রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের উপলক্ষে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা  দিবসের উপলক্ষে সবাই কে অসংখ্য শুভকামনা - - কিন্তু চিন্তার বিষয় হলে যে কত আমরা নিজের ভাষা কে ভালোবাসী, শুধুই শ্লোগান এবং মিছিলের দ্বারা ভাষার অস্তিত্ব বাঁচানো কী  যায়, আসলে বাংলাদেশটাই বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য প্রশংসার পাত্র, আমি বহুভাষী প্রবাসী বাঙালী কিন্তু হিন্দী পাঠকরা আমার লেখনের মূল্য বোঝে, এই দেশের বাঙালী ইংলিশে কথা বলতে গর্ব বোধ করে, ভোটের জন্য উর্দু এবং হিন্দীর জয় গান করে, ইদানিং যত সব ভ্রষ্ট দলের পুরোধারা হিন্দীতে ভাষণ দিতে মরিয়া, ভুল ভাল বলে পরিহাসের পাত্র হয় ওঠে। আবার নিজের দেশের নাগরিক কে বহিরাগত বলে বেড়ায়, যত  সব যাত্রা দলের বিলুপ্ত শিল্পী, মঞ্চ পেলেই হল, যা মুখে আসবে বমন করে যাবে, বাংলা ছবিতে হিন্দী গানের রমরমা, উর্দু হিন্দি মিলিয়ে এমন বাংলা গানের রচনা করবে যা দেখে কবিগুরুর চোখের অশ্রু থামে না, আর নেতাগুলো ভুলভাল সরস্বতীর মন্ত্র পায়চারী করে গাইবে যত সব জোকারের দল, সম্প্রতি সার্কাসে খেলা দেখতে যাওয়ার দরকার নেই রাস্তা ঘাটে উলঙ্গ ভাষায় খেলা এবং খেলা হবে গান চলছে, ৭০ বছরে গোটা বাংলাকে উজাড় করে এখনো এদের খেলা শেষ হয় নি, বাংলা সিরিয়াল গুলোতে মা পিসি আত্মীয় স্বজন সব যেন মন্থরা কৈকয়ীর গুষ্টি। সাজ গোজে এমন বাঙালিয়ানা যে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমারা তা দেখে অজ্ঞান হয়ে যাবে,আবার মাঝে মাঝে হিন্দী গানের ফোড়ণ না দিলে চলে না, আবার মঞ্চে এসে যত সব চাটুকার শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতির দোহাই দেয়। যা উজ্বল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সেটা অনুমান করা যায়, দুঃখ হয় যে এই নোংরা রাজনীতির জন্য বাঙালিদের যা দুর্দশা জানি না আমারা  কখন যে মানুষ হবো - -
বাংলা লিখুন, বাংলা পড়ুন, বাংলা বলুন বাইরে আর অন্দর মহলে, তাহলেই বাংলা ভাষা বাঁচবে পশ্চিম বাংলায় - - নিজের ভাষায় গর্ব বোধ করতে শিখুন - - নমন  সহ। 

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

ধূসর প্রান্ত - -

তুমি যতই ধরে রাখো নিজের
হৃদয় পিঞ্জরে, আমি ঠিক
জোনাকির মত উড়ে
যাবো আঙুলের
ফাঁক হতে,
মধুর
স্মৃতিগুলো যেন সজল - অঞ্জলী, অদৃশ্য ভেসে
যাবে চোখের তীরে,
তুমি নিজের
প্রতিবিম্বে
হয়ত
খুঁজবে আমার ঠিকানা আমি
তখন আয়নার বোবা ভাষা,
চেয়ে থাকবো তোমায়
তৃষ্ণার্ত মরু বুক -
নিয়ে, আমার
দিন -
পঞ্জিকা ছিল চিরদিন, মধ্য
হৃদের শুকনো গাছ,
আকাশমুখী এক
অনন্ত উচ্ছ্বাস,
নিয়তির
আগে
ছিলাম নিরুপায়, তাই জীবন
রইলো ধূসর প্রান্ত।
* *
- - শান্তনু সান্যাল



বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

খোলা হাতের তালু - -

 
এই পথের বুকে সবাই হারায় এক দিন, -
কুয়াশায় ঢাকা থাকে স্মৃতির কিছু
চিরকুট, খোলা হাতের তালু,
উড়ে যেতে চায় হলদে
প্রজাপতি, অবোধ
শিশুর মতো
আমি
চেয়ে আছি তোমার ভাঙা চশমার কাঁচ,
সেকেলের কিছু গান যেন আটকিয়ে
আছে ঝুলন্ত দড়ির গায়ে, হয়ত
ঝড়ের প্রতীক্ষায়, অতীত
যেন কৃষ্ণচূড়ার ফুল,
ঝুল-বারান্দা
হতে
আমি হাত বাড়াই, কিন্তু শাখা গুলো যায়
দূর সরে, চার দিকে গজিয়ে উঠছে
ধারালো আহ্বান, তবুও যেন
শহরটি নিঃশব্দ ঘুমে
ঘুমিয়ে আছে
নিজের
বিধ্বস্ত জগতে, জানি না বিহানের কচি -
আলোয় তুমি আবার আসবে বকুল
কুড়োতে - -

