মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬

বিস্মৃত খামের গভীরতা - -

নিঃশর্ত কিছুই নেই এই জগতে
তবুও ভালো লাগে মিথ্যে
প্রতিশ্রুতি, কিছু
আঠালো
আব্দার। একটু অদৃশ্য অন্তরে
যদি থাকে গ্রীষ্ম শেষের
অঝর বৃষ্টি, তাহলে
সোঁদা গন্ধের
সুখটা
যেন হয়ে ওঠে এক দীর্ঘকালীন
অনুভূতি। তারা নাকি খুব
কাছের  মানুষ, তাই
বহু দিন পরে
উঁকি দিয়ে
গেছে
উঠোন ছোঁয়া ছিঁটে বর্ষার রূপে,
যখন উদাসীন সন্ধ্যা ছিনে
নিতে চায় জীবনের
সজলতার বাদ
বাকি অংশ,
আমি
খুলে বসি অতীতের ছেঁড়া খাম,
আশ্চর্য্য বৈকি, তোমার
গায়ের ওই লেবু
ফুলের গন্ধ
আজ ও
ভেসে ওঠে আমার বুকের চার -
দিকে।

* *
- শান্তনু সান্যাল


শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬

উড়ন্ত আবেগ - -

তুমি শুধুই দেখেছো দিগন্ত রেখার
ব্যাপকতা, সমুদ্র, পৃথিবী,
অরণ্যের উপর দিয়ে
ভেসে যাওয়ার
আবেগ !
সেই
অনুভূতির পরেও আছে জীবনের
অপরিভাষিত জগৎ, কোনো
দিনে নিভৃতে, যদি সম্ভব
এসো আমার
বুকের
গহীন তলে, ঠিক খুঁজে পাবে তুমি
বিলুপ্ত প্রেমের মরুদ্বীপ, কিছু
মরিচিকার বাস্তবিকতা,
এক বিস্তৃত নোনা
জলের
জলাভূমি, যেখানে বহু কাল ধরে
ঘুমিয়ে আছে এক পাহাড়ি
নদী, জিজ্ঞাসু চোখে
সে চেয়ে রয়
প্রায়শ
উড়ন্ত মেঘের ছায়া, যদি কোনো
দিন ছুঁয়ে যায় ওই মায়াভরা
পরশের কয়েকটি জল
বিন্দু - -

* *
- শান্তনু সান্যাল

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬

রেশমি আবেগ - -

আলোর স্রোত থামে না কোনো
দিন, আকাশ যতই না
হোক বিষন্নতায়
লিপ্ত, জীবনের
অসংখ্য
স্বপ্ন বহে যায় অবিরল বেগে - -
এক প্রান্ত হতে অন্য দিকে।
বলা বাহুল্য যে এটা
আরশি নগর,
সুদুর
পথে যদিও কোনো প্রতিবিম্ব নেই,
সমস্ত সুজন চেহারা ছিল
খুবই রহস্যময়,
আসুরিক,
অবশ্যই দূরে তারা ছিল মেঘে -
ছাওয়া নীলগিরি। শুধু
আমিই ছিলাম না
এখানে লুন্ঠিত
মুসাফির,
চোখ খোলা মাত্র দেখি সারা - -
আকাশই ছিল খালি, আর
চারদিকে ছিল ছড়ানো
কিছু বিখণ্ডিত
তারকের
অবশেষ। তবুও, চল এক বার
আবার বুনি শেষ রাতের
ওই সুরভিত স্বপ্ন
মালা ! কিছু
রঙীন
সুতো, বুকে রইলো তোমার, কিছু
রেশমি আবেগ, এখনো
চোখে আছে
আমার।

