শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২


অন্তরতমের দ্যুতির পথে - - - 

আঁধার যখন কথা বলে, নিরবতা তখন চুরমার, 
পরিজ্ঞানের জাগরণ হয় উঠে চপল, ভালো 
মন্দের মাঝের মতবিরোধ যায় সহসা 
থেমে, অন্তর্দৃষ্টি নিজেই খুঁজে 
উদ্ভাসিত পথ, একান্ত 
হয় উঠে মুখর, 
খুলে যায় 
জীবনের বন্ধ পুস্তক, পৃষ্ঠ গুলো তখন সহস্ত্র -
আয়না, জবাবদিহি চায় প্রতি শব্দ, 
হিংসা প্রতিহিংসা, ধর্মান্ধতা,
পক্ষপাত, শোষণ, 
নিষ্ঠুরতা 
ভেসে উঠে অধঃক্ষেপণের রূপে, প্রাণ তখন 
জলজ বনস্পতি, পচন হতে চায় 
মুক্তি, প্রাণবায়ুর জন্য করে 
ছটপট, মোক্ষের তখন 
উত্পত্তি, আত্ম -
প্রেম সেই 
সময় অতি প্রিয়, করে তখন প্রায়শ্চিতের পথে 
অনুসরণ, বিশ্বাসঘাতকতার সংজ্ঞা 
বুঝে উঠে তৃষিত জীবন, ওই 
সংশোধন কিংবা আত্ম 
শাস্তি, ফিরিয়ে 
আনে 
মনুষ্যতার পরিচয়, জীবন তখন পূর্ণতার দিকে 
অগ্রসর - - - 

- শান্তনু সান্যাল
painting by - red flowers - Melissa Sherowski

বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ, ২০১২


বিরল বীথিকার পথে - - 

পাহাড়ের গা ভিজিয়ে উড়ে গেছে, প্রাক মৌসুমী 
সমীরণ, খোলা জানালার জগতে আছে 
মনের সজলতা বাকি, কিছু আর্দ্র 
অনুভূতি, সে রেখে গেছে 
মিষ্টি অদ্ভুত গন্ধ,
দেহের 
পরিলেখে জেগে আছে প্রগাঢ আবেগের  বিন্দু, -
উড়ন্ত যবনিকার চুনটে ঝুলছে উন্মুক্ত 
ভালবাসা, যেন ছুঁয়ে গেছে 
রুপালি আলো ধীর 
বেগে সেই 
কাঞ্চনজঙ্গার চূড়া, তার চাপানো হাসির কণা
ছড়িয়ে রয়েছে এখনো, তাই ঝিলমিল 
জীবনের মলিন আয়না, কোথা
হতে ক্ষিপ্র সুরভি ভেসে 
আসছে যেন 
অবেলায় 
ফুটে চলেছে হাসনুহানা, সুদূরে শ্রাবণ হয় ত 
দিয়ে চলেছে চরমপত্র, দোষ দিও না 
যদি ভেঙে যায় ভাবনার 
জলাধার, মহা 
প্লাবনের 
পূর্বাভাস, ঝিলের ওপারে নেমে আসছে মেঘের 
সঘন ছায়া, উড়ে যাচ্ছে নীলাভ ছাই 
রঙ্গী সারসের দল, আকাশের 
বুকে অশনি সংকেত, 
কিংবা তার 
প্রণয়ী সৃজনের প্রারব্ধ, নৈসর্গিক বিলুপ্ত সৃষ্টি! 

