ্টি, ভিজিয়ে গেছে 
পাঁচ মাথা হতে মির্জা 
গালিব স্ট্রিট, 
আঁচল 
বুকে টেনে, আনত চোখে সে তুলেছিল কবিতার 
বই, চেয়েছিল অনুমতি বা  দিয়ে ছিল 
নিরব অভিশাপ, আমি কোন 
দিন তা বুঝতে পারি নি,
তার তেতলা 
হতে 
বাস স্টপ অব্দি নিস্তব্ধতার সঙ্গে হেঁটে যাওয়া, 
মনের ভিতরে পাতিয়ে ছিল বিচিত্র 
ভাঙন, এগিয়ে দিলাম তাকে 
হয় ত  জীবন পথের 
অনেক আগে, 
প্রেমের 
প্রমাণ করা টা হয় উঠি নি সহজ,  রাতে অনেক 
ক্ষণ ঘুম আসি নি চোখে, যেন  বিরাট 
একটি ভুল করে গেছি, কিন্তু 
সেই ভুলের সঙ্গে দেখি 
আগামী সন্ধ্যা 
হয় উঠেছে 
বেশি মধুর, দেখেছি তার মুখে অপ্রত্যাশিত 
বিশ্বাস, সঘন ভালবাসা, যেন নিশি 
গন্ধার বৃন্তে ফুটে চলেছে 
থোকা থোকা 
শুভ্র ফুল, 
কিছু লালচে ভাব, কিছু  আধখোলা পাপড়ি, গন্ধে 
ভরা অধিকরণ, অনন্ত সুবাসিত 
অঙ্গীকার - - 

- শান্তনু সান্যাল
 http://sanyalsplanet.blogspot.com/
 painting river by Abhijit Bhattacharya





বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১২


মুখোশ বিহীন 

ব্যবহার ও  নিক্ষেপের মধ্যে হতে অস্তিত্ব কে 
টেনে আনা, খুব একটা দুঃসাধ্য  ছিল 
না, সময়ের  ধারার সঙ্গে তাই 
গা ভাসানো, অনেক 
সিদ্ধান্তের 
মেরুদন্ড শুধুই হিতোপদেশের বইর মধ্যে 
পাওয়া যায়, হাতির দাঁতের মতন 
শুভ্র ঝাকঝক, প্রদর্শনের 
জন্য প্রস্তুত, তার 
প্রেমের রূপ 
বিভত্স বলতে পারব না, সেই দ্বি অঙ্কীয়
নাটকে আমিও ত ছিলাম প্রমুখ 
ভূমিকায়, কালো পর্দার 
আড়ালে  খেলেছি 
স্ফিন্ক্সের
খেলা অর্ধাংশ  মানব কখনো পূর্ণ দানব,
আসলে নেপথ্যের হিংস্র  ভাব 
কোনো দিনেই বাদ পড়ে
না, আঁধার হল 
অনুঘটক, 
বিদ্যুত বেগে ভরে যায় বর্বরতা, আসলে
আদিম ভালভাসাই প্রদান করে 
সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি, মুখোশের  
ঝরে যাওয়াই হলো 
নৈসর্গিক 
সৌন্দর্য্য, মৌলিক, রুক্ষ, নিখুঁত সত্যতা.

- শান্তনু সান্যাল
wild waves - by Penny The Artist




কায়াহীন প্রহরী 

ঠিক বুঝেছ নেহাৎ সোজা সরল মনের লোক,
ঘাঁতঘোঁত, ছল চাতুরী বোঝে না, 
যা বাহির তাই ভিতর, 
সে জন্যই ঠকেছে 
জীবনের 
হাটে, 
তারা গুনি জ্ঞানী ফেলে গেছে শনির বলয় 
বারে বারে, তাদের রাজনীতির 
চক্রান্তে সে এখন দাবার 
ঘুটি, মাত খেয়ে ও 
হেসে যায় 
সমানে, 
তারা সবাই মহাভারতের যোদ্ধা  সুপুরুষ বা 
কাপুরুষ বলা সহজ নয়, শিখন্ডি 
দের কে চেনা মুশকিল, 
হয় ত আঁধার 
কিংবা 
আয়না জানে ভালো ভাবে তাদের পরিচয়, 
জীবনের রঙ্গমঞ্চে কত যে নাটক 
অমিমাংসিত শেষ হয়ে 
থাকে, ঝুলে রয় 
প্রেম ও 
বিরংসার চরিত্র গুলো ফেলানো যবনিকার 
গায়ে, দর্শক আসে যায়, পান 
চিবোয়, নিশুতি রাতে 
খোলস খুলে 
ভদ্রতার 
স্তুতি করে, কৃষ্ণের ছদ্ম রূপ ধারণ করে, 
সাহায্যের আড়ালে করে যায় 
চীর হরণ, সতীত্বের 
নতুন সংজ্ঞা 
গড়ে, 
মধ্যযুগীন সেই পঙ্গু মানুষ, হাঁটুর উপরে হাত 
গুটিয়ে বসে সারা রাত পাহারা 
দিয়ে থাকে, সে অর্জুন 
কিংবা যুধিষ্ঠির ও 
হতে পারে, 
নিরীহ 
চোখে দেখে প্রতাড়িত এলোকেশী যামিনীর 
রক্তাক্ত রূপ, সে দাবার ছকের 
বাহিরে লিখে পরাজিত 
যোদ্ধার বিস্মৃত 
কাহিনী, 
আসলে সে জানেই না জীবনের যুদ্ধের ইতি,
মহাভারত ত দুরের কথা - - 

- শান্তনু সান্যাল
river desert 

মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১২


বহুমূল্য সে জন 

আজ নয় কোনো কথা, শুধুই চেয়ে থাকা, 
পরস্পরের মুখ পানে, ভেসে যাওয়া 
নিষিক্ত রাতের আঁধারে, 
কোলাহল থেকে 
বহু দূর, 
যেখানে ঝরে অসময়ের বৃষ্টি, ভরে যায় 
বুকে, নীল নির্ঝর পাগল কবির 
এলোমেলো কবিতা, 
শব্দ গুলো 
উড়ে চলেছে ঝরা পাতার সাথে, নির্বাক 
খৈর রঙ্গী চোখের মায়া, ধরতে 
চায় মন উড়ন্ত আগুনের 
ফুলকি, জোনাকির 
আলোর 
ছলনা কিংবা পতঙ্গের ইচ্ছা মৃত্যু, কোন 
সুরে গেঁথে চলেছে তার প্রেমের 
উন্মুক্ত মালা, আবেশিত 
মণি মুক্তা লুটিয়ে 
যায় 
হৃদয়ের বেখাপ্পা মানুষ, উজাড় করে 
জীবন, ভালবাসতে চায় তাকে,
সে যে ভারী মূল্যবান 
হারিয়ে গেলে 
শুধুই 
হাহাকার, অসমাপ্ত যেন প্রলয়ের রাত্রি.

- শান্তনু সান্যাল
PAINTING BY JONAS GERARD s fine art