* *
- শান্তনু সান্যাল


বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯

শরৎ প্রবাহে - -

অভ্র গুঁড়োয় মাখা আবার ফিরেছে শরৎ
সকাল, শিউলির সেই চিরন্তন গন্ধে,
কূল ভাঙা নদীর হাহাকার বুকে,
পূজো মণ্ডপের শেষ প্রান্তে
কিছু পথশিশুর মুখ
লিখে গেছে -
একরাশ কবিতা, সবটাই আবছায়া আর
প্রশ্নচিহ্নে ভরা।আমার শুভকামনার
অদৃশ্য তুলসী মালা, যথারীতি
রইলো তোমার কণ্ঠে,
হয়তো কোন
একদিন,
গোলাপের গন্ধে, হটাৎ টের পাবো তোমার
সত্তা। অতীতের পৃষ্ঠে লেখা স্মৃতিগুলো
ক্রমশঃ ঝরে চলেছে পিচের রাস্তায়,
কিছু ক্ষণের মিষ্টি আভাস
ভাসবে বায়ুমণ্ডলে,
পরে জীবনটা
দাঁড়িয়ে
রবে শিউলির গাছের মতন একাকী রাস্তার
ধারে।সকালটা খুবই ডানপিটে ঠিক
দৌড়িয়ে যাবে সন্ধ্যার টানে,
অভ্রগুলো এখন কালচে
লাল, ঠিক তোমার
সেকালের যেন
অগ্নিময়
ঠোঁট,
তুমি চিরদিনের নির্ভীক অগ্নিশিখা, আর - -
আমি যথারীতি এক মুখচোরা, ফিরে
আসা অপ্রকাশিত কবিতা।
* *
- শান্তনু সান্যাল
 

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

অফুরন্ত মুগ্ধতা - -

যে যার মতন দেখেছে, নরম রোদের সন্ধ্যার 
সাথে নেমে আসা, পাহাড়ের গায়ে কী
লেখা থাকে ঠুনকো প্রেমের
কবিতা, হয়ত তুমিও
দেখেছো আমার
চোখের
গভীরে কিছু স্বপ্ন কিংবা অশ্রু পারের নীরবতা।
সবাই দেখে নিজের মতন, বিদূষকের
কান্না আর অঝর শ্রাবণের ধারা
কোথায় যেন মিলেমিশে
ধুয়ে যায় নায়কের
বাস্তবিকতা।
ওই মোড়ে
যেখানে নিয়তির নাগরদোলা খেলে যায় পাতা
ঝরার খেলা, শহর সীমান্তে যথারীতি
আমি দাঁড়িয়ে রই বুকে বেঁধে,
মেলা শেষের নিস্তব্ধতা।
আঁধার - আলোর
ওই চিরন্তন
যুদ্ধে,
আমি বাণ শয়নে শুধুই খুঁজি তোমার হাতের - -
অনন্ত ঘুমের স্পর্শ, হারিয়ে যাওয়ার
অফুরন্ত  মুগ্ধতা।

* *
- শান্তনু সান্যাল


http://sanyalsplanet.blogspot.in/

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯

নিঃশব্দ মুহূর্তে - -

আসলে শেষ বিন্দু বলে কিছু নেই, -
ওই দিগন্তের পারে আলোর
জোয়ার চিরস্থায়ী।
শুধু সকাল
আর
সাঁঝের মাঝে উড়ে যায় জীর্ণ পাতা,
ঝরে যায় চেহারার ফিনিক,
সরে যায় নাগালের
তটভূমি, স্রোত
শুধুই তখন
মৃগতৃষ্ণা !
নদীর
বুকে কারা যেন লিখে গেছে প্রেমের
ইতিকথা, মুখচোরা যেন জলের
ধারা, লুকিয়ে আছে নিজের
মাঝে নিজেই বেচারা।
ঊষর ভূমির স্বপ্ন,
 রাত্রি শেষে,
যথারীতি
পড়ে
থাকে ঢিবির গায়ে,আকাশের নিঃশব্দ
কান্নার অশ্রুজল জড়িয়ে থাকে
ফণীমনসার গায়ে।

* *
- শান্তনু সান্যাল   

 


মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯

এতো সহজ নয় - -

না, এখনো অনেক কিছু বলা হয় নি,
শুরুতেই যেন হাঁপিয়ে যেও না,
ওই যে দিনান্তের সন্ধিক্ষণে,
এখনো আছে কিছু
ঝাপসা আলো,
আর কিছু
কাগজফুলের কবিতা, গন্ধবিহীন - -
তোমার আমার প্রেমের কিছু
অদৃশ্য গোপনীয়তা।
সময়, খুবই
অস্থির
শুধুই উড়ে যেতে চায় সুদূর বর্ষাবনে,
তাই বলি, অন্ধকার নামার আগে,
দেখে নাও ভালো করে, আমি
হৃৎপিণ্ডের মানুষ কিংবা
কোনো অজানা
দ্বীপের -
সরীসৃপ, সাঁঝ  আর সকালের মাঝে - -
চাঁদ জোছনা ছাড়াও অনেক কিছু
আছে, যেমন ধরো একরাশ
মরা পতঙ্গের সম্ভার,
আর অজস্র
ঝরে
পড়া নিশিপুষ্পের সংসার। শেষ এখনো
হয় নি, দেহের মরুভূমি চিরকালের
শূন্যতা নিয়ে বেড়ায়, আর
অন্তরে জেগে থাকে
অদৃশ্য আগ্নেয়
জগৎ,
আর ক্রমশঃ গিলে নিতে চায় অন্তবিহীন
শ্রাবণ।
* *
- শান্তনু সান্যাল