- শান্তনু সান্যাল
PAINTING BY FRANK ARID 

জীবন দর্শন 

শ্বেত ও শ্যামের সৌন্দর্য্য বুঝতে চায় নি সে কোন 
দিন, কেবল সপ্তরঙ্গী ঢেউতে ভাসিয়ে নিতে 
চায় জীবন, চোখের ভালো লাগা টাই 
তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, মনের 
প্রতিফলন অর্থহীন, 
বাস্তবতা ও 
স্বপ্নের তফাত হয় ত সে বুঝে উঠতে পারে না, 
কিংবা অদৃশ্য আতঙ্কে সে ছুঁতে চায় না 
শুকানো ক্ষত স্থান, আসলে
চার জনের মধ্যেই ত 
সে এক জন, 
আলাদা 
চিন্তা ভাবনা নিয়ে জীবন যাপনের কি কোনো 
মানে আছে, কোথায় যেন সে ও ঠিক,
কোথায় যেন আমি অতিরিক্ত, 
এই ভিন্নতার মাঝ খানে 
দেহ ও প্রেমের 
মিলন, 
আমার চাহিদা হয় ত তার থেকে দ্বিগুণ বেশি 
অথবা সে শুধুই আমায় এক ক্ষুদ্র নদী 
ভাবে, এক বিরোধাভাস, এবং 
অন্তহীন বিশ্লেষণ, না 
সে বিজয়নি 
না আমি 
পরাজিত যোদ্ধা, তবুও তার তর্কের আগে নত 
মস্তক, তার নিসর্গ দর্শনে খুঁজি বুদ্ধের 
মধ্যম মার্গ, তাই বানপ্রস্থ হতে 
ফিরে আসি ধরে সান্ধ্য 
কালীন লোকাল, 
সে এখন 
যশোধরা, আমি দাঁড়িয়ে আছি নিয়ে শুন্য পাত্র,
দরজায় অবিরাম কড়া নড়িয়ে চলেছি,
শঙ্খ বেলায় তার মাথার সিঁদুর,
ভাঙিয়ে চলেছে ভীষ্ম -
প্রতিজ্ঞা, তাই 
ভুলে যেতে 
চাই আলো ছায়ার খেলা, ধেয়ে চলেছি রং ধনুর 
পিছনে পিছনে বহু দূর - - - 

- শান্তনু সান্যাল 
the blooming flowers

বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১২


পলাতক পাখির ঝাঁক 

জীবনের যুদ্ধ অশেষ, ঘিরে আছে চার দিকে 
বিষন্নতা  অবসাদ, তা সত্তেও মনের 
পৃথিবী চায় গড়তে নতুন 
ভাবনার উপগ্রহ, 
স্বপ্ন খচিত 
ভব্য আকাশ, তুলতে চায়  তছনছ  আবাস, 
স্খলিত মাটির উঠোনের কাছে পুঁততে 
চলেছে হৃদয় আবেগী ফুলের 
লতা, হিংস্র ঝড়ের
প্রতিহিংসা 
গেছে ক্রমশঃ বহুদূর পেরিয়ে সাগর ধরাতল, 
ভুলিয়ে চলেছে সকালের মলয়ানিল
রাতের দুঃস্বপ্ন, নরম সূর্যের 
সোনালী আলোয় 
দেখি
আরশির মৌন আমন্ত্রণ, ফুটে চলেছে ঝোপের 
মাঝে অসংখ্য নামবিহীন বন্য 
কুসুম, উড়ে আসছে 
পলাতক পাখির 
ঝাঁক - - - 

- শান্তনু সান্যাল
Painting by  Lori McNee Fine Artist

মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১২

আলিকস্তম্ভ

সীমিত গণ্ডির  ভিতরেই সে খুঁজে প্রেমের মীমাংসা,
বৃত্ত রেখার বাইরে যেন শুন্য ছাড়া কিছুই 
নাই, তবু ও  দৈহিক জ্যামিতির 
পরিপূর্ণতা পড়ে রয় 
নিবিড়
আঁধারে, মরিচিকার  পিছনে দৌড়িয়ে যায় তথা -
কথিত ভালবাসা, শরীর মন্থনের অভিযানে 
অগ্রসর , প্রাণের উর্বরতা যায় 
হারিয়ে, কালান্তরে ভুলে 
যায় জীবন নিজস্ব 
নির্ধারণ, 
সেই  বিন্দু হতে আত্মঘাতী ভাবনার উদয়, অতুষ্টির 
সূত্রপাত, ক্রমশঃ দর্পণের ক্ষীণালোকে লুপ্ত 
প্রতিচ্ছায়ার সন্ধান, সে এক বিরক্তি -
জনক অবস্থা, অনেক কিছু 
পাওয়ার পরে ও যেন 
রিক্ত হাত, 
এখানেই মনের পৃথিবী হয় উঠে একাকী, বিচ্ছিন্ন,
সর্বহারা, খুঁজে বিশুদ্ধ প্রেমের অনুভূতি, 
ফেলে আসা ঝিনুকের বুকের 
দীপন, মুক্তার সৃষ্টি, 
জীবন্ত পরশ, 
কিন্তু কি পাওয়া যায় বারে বারে হৃদয়ের আলিকস্তম্ভ!

- শান্তনু সান্যাল



সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১২


দেখো যদি পেয়ে যাও ওই চিঠি 

বিলম্বিত ছিল শ্রাবণের আগমন কিংবা মন 
নিজেই চেয়েছিল প্রলম্বিত দহন জ্বালা, 
জোর করে যেন মধুমাস কে 
থামিয়ে রাখা, কিন্তু 
সেটা কি সম্ভব, 
মৌসুমের 
নিজের ব্যক্তিত্ব থাকে, মনের অনুসারে সে -
কোনো দিনই থামে না, তাই প্রেমের 
সমীরণ খুবই অস্থির, কখনো 
যে দক্ষিণা বাতাস 
সহসা দমকা 
হাওয়া, 
প্রশান্ত ভাবে উঠে, ক্ষণিকে যেন কালবৈশাখী, 
করে যায় জীবনের ভূ ভাগ বিধ্বংস, 
জানি না কত জন যে ফিরে 
আসে ওই নৌযাত্রার 
নাবিক,
ঘাটের চাতালে দেখি চিরদিনই অদৃশ্য ক্রন্দন,
উজান দেশের ঠিকানা বিহীন 
চিঠি, ভেসে আসে প্রায়ঃ
জোয়ারের তরঙ্গে, 
ভাটার জলে
আবার 
যায় হারিয়ে ভোরের স্বপ্নের সঙ্গে বহু দূর - - - 

- শান্তনু সান্যাল
Boat_in_river_Bangladesh

রবিবার, ২৫ মার্চ, ২০১২


একটু সাবধানে - - - এসো, 

ধূমায়িত জীবন ও তার  সজল  আঁখি, কে 
হতে  চায়  মুক্ত আর  কাহাকে  যে
বুকে  বেঁধে  রাখি, 
উপান্তে 
আছে  যে  মানুষ, পরাজিত, খুবই যে -
একাকী, তার  নিরব  বেদনার 
কোনো  দিনই কেউ 
ছিল না সাক্ষী, 
তার 
ওই  নিঃসঙ্গ  হেঁটে  যাওয়া  ঘুমোতে দেয় না 
সারা রাত, ধেয়ে যায় মন তার 
পিছনে নিঃশব্দ বহু দূর, 
তার একগুঁয়েমি 
মাতিয়ে 
তুলে  অন্তরতম, দেহ ও প্রাণের  বিপ্লব, রাত 
তখন অনাথ শিশু, দাঁড়িয়ে  থাকে 
উদাস  মুখে, মফস্বলের 
সেই নির্জন রেল 
স্টেশনে, 
সুদুর পাহাড়ী নদী পার করে গেছে  অন্তিম -
প্রহর, তড়বড়িয়ে ছুটে চলেছে 
আঁধার, ধরতে যেন 
সুখের অদৃশ্য 
পাখি, 
ঝুলে আছে সজল চোখের আগে, কিছু  আবছা 
ভবিষ্যত, ময়লা থলি, কালচে  দেয়াল,
আইবুড়ো  স্বপ্ন, পুরাতন  রং
বিহীন রবি ঠাকুরের 
পেন্টিং, ছেঁড়া 
ক্যালেন্ডার,
চৌবাচ্চার কাছের শেওলা  ভরা  প্যাচপেচে -
মেঝের  জগত, দিবা  নিশির  একঘেয়ে
স্খলন, কিছু  রোদন  ভরা
সকাল  আর  কিছু 
প্রতিশ্রুতি 
ভাঙা  সন্ধ্যা, এদের  মাঝ  হতে  উপান্তে  সরে 
যাওয়া  এটাই  কি  জীবন - - - 

- শান্তনু সান্যাল
contemporary-miniatures-group-exhibition-of-small-format-paintings kolkata