শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩

খুশির উৎস - -


দরজাটা খোলা রাখি বহু দিন ধরে,

জানা সত্ত্বেও যে কেউ আসবে

না, সময়ের সাথে হয়'ত

টানটা শিথিল হয়ে

ওঠে, ধীরে ধীরে

সব কিছু বিন্দু

বিন্দু ফুরিয়ে

যায়, তবুও

মানুষ

আশা ছাড়ে না, জীবনের প্রতি ধাপে

প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখে, আসলে

সবাই আলোর স্রোতে

ভাসতে চায়, কিছু

ক্ষণ বাঁচতে

চায়, এই

এক

বিন্দুতে আমরা খুঁজে পাই হারানো

খুশির উৎস ।

- শান্তনু সান্যাল

শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৩

অপলক চোখের অভিলাষ - -

আঁধারের গর্ভেই লুকিয়ে রয় জীবনের সূচনা,
যতই কালো হোক না মায়াবী রাত্রি,
আলো ঠিক পেরিয়ে আসে
কুয়াশা ভরা অরণ্যপথ। 
তোমার
আমার ওই
এক
ঘেয়ে জীবনের বাইরেও আছে আরেকটি - -
জগৎ, কিছু সুরভিত ভাবনার বীথি,
কিছু অন্তর্তমের গভীরতা, সব
মিলিয়ে নিখাদ সুন্দরতা।
যদিও বুকের তৃষা
চিরদিনই
অপূর্ণ,
ওই অপূর্ণতাই হলো বেঁচে থাকার মূল কারণ,
আর সেই কারণেই তোমার আমার মাঝে
এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন, কিছু অপলক
চোখের মৌন চাহিদা, কিছু বন্ধ
নয়নের নিবিড় প্রাপ্তি।
কম্পিত অধরের  
ওই মৃদু হাসির
মাঝে
জীবন যেন ফিরে পায় পূনর্যৌবনের অন্তহীন
অনুভূতি।

* *
- শান্তনু সান্যাল







শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩

অভিশপ্ত আত্মা - -


তোমরা করে যাও অসুরের জয়গান, যারা গর্ভস্থ শিশুর করে হত্যা, 

বয়োবৃদ্ধ মহিলাদের করে

অপহরণ, তোমাদের

ওই ঘৃণিত দৃষ্টির

মাঝে তারাই

নায়কের

সমান,

তোমাদের মিথ্যে স্বর্গের পথে অদৃশ্য

নরকের আছে জ্বলন্ত অবস্থান,

মানুষের মুখোশে তোমরা

লুকিয়ে রাখো নর

পিচাশের হিংস্র

মরুদ্যান,

নিরীহ

মানবের রক্তে রাঙ্গা পতাকা হাতে নিয়ে

অশ্বারোহী তুমি বয়ে চলেছো অনন্ত

কালের অভিশাপ, তুমি কোনো

দিনই পাবে না ইশ দর্শন,

তোমার বীভৎস

আত্মা কোনো

দিনই পাবে

না ত্রাণ ।

- শান্তনু সান্যাল

 

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

ভিটে মাটির শূন্য সন্ধান - -

 নদী কী মানুষ সবাই হারায় জীবনের

গতি পথ, সময়ের স্রোতে হারিয়ে
যায় জীবনানন্দের জন্ম ভিটা,
ধানসিঁড়ির কিনারায় খুঁজে
পায় না কেউ পুরাতন
মন্দিরের স্মৃতি
স্থান, শ্বাস
রোধে
মারা যায় তথাকথিত মানবতার দেউল,
বৃহদাকার বয়োবৃদ্ধ বট বৃক্ষের
নিচে হারিয়ে যায় ঐতিহ্যের
শঙ্খ ধ্বনি, গড়ে ওঠে
উচ্চ মিনার চার
দিকে, কেউ
কী মনে
রাখে
অতীতের হাহাকার, হটাৎ মায়ের ভাষা
হয়ে ওঠে বোবা, ভাঙা বিগ্রহ নিয়ে
বুকে মানুষ করে দেশান্তর, পুকুর
ঘাটের পাথরে শুধুই লেখা
থাকে এমন মানুষের
নাম যাকে এই
প্রজন্ম চিনে
না, ওই ভিটে
মাটি তখন
শুধুই
শত্রুর বিষয় সম্পত্তি, সহজে প্রাপ্য যক্ষের ধন ।
- শান্তনু সান্যাল

শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

স্রোতের বিপরীত - -

স্রোতের বিপরীত বহে যাওয়ার
দুঃসাহস অথবা, জেনেশুনে
বিপদের আমন্ত্রণ, যা
কিছুই বলতে
পারো,
জীবনে অনেক মুহূর্তগুলো থাকে
নিয়তির শেষ বিন্দুর গায়ে,
নিঃসহায় মানুষের
হাতে কিছুই
থাকে
না, তবুও ওই পাপড়ির শীর্ষে - -
টলমল এক ফোঁটা জল,
চোখের আগে ভরে
যায় রিক্ত মরু -
উদ্যান !
এমন কি, শেষ নিঃশ্বাসেও টেনে
রাখতে চায় মনের মানুষ,
অবশ্যই সেই আঁকড়ে
কত যে অনুরক্তি
আর কত
যে অভিনয় বলা মুশকিল - - -

* *
- শান্তনু সান্যাল


 
http://sanyalsplanet.blogspot.in/
Lorraine Christie Art 1

শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

জীবন্ত ছায়াপথ - -

 অদৃশ্য চক্রব্যুহে আটকানো এই পৃথিবী,
আলো – ছায়ার জাদুময় ছকে !
জানি না কোন নির্জন
ঘরে, তুমি আছো
নিভৃত মঠের
বাসী,
প্রণয় বা উপাসনা, এ কেমন অভিলাষ
যে করে যায় সমস্ত কিছু স্বাহা !
কাচিক স্বপ্ন নিয়ে হাতে,
জীবন হাঁটে কোন
পাথর ভরা
শহরে !
এ কেমন অনুভূতি ভিড়ের মাঝে মনে -
হয় খুব একাকী, ওই মুগলকালীন
মসজিদ লাগোয়া, ঠিক কিছু
পা এগিয়ে, পুরাতন -
মারাঠা যুগের
দেউলের
সিঁড়ি পেরিয়ে দেখেছি জীবনের অন্ধকূপ,
মানুষ যেখানে ধর্ম দর্শন থেকে মুক্ত,
ইতিহাসের গৌরব যেখানে
মূল্যহীন, সান্ধ্য -
আরতির
সাথে, ওই মোড়ে তখন জীবন্ত ছায়াপথ !
ফুলে গন্ধে একাকার ওই পথে দেখি
অভিজাত ও কুখ্যাতের ভব্য
সঙ্গম স্থল, ভেসে আসছে
বেগম অখতরের
রুহানি -
গজল " মেরে হমনফস মেরে হমনওয়া -
মেরে দোস্ত বন কর দগা ন দে - - "*

- শান্তনু সান্যাল
(* অনুবাদ : আমার প্রাণের প্রিয় সাথী
বন্ধু সেজে আর ছল কর না - - )  

http://sanyalsplanet.blogspot.in/
Watercolor-Paintings-Art-Willem-Haenraets

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

পাগল নদীর তীরে - -


আমি চিরকালের দিশান্তরী, আজও তাই
খুঁজে বেড়াই টেকসই আস্তানা, পূর্ব -
পুরুষের মুখে শুনেছি বহু গল্প,
কোন এক পাগল নদীর
তীরে ছিল নাকি
আমাদের
তথাকথিত ভিটেমাটি, নদীর ভাঙনের -
ব্যথা ছিল সহনীয়, সময়ের সাথে
হয়ে উঠেছিল জীবনের অঙ্গ,
ওই ভাঙা গড়ার মাঝে
সব কিছুই ছিল
যেন প্রকৃত,
সবাই ছিল পারস্পরিক জড়িত, পরস্পর
এক সুরে বাঁধা, ভালো মন্দের সাথী,
কিন্তু কোন এক দুর্ভাগা সকালে,
হটাৎ তারা দেখে সব কিছু
যেন এলোমেলো, সেই
দুঃস্বপ্নের ভোর
হতে এক
অসমাপ্ত স্থানান্তরণ, সে দিন নদী ছিল - -
খুবই অনুতপ্ত, আজও বহু কালের
পরে সে শুধায়, ''আমি কিন্তু
খুব একটা বদলায়
নি, আমি
যুগ - যুগান্তর ধরে বহে যাই আমার লয়ে,
আমি মানুষ নির্মিত ওই শৃঙ্খলের
বাইরে, আমি দেখেছি ওই
ধর্মের বিভৎস রূপ,
যার আগুন
আজও পুড়িয়ে চলেছে সুদুর নীল নদ হতে
গঙ্গা - পদ্মার সবুজ প্রান্তর, আজও
আমি চাই মহাপ্লাবনের মহা -
ধারা, কিন্তু আমি
ভাবপ্রবণ,
এই সুন্দর সৃষ্টির অন্ত দেখতে চাই না, তাই
নীরব চেয়ে রই শারদীয় আকাশ !
* *
- শান্তনু  সান্যাল