* *
- শান্তনু সান্যাল
 

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৬

নিরাপদ কোণা - -

জীবনের প্রবাহ যথারীতি বহে যায় আলো -
আঁধার পেরিয়ে সুদুর অজানা প্রান্তরে,
ওই নির্ঝর পথের দুই কিনারায়
শৃঙ্খলাবদ্ধ রয়েছে অসংখ্য
সাজানো সারি সারি
শোরুম আর
মায়াবী
জগতের প্রতিফলন। কিছু পরিচিত চেহারার
মাঝে, আবার দেখি ভেসে উঠছে নানান
ভাবভঙ্গিমার মুখোশ ! জীবন খুঁজতে
চায় ওই ভিড়ে নিজের হারানো
অস্তিত্ব, ঠিক মরুমৃগ সম
চির পিপাসিত টিকে
থাকার অনুভূতি,
জীবনের
লুপ্ত ধারা যখন অন্তঃবিন্দুর খুব কাছে তখন
দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছো, চিরাচরিত
পলাতক ভালবাসার রূপে, নিঃশব্দ
চোখে ভরে আছো, সজল
আবেগের মেঘলা
আকাশ !
এমন সমযে, আমার বেদুইন বৃত্তি, হ্রাসের -
দিকে যায় এগিয়ে, আর আমি ফিরে
যেতে চাই, তোমার হাত ধরে
পুনরায়, সেই ভাঙন -
ভরা জগতে,
যথারীতি
হৃদয় আবার বাঁধতে চায় ধ্বংস নীড়, তাই
জীবন, পুনরায় খুঁজে নিরাপদ কোণা।

* *
- শান্তনু সান্যাল




মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৬

চির দগ্ধতা - -

শেষ প্রহরে যখন গেছে ঝরে সমস্ত
নিশিপুষ্প, তখনও তুমি ছিলে
আবদ্ধ সাংঘাতিকভাবে,
আমার বুকের ওই
পল্লব - বিহীন
পিঞ্জরে !
গভীর রাতের উষ্ণ নিঃশ্বাসে তুমি
যেন মায়াভরা চন্দন বনের
সমীরণ, আহত জীবনে
ঢেলে চলেছ অদৃশ্য
কোনো জাদুর
বশীকরণ !
সুদুর বাঁশের বনে যখন দাবাগ্নির
উত্সন্নতা, তখন তুমি সহসা
প্রাক বর্ষার ধারা, ভিজিয়ে
যেতে চাও আমার
বুকের চির -
দগ্ধতা !

* *
- শান্তনু সান্যাল




রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৬

জাফরানী মুগ্ধতা - -

এটা নয় শেষ প্রান্ত, মরিচারঙ্গী দিগন্তে
এখনো আছে কিছু আলোর ছিঁটে,
সূর্যের ছিল যথারীতি যেন
তাড়াহুড়ো, তাই কিছু
আলোর পরিধান
ফেলে গেছে
সে আকাশের গায়ে। অভিলাষী মন - -
চায় তোমার অপ্রত্যাশিত ছোঁয়া,
এখনো বসন্তের নেশা কাটি
নি অরণ্যে, এখনো
গা ঢাকা দিয়ে
ওই জংলি
নালাটি বহে যায় আপন মনে, মহুয়ার 
বনে, এখনো ভেসে রয় তোমার
চোখের ওই মহাসাগরীয়
রহস্যভরা নীল -
গুঞ্জন, এখনো
পল্লব -
বিহীন বনে যেন লেগে আছে কুমকুম -
রঙ্গী আবেগ।

* *
- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০১৬

খোলা আকাশের নিচে - -

তার চোখের গভীরে যেন আছে এক
অন্ত:শীল জলধার, তাই জীবনের
মরুপথে বহে যায় অদৃশ্য
এক জলভরা সমীরণ,
আর ক্লান্ত দেহে
সে করে
যায় প্রাণের নব সঞ্চার। তার প্রেমের
বৃত্তে লুকিয়ে রয় ক্রুসবিদ্ধ যিশুর
নীরব করুণা, অদৃশ্য ভাবে
সে বাড়িয়ে দিতে চায়
ত্রাণের দুটি হাত,
যেখানে
এসে সমস্ত স্রোত মিলে মিশে হয়ে ওঠে
বিস্তীর্ণ মানবিকতার প্রবাহিনী,
ওই পারদর্শী সলিলে সারা
জগৎ তখন ভেসে
ওঠে ঝলমল !
মানুষ
তখন শুধুই হাড় - মাংসের এক মানুষ
সংজ্ঞাবিহীন সে তখন এক নিরীহ
শিশু, খোলা আকশের নিচে
উলঙ্গ দেহে, দৌড়িয়ে
যেতে চায় সুদুর
মেঘ ভরা
দিগন্তে,
সম্ভবত, সে খুঁজতে চায় ভালবাসার - -
দীর্ঘস্থায়ী কোনো রঙ্গধনু !

* *
- শান্তনু সান্